ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

খুবির ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ২২ শিক্ষার্থী পেলেন ডিন’স অ্যাওয়ার্ড

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৫ জুলাই, ২০২৫ ১৯:২১
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
খুবির ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ২২ শিক্ষার্থী পেলেন ডিন’স অ্যাওয়ার্ড

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলভুক্ত ২টি ডিসিপ্লিনের ২২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ ২৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১.৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।


ডিন’স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের বিবিএ ’২০ ব্যাচের ঋতুপর্ণা সাহা (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮৯), শেখ মুহাম্মদ তাহমিদ (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮১), এমবিএ প্রোগ্রামের ’১৯ ব্যাচের শ্যামা ফলিয়া (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৪.০০), কাজী নিশাত ফারহা লোপা (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৯৪), মো. ফাহমিদুল হক (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮৩), ’২০ ব্যাচের গায়ত্রী অদিতি মিত্র (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৪.০০), সৈয়দ শামীম হাসান (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮৯), ’২৩ ব্যাচের ফারহানা ইয়াসমিন (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮৮), আব্দুল্লাহ তারিক (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮০), পূজা রায় (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৭৮), হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিনের বিবিএ ’১৯ ব্যাচের সাব্বির আহমেদ (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৯৭), তামিমা হাসান তৈশি (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৯৭), জারিন রাফা (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮৯), নাতাশা শিকদার (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮৮), ’২০ ব্যাচের খাদিজা আক্তার রোশনি (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮৯), আতকিয়া মায়শা (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮৭), এমবিএ ’২০ ব্যাচের শেখ নিয়াজুর রহমান (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৯৭), ফারহানা আমিন কনা (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৯২), ’২৩ ব্যাচের ব্রিতো রায় (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৯১), নূর-ই-আলম সিদ্দিকী (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৯১), রুকাইয়া আবিহা (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৮৯) ও মো. মুবিনুল ইসলাম (প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৭৬)।


প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, পিতা-মাতা ও শিক্ষকরা সবসময় চান, তাঁদের সন্তান ও শিক্ষার্থীরা যেন তাঁদের চেয়ে আরও এগিয়ে যান, নিজেদের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠুন। তাঁদের সেই স্বপ্নপূরণের পথে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি নিঃসন্দেহে বিশেষ কিছু- শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের জীবনের গৌরবময় স্মৃতি ও আজীবন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


তিনি আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় যেসব ডিসিপ্লিন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তার অন্যতম ছিল ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন। শুরু থেকেই এ ডিসিপ্লিন তার সক্ষমতা প্রমাণ করে এসেছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিনও ইতোমধ্যে নিজেদের মেধা, মনন ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, যা তাদের সামগ্রিক বিকাশে ভূমিকা রাখছে।

উপাচার্য শিক্ষার্থীদের একাডেমিক রেজাল্টের মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করার জন্য ধারাবাহিকভাবে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আগামীতেও এ ধরনের অনুষ্ঠান আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আহ্বান জানান। 


ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ নূর আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. এস এম তৌহিদুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিন প্রধান মোঃ মেহেদী হাসান।


অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের এমবিএ ’১৯ ব্যাচের মোঃ ফাহমিদুল হক, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিনের বিবিএ ’১৯ ব্যাচের তামিমা হাসান তৈশি ও এমবিএ ইন এইচআরএম ’২৩ ব্যাচের নূর-ই-আলম সিদ্দিকী। অভিভাবকদের মধ্য থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের এমবিএ ’২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিনের পিতা গোলাম মোক্তাদির।


অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ এনামুল হক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, সংশ্লিষ্ট স্কুলভুক্ত ডিসিপ্লিনসমূহের প্রধানবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    স্টুডেন্ট ফেডারেশন পাবনা জেলা রাজশাহী কলেজের নেতৃত্বে সৌরভ-তোহা

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৫ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৪৩
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    স্টুডেন্ট ফেডারেশন পাবনা জেলা রাজশাহী কলেজের নেতৃত্বে সৌরভ-তোহা

    "সাম্য ভাতৃত্ব, বন্ধন সম্পর্কের এই ভাবনা গড়ে তুলবে শক্তি" অঙ্গিকারকে ধারণ করে এক পাবনা নীতিকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো রাজশাহী কলেজে "স্টুডেন্ট ফেডারেশন পাবনা জেলা" কার্যনির্বাহী কমিটি আত্মপ্রকাশ করেছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে মো শরিফুল ইসলাম সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছে এস এম নুরুজ্জামান তোহা।


    বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ২৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কার্যকর কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাবনা জেলা থেকে আগত রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সার্বিকভাবে সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত, সম্পর্ক উন্নয়ন, সাহায্য সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় কে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো পাবনা জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই সংগঠনের যাত্রা। 


     সংগঠনটি জাতীয় বিদ্যালয় কর্তৃক চালু হওয়া ভর্তি পরিক্ষায় নবীন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, পাবনা জেলা থেকে রাজশাহী কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ পরিচালনা করবে। এছাড়াও পরবর্তীতে আলোচনা সাপেক্ষে আগ্রহী সদস্যদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।


    ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির বাকিরা হলেন, সহ-সভাপতি জয় দাস, সহ-সভাপতি মো: আরমান হোসেন শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোদেলা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল হোসাইন, প্রচার সম্পাদক হুসাইন আহমেদ নুর, উপ-প্রচার সম্পাদক রাফিউল, আওয়াল, দপ্তর সম্পাদক মো: নাজমুল হাসান আবির, সহ-দপ্তর সম্পাদক এস এম সাজিদ রায়হান, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মিরাতুজ জাহান মিলি, সহ ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মোছা: লাবনী খাতুন, ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক আবরার শাহরিয়ার, শিক্ষা ও আইন বিষয়ক আবুশামা শাওন, ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর শাহরিয়ার নাফিস।


    এছাড়াও সদস্য হিসেবে আছেন, মো: মেহেদী হাসান, শাহরিয়ার কবির সুমন, আব্দুল্লাহ আল আশিফ, মিথিলা ফারজানা মীম, আকিব মোরসেদ নিযুম, আনিকা নওয়ার জেরীন, মো: আব্দুল্লাহ প্রামানিক, মুনতাসীর রহমান, এস কে এহসান মাহমুদ, মো: রাব্বি রহিম রাজ।


    পাবনা জেলার শিক্ষার্থীরা মনে করেন, রাজশাহী কলেজে স্টুডেন্ট ফেডারেশন পাবনা জেলা গঠনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের আশা পূর্ণতা পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি তাদের জন্য অনেক সহায়ক হবে।

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বুটেক্সের শহীদ আজিজ হলে প্রতিনিধি নির্বাচন স্থগিত: হুমকি ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৫ জুলাই, ২০২৫ ১২:৪৪
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    বুটেক্সের শহীদ আজিজ হলে প্রতিনিধি নির্বাচন স্থগিত: হুমকি ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

    বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শহীদ আজিজ হলে প্রতিনিধি নির্বাচনকে ঘিরে হুমকি, র‍্যাগিং ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক পক্ষের অভিযোগ এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন ও হল প্রশাসন নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে।


    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে শহীদ আজিজ হলে কয়েকজন প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৪৯তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ৫০তম ব্যাচের কয়েকজন প্রার্থীকে বিটাক মোড়ে ডেকে নেন এবং কথোপকথনের এক পর্যায়ে নির্দিষ্ট একজন প্রার্থীকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আহ্বান করেন।


    পরবর্তীতে ওই রাতেই ৫০তম ব্যাচের একজন প্রার্থীকে হলের এক্সটেনশনে ডেকে র‍্যাগিং করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে ‘ফরমাল ড্রেস’ পরে আসতে বলা হয় এবং সেখানে তার নির্বাচনী যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অবমাননাকর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।


    অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে রয়েছে, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মুশফিক আহমেদ নাবিল,টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের মোসাইদুল ইসলাম তনিম, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জিসান। যার মধ্যে মুশফিক আহমেদ নাবিল হল প্রতিনিধি নির্বাচনের একজন প্রার্থী ছিলো। যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে।

    ঘটনার জেরে ৫০তম ব্যাচ এবং পরবর্তীতে ৪৮তম ব্যাচও একযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন কমিশন নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।


    তবে এ ঘটনায় শুধুমাত্র ব্যাচভিত্তিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং এলাকাভিত্তিক প্রভাব ও সুসংগঠিত গোষ্ঠী রাজনীতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


    বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচিত একটি এলাকাভিত্তিক গোষ্ঠী (মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও আশেপাশের জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত) শহীদ আজিজ হলের প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে প্রতিটি ব্যাচ থেকেই প্রার্থী দাঁড় করিয়ে হলে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।


    বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—৪৭তম ব্যাচে উল্লেখিত এলাকাগুলোর ১ জন প্রার্থী,

    ৪৮তম ব্যাচে রয়েছে ১ জন, ৪৯তম ব্যাচে রয়েছে ৩ জন এবং ৫০তম ব্যাচেও রয়েছে ১ জন প্রতিনিধি পদপ্রার্থী শিক্ষার্থী।


    শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিটি ব্যাচে ধারাবাহিকভাবে প্রার্থিতা দেওয়ার এই প্রবণতা আসলে এক পরিকল্পিত কৌশল, যার মাধ্যমে হলে গোষ্ঠীগত নিয়ন্ত্রণ কায়েমের চেষ্টা চলছে।


    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ আজিজ হলের একজন শিক্ষার্থী বলেন,

    ৫ আগস্টের পর র‍্যাগিং ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও আজিজ হলে প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটছে—কার ছত্রছায়ায় এসব হচ্ছে, সেটা জানা দরকার।


    আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন,

    ঘটনার কিছুদিন আগেই কিছু সিনিয়র শিক্ষার্থীকে একটি রাজনৈতিক দলপন্থী নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা গেছে। তাই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


    নির্বাচন কমিশনের সদস্য সাঈফ মাহমুদ জানান—

    ২৩ তারিখ রাতে অভিযোগ পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। পরদিন সকালে মিটিংয়ে ৫০তম ব্যাচ নির্বাচন বাতিলের দাবি জানায় এবং লিখিত অভিযোগ দেয়। সবকিছু পর্যালোচনায় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


    হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. এমদাদ সরকার বলেন—

    প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


    অন্যদিকে, যাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ এসেছে, তারা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।


    তাদের ভাষ্য—

    বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির গ্রুপে যে পোস্ট দেওয়া হয়েছে, তাতে ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় থাকা কিছু প্রার্থী পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।


    তাদের আরও অভিযোগ—

    ঘটনার রাতে আমরা হলে অবস্থান করছিলাম। অথচ আমাদের ডেকে কোনো ব্যাখ্যা শোনা হয়নি। এরপরদিন সকালে হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট আমাদের কথা না শুনেই হল থেকে বহিষ্কার করে এবং শনিবারের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন।


    তবে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে হল প্রশাসন জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৫০তম ব্যাচের প্রায় ৩৪ জন ছাত্র এসে অভিযোগ জানায় এবং সাক্ষ্য দেয়। পরবর্তীতে অভিযুক্তরাও তাদের দোষ স্বীকার করে। আর হল ত্যাগের ব্যাপারে যা বলা হচ্ছে, তার অফিসিয়াল নোটিশ এখনো আসে নি। আমরা তদন্ত করবো এবং তদন্তের সাপেক্ষে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেয় তা জানানো হবে।


    হলের দেয়ালে এখনও লেগে আছে সেই রাতের উত্তেজনার ছাপ। চায়ের দোকানের বেঞ্চে, এক্সটেনশনের বন্ধ দরজার ওপাশে, আর ফিসফিসে কথোপকথনের ফাঁকে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটাই গল্প—কে কার হয়ে দাঁড়ালো, আর কে দাঁড়াতে গিয়েও হার মানলো চাপের মুখে।

    নির্বাচন স্থগিত হয়েছে—কিন্তু গোষ্ঠীগত দাপট থামেনি। ছায়া-রাজনীতি এখনও হাঁটছে আজিজ হলের করিডোরে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৪ জুলাই, ২০২৫ ২১:৫২
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

      রাজধানীর ৭টি সরকারি কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামোর অধীনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।


      তিনি জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে দুই ধাপে—প্রথম ধাপ ২২ আগস্ট বিকেলে এবং দ্বিতীয় ধাপ ২৩ আগস্ট সকালে।


      তিনি আরও জানান, ভর্তিসংক্রান্ত কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার কারিগরি সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। ভর্তি প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শনিবার আবারও একটি সভা ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকের পর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।


      এর আগে, গত ৯ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয়। সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম কাশেম স্বাক্ষরিত স্মারকে উল্লেখ করা হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৭ জুলাইয়ের চিঠির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

       

      ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের আওতায় যে ৭টি সরকারি কলেজ রয়েছে, সেগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।


      উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে এসব সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীরা একটি স্বতন্ত্র নীতিমালার অধীনে ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবেন।


      মন্তব্য

      আবাসিক সংকটে শিক্ষার্থীরা, দখলদার কারা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে স্লোগানে মুখর ক্যাম্পাস

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৪ জুলাই, ২০২৫ ২১:২৩
      অনলাইন ডেস্ক
      আবাসিক সংকটে শিক্ষার্থীরা, দখলদার কারা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে স্লোগানে মুখর ক্যাম্পাস

      সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা-তে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আবাসিক সিট সংকট ও নতুন হল নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কাশগরী হল মাঠ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।


      মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে তাদের দাবির জোরালো উপস্থিতি জানান:


      “জমি আছে হল নাই- এমন কোন ক্যাম্পাস নাই”
      “হল চাই হল দে- নইলে গদি ছাইড়া দে”
      “আবাসিক হলে সিট চাই -এটা আমাদের অধিকার” 


      বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা আলিয়ার শিবির সভাপতি আব্দুল আলিম বলেন:


      সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার শিক্ষার্থীরা আজ চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। শত বছরের পুরোনো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকার ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের একমাত্র খেলার মাঠ দখল করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলার নামে আদালত বসানো হয়েছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার এই মাঠকে একের পর এক মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিচারস্থল বানিয়ে ফেলেছে।

      একদিকে আমরা ছাত্ররা হলে জায়গা না পেয়ে মেসে, মসজিদে রাত কাটায় অন্যদিকে আমাদের মাঠ দখল করে চলছে তথাকথিত বিচার। এটা কোনো স্বাভাবিক অবস্থা নয় এটা একটা রাষ্ট্রীয় পরিকল্পিত আগ্রাসন। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছাত্রসমাজের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল।


      আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই ঢাকা আলিয়ার জমি ছাত্রদের, বিচারালয়ের নয়। আমরা এই দখলদারিত্ব মেনে নেব না। নতুন হল নির্মাণ না হলে, দখলদার কারা অধিদপ্তর না সরালে, ছাত্ররা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে পড়লে ইতিহাস থেমে যায় না, বরং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।


      কামিল বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন:

      সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আবাসন সংকট এখন ভয়াবহ পর্যায়ে। যেখানে সিট আছে মাত্র ৩০০ জনের জন্য, সেখানে পড়ছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। অধিকাংশই এসেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। মেসে থাকা, অতিরিক্ত ভাড়া গুনা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জীবন চালানো এই হচ্ছে বাস্তবতা। অথচ প্রশাসনের নিরবতা যেন এই সংকটকে স্বাভাবিক করে তুলেছে।


      ক্যাম্পাসে জমি আছে, তবু নতুন হল হচ্ছে না। কারা অধিদপ্তর আমাদের জায়গা দখল করে রেখেছে বছরের পর বছর। এটা কি ছাত্রদের প্রতি রাষ্ট্রের অন্যায্য আচরণ নয়? আমরা কোনো বিলাসিতা চাই না আমরা কেবল ন্যায্য আবাসন চাই, যাতে একজন শিক্ষার্থী মাথা গুঁজে অন্তত পড়াশোনা করতে পারে।


      এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত একটি একাডেমিক ভবন বা আবাসিক হলও নির্মাণ হয়নি আমরা নতুন একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হল চাই। শিক্ষার সুযোগ চেয়ে আমরা এসেছি, অথচ আজ আমরা দেখছি এই শহরে আমাদের ঠাঁই নেই। প্রশাসন যদি চায় আমরা মাদ্রাসা ছেড়ে রাস্তায় থাকি, তাহলে আমাদের আন্দোলনও হবে রাস্তাকেন্দ্রিক।


      তিনি আরও বলেন:

      জায়গা থাকতে আমরা আশ্রয়হীন! মাঠ আছে, তবু খেলা যায় না,ক্যাম্পাসে বসবাসের মতো আবাসন নেই। নতুন হলের জন্য জায়গা আছে অথছ হল নির্মানের ইচ্ছা নেই। প্রশাসন চুপ, সরকার নীরব এই অবহেলার শেষ কোথায় ?

      ছাত্রদের কণ্ঠরোধ করা যায় না। আমাদের অধিকার আমরা আদায় করবো। মাঠ ফেরত চাই, নতুন হল চাই এটাই শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত বার্তা।


      আবাসন সংকট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত দাবি আমি পেয়েছি। আমি সচিব মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করবো এবং সমস্যার সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবো।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত