ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

রাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবিতে রাবি ছাত্রশিবিরের ঘেরাও কর্মসূচি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৪:২৭
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
রাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবিতে রাবি ছাত্রশিবিরের ঘেরাও কর্মসূচি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে রাকসু ভবন ঘেরাও করে কর্মসূচি পালন করছেন রাবি শাখা ছাত্রশিবির। আজ বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবন ঘেরাও করে এই কর্মসূচি পালন করে তারা।


এসময় তারা 'রাকসু নিয়ে টালবাহানা চলবেনা চলবেনা'; 'রাকসু না সিন্ডিকেট, রাকসু রাকসু'; 'অ্যাকশন টু অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন'; 'শিবিরের অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন'; 'দিতে হবে দিতে হবে রাকসু দিতে হবে'; 'চলছে জুলাই চলবে ছাত্রশিবির লড়বে'; 'জুলাইয়ের হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার'; 'দফা এক দাবি এক রাকসু রোডম্যাপ'; 'সাকিব রায়হান মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ'; সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।


এসময় রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, গত মাসে রাকসু প্রশাসনে যারা ছিলেন, তারা বলেছিলেন ৩০ জুনের মধ্যে রাকসুর তফসিল ঘোষণা করবেন। কিন্তু প্রায় এক মাস অতিক্রম হয়ে গেলেও তারা তাদের সেই ওয়াদা রক্ষা করেননি। উপাচার্য বলেছিলেন, পাঁচ মাসের মধ্যে রাকসু নির্বাচন দেওয়া হবে। কিন্তু পাঁচ মাস গড়িয়ে আট মাস পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের কোনো ধরনের পদক্ষেপ আমরা লক্ষ্য করতে পারছি না। যতক্ষণ পর্যন্ত রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।


রাকসু নিয়ে টালবাহানা করলে কঠোর কর্মসুচি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়ে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাকসু আমাদের অধিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারনী ফোরামে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব রাকসুর মাধ্যমেই সম্ভব। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনোটাই তারা আমলে নেয়নি। এখন পর্যন্ত তারা দৃশ্যমান কোনো সংস্কার করতে পারেনি। আমরা মনে করছি, সিনেটে ছাত্রদের অংশগ্রহণ না থাকায় আমাদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। 


তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬% বাজেট ব্যায় হয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের জন্য। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার শিক্ষার্থীদের জন্য বাজেটের সামান্য অংশ বরাদ্দ রয়েছে৷ রাবি প্রশাসন সর্বপ্রথম রাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছিলো। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তির বলে তা বাস্তববায়িত হয়নি, আমরা তা জানতে চাই। আজকে নির্বাচন কমিশনের মিটিং রয়েছে, যদি কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাই, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো৷ আমাদের আজকের এই অবস্থান কর্মসূচি রাকসুর তফসিল ঘোষণা না করা পর্যন্ত চলবে।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে বিতর্ক, নেপথ্যে যা জানা গেল

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৪:২৪
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে বিতর্ক, নেপথ্যে যা জানা গেল

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং ইউজিসির নির্দেশনা অনুসারে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 


    গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ড. মো. ছফিউল্লাহকে আইন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এর আগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। 


    বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ড. মো: ছফিউল্লাহ ১৯৯৮ সালে দাখিল (প্রথম) এবং ২০০১ সালে এইচএসসি (প্রথম) পাশ করেন। ২০০৭ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে এল.এল.বি (৫৬.৬০% মার্কস) এবং ২০০৯ সালে এল.এল.এম (৩.৫৮ সিজিপিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। ০৯ মার্চ ২০২৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ১৫ বছরের শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে যেখানে লেকচারার পদে ০৪ বছর ০৩ মাস, সিনিয়র লেকচারার পদে ০৫ বছর ০১ মাস এবং পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ০৫ বছর ০৪ মাস কর্মরত ছিলেন। 


    তবে নিয়োগপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপককে ‘সিনিয়র লেকচারার’ হিসেবে অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা ইউজিসি নিয়োগ নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং ইউজিসির নির্দেশনা মেনেই আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেহেতু ড. মো: ছফিউল্লাহ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর আইন বিভাগের পাঁচ বছরের বেশি সহকারি অধ্যাপক পদে অভিজ্ঞতা আছে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি টাইমস হায়ার এডুকেশনের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০০-এর মধ্যে থাকায় সেখানে প্রাপ্ত শিক্ষকতা অভিজ্ঞতাকে শতভাগ গণ্য করা হয়েছে। ইউজিসির নীতিমালা অনুসারে এমন প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞতা থাকলে তা সম্পূর্ণভাবে বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া সিনিয়র লেকচারার পদকে সহকারি অধ্যাপক পদে গণনার করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য হচ্ছে এ বিষয়ে নিয়োগের পূর্বেই বিশেষজ্ঞ এবং আইনবিদেরও আইনি মতামতও নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


    এছাড়াও ইউজিসি’র নীতিমালা অনুযায়ী, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে আবেদন করতে হলে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.০০ (৫.০০ এর মধ্যে) এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে (৪.০০ এর মধ্যে)। তবে নোবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে সনাতন পদ্ধতিতে শিক্ষাগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে ৫৫% মার্কস যুক্ত করেছেন, এই ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেন ইউজেসির নীতিমালা অনুযায়ী পিএইচডি ডিগ্রি ক্ষেত্রে এসএসসি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত যেকোনো একটিতে দ্বিতীয় বিভাগ শিথিল যোগ্য হতে পারে। আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও বারবার সংশোধন আনায় নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ বলেন এই সংশোধনী শুধুমাত্র কোন এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয় সকল প্রার্থীর জন্যই প্রযোজ্য ছিল। 


    এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো: একরামুল হক বলেন, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ও পদোন্নয়ন নীতিমালায় ‘সিনিয়র লেকচারার’ নামে কোনো স্বতন্ত্র পদ নেই। তবে, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সিনিয়র লেকচারার’ পদটি প্রচলিত এবং এই পদের শিক্ষকগণ সাধারণত শিক্ষাদান, গবেষণা এবং একাডেমিক প্রশাসনের ক্ষেত্রে সহকারী অধ্যাপকের সমমানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ফলে, বিশেষত যদি শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হয়ে থাকে তাহলে সে অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।” 


    বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ড. মো: সাজ্জাদ হোসেন বাবু বলেন, “সিনিয়র লেকচারার পদটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোয় না থাকলেও অনেক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদে কর্মরত শিক্ষকরা সহকারী অধ্যাপকের সমপর্যায়ের একাডেমিক ও গবেষণা কাজ পরিচালনা করে থাকেন। পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যদি টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০০-এর মধ্যে থাকা কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে থাকে, তাহলে সেই অভিজ্ঞতাকে শতভাগ হিসেবে গৃহীত হওয়া একেবারেই যুক্তিসঙ্গত এবং নীতিনির্ভর।” 


    নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের একাডেমিক ফলাফল নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণের কথা জানিয়েছেন নোবিপ্রবি উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রেজুয়ানুল হক। তিনি বলেন, সকল নিয়মকানুন মেনেই আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল প্রশাসনকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম এবং খ্যাতী নষ্ট করতে এমন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। 


    নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রার্থীর পিএইচডি থাকলে যে কোনো একটি রেজাল্ট শিথিলযোগ্য। যা আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ২৫ নং ধারাতে স্পষ্টত উল্লেখ ছিলো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাবিপ্রবিসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই নীতি অনুসরণ করে থাকে। তাছাড়া সম্প্রতি রাঙ্গামাটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও তাদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা কে কোন ধরনের ব্যবধান ছাড়াই নিয়োগ প্রদান করেন। ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা গণনা করার ক্ষেত্রে কোন ধরনের স্পষ্ট বিধি নিষেধ নেই। 


    সিনিয়র লেকচারারকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) বলেন, শিক্ষক নিয়োগে ইউজিসির সর্বশেষ ২০২১ সালের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়নের নীতিমালার ৫ ধারার স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরাসরি সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য সহকারী অধ্যাপক পদে ৭ বছর সহ মোট ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, কিন্তু প্রার্থীর পিএইচডি থাকলে সহকারী অধ্যাপক পদে ৪ বছর সহ মোট ৭ বছরের সক্রিয় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সহকারী অধ্যাপক পদে ৫ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাহলে সেক্ষেত্রে সিনিয়র লেকচারারের বিতর্কের আর কোনো সুযোগ নেই।


    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ছয় বছরে বাঁধন বাঙলা কলেজ ইউনিটের রক্ত সংগ্রহ ৬১৬৮ ব্যাগ

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৩ জুলাই, ২০২৫ ২১:৭
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ছয় বছরে বাঁধন বাঙলা কলেজ ইউনিটের রক্ত সংগ্রহ ৬১৬৮ ব্যাগ

    “একের রক্ত, অন্যের জীবন—রক্তই হোক আত্মার বাঁধন”, স্লোগাণকে সামনে রেখে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্ল্যাটফর্ম বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট সম্প্রতি ছয় বছর পূর্ণ করে সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।



    ছয় বছরে সংগঠনটির সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট নিরবিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার্থীরা পাশে থেকেছে। সংগঠনটির যেকোনো রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহ কিংবা বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মতো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ আশেপাশের এলাকাবাসী উপকৃত হয়েছে।



    পথচলার ছয় বছরে বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমের মাধ্যমে মোট ৬১৬৮ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে এবং ৫৭৪৯ জন মানুষের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেছে।



    স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার লক্ষ্যে বাঁধনের অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২১ জুলাই পথচলা শুরু করে বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট (ঢাকা উত্তর জোন)।


    প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ইউনিটের কর্মীরা নিরলসভাবে মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে এসেছে। এই কর্মীরা শুধু রক্ত সংগ্রহ ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ই করেনি, বরং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই পরিচালনা করেছে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণা, ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, এবং নানা দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।



    এই ছয় বছরের পথচলায় বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিটের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে ছিল সংগঠনটির কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম, কলেজ প্রশাসনের নিরবিচ্ছিন্ন সহযোগিতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রম।



    ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিটের পক্ষ থেকে সংগঠনটির শিক্ষক উপদেষ্টা, অন্যান্য উপদেষ্ঠামণ্ডলীসহ সকল সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। 


    এ বিষয়ে বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান বলেন, “এই অর্ধযুগ পূর্তির দিনে বাঁধনের প্রতিটি কর্মী আনন্দিত ও গর্বিত। আজকের এই দিনে আমরা কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সরকারি বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় যারা জড়িত ছিলেন, ভাষা আন্দোলনের শহিদদের, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের, এবং ২৪ জুলাইয়ের বিপ্লবের শহিদদের। বিশেষ শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসের সেই দুই শহিদকেও, যাঁরা নিজেদের রক্ত দিয়ে মানবিক আন্দোলনের প্রতীক হয়েআমাদের বিশ্বাস, প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বাঙলা কলেজ আগামী দিনগুলোতে আরও আলোকিত হয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বাহক হবে। ইনশাআল্লাহ, বাঁধন, সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিট আগামীতেও মানবতার জয়গানে এগিয়ে যাবে, যদি আপনারা আমাদের পাশে থাকেন।



    সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে  নিজের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে সচেতন হতে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে যুক্ত হতে আহবান করা হয়েছে। এবং বাংলাদেশের একটি প্রাণও যেনো আর রক্তের অভাবে হারিয়ে না যায় সেই কামনা করা হয়েছে।





    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ হয় নি সাত কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১২:১
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ হয় নি সাত কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

      সম্প্রতি ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামক প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন প্রদান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুমোদন পাওয়ার পর ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সাত কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন কলেজগুলোর অন্তর্বর্তী প্রশাসক।


      তবে অন্তর্বর্তী প্রশাসকের সেই ‘প্রতিশ্রুতি’ পূরণ করতে পারেনি সাত কলেজের প্রশাসন। ২০ জুলাই পার হয়ে গেলেও প্রকাশিত হয় নি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি। এমনকি চলতি মাসের বাকি ১০ দিনের মধ্যেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস শুরুর সময় পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যার কারণে ভর্তির আগেই সেশনজটে পড়তে পারেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।


      সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রশাসক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া পর থেকে কলেজগুলোর অচলাবস্থা কাটিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সচলে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। তিনি সাত কলেজের প্রশাসকের পাশাপাশি ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সম্প্রতি তিনি দুই দফা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার ফলে স্থবিরতা নেমে এসেছে সাত কলেজের ভর্তি কার্যক্রমে।


       প্রথম দফায় অসুস্থ হওয়ার পর অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হতে চিকিৎসা গ্রহণ করে কাজে ফেরেন। পরবর্তীতে তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন।


       সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রশাসক অধ্যাপক ইলিয়াস অসুস্থ থাকায় ভর্তি কার্যক্রমে কিছুটা ছেদ পড়েছে। ফলে ঘোষণা দিয়েও ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।


      ইতোপূর্বে, সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত থাকাকালীন চলতি বছরের জানুয়ারীতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তিতে এক দফা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিলো। সে বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সাতটি কলেজের অধীনে সব অনুষদ মিলিয়ে আসন ছিল ২৩ হাজার ৫২৮টি। ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে অনলাইন আবেদন চলে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। টানা ২৪ দিন আবেদন চলার পর তা স্থগিত করা হয়। ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। 


      সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন নেওয়া হবে। এরপর ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ঢাবি থেকে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের পূর্বে আবেদনকারীদের অবশ্য আবেদন বহাল রাখা কিংবা বাতিল করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন সাত কলেজ প্রশাসক। 



      উল্লেখ্য, কলেজগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

      মন্তব্য

      শিবিরবিদ্বেষী ছাত্রলীগ কর্মী এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শিবির সভাপতি

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২২ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৩৩
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      শিবিরবিদ্বেষী ছাত্রলীগ কর্মী এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শিবির সভাপতি

      পূর্বে জামাত-শিবির নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি। ছাত্রলীগ থাকাকালীন সময়ে জামাত-শিবির নিয়ে তার বেশকিছু পোস্টের স্ক্রিনশট সাম্প্রতি ভাইরাল হয়

      জানা গেছে, শিবিরের ওই নেতার নাম আবরার ফারাবী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

      Google Adsense


      সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দেখা যায়, এন ইউ আবরার ফারাবী নামক অ্যাকাউন্ট থেকে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট বেশকিছু পোস্ট ও জামায়াত-শিবির নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করেছেন তিনি। এসব পোস্টে নিষিদ্ধ সংগঠন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট দেয়। এছাড়া ফ্যাসিবাদ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায় তাকে।

      ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি জামায়াত-শিবিরকে খুনি সম্বোধন করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এছাড়া ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি তার ফেসবুক পোস্টে ছাত্রলীগের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া (সাবেক প্রক্টর) শিবিরের মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

      তবে তার বর্তমান ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা যায়, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের অনেক আগ থেকেই তিনি ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত আছেন।

      এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবরার বলেন, ২০২২ সালের জুনের ১৭ তারিখ পর্যন্ত আমি ছাত্রলীগেই ছিলাম। পরবর্তীতে ২০২৩ সাল থেকে আমি পুরোদমে ছাত্রলীগের সব ধরনের রাজনীতি ছেড়ে ছাত্রশিবিরে যুক্ত হই। তারপর থেকে আমি আর হলে থাকিনি। 

      তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবিরের সাথে থেকেই কর্মী, সাথী ও সদস্য হই। যখন জুলাই বিপ্লব শুরু হয় তখন থেকেই মূলত আমি আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হই এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন নামে যে গ্রুপটা আছে সেটা খুলি। ছাত্রলীগ করেছি এটা আমি অস্বীকার করি না কিন্তু ২০২২ সালের জুনের পর থেকে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। 

      শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এখন যে বিষয়গুলো নিয়ে আসা হয়েছে সবগুলো ২০২১-২২ সালের পোস্ট। তখন তিনি ছাত্রলীগে যুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত হয়ে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী মানোন্নয়ন করেন এবং দায়িত্বশীল পর্যায়ে আসেন। এখন এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। 

      তিনি আরও বলেন, ব্যাপারটা এমন না যে তিনি আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত হয়েছেন, বরং আগস্টের আগে থেকে ২০২৪ সাল থেকে সোহরাওয়ার্দী হল শাখার দায়িত্ব পালন করছেন। পরে এ বছর জানুয়ারি থেকে তাঁকে সোহরাওয়ার্দী হল শাখার সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত