শিরোনাম
আজ বিশ্ব লাফানো দিবস!
আজ বিশ্ব জাম্প দিবস। খাঁটি বাংলায় বললে লাফানোর দিন আজ! যত খুশি তত! এই দিবসটি একটি অস্বাভাবিক কিন্তু মজাদার ধারণা, যেখানে বিশ্বজুড়ে মানুষ একই সময়ে লাফিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তন করার কথা ভাবে!
এই দিবসটি প্রথম প্রস্তাবিত হয়েছিল ২০০৬ সালে একটি জার্মান শিল্পী ও বিজ্ঞানীর দল দ্বারা, যারা তাত্ত্বিকভাবে দাবি করেছিলেন যে যদি পৃথিবীর বিপুল সংখ্যক মানুষ (প্রায় ৬০ কোটি) একই মুহূর্তে লাফ দেয়, তাহলে এটি পৃথিবীর আবর্তনে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে— যা জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রভাবিত করতে পারে!
সেই ধারনা থেকে এই অদ্ভুত দিবসের উতপত্তি। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে সমস্ত মানুষ একসাথে লাফালেও পৃথিবীর গতিপথে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না। তবে, এই দিনটি মানুষকে একত্রিত করে।
যদি ৬০ কোটি মানুষ একসাথে ০.৩ মিটার লাফায়, তাহলে পৃথিবী মাত্র ০.০১৫ ন্যানোমিটার সরে যাবে— যা একেবারেই নগণ্য!
এই ধারণাটি আসলে একটি শিল্প প্রকল্প ছিল, যা বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে ব্যঙ্গ করতে তৈরি করা হয়েছিল।
তাহলে, ২০ জুলাই আপনি কি একবার লাফিয়ে দেখবেন? নাকি শুধু হাসবেন আর বলবেন—‘বিজ্ঞান বনাম কল্পনা!’
১৯ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ ধাপের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে আজ
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ১৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি কার্যক্রমের চতুর্থ ধাপের প্রাথমিক ভর্তি আজ (২০ জুলাই) শেষ হচ্ছে। ভর্তি কার্যক্রম গত ১৮ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়েছিল৷ যা আজ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
ভর্তি নিশ্চিতকরণের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে পাঁচ হাজার টাকা প্রাথমিক ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হয়। ফি পরিশোধের শেষ সময় ছিল ১৯ জুলাই রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
এছাড়া, শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ১৯ জুলাই সকাল ১০টা থেকে আজ ২০ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র গুচ্ছভুক্ত যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি জমা দিতে হবে।
গুচ্ছ ভর্তি কমিটি জানিয়েছে, সময়মতো মূল কাগজপত্র জমা না দিলে অনলাইনে ফি পরিশোধ করলেও প্রাথমিক ভর্তি বাতিল হবে। এই অবস্থায় শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে গুচ্ছভুক্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি কোটাভিত্তিক ভর্তিতেও বিবেচিত হবেন না।
তবে ভর্তি বাতিল করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হবে, যেখানে মূল কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। একবার ভর্তি বাতিল করলে ভবিষ্যতে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
গুচ্ছ ভর্তি কমিটি আরও জানায়, প্রাথমিক ভর্তি চলাকালীন ‘Stop All Migration’ অপশন সম্পন্ন করলে ওই বিভাগের বাইরে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগে মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকবে না। ‘Stop University Migration’ অপশন নির্বাচন করলে শিক্ষার্থী বর্তমানে ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দক্রমভুক্ত বিভাগের বাইরে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগও হারাতে পারেন৷
ইবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু'র তদন্তের দাবিতে আন্দোলন, উত্তেজনা ও হট্টগোল
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ'র রহস্যজনক মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। তবে আন্দোলন চলাকালীন কয়েক দফায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে আজ শনিবার আন্দোলনের ঘোষণা দেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সমন্বয়ে ঘটিত সংবর্ত-৩৬ ব্যাচ। একইদিনে আন্দোলনের ঘোষণা দেন আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ। এদিকে আজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয় হয় সংবর্ত-৩৬ ও আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মধ্যে। হঠাৎ করে সংবর্ত-৩৬ ব্যাচ গায়েবানা জানাজার সিদ্ধান্ত নিলেও আল কোরআন বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাতে সাড়া দেননি। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়। পরবর্তীতে গায়েবানা জানাজা শেষে সংবর্ত-৩৬ ব্যাচ পুনরায় প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলনে মিলিত হন। এরপর কয়েক দফায় তাদের মধ্যে হট্টগোল হতে দেখা যায়। এছাড়া আন্দোলনে ইবি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলো সংহতি প্রকাশ করেন। ইবি ছাত্রদল ব্যানার নিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দলীয় ব্যানার নামিয়ে নিতে বলেন। ফলে ছাত্রদল দলীয় ব্যানার গুটিয়ে নেন। এদিকে আন্দোলনে ছাত্রশিবিরকে হট্টগোলের জন্য দায়ী করে বক্তব্য দেন সাজিদ আব্দুল্লাহ'র বন্ধু ইনসানুল ইমাম। পরবর্তীতে তিনি ভুল বুঝতে পেরে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দের কাছে। এর ফলে আন্দোলনে ভাঙন দেখা দেয়। কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন এখানে কোনো রাজনৈতিক অংশগ্রহণ থাকবে না। সবাইকে সাধারণ হিসেবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
পরে বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান, ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন ও জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন। তবে জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা সংহতি প্রকাশ করতে চাইলে তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এছাড়া আল কোরআন বিভাগের শিক্ষকদের বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে সংবর্ত-৩৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। সেইসময় ইফতেহার উদ্দীন তামিম নামের এক শিক্ষার্থী বারবার মাইক নিয়ে ঝামেলা করছিলো বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। এদিকে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীকে অসম্মান করার অভিযোগ উঠে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। তিনি বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এদিকে আন্দোলনে এসব হট্টগোল ও নানা অব্যবস্থপনার বিষয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সহ সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী বলেন, আন্দোলনে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনসহ আমাদের সকলের অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু সংবর্ত-৩৬ ব্যাচ আন্দোলনে নিজেদের ব্যানার জাহির করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আন্দোলনটি আরও সুন্দর হতে পারতো। সকল ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা কথা বললে আন্দোলনটি আরও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়তো। এধরনের আন্দোলনে সংবর্ত ৩৬ সহ যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে তাদেরকে তীব্র নিন্দা জানাই।
সাজিদ আব্দুল্লাহর বন্ধু ইনসানুল ইমাম বলেন, আজকের আন্দোলনে আমাদের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব ছিল। এছাড়া অসংখ্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হওয়ায় কিছুট মিস ম্যানেজমেন্ট হয়েছে। আমি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলাম তখন আমার কানে অনেকেই অনেক কথা বলছিল। এসময় আমার বক্তব্যে একটু ত্রুটি হয়েছিল যার ফলে একটু বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এরজন্য আমি পরবর্তীতে ক্ষমাও চেয়েছি। আমার জায়গা থেকে এসব ভুলের উর্ধে উঠে সকল রাজনৈতিক ও সমাজিক সংগঠনের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে আমরা আমাদের ভাই সাজিদ আব্দুল্লাহর জন্য লড়াইয়ে নেমেছি। এ লড়াইয়ে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে চাই। এ জন্য সকলের প্রতি আমার করজোড়ে অনুরোধ আপনারা আমার ভাইয়ের তদন্ত ছাড়া ঘরে বসে থাকবেন না দয়া করে। আপনারা যদি ঘরে বসে থাকেন তাহলে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে থাকবে। এটা আমরা হতে দিতে পারি না।
শহীদ সাগরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২১-২২ সেশনের মেধাবী শিক্ষার্থী সাগর আহমেদ। তিনি মিরপুর ১০ নম্বরে চলমান আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে গিয়ে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন।
শনিবার (১৯ জুলাই,২০২৪) সাগরের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাগরের সহপাঠী, বন্ধুরা। দোয়া মাহফিলে সাগরের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং তার আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
সাগরের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্মৃতিচারণ করে বলেন, "সাগর শুধু একজন বন্ধু নয়, সে ছিল আমার ভাইয়ের মতো। আমরা দুজন একসাথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম, কিন্তু আজ সে আমাদের মাঝে নেই। সাগরের মতো সাহসী যুবক আমাদের পথ দেখিয়ে গেছে।"
দোয়া মাহফিলে সাগর সহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সকল শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের জন্য দোয়া করা হয়। একইসঙ্গে শহীদদের হত্যা ও দমন-পীড়নের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে শহীদ সাগরের রুহের মাগফেরাত কামনা করে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
এই আয়োজনটি ছিল শহীদ সাগরের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার একটি অনন্য প্রয়াস। তার আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে, এমনটাই মনে করছেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন ও গণজাগরণে শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করেন কলেজটির অনেকে।
ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ'র রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে উত্তাল ইবি
গত বৃহস্পতিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার (১৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে সমবেত হয় হাজারও শিক্ষার্থী। উত্তাল হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়। এময় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।
সাজিদ আব্দুল্লাহ'র মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—সেই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের ভেতরে ঢুকে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। এসময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তব্যাক্তিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললেও কোনো সুরাহ মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির রুটিন দায়িত্বে থাকা প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের সর্বোচ্চ আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীরা এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুকে রহস্যজনক আখ্যা দিয়ে এর পেছনে প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আমরা লাশ দেখে প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। আমাদের জানানোর প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর সেই লাশ উদ্ধার করা হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে থানা হওয়ার পরেও পুলিশ আসতে এতো সময় লাগলো কেন? এছাড়া লাশ উঠানোর প্রায় আধা ঘণ্টা পার হলেও সেখানে কোন ডাক্তার বা অ্যাম্বুলেন্স আসেনি। পরে আমরা বাধ্য হয়ে ভ্যানে করে তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাই। পরে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, লাশ শনাক্তের দুই ঘণ্টার মধ্যেও প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা কিংবা হল প্রভোস্টের দেখা মেলেনি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলোতে কোনো সিসি ক্যামেরা সচল নেই। এখন আমরা দেখতেও পাচ্ছি না, সে কখন কোথায় গিয়েছে। একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নিরাপত্তার ঘাটতি মোটেও কাম্য নয়। আমরা প্রশাসনকে বার বার বলার পরেও তারা বাজেট ঘাটতির কথা বলে সিসি ক্যামেরা লাগাচ্ছে না। তাদের যদি এতই ঘাটতি থাকে তাহলে আমাদের বলুক আমরা নিজেরা চাঁদা তুলে সিসি ক্যামেরা লাগাবো।
এসময় শিক্ষার্থীরা সাজিদের মৃত্যুর তদন্ত দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা, পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা, আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের এন্ট্রি ও এক্সিট শতভাগ মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা, ক্যাম্পাসের চারপাশে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাবেষ্টিত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও সক্রিয় রাখা ও বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
এর আগে, সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে সমবেত হয় শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন না করা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শুক্রবার রাতে মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে টর্চলাইট মিছিল করে শাখা ছাত্রশিবির। এসময় তারা নিরাপদ ক্যাম্পাস, শতভাগ আবাসিকতা, পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য: গত ১৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেল পাঁচটার দিকে শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৬ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ইবি থানা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সাজিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শহিদ জিয়াউর রহমান হলের ১০৯ নং রুমে থাকতেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায়। বাবার নাম মুহাম্মদ আহসান হাবিবুল্লাহ ও মায়ের নাম সুমাইয়া আক্তার। এদিকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যু নিয়ে অনেকের মনে উঠেছে নানা প্রশ্ন—কীভাবে তার মৃত্যু হলো? আদৌও তার সঙ্গে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কিনা? এসব প্রশ্ন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য