শিরোনাম
খুলনায় ‘আলোর আঁচল’ কর্মসূচিতে মা ও শিশুর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা কার্যক্রম
“মায়ের চোখের কোণে লুকানো উদ্বেগ, শিশুর মুখে ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি” এই মানবিক ভাবনা থেকেই রোটার্যাক্ট ক্লাব অব খুলনা ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ‘আলোর আঁচল: মায়ের যত্নে শিশুর স্বপ্ন’ শীর্ষক স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কর্মসূচি। গত শনিবার (২৭ জুলাই) খুলনার লবণচরার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ৮০ জনের বেশি মা ও শিশু।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা, সচেতনতামূলক সেশন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সরাসরি পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পান। শিশুদের পুষ্টি, টিকাদান, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং মায়েদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা দিক নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম। তিনি বলেন, “সুস্থ মা মানেই সুস্থ প্রজন্ম। তাই পরিবার ও সমাজে স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রসারে এমন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।
আয়োজনটির সফল বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন সহযোগিতা করে।
আয়োজকদের মতে, ‘আলোর আঁচল’ শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প নয়, বরং এটি মা ও শিশুকে ঘিরে একটি সচেতন সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি। তারা বলেন, “একটু যত্ন, একটু সচেতনতা এই দুইয়ের সংমিশ্রণেই বদলে যেতে পারে বহু ভবিষ্যৎ। সেই বিশ্বাস থেকেই আমাদের এই যাত্রা।”
ভবিষ্যতেও তারা এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেন সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতায় পিছিয়ে না থাকে।
রিসার্চ মেথডোলজি ক্লাস নেবেন গবেষণা প্রবন্ধ জালিয়াতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে গবেষণা প্রবন্ধ জালিয়াতির অভিযোগ আনেন তাঁরই সহকর্মী ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদুল ইসলাম। এ নিয়ে গত বছরের ২৪ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও জমা হয়নি প্রতিবেদন।
নিয়মানুযায়ী তাকে দেওয়া হয়নি কোনো অব্যাহতি। বরং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে তাকে রিসার্চ মেথডোলজি ক্লাস নেওয়ার সুযোগ দিয়ে করা হয়েছে সম্মানিত। এতে চরম ক্ষুব্ধ প্রকাশ করেছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকেরা।
অধ্যাপক সাহাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো—তিনি ২০১২ সালের ৮ আগস্টে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদায়নের জন্য আবেদন করেন। আবেদনপত্রে তিনি তিনটি প্রকাশনার কথা উল্লেখ করেন। যার মধ্যে একটি বাংলা প্রকাশনা আছে। ইংরেজিতে লেখা দুটি প্রকাশনা হলো 'দ্য আনহোলি ডিলে অব দ্য লাস্ট কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট: বাংলাদেশ ইজ অন দ্য ভার্জ অব আ কনস্টিটিউশনাল ক্রাইসিস (The Unholy Delay of the Last Caretaker Government: Bangladesh is on the Verge of a Constitutional Crisis) এবং কনফ্লিক্ট অব লজ অ্যান্ড ইটস ইমপ্যাক্ট অন চাইল্ড লেবার ইস্যুজ: বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ (Conflict of Laws and it's Impact on Child Labour Issues: Bangladesh Perspective)।
প্রকৃতপক্ষে অন্য লেখকের এবং তা তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরই সহকর্মী অধ্যাপক মোরশেদুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, উল্লিখিত প্রকাশনাগুলোতে প্লেজিয়ারিজমের হার যথাক্রমে ৬৪ শতাংশ ও ৭৬ শতাংশ।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, পুনরায় ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারিতে ড. সাহাল উদ্দিন অধ্যাপক পদে পদায়নের জন্য যে ছয়টি প্রকাশনা তার নিজের বলে দাবি করেছেন, সেগুলোর সবই অন্যের কাজ থেকে চুরি করে প্রকাশিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রকাশনাগুলো হলো 'পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি ল': বাংলাদেশ পার্সপেকটিভ (Policy and Practice of Intellectual Property Law: Bangladesh Perspective), ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল অবলিগেশন্স অব বাংলাদেশ ইন আর্বিট্রারি অ্যারেস্ট, রিম্যান্ড অ্যান্ড টর্চার: এ ক্রিটিকাল অ্যানালাইসিস (International Legal Obligations of Bangladesh in Arbitrary Arrest, Remand and Torture A Critical Analysis), রোল অব ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন ইন কমব্যাটিং টেরোরিজম ইন দ্য এয়ার স্পেস: এ লিগ্যাল স্ট্যাডি উইথ রিলেভ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্টস (Role of International Civil Aviation Organization in Combating Terrorism in the air Space: A Legal Study with Relevant International Instruments)।
রেকগনিশন অব লেবার রাইটস ইন বাংলাদেশ: ক্রিটিকাল স্ট্যাডি উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু দ্য স্ট্যান্ডার্ড অব আইএলও (Recognition of Labour Rights in Bangladesh: Critical Study with Special Reference to the Standard of ILO), চাইল্ড লেবার লজ অ্যান্ড পলিসিস ইন হোম অ্যান্ড অ্যাব্রড: ইশুজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু বাংলাদেশ (Child Labour Laws and Policies in Home and Abroad: Issues and Challenges with Special Reference to Bangladesh), ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসপিউট সেটলমেন্ট মেকানিজম অ্যান্ড ইটস ইফেক্টিভনেস বাংলাদেশ পার্সপেকটিভ (Industrial Dispute Settlement Mechanism and its Effectiveness: Bangladesh Perspective),
উপর্যুক্ত প্রকাশনাগুলোতে চৌর্যবৃত্তির হার উল্লেখ করে অধ্যাপক মোরশেদুল বলেন, উপর্যুক্ত প্রকাশনাগুলোতে চৌর্যবৃত্তির হার যথাক্রমে ৯৩ শতাংশ, ৮৫ শতাংশ, ৬৬ শতাংশ, ৬৪ শতাংশ, ৫৬ শতাংশ ও ৩৭ শতাংশ।
আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালমা আক্তার খানম বলেন, নরমালি কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে কেন অধ্যাপক সাহালকে অব্যাহতি দেওয়া হলো না এটা আমার জানা নেই। আমরা যখন জেনেছিলাম ক্লাস দেওয়ার বিষয়ে আমরা তখন এর বিরোধিতা করেছিলাম। উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে বলেছিলাম এটা দেওয়া ঠিক হবে না। তারপরও তারা দিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ।
আইন বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশনা জালিয়াতির অভিযোগ আছে, তাকে কীভাবে রিসার্চ ম্যাথেডলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্লাস দেওয়া হয়? তার তো গবেষণা নিয়ে কোনো জ্ঞানই নাই, তাহলে তিনি কীভাবে শিক্ষার্থীদের শেখাবেন? তিনি জানলে কি জালিয়াতি করতেন? ঘটনাটা একজন মূর্খকে শিক্ষিত মানুষদের পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়ার মতো হয়ে গেল। এটা বাস্তবতা বর্জিত।
ক্লাস পাওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, প্রশাসন থেকে আমি কোনো চিঠি পায়নি। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। যে অভিযোগ করছে তার বিরুদ্ধে নিউজ করেন, সে ঠিকমতো ক্লাস নেয় না, শিক্ষার্থীদের নাম্বার দেয় না। তার জন্য শিক্ষার্থীরা সাফার করছে।
তবে তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার বিষয়টা স্বীকার করেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি চলমান। তবে এখনো তদন্ত কমিটির সকল কাগজপত্র আমি পাইনি। এগুলো সামনের সপ্তাহে দেওয়ার কথা আছে। যদি সামনের সপ্তাহে দেয় তাহলে আমরা দ্রুতই তদন্ত শেষ করব।
তদন্ত কমিটির স্বার্থে অব্যাহতি না দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, কেউ যদি প্রশাসনিক বা একাডেমিক দুর্নীতি করে সেক্ষেত্রে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা প্রকাশনা জালিয়াতির এটা ব্যক্তিগত একটা বিষয়। যার জন্য তাকে সিন্ডিকেট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, সেখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এর জন্য প্রশাসন দায়ী না। ওই বিভাগ থেকে সুপারিশ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভাগের শিক্ষকরা যে তালিকা দিয়েছিল সেখানে তার নাম ছিল না। তিনি আগেও সেখানে ক্লাস নিয়েছেন।
কামাল উদ্দিন হল নাইট ফুটবল প্রতিযোগিতায় হোয়াইট হাউস ওয়ারিয়র্স চ্যাম্পিয়ন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে অনুষ্ঠিত নাইট ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হোয়াইট হাউস ওয়ারিয়র্স। দুই দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় শনিবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। রানার্সআপ হয়েছে ‘সংসদ স্পির্টাস’।
প্রতিযোগিতায় ‘ম্যান অব দ্যা ফাইনাল’ হয়েছেন হোয়াইট হাউসের শাহীন আলম এবং ‘ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট’ এর গৌরব অর্জন করেন দলটির অধিনায়ক সাদমান আপন।
টুর্নামেন্টের প্রথম সিজন আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেন মাহমুদুল হাসান কিরণ। তাঁর সভাপতিত্বে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে হলের আবাসিক শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা ও প্রতিযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় হলের মোট ৮টি টিম অংশ নেয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট দুই দিনব্যাপী চলেছে।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউস ওয়ারিয়র্সের পক্ষে রাজু আহমেদ বলেন, “আমি প্রথমেই কিরণসহ পুরো ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এত সুন্দর, সম্প্রীতিমূলক ও ভ্রাতৃত্ববোধে ভরা একটি আয়োজন করার জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। আমাদের খেলোয়াড়দের আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আমরা এই শিরোপা জিতেছি।”
আয়োজক মাহমুদুল হাসান কিরণ বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল হলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি সুন্দর বন্ধন সৃষ্টি করা। সবার সহযোগিতায় এই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।”
তরুণদের নেতৃত্বেই গঠিত হবে আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ : খুবি উপাচার্য
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ মনে প্রাণে দেশকে ভালবাসেন। এর প্রমাণ আমরা জুলাই আন্দোলনে পেয়েছি। দেশে যখন বৈষম্যের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই এদেশের ছাত্রসমাজ একাত্তরের মতো চব্বিশেও জ্বলে ওঠে। তাদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ ফিরে পায় স্বাধীনতার স্বাদ। ফলে সবাই বাক স্বাধীনতা ফিরে পেয়ে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছেন।
আজ ২৭ জুলাই (রবিবার) বিকেলে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে খুলনা জেলা প্রশাসনের জুলাই উদযাপন প্রোগ্রাম কমিটি আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব: গণতন্ত্রের জন্য তরুণদের গর্জন’ শীর্ষক আন্তঃবিদ্যালয় বক্তৃতা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, তরুণরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের কণ্ঠে যদি গণতন্ত্রের দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে, তবে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রে রূপ নিতে পারবে। তাদের নেতৃত্বেই গঠিত হবে আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। আগামীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবেন, তাদের জন্য এটি একটি সংকেত, দেশের প্রয়োজনে তরুণরা কি কি করতে পারে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন, খুলনা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার ও খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজের ডা. হুমায়রা মুসলিমা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান, খুলনা মেডিকেল কলেজের ডা. শহিদুজ্জামান বাবলু ও জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আয়মান আহাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও শারমিন সুলতানা।
উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত, প্রফেসর শরিফ মোহাম্মদ খান, প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ ও সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই বিপ্লবের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। পরে ‘জুলাই বিপ্লব: গণতন্ত্রের জন্য তরুণদের গর্জন’ বিষয়ে আয়োজিত খুলনার ১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে আসে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং তরুণদের ভূমিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সেন্ট জোসেফস স্কুল, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে খুলনা জিলা স্কুল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে নেভি অ্যাঙ্করেজ স্কুল এন্ড কলেজ। বক্তৃতা প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীসহ অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ৩২তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য ৩২তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। রবিবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (জিটিআই) প্রশিক্ষণ কক্ষে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয় ।
জিটিআই সূত্রে জানা যায়, এই প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৫ জন শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন। ৩৩ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত।
গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (জিটিআই) এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, প্রশিক্ষণের কোর্স সমন্বয়ক ও জিটিআই-এর অধ্যাপক ড. বেনতুল মাওয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন শাখার পরিচালকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে অতিথিরা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণায় পারদর্শিতা অর্জন, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ও ছাত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। প্রশিক্ষণার্থীদের গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তারা।
এসময় প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দক্ষতার পাশাপাশি চাকরির সকল আদব ও পেশাগত আচরণ শেখানো এই প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য। আপনারা এই প্রশিক্ষণের সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবেন এই আশাই রাখি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, শিক্ষকরা আগে শিখবেন এবং পরে সেই জ্ঞান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিবেন। শিক্ষাদানের পাশাপাশি উন্নতমানের গবেষণায় আপনাদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং প্রশাসনিক অনেক দায়িত্বও পালন করতে হবে। শিক্ষাদানের পদ্ধতি, ছাত্রদের মূল্যায়ন করার পদ্ধতি সম্পর্কে এই প্রশিক্ষণে আপনারা ধারণা পাবেন। প্রশিক্ষণের সকল শিক্ষা আপনাদের জীবনে কাজে লাগবে বলেই আমি আশা রাখছি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, শিক্ষকের দায়িত্ব কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষাদানের পরিবেশ, গবেষণা, সামাজিক দায়বদ্ধতা সবকিছু নিয়েই একজন শিক্ষককে ভাবতে হয়। এই প্রশিক্ষণ সেই ব্যাপক জ্ঞানের দুয়ার খুলে দেবে। পাশাপাশি জাতিগতভাবে আমাদের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণাও হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে আপনাদেরকে কাজ করতে হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য