ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

“বাস্তবভিত্তিক স্বপ্ন দেখো” - বিদায়ী বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বার্তা প্রফেসর মান্নানের

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৩২
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
“বাস্তবভিত্তিক স্বপ্ন দেখো” - বিদায়ী বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বার্তা প্রফেসর মান্নানের

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল মান্নানের কর্মজীবনের সফল সমাপ্তিতে এক হৃদয়ছোঁয়া বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা।


অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন,

“প্রফেসর মান্নান ছিলেন একজন বিনয়ী, ধৈর্যশীল ও সদালাপী মানুষ। শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন শিক্ষার্থীদের প্রিয় ছিলেন, তেমনি গবেষণার ক্ষেত্রেও ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। কর্মজীবনে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর মতো গুণী শিক্ষককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও মেধা অবসরকালেও কাজে লাগাতে চাইলে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশীদ খান। তিনি মতপ্রকাশ করে বলেন,

“একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের অবসান মানেই তাঁর অবদান শেষ হয়ে যাওয়া নয়। প্রফেসর মান্নানের মতো একজন শিক্ষক অবসরের পরও লেখালেখি, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করার কাজে যুক্ত থাকতে পারেন। এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর ড. মাহতালাত আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেন।

নিজের বিদায়ী বক্তব্যে আবেগে ভাসিয়ে প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন,

“আজকের এই দিনটি আমার জীবনের গর্বের ও আবেগময় অধ্যায়। আমার কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যময়, তবে শিক্ষকতা ছিল সবচেয়ে প্রিয় ও অর্থবহ অংশ। শিক্ষার্থীদের বলব—সময়ের কাজ সময়ে করলে সফলতা আসবেই। বাস্তবভিত্তিক স্বপ্ন দেখো, এগিয়ে চলো, সফলতা আসবেই। এই বিদায় সংবর্ধনা আমাকে সত্যিই অভিভূত করেছে।”


চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাবাস্সুম নূর বলেন,

“স্যার ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে ধৈর্য ধরে আমাদের বুঝিয়ে দিতেন। শুধু পাঠ্য বিষয়ই নয়, স্যারের ক্লাস থেকে আমরা অনুপ্রেরণাও পেতাম। স্যারের অভাব আমরা গভীরভাবে অনুভব করব।”

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর বিন মহিত বলেন,

“স্যারের মতো আন্তরিক ও মানবিক শিক্ষক খুব কমই দেখা যায়। তিনি শুধু পড়ালেখা নয়, সময় ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতা এবং বাস্তব জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি শেখাতেন। আমরা ভাগ্যবান, এমন একজন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পেরেছি।”

এছাড়াও, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লাবণী আক্তার বিদায়ী শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে মানপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম স্বর্ণা ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।


অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নানকে ডিসিপ্লিন এবং বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হয়। তাঁর সহধর্মিণীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক আবেগঘন পরিবেশ, যেখানে একজন আদর্শ শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিঃশব্দ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে মিলনায়তনের প্রতিটি কোণে।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবিতে রাবি ছাত্রশিবিরের ঘেরাও কর্মসূচি

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৪:২৭
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    রাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবিতে রাবি ছাত্রশিবিরের ঘেরাও কর্মসূচি

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে রাকসু ভবন ঘেরাও করে কর্মসূচি পালন করছেন রাবি শাখা ছাত্রশিবির। আজ বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবন ঘেরাও করে এই কর্মসূচি পালন করে তারা।


    এসময় তারা 'রাকসু নিয়ে টালবাহানা চলবেনা চলবেনা'; 'রাকসু না সিন্ডিকেট, রাকসু রাকসু'; 'অ্যাকশন টু অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন'; 'শিবিরের অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন'; 'দিতে হবে দিতে হবে রাকসু দিতে হবে'; 'চলছে জুলাই চলবে ছাত্রশিবির লড়বে'; 'জুলাইয়ের হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার'; 'দফা এক দাবি এক রাকসু রোডম্যাপ'; 'সাকিব রায়হান মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ'; সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।


    এসময় রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, গত মাসে রাকসু প্রশাসনে যারা ছিলেন, তারা বলেছিলেন ৩০ জুনের মধ্যে রাকসুর তফসিল ঘোষণা করবেন। কিন্তু প্রায় এক মাস অতিক্রম হয়ে গেলেও তারা তাদের সেই ওয়াদা রক্ষা করেননি। উপাচার্য বলেছিলেন, পাঁচ মাসের মধ্যে রাকসু নির্বাচন দেওয়া হবে। কিন্তু পাঁচ মাস গড়িয়ে আট মাস পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের কোনো ধরনের পদক্ষেপ আমরা লক্ষ্য করতে পারছি না। যতক্ষণ পর্যন্ত রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।


    রাকসু নিয়ে টালবাহানা করলে কঠোর কর্মসুচি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়ে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাকসু আমাদের অধিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারনী ফোরামে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব রাকসুর মাধ্যমেই সম্ভব। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনোটাই তারা আমলে নেয়নি। এখন পর্যন্ত তারা দৃশ্যমান কোনো সংস্কার করতে পারেনি। আমরা মনে করছি, সিনেটে ছাত্রদের অংশগ্রহণ না থাকায় আমাদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। 


    তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬% বাজেট ব্যায় হয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের জন্য। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার শিক্ষার্থীদের জন্য বাজেটের সামান্য অংশ বরাদ্দ রয়েছে৷ রাবি প্রশাসন সর্বপ্রথম রাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছিলো। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তির বলে তা বাস্তববায়িত হয়নি, আমরা তা জানতে চাই। আজকে নির্বাচন কমিশনের মিটিং রয়েছে, যদি কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাই, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো৷ আমাদের আজকের এই অবস্থান কর্মসূচি রাকসুর তফসিল ঘোষণা না করা পর্যন্ত চলবে।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে বিতর্ক, নেপথ্যে যা জানা গেল

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৪:২৪
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে বিতর্ক, নেপথ্যে যা জানা গেল

      নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং ইউজিসির নির্দেশনা অনুসারে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 


      গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ড. মো. ছফিউল্লাহকে আইন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এর আগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। 


      বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ড. মো: ছফিউল্লাহ ১৯৯৮ সালে দাখিল (প্রথম) এবং ২০০১ সালে এইচএসসি (প্রথম) পাশ করেন। ২০০৭ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে এল.এল.বি (৫৬.৬০% মার্কস) এবং ২০০৯ সালে এল.এল.এম (৩.৫৮ সিজিপিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। ০৯ মার্চ ২০২৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ১৫ বছরের শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে যেখানে লেকচারার পদে ০৪ বছর ০৩ মাস, সিনিয়র লেকচারার পদে ০৫ বছর ০১ মাস এবং পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ০৫ বছর ০৪ মাস কর্মরত ছিলেন। 


      তবে নিয়োগপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপককে ‘সিনিয়র লেকচারার’ হিসেবে অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা ইউজিসি নিয়োগ নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং ইউজিসির নির্দেশনা মেনেই আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেহেতু ড. মো: ছফিউল্লাহ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর আইন বিভাগের পাঁচ বছরের বেশি সহকারি অধ্যাপক পদে অভিজ্ঞতা আছে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি টাইমস হায়ার এডুকেশনের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০০-এর মধ্যে থাকায় সেখানে প্রাপ্ত শিক্ষকতা অভিজ্ঞতাকে শতভাগ গণ্য করা হয়েছে। ইউজিসির নীতিমালা অনুসারে এমন প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞতা থাকলে তা সম্পূর্ণভাবে বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া সিনিয়র লেকচারার পদকে সহকারি অধ্যাপক পদে গণনার করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য হচ্ছে এ বিষয়ে নিয়োগের পূর্বেই বিশেষজ্ঞ এবং আইনবিদেরও আইনি মতামতও নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


      এছাড়াও ইউজিসি’র নীতিমালা অনুযায়ী, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে আবেদন করতে হলে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.০০ (৫.০০ এর মধ্যে) এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে (৪.০০ এর মধ্যে)। তবে নোবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে সনাতন পদ্ধতিতে শিক্ষাগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে ৫৫% মার্কস যুক্ত করেছেন, এই ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেন ইউজেসির নীতিমালা অনুযায়ী পিএইচডি ডিগ্রি ক্ষেত্রে এসএসসি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত যেকোনো একটিতে দ্বিতীয় বিভাগ শিথিল যোগ্য হতে পারে। আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও বারবার সংশোধন আনায় নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ বলেন এই সংশোধনী শুধুমাত্র কোন এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয় সকল প্রার্থীর জন্যই প্রযোজ্য ছিল। 


      এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো: একরামুল হক বলেন, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ও পদোন্নয়ন নীতিমালায় ‘সিনিয়র লেকচারার’ নামে কোনো স্বতন্ত্র পদ নেই। তবে, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সিনিয়র লেকচারার’ পদটি প্রচলিত এবং এই পদের শিক্ষকগণ সাধারণত শিক্ষাদান, গবেষণা এবং একাডেমিক প্রশাসনের ক্ষেত্রে সহকারী অধ্যাপকের সমমানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ফলে, বিশেষত যদি শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হয়ে থাকে তাহলে সে অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।” 


      বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ড. মো: সাজ্জাদ হোসেন বাবু বলেন, “সিনিয়র লেকচারার পদটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোয় না থাকলেও অনেক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদে কর্মরত শিক্ষকরা সহকারী অধ্যাপকের সমপর্যায়ের একাডেমিক ও গবেষণা কাজ পরিচালনা করে থাকেন। পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যদি টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০০-এর মধ্যে থাকা কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে থাকে, তাহলে সেই অভিজ্ঞতাকে শতভাগ হিসেবে গৃহীত হওয়া একেবারেই যুক্তিসঙ্গত এবং নীতিনির্ভর।” 


      নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের একাডেমিক ফলাফল নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণের কথা জানিয়েছেন নোবিপ্রবি উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রেজুয়ানুল হক। তিনি বলেন, সকল নিয়মকানুন মেনেই আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল প্রশাসনকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম এবং খ্যাতী নষ্ট করতে এমন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। 


      নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রার্থীর পিএইচডি থাকলে যে কোনো একটি রেজাল্ট শিথিলযোগ্য। যা আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ২৫ নং ধারাতে স্পষ্টত উল্লেখ ছিলো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাবিপ্রবিসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই নীতি অনুসরণ করে থাকে। তাছাড়া সম্প্রতি রাঙ্গামাটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও তাদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা কে কোন ধরনের ব্যবধান ছাড়াই নিয়োগ প্রদান করেন। ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা গণনা করার ক্ষেত্রে কোন ধরনের স্পষ্ট বিধি নিষেধ নেই। 


      সিনিয়র লেকচারারকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) বলেন, শিক্ষক নিয়োগে ইউজিসির সর্বশেষ ২০২১ সালের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়নের নীতিমালার ৫ ধারার স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরাসরি সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য সহকারী অধ্যাপক পদে ৭ বছর সহ মোট ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, কিন্তু প্রার্থীর পিএইচডি থাকলে সহকারী অধ্যাপক পদে ৪ বছর সহ মোট ৭ বছরের সক্রিয় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সহকারী অধ্যাপক পদে ৫ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাহলে সেক্ষেত্রে সিনিয়র লেকচারারের বিতর্কের আর কোনো সুযোগ নেই।


      প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ছয় বছরে বাঁধন বাঙলা কলেজ ইউনিটের রক্ত সংগ্রহ ৬১৬৮ ব্যাগ

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৩ জুলাই, ২০২৫ ২১:৭
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ছয় বছরে বাঁধন বাঙলা কলেজ ইউনিটের রক্ত সংগ্রহ ৬১৬৮ ব্যাগ

      “একের রক্ত, অন্যের জীবন—রক্তই হোক আত্মার বাঁধন”, স্লোগাণকে সামনে রেখে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্ল্যাটফর্ম বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট সম্প্রতি ছয় বছর পূর্ণ করে সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।



      ছয় বছরে সংগঠনটির সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট নিরবিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার্থীরা পাশে থেকেছে। সংগঠনটির যেকোনো রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহ কিংবা বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মতো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ আশেপাশের এলাকাবাসী উপকৃত হয়েছে।



      পথচলার ছয় বছরে বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমের মাধ্যমে মোট ৬১৬৮ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে এবং ৫৭৪৯ জন মানুষের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেছে।



      স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার লক্ষ্যে বাঁধনের অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২১ জুলাই পথচলা শুরু করে বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট (ঢাকা উত্তর জোন)।


      প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ইউনিটের কর্মীরা নিরলসভাবে মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে এসেছে। এই কর্মীরা শুধু রক্ত সংগ্রহ ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ই করেনি, বরং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই পরিচালনা করেছে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণা, ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, এবং নানা দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।



      এই ছয় বছরের পথচলায় বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিটের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে ছিল সংগঠনটির কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম, কলেজ প্রশাসনের নিরবিচ্ছিন্ন সহযোগিতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রম।



      ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিটের পক্ষ থেকে সংগঠনটির শিক্ষক উপদেষ্টা, অন্যান্য উপদেষ্ঠামণ্ডলীসহ সকল সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। 


      এ বিষয়ে বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান বলেন, “এই অর্ধযুগ পূর্তির দিনে বাঁধনের প্রতিটি কর্মী আনন্দিত ও গর্বিত। আজকের এই দিনে আমরা কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সরকারি বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় যারা জড়িত ছিলেন, ভাষা আন্দোলনের শহিদদের, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের, এবং ২৪ জুলাইয়ের বিপ্লবের শহিদদের। বিশেষ শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসের সেই দুই শহিদকেও, যাঁরা নিজেদের রক্ত দিয়ে মানবিক আন্দোলনের প্রতীক হয়েআমাদের বিশ্বাস, প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বাঙলা কলেজ আগামী দিনগুলোতে আরও আলোকিত হয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বাহক হবে। ইনশাআল্লাহ, বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট আগামীতেও মানবতার জয়গানে এগিয়ে যাবে, যদি আপনারা আমাদের পাশে থাকেন।



      সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে  নিজের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে সচেতন হতে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে যুক্ত হতে আহবান করা হয়েছে। এবং বাংলাদেশের একটি প্রাণও যেনো আর রক্তের অভাবে হারিয়ে না যায় সেই কামনা করা হয়েছে।





      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ হয় নি সাত কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১২:১
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ হয় নি সাত কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

        সম্প্রতি ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামক প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন প্রদান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুমোদন পাওয়ার পর ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সাত কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন কলেজগুলোর অন্তর্বর্তী প্রশাসক।


        তবে অন্তর্বর্তী প্রশাসকের সেই ‘প্রতিশ্রুতি’ পূরণ করতে পারেনি সাত কলেজের প্রশাসন। ২০ জুলাই পার হয়ে গেলেও প্রকাশিত হয় নি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি। এমনকি চলতি মাসের বাকি ১০ দিনের মধ্যেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস শুরুর সময় পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যার কারণে ভর্তির আগেই সেশনজটে পড়তে পারেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।


        সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রশাসক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া পর থেকে কলেজগুলোর অচলাবস্থা কাটিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সচলে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। তিনি সাত কলেজের প্রশাসকের পাশাপাশি ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সম্প্রতি তিনি দুই দফা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার ফলে স্থবিরতা নেমে এসেছে সাত কলেজের ভর্তি কার্যক্রমে।


         প্রথম দফায় অসুস্থ হওয়ার পর অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হতে চিকিৎসা গ্রহণ করে কাজে ফেরেন। পরবর্তীতে তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন।


         সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রশাসক অধ্যাপক ইলিয়াস অসুস্থ থাকায় ভর্তি কার্যক্রমে কিছুটা ছেদ পড়েছে। ফলে ঘোষণা দিয়েও ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।


        ইতোপূর্বে, সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত থাকাকালীন চলতি বছরের জানুয়ারীতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তিতে এক দফা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিলো। সে বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সাতটি কলেজের অধীনে সব অনুষদ মিলিয়ে আসন ছিল ২৩ হাজার ৫২৮টি। ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে অনলাইন আবেদন চলে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। টানা ২৪ দিন আবেদন চলার পর তা স্থগিত করা হয়। ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। 


        সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন নেওয়া হবে। এরপর ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ঢাবি থেকে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের পূর্বে আবেদনকারীদের অবশ্য আবেদন বহাল রাখা কিংবা বাতিল করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন সাত কলেজ প্রশাসক। 



        উল্লেখ্য, কলেজগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত