ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বুটেক্সের শহীদ আজিজ হলে প্রতিনিধি নির্বাচন স্থগিত: হুমকি ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৫ জুলাই, ২০২৫ ১২:৪৪
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
বুটেক্সের শহীদ আজিজ হলে প্রতিনিধি নির্বাচন স্থগিত: হুমকি ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শহীদ আজিজ হলে প্রতিনিধি নির্বাচনকে ঘিরে হুমকি, র‍্যাগিং ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক পক্ষের অভিযোগ এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন ও হল প্রশাসন নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে শহীদ আজিজ হলে কয়েকজন প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৪৯তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ৫০তম ব্যাচের কয়েকজন প্রার্থীকে বিটাক মোড়ে ডেকে নেন এবং কথোপকথনের এক পর্যায়ে নির্দিষ্ট একজন প্রার্থীকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আহ্বান করেন।


পরবর্তীতে ওই রাতেই ৫০তম ব্যাচের একজন প্রার্থীকে হলের এক্সটেনশনে ডেকে র‍্যাগিং করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে ‘ফরমাল ড্রেস’ পরে আসতে বলা হয় এবং সেখানে তার নির্বাচনী যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অবমাননাকর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।


অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে রয়েছে, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মুশফিক আহমেদ নাবিল,টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের মোসাইদুল ইসলাম তনিম, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জিসান। যার মধ্যে মুশফিক আহমেদ নাবিল হল প্রতিনিধি নির্বাচনের একজন প্রার্থী ছিলো। যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার জেরে ৫০তম ব্যাচ এবং পরবর্তীতে ৪৮তম ব্যাচও একযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন কমিশন নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।


তবে এ ঘটনায় শুধুমাত্র ব্যাচভিত্তিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং এলাকাভিত্তিক প্রভাব ও সুসংগঠিত গোষ্ঠী রাজনীতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচিত একটি এলাকাভিত্তিক গোষ্ঠী (মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও আশেপাশের জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত) শহীদ আজিজ হলের প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে প্রতিটি ব্যাচ থেকেই প্রার্থী দাঁড় করিয়ে হলে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।


বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—৪৭তম ব্যাচে উল্লেখিত এলাকাগুলোর ১ জন প্রার্থী,

৪৮তম ব্যাচে রয়েছে ১ জন, ৪৯তম ব্যাচে রয়েছে ৩ জন এবং ৫০তম ব্যাচেও রয়েছে ১ জন প্রতিনিধি পদপ্রার্থী শিক্ষার্থী।


শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিটি ব্যাচে ধারাবাহিকভাবে প্রার্থিতা দেওয়ার এই প্রবণতা আসলে এক পরিকল্পিত কৌশল, যার মাধ্যমে হলে গোষ্ঠীগত নিয়ন্ত্রণ কায়েমের চেষ্টা চলছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ আজিজ হলের একজন শিক্ষার্থী বলেন,

৫ আগস্টের পর র‍্যাগিং ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও আজিজ হলে প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটছে—কার ছত্রছায়ায় এসব হচ্ছে, সেটা জানা দরকার।


আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন,

ঘটনার কিছুদিন আগেই কিছু সিনিয়র শিক্ষার্থীকে একটি রাজনৈতিক দলপন্থী নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা গেছে। তাই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


নির্বাচন কমিশনের সদস্য সাঈফ মাহমুদ জানান—

২৩ তারিখ রাতে অভিযোগ পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। পরদিন সকালে মিটিংয়ে ৫০তম ব্যাচ নির্বাচন বাতিলের দাবি জানায় এবং লিখিত অভিযোগ দেয়। সবকিছু পর্যালোচনায় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. এমদাদ সরকার বলেন—

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অন্যদিকে, যাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ এসেছে, তারা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।


তাদের ভাষ্য—

বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির গ্রুপে যে পোস্ট দেওয়া হয়েছে, তাতে ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় থাকা কিছু প্রার্থী পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।


তাদের আরও অভিযোগ—

ঘটনার রাতে আমরা হলে অবস্থান করছিলাম। অথচ আমাদের ডেকে কোনো ব্যাখ্যা শোনা হয়নি। এরপরদিন সকালে হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট আমাদের কথা না শুনেই হল থেকে বহিষ্কার করে এবং শনিবারের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন।


তবে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে হল প্রশাসন জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৫০তম ব্যাচের প্রায় ৩৪ জন ছাত্র এসে অভিযোগ জানায় এবং সাক্ষ্য দেয়। পরবর্তীতে অভিযুক্তরাও তাদের দোষ স্বীকার করে। আর হল ত্যাগের ব্যাপারে যা বলা হচ্ছে, তার অফিসিয়াল নোটিশ এখনো আসে নি। আমরা তদন্ত করবো এবং তদন্তের সাপেক্ষে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেয় তা জানানো হবে।


হলের দেয়ালে এখনও লেগে আছে সেই রাতের উত্তেজনার ছাপ। চায়ের দোকানের বেঞ্চে, এক্সটেনশনের বন্ধ দরজার ওপাশে, আর ফিসফিসে কথোপকথনের ফাঁকে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটাই গল্প—কে কার হয়ে দাঁড়ালো, আর কে দাঁড়াতে গিয়েও হার মানলো চাপের মুখে।

নির্বাচন স্থগিত হয়েছে—কিন্তু গোষ্ঠীগত দাপট থামেনি। ছায়া-রাজনীতি এখনও হাঁটছে আজিজ হলের করিডোরে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৪ জুলাই, ২০২৫ ২১:৫২
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

    রাজধানীর ৭টি সরকারি কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামোর অধীনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।


    তিনি জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে দুই ধাপে—প্রথম ধাপ ২২ আগস্ট বিকেলে এবং দ্বিতীয় ধাপ ২৩ আগস্ট সকালে।


    তিনি আরও জানান, ভর্তিসংক্রান্ত কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার কারিগরি সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। ভর্তি প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শনিবার আবারও একটি সভা ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকের পর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।


    এর আগে, গত ৯ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয়। সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম কাশেম স্বাক্ষরিত স্মারকে উল্লেখ করা হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৭ জুলাইয়ের চিঠির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

     

    ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের আওতায় যে ৭টি সরকারি কলেজ রয়েছে, সেগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।


    উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে এসব সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীরা একটি স্বতন্ত্র নীতিমালার অধীনে ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবেন।


    মন্তব্য

    আবাসিক সংকটে শিক্ষার্থীরা, দখলদার কারা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে স্লোগানে মুখর ক্যাম্পাস

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৪ জুলাই, ২০২৫ ২১:২৩
    অনলাইন ডেস্ক
    আবাসিক সংকটে শিক্ষার্থীরা, দখলদার কারা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে স্লোগানে মুখর ক্যাম্পাস

    সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা-তে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আবাসিক সিট সংকট ও নতুন হল নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কাশগরী হল মাঠ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।


    মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে তাদের দাবির জোরালো উপস্থিতি জানান:


    “জমি আছে হল নাই- এমন কোন ক্যাম্পাস নাই”
    “হল চাই হল দে- নইলে গদি ছাইড়া দে”
    “আবাসিক হলে সিট চাই -এটা আমাদের অধিকার” 


    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা আলিয়ার শিবির সভাপতি আব্দুল আলিম বলেন:


    সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার শিক্ষার্থীরা আজ চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। শত বছরের পুরোনো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকার ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের একমাত্র খেলার মাঠ দখল করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলার নামে আদালত বসানো হয়েছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার এই মাঠকে একের পর এক মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিচারস্থল বানিয়ে ফেলেছে।

    একদিকে আমরা ছাত্ররা হলে জায়গা না পেয়ে মেসে, মসজিদে রাত কাটায় অন্যদিকে আমাদের মাঠ দখল করে চলছে তথাকথিত বিচার। এটা কোনো স্বাভাবিক অবস্থা নয় এটা একটা রাষ্ট্রীয় পরিকল্পিত আগ্রাসন। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছাত্রসমাজের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল।


    আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই ঢাকা আলিয়ার জমি ছাত্রদের, বিচারালয়ের নয়। আমরা এই দখলদারিত্ব মেনে নেব না। নতুন হল নির্মাণ না হলে, দখলদার কারা অধিদপ্তর না সরালে, ছাত্ররা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে পড়লে ইতিহাস থেমে যায় না, বরং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।


    কামিল বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন:

    সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আবাসন সংকট এখন ভয়াবহ পর্যায়ে। যেখানে সিট আছে মাত্র ৩০০ জনের জন্য, সেখানে পড়ছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। অধিকাংশই এসেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। মেসে থাকা, অতিরিক্ত ভাড়া গুনা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জীবন চালানো এই হচ্ছে বাস্তবতা। অথচ প্রশাসনের নিরবতা যেন এই সংকটকে স্বাভাবিক করে তুলেছে।


    ক্যাম্পাসে জমি আছে, তবু নতুন হল হচ্ছে না। কারা অধিদপ্তর আমাদের জায়গা দখল করে রেখেছে বছরের পর বছর। এটা কি ছাত্রদের প্রতি রাষ্ট্রের অন্যায্য আচরণ নয়? আমরা কোনো বিলাসিতা চাই না আমরা কেবল ন্যায্য আবাসন চাই, যাতে একজন শিক্ষার্থী মাথা গুঁজে অন্তত পড়াশোনা করতে পারে।


    এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত একটি একাডেমিক ভবন বা আবাসিক হলও নির্মাণ হয়নি আমরা নতুন একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হল চাই। শিক্ষার সুযোগ চেয়ে আমরা এসেছি, অথচ আজ আমরা দেখছি এই শহরে আমাদের ঠাঁই নেই। প্রশাসন যদি চায় আমরা মাদ্রাসা ছেড়ে রাস্তায় থাকি, তাহলে আমাদের আন্দোলনও হবে রাস্তাকেন্দ্রিক।


    তিনি আরও বলেন:

    জায়গা থাকতে আমরা আশ্রয়হীন! মাঠ আছে, তবু খেলা যায় না,ক্যাম্পাসে বসবাসের মতো আবাসন নেই। নতুন হলের জন্য জায়গা আছে অথছ হল নির্মানের ইচ্ছা নেই। প্রশাসন চুপ, সরকার নীরব এই অবহেলার শেষ কোথায় ?

    ছাত্রদের কণ্ঠরোধ করা যায় না। আমাদের অধিকার আমরা আদায় করবো। মাঠ ফেরত চাই, নতুন হল চাই এটাই শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত বার্তা।


    আবাসন সংকট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত দাবি আমি পেয়েছি। আমি সচিব মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করবো এবং সমস্যার সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবো।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      এনসিপি’র কাজই হচ্ছে বিএনপি’র নামে বদনাম করা: ইশরাক হোসেন

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৩৬
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      এনসিপি’র কাজই হচ্ছে বিএনপি’র নামে বদনাম করা: ইশরাক হোসেন
      ছবি: রাইজিং ক্যাম্পাস

      পদ যাত্রার নামে বিএনপির নামে বদনাম করা এনসিপির একটা এজেন্ডা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।


      বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ মাঠে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে কলেজ ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 


      ইশরাক হোসেন বলেন, একটি গোষ্ঠী জুলাই অভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নেয়ার একটা ইজম চালু করেছে, তাদের রুখে দিতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে সামনে রেখে কেউ কেউ বিভিন্ন অপকর্ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। 


      অন্তবর্তী সরকারের সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, সংস্কার ও নির্বাচনের কথা থাকলেও গত এক বছরে দৃশ্যমান কোন বিচার করতে পারেনি সরকার। এই সরকারের দৃশ্যমান কোন বিচারের কর্মকান্ড আমরা এখনো দেখতে পাইনি। কেন একটা মাত্র ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, পাঁচটি করা হয়নি- এই প্রশ্ন করেন তিনি। 


      বর্তমান সরকার তার চারপাশে স্বৈরাচার নিয়ে সরকারের মধ্যে কাজ করছে মন্তব্য করে বিএনপির তরুণ এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের চারপাশে বিগত আওয়ামী সরকারের বসে আছে। তাদের প্রতিহত করতে হবে।


      এসময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শহীদ চার শিক্ষার্থীর (ইকরাম হোসেন কাউসার, ওমর ফারুক, জিহাদ হোসেন এবং তৌহীদুল ইসলাম) স্মরণে শহীদ চত্বর করার ঘোষণা দেন ইশরাক।


      কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজমুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন সহ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ


      মন্তব্য

      “বাস্তবভিত্তিক স্বপ্ন দেখো” - বিদায়ী বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বার্তা প্রফেসর মান্নানের

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৩২
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      “বাস্তবভিত্তিক স্বপ্ন দেখো” - বিদায়ী বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বার্তা প্রফেসর মান্নানের

      খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল মান্নানের কর্মজীবনের সফল সমাপ্তিতে এক হৃদয়ছোঁয়া বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা।


      অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা।

      প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন,

      “প্রফেসর মান্নান ছিলেন একজন বিনয়ী, ধৈর্যশীল ও সদালাপী মানুষ। শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন শিক্ষার্থীদের প্রিয় ছিলেন, তেমনি গবেষণার ক্ষেত্রেও ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। কর্মজীবনে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর মতো গুণী শিক্ষককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও মেধা অবসরকালেও কাজে লাগাতে চাইলে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

      বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশীদ খান। তিনি মতপ্রকাশ করে বলেন,

      “একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের অবসান মানেই তাঁর অবদান শেষ হয়ে যাওয়া নয়। প্রফেসর মান্নানের মতো একজন শিক্ষক অবসরের পরও লেখালেখি, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করার কাজে যুক্ত থাকতে পারেন। এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”


      অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর ড. মাহতালাত আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেন।

      নিজের বিদায়ী বক্তব্যে আবেগে ভাসিয়ে প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন,

      “আজকের এই দিনটি আমার জীবনের গর্বের ও আবেগময় অধ্যায়। আমার কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যময়, তবে শিক্ষকতা ছিল সবচেয়ে প্রিয় ও অর্থবহ অংশ। শিক্ষার্থীদের বলব—সময়ের কাজ সময়ে করলে সফলতা আসবেই। বাস্তবভিত্তিক স্বপ্ন দেখো, এগিয়ে চলো, সফলতা আসবেই। এই বিদায় সংবর্ধনা আমাকে সত্যিই অভিভূত করেছে।”


      চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাবাস্সুম নূর বলেন,

      “স্যার ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে ধৈর্য ধরে আমাদের বুঝিয়ে দিতেন। শুধু পাঠ্য বিষয়ই নয়, স্যারের ক্লাস থেকে আমরা অনুপ্রেরণাও পেতাম। স্যারের অভাব আমরা গভীরভাবে অনুভব করব।”

      তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর বিন মহিত বলেন,

      “স্যারের মতো আন্তরিক ও মানবিক শিক্ষক খুব কমই দেখা যায়। তিনি শুধু পড়ালেখা নয়, সময় ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতা এবং বাস্তব জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি শেখাতেন। আমরা ভাগ্যবান, এমন একজন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পেরেছি।”

      এছাড়াও, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লাবণী আক্তার বিদায়ী শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে মানপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম স্বর্ণা ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।


      অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নানকে ডিসিপ্লিন এবং বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হয়। তাঁর সহধর্মিণীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক আবেগঘন পরিবেশ, যেখানে একজন আদর্শ শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিঃশব্দ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে মিলনায়তনের প্রতিটি কোণে।


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত