ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

তরুণদের নেতৃত্বেই গঠিত হবে আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ : খুবি উপাচার্য

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৭ জুলাই, ২০২৫ ২১:১৯
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
তরুণদের নেতৃত্বেই গঠিত হবে আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ : খুবি উপাচার্য


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ মনে প্রাণে দেশকে ভালবাসেন। এর প্রমাণ আমরা জুলাই আন্দোলনে পেয়েছি। দেশে যখন বৈষম্যের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই এদেশের ছাত্রসমাজ একাত্তরের মতো চব্বিশেও জ্বলে ওঠে। তাদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ ফিরে পায় স্বাধীনতার স্বাদ। ফলে সবাই বাক স্বাধীনতা ফিরে পেয়ে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছেন। 


আজ ২৭ জুলাই (রবিবার) বিকেলে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে খুলনা জেলা প্রশাসনের জুলাই উদযাপন প্রোগ্রাম কমিটি আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব: গণতন্ত্রের জন্য তরুণদের গর্জন’ শীর্ষক আন্তঃবিদ্যালয় বক্তৃতা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।


উপাচার্য বলেন, তরুণরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের কণ্ঠে যদি গণতন্ত্রের দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে, তবে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রে রূপ নিতে পারবে। তাদের নেতৃত্বেই গঠিত হবে আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। আগামীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবেন, তাদের জন্য এটি একটি সংকেত, দেশের প্রয়োজনে তরুণরা কি কি করতে পারে। 


খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন, খুলনা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার ও খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজের ডা. হুমায়রা মুসলিমা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান, খুলনা মেডিকেল কলেজের ডা. শহিদুজ্জামান বাবলু ও জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আয়মান আহাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও শারমিন সুলতানা। 


উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত, প্রফেসর শরিফ মোহাম্মদ খান, প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ ও সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানা। 


অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই বিপ্লবের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। পরে ‘জুলাই বিপ্লব: গণতন্ত্রের জন্য তরুণদের গর্জন’ বিষয়ে আয়োজিত খুলনার ১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে আসে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং তরুণদের ভূমিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সেন্ট জোসেফস স্কুল, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে খুলনা জিলা স্কুল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে নেভি অ্যাঙ্করেজ স্কুল এন্ড কলেজ। বক্তৃতা প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।


অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীসহ অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ৩২তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৭ জুলাই, ২০২৫ ২১:১২
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ৩২তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য ৩২তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। রবিবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (জিটিআই) প্রশিক্ষণ কক্ষে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয় ।


    জিটিআই সূত্রে জানা যায়, এই প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৫ জন শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন। ৩৩ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত।


    গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (জিটিআই) এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, প্রশিক্ষণের কোর্স সমন্বয়ক ও জিটিআই-এর অধ্যাপক ড. বেনতুল মাওয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন শাখার পরিচালকবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে অতিথিরা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণায় পারদর্শিতা অর্জন, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ও ছাত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। প্রশিক্ষণার্থীদের গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তারা।


    এসময় প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দক্ষতার পাশাপাশি চাকরির সকল আদব ও পেশাগত আচরণ শেখানো এই প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য। আপনারা এই প্রশিক্ষণের সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবেন এই আশাই রাখি।


    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, শিক্ষকরা আগে শিখবেন এবং পরে সেই জ্ঞান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিবেন। শিক্ষাদানের পাশাপাশি উন্নতমানের গবেষণায় আপনাদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং প্রশাসনিক অনেক দায়িত্বও পালন করতে হবে। শিক্ষাদানের পদ্ধতি, ছাত্রদের মূল্যায়ন করার পদ্ধতি সম্পর্কে এই প্রশিক্ষণে আপনারা ধারণা পাবেন। প্রশিক্ষণের সকল শিক্ষা আপনাদের জীবনে কাজে লাগবে বলেই আমি আশা রাখছি।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, শিক্ষকের দায়িত্ব কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষাদানের পরিবেশ, গবেষণা, সামাজিক দায়বদ্ধতা সবকিছু নিয়েই একজন শিক্ষককে ভাবতে হয়। এই প্রশিক্ষণ সেই ব্যাপক জ্ঞানের দুয়ার খুলে দেবে। পাশাপাশি জাতিগতভাবে আমাদের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণাও হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে আপনাদেরকে কাজ করতে হবে।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে রাবি ছাত্রদলে পদ পাওয়ার গুঞ্জন; সক্রিয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৭ জুলাই, ২০২৫ ২১:৮
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে রাবি ছাত্রদলে পদ পাওয়ার গুঞ্জন; সক্রিয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

      বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ তিন মাস হলেও প্রায় ৫ বছর ধরে চলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি। দীর্ঘ ৪ বছর পর এবার হতে চলেছে রাবি শাখা ছাত্রদলের কমিটি। তবে এবারের কমিটিতে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে পদ দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় নেতাকর্মীরা। 


      এদিকে গত ২৫ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামক ফেসবুক গ্রুপে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাবি শাখা ছাত্রদলের ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাবি ছাত্রদলের বর্তমান আহবায়ক সুলতান আহমদ রাহীকে আবারও সভাপতি ও সর্দার জহুরুলকে সাধারণ সম্পাদক করতে দেখা যায়। পরে বিষয়টিকে ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।


      এদিকে ছাত্রদলের প্রকাশিত ভুয়া কমিটির মতোই একটি কমিটি দেয়ার পরিলকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সংসদ এমন গুঞ্জন উঠেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাবি শাখা ছাত্রদলের একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য এবং কর্মীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে।


      নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার জেরে এরকম বাজে কমিটির সিদ্ধান্ত যদি কেন্দ্রীয় সংসদ নেয় তা হবে অত্যন্ত কষ্টকর। এই কমিটি করা হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংগঠনের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা হারাবে। বিগত আন্দোলনে পালিয়ে থাকা নেতৃত্ব রাবি ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসে কিভাবে? ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ জানুয়ারি এবং ২৪ এর জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যাদের ভূমিকা ছিলো কর্মীদের চেয়েও খারাপ তারা কিভাবে মূল নেতৃত্বে আসে? সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সবার মতামত উপেক্ষা করে যদি এমন কমিটি দেয় তাহলে তা হবে গুপ্ত সংগঠনের এজেন্ডা ও বিশেষ ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যর বাস্তবায়ন বলে মনে করছেন তারা।


      নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, গত ৪ বছরের বেশি সময় ধরে এই কমিটি আছে। যদি আবারও বুড়ো কমিটি হয় তাহলে আমাদের পদন্নতির কি হলো? সেই সাথে এইটাও জানা দরকার যে বর্তমান নেতৃত্ব একদম ব্যর্থ। তারা হল কমিটি পর্যন্ত দিতে পারেনি। 


      আরেক সদস্য বলেন, নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার সুযোগ না দিয়ে বরং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অথর্ব ব্যক্তির দ্বারা কমিটি করতে আগ্রহী কিনা সঠিক জানা নেই।তবে এইরকম কমিটি হলে তা হবে সংগঠনের জন্য ভয়াবহ অবস্থা। সাংগঠনিক দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে পকেট কমিটি করতে চায় কিনা তা সঠিকভাবে জানা নেই। জানিনা উনি মূল নেতৃত্বে আসলে কি করবেন বলে প্রশ্ন রেখেছেন তারা?


      একজন কনিষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, তারুণ্য নির্ভর কমিটি আমাদের প্রয়োজন। ব্যর্থ নেতাদের আবারও নেতা মেনে চলতে বাধ্য করতে পারে না কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে কেন্দ্রীয় সংসদ এমন ফালতু কমিটি করবে না বলে প্রত্যাশা রাখেন তিনি।


      এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ফেসবুকে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে তার কোনো সত্যতা নেই। এখনো কেন্দ্র থেকে কোনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। 


      এ বিষয়ে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আমরা কোনো কমিটি এখনো ঘোষণা করিনি। যদি এমন হয় তাহলে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ থেকে তা প্রচার করা হবে। আমরা যাচাই বাছাই করে ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকেই মূল্যায়ন করা হবে।


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        লুৎফুর রহমান – স্বপ্ন পূরণের পথপ্রদর্শক শিক্ষক

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ২৭ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৫৮
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        লুৎফুর রহমান – স্বপ্ন পূরণের পথপ্রদর্শক শিক্ষক

        শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর থেকেই লুৎফুর রহমান নিজের জীবনকে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের কাজে উৎসর্গ করেছেন। ছাত্রজীবনেই তিনি শিক্ষতা পেশাকে বেছে নেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট পরিসরে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে করতেই গড়ে ওঠে তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান “লুৎফুর’স এডমিশন প্রাইভেট ব্যাচ”। বর্তমানে এটি সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।


        তার আন্তরিক পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনায় গড়ে ওঠা শত শত শিক্ষার্থী দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাবিপ্রবি, বেগম রোকেয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন তার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি রয়েছে।


        লুৎফুর স্যার প্রায়ই তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভালোবাসা ভরা কণ্ঠে বলেন—

        “তোমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ো। কোনো একদিন যদি দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমার একজন শিক্ষার্থী এসে বলে—‘স্যার, কেমন আছেন? কবে এলেন?’—সেই দিনটিই হবে আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য ও আনন্দের মুহূর্ত।”


        তার এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে অনেকেই। তাদের মধ্যে একজন হলেন মোহাম্মদ এহছানুল হক মিলন, বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী।


        মিলন বলেন—

        “আমার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির যাত্রা শুরু হয়েছিল লুৎফুর’স এডমিশন প্রাইভেট ব্যাচ থেকে। স্যারের হ্যান্ডনোট, সাজেশন আর দিকনির্দেশনা আমাকে শুধু ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে সাহায্য করেনি—বরং আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে পরিকল্পনা করে পড়তে হয়, সময়কে কাজে লাগাতে হয়, আর কোন বিষয় আগে গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।”


        তিনি আরও যোগ করেন—

        “আজ যখন শাবিপ্রবির সুন্দর ক্যাম্পাসে হাঁটি, মাঝে মাঝে মনে হয়—এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল লুৎফুর স্যারের হাত ধরেই। যদি একদিন স্যারকে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে বলতে পারি—‘স্যার, দেখুন, আপনার স্বপ্নের একটি অংশ পূর্ণ হয়েছে’—সেটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।”


        শুধু মিলন নয়—লুৎফুর স্যারের অসংখ্য শিক্ষার্থী একইভাবে তার প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের সাফল্যই প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের হাত ধরলে একজন শিক্ষার্থীর জীবন কতটা বদলে যেতে পারে।


        লুৎফুর রহমান স্যার শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু শিক্ষক নন—তিনি অনুপ্রেরণা, পথপ্রদর্শক এবং স্বপ্নবান একজন মানুষ। তার কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা শুধু ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিই নেয় না—বরং গড়ে তোলে আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন ও সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।


        সকল শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে লুৎফুর রহমান স্যারের জন্য রইল অফুরন্ত শুভকামনা ও ভালোবাসা।

        তিনি যেন আরও অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকেন—এই কামনা সবার।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          রুয়া'র সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সম্পাদক নিজাম উদ্দীন

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ২৭ জুলাই, ২০২৫ ১৬:১৭
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          রুয়া'র সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সম্পাদক নিজাম উদ্দীন

          রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া) নির্বাচন ২০২৫-এ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ও সিন্ডিকেট সদস্য ড. মো. নিজাম উদ্দীন। 


          শনিবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পযর্ন্ত ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করেন রুয়া'র প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এফ নজরুল ইসলাম ও নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ।  


          নির্বাচনে সহসভাপতি হয়েছেন মো. কেরামত আলী ও মো. মতিউর রহমান আখন্দ এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে সাবরীনা শারমিন, কোষাধ্যক্ষ জে এ এম সকিলউর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল আহসান ও দেলাওয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (সংরক্ষিত মহিলা) ড. মোছা. ইসমত আরা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমাজ উদ্দিন, যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির উদ্দীন, শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক ড. মো. নাসির উদ্দিন, যুগ্ম-শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. শামসুজ্জোহা, যুগ্ম-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. মো. নূরুল ইসলাম। 


          সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. মো. হারুন-আর রশিদ, যুগ্ম-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু সালেহ মো. আব্দুল্লাহ, প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগ সম্পাদক কে. এম. কামরুজ্জামান কোরবান, যুগ্ম-প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগ সম্পাদক মোহা. আশরাফুল আলম ইমন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, যুগ্ম-ক্রীড়া সম্পাদক রুকন উদ্দিন মো. রওশন জামির খান, দপ্তর সম্পাদক কাজী মামুন রানা, যুগ্ম-দপ্তর সম্পাদক মো. মোজাহিদ হাসান। 


          আইটি সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, যুগ্ম-আইটি সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান মুন্না, আইন সম্পাদক মুহম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন, যুগ্ম-আইন সম্পাদক মো. মিল্টন হোসেন, কল্যাণ ও উন্নয়ন সম্পাদক ড. শাহ্ হোসাইন আহমেদ মেহ্দী, মুখ্য-কল্যাণ ও উন্নয়ন সম্পাদক সাব্বির আহমেদ তাফসীর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ. বি. এম. কামরুজ্জামান, যুগ্ম-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. ফরহাদ আলম।


          এছাড়া নির্বাহী সদস্য হয়েছেন ১৫ জন। তারা হলেন মো. আশফাকুল রহমান, মো. আবু তালেব, মো. আব্দুল বাছেদ, মো. আবদুল খালেক, এম উমার আলী, আ. স. ম. খায়রুজ্জামান, মো. গোলাম রছুল, মো. নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মো. মহিউদ্দীন, মো. মাহবুবুল আহসান, মো. রেজাউল করিম, মো. রফিকুল ইসলাম, মোহা. লতিফুল রহমান, মো. শফিকুল ইসলাম। 


          সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৫ জন নির্বাহী সদস্য হয়েছেন। তারা হলেন মোছা. ফাতিমা খাতুন, মোসা. সখিনা খাতুন, ড. সিরাজুম মুনীরা, শাহানারা বেগম ও শারমিন আকতার।


          ঘোষণা অনুযায়ী, রুয়া'র মোট জীবন সদস্য ৮ হাজার ২৭৫ জন। আজ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে উপস্থিত ছিল সাড়ে তিন হাজার ভোটার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৮০০ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭০৯ জন ভোট দিয়েছেন। সে হিসেবে মোট ৪৩ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ছিলেন।


          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত