ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

মুগ্ধর আত্মত্যাগ: এক মহাকাব্যের ঐতিহাসিক দিন আজ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৫২
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
মুগ্ধর আত্মত্যাগ: এক মহাকাব্যের ঐতিহাসিক দিন আজ

চোখের নিচের তিলটাই বলে দিতো, কোনটা মুগ্ধ, কোনটা স্নিগ্ধ – মুগ্ধর বাবা

 

১৮ জুলাই ২০২৪—বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি রক্তাক্ত বিকেল, একটি নাম: মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। আজ সেই দিনটির এক বছর। এক বছর হয়ে গেল মুগ্ধ নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া মুগ্ধতা ছড়িয়ে আছে আন্দোলনের স্লোগানে, একটি পরিবারের প্রতিটি নিঃশ্বাসে এবং উত্তরার প্রতিটি ঘরে-গলিতে।

মুগ্ধর জীবনের শেষ দিনটি ছিল অভ্যাসের মতোই সাধারণ। পরিবারের সবাইকে পৌঁছে দিয়েছিলেন বাসস্টেশনে। পরিবার যাচ্ছিল কক্সবাজার, উখিয়ায়। বিদায়ের সময় মায়ের উদ্দেশে বলে গিয়েছিলেন মাত্র দুটি শব্দ “আম্মু, যাই।” সেটাই ছিল তাদের শেষ দেখা। কেউ ভাবেনি, ছেলের মুখ আর দেখা হবে না। পরিবারের সদস্যরা তখনও জানতেন না, যে ছেলে হাসিমুখে বিদায় জানিয়েছিল, সে ওই বিকেলেই ইতিহাস হয়ে যাবে।

বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে মুগ্ধ ছিলেন আজমপুরে, যেখানে কোটা সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে পানি পান করাচ্ছিলেন। সহযোদ্ধাদের সেবায় ব্যস্ত সেই ছেলেটি, ঠিক ২৮ মিনিট পর ৫টা ৫০ মিনিটে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন রাজপথে। তার মৃত্যু ছিল আকস্মিক, কিন্তু প্রতিবাদে নিবেদিত ছিল তার প্রতিটি নিঃশ্বাস। মৃত্যুর ৯ মিনিট আগে নিজের মোবাইলে তিনি ধারণ করেছিলেন একটি ভিডিও—সেখানে উপস্থিত সবাইকে গুলির ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন মুগ্ধ। সেটাই ছিল তার শেষ বার্তা।

উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের বাড়িটি আজও মুগ্ধর অপেক্ষায় থাকে। তার ঘরের বিছানা, জামাকাপড়, টেবিল সবই আছে আগের মতো। শুধু নেই সেই হাসিমুখের তরুণ। যমজ ভাই স্নিগ্ধের সঙ্গে ছোটবেলার ছবি দেখিয়ে বাবা এখন বলেন, “চোখের নিচের তিলটাই বলে দিতো, কোনটা মুগ্ধ, কোনটা স্নিগ্ধ।” এখন সে চিহ্নই একমাত্র সম্বল।

মৃত্যুর তিন দিন আগে আন্দোলনে যাবার জন্য বাবা-মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন মুগ্ধ। বড় ভাই দীপ্তের সঙ্গে ছিল বন্ধুর মতো সম্পর্ক। কিন্তু মুগ্ধর মৃত্যুসংবাদটা শুনতে হয়েছিল উখিয়ায় অবস্থানরত বড় ভাইকেই; মুঠোফোনে জানিয়েছিল স্নিগ্ধ।

মায়ের জীবনের প্রথম সমুদ্র দর্শনের সেই দিনে, যখন তিনি অবাক হয়ে ছিলেন প্রকৃতির সৌন্দর্যে, ঠিক তখনই এসে পৌঁছেছিল ছেলের মৃত্যুর খবর। পরিবার চেয়েছিল মুগ্ধকে দাফন করতে উত্তরায় তার দাদা-দাদীর কবরের পাশে। কিন্তু নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে শায়িত করা হয় কামারপাড়া কবরস্থানে, যেখানে কেবল এলাকার ভোটারদের দাফন করার রীতি। কিন্তু মুগ্ধর জন্য সেই নিয়ম ভাঙা হয়।

মুগ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক শেষ করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে এমবিএ করছিলেন। একটি অপূর্ণ স্বপ্ন ছিল তার—বিমান বাহিনীতে যোগ দেওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। টেবিলে তার অর্জিত সব ক্রেস্ট সারি করে সাজানো যেন বলছে, এই তরুণ থেমে যাননি, থামেননি কখনো।

উত্তরার তার বাসার গলিটির নাম এখন ‘মীর মুগ্ধ সড়ক’। সেই গলিতে আর ফিরে আসে না মুগ্ধর পায়ের শব্দ, কিন্তু প্রতিবাদের প্রতিধ্বনির মতো বাজে তার নাম। যে তরুণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল বুক চিতিয়ে, সেই নামটি আজ ইতিহাস হয়ে গেছে।

গত ১১ জুলাই বিকেলে কামারপাড়া কবরস্থানে দেখা গেল মুগ্ধর সাদা মার্বেল পাথরের এপিটাফ। তার কবরের বুকে বেড়ে উঠেছে গাঁদা ফুলের গাছ হলুদ ফুলের হাসিতে ছড়িয়ে আছে এক গভীর শান্তি। কবরটি একা নয়; তার পাশে লম্বালম্বি শুয়ে আছেন আরেক শহীদ রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়। গাঁদা ফুলের গাছ যেন দুই শহীদের কবরকে এক করে রেখেছে। এ যেন এক পবিত্র যোগসূত্র মুগ্ধর পথ ধরে জয়, এবং মৃত্যুতে জন্ম নেওয়া এক মহাকাব্য।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ

    ইবি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: হলের পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৯:১৭
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ইবি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: হলের পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সত্য উদঘাটনের পদক্ষেপ নিতে আগামীকাল ক্লাস বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে নিহতের ব্যাচমেট তথা সংবর্ত-৩৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাচের পক্ষ থেকে এ আহবান জানানো হয়। পাশাপাশি আগামীকালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের সহপাঠী ও বন্ধু সাজিদ আব্দুল্লাহ এর নিথর দেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মৃতদেহের অবস্থা দেখে এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু বলে আমাদের বিশ্বাস হয় না। যে বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের চিন্তিত, ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত করে তুলেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অবহেলা, নিরাপত্তাহীনতা, অব্যবস্থা ও অযোগ্যতার জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি।

    আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭৫ একর এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ছাড়া, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছাড়া, এবং নিরাপত্তা প্রটোকলহীন অবস্থায় পরিচালিত হওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির প্রমাণ।

    এসময় তারা আগামীকালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচিগুলো হলো: সাজিদের গায়েবানা জানাজা ও দোয়া সকাল বেলা ১১ টায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করার  উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। তাদের দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ।

    মন্তব্য

    র‌্যাগিংয়ের অপরাধে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৬
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    র‌্যাগিংয়ের অপরাধে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত ১২ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃতদের  ৬ মাসের জন্য সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন৷ 
    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সুপারিশেশের ভিত্তিতে এবং শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে  ৭ জন মার্কেটিং বিভাগের এবং ৫ জন নৃবিজ্ঞান বিভাগে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

    এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় বাংলা এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের জন্য একটি এবং মার্কেটিং বিভাগের ঘটনার জন্য আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তারপ্রেক্ষিতে মার্কেটিং বিভাগের ৭ জন এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫ জনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের, তাদের গার্ডিয়ান, বিভাগীয় প্রধান এবং বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হবে যেন পরবর্তীতে তারা এমন কাজ না করে।

    উল্লেখ্য ২ জুলাই মার্কেটিং বিভাগে এবং ৬ জুলাই নৃবিজ্ঞান বিভাগে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বারা নিজ নিজ বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষার্থীরা র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়।
     

    মন্তব্য

    জাবিপ্রবিতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মরণানুষ্ঠান’: অভিযোগ নানা অব্যবস্থাপনার

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৩১
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    জাবিপ্রবিতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মরণানুষ্ঠান’: অভিযোগ নানা অব্যবস্থাপনার

    ‘স্মৃতি, সংগ্রাম ও রাষ্ট্রচিন্তা—জুলাই ২০২৪ আমাদের প্রেরণা’ এই মহত্‍বাহী প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) পালিত হয় 'জুলাই স্মৃতি স্মরণানুষ্ঠান'। ঐতিহাসিক স্মৃতি পুনর্পাঠের এই আয়োজনে ছিল র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। 

    কিন্তু অব্যবস্থাপনায় আয়োজনটির মর্মার্থ আংশিকভাবে ম্লান হয়ে পড়েছে বলে উঠেছে অভিযোগ৷ অনুষ্ঠানের লক্ষ্য স্মৃতি, শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত ও রাষ্ট্রচিন্তার পুনর্নির্মাণ হলেও তবে সেই ভাবনাকে ছাপিয়ে উঠে এসেছে আয়োজনের গা ছমছমে বাস্তবতা—যেখানে চেতনার ঝান্ডা উড়াতে গিয়ে ভুল বানানে ঝাপসা হয়ে যায় ব্যানারের বর্ণ, নিম্নমানের খাবারে অসন্তুষ্ট হয় শিক্ষার্থীরা, আর মেঘমালার ছায়ায় ভেজা প্যান্ডেলে অনুষ্ঠানে প্রশ্ন জাগে: প্রস্তুতির এই পরিণতি কেন?

    সচিত্রে গিয়ে দেখা যায়, আলোচনা সভার ব্যানারে ছিলো ভাষাগত ত্রুটি, আবহাওয়াগত পূর্বাভাস উপেক্ষা করে বৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পরবর্তীতে একাডেমিক ভবনের সভাকক্ষে স্থানান্তরিত হয় অনুষ্ঠান এবং দুপুরে রাখা খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ৷ 

    অন্যদিকে অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ‘স্মৃতি, সংগ্রাম ও রাষ্ট্রচিন্তা’ হলেও ‘রাষ্ট্রচিন্তা’ বিষয়ক চিন্তাশীল মতামত উপস্থাপন হয়নি৷ যে আয়োজন একসাথে অতীত ও ভবিষ্যতের সেতুবন্ধ হবে বলে প্রত্যাশা ছিল, তা যেন শুধু অতীতচর্চাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে৷ 

    কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান ‘শ্রদ্ধা ও স্মরণের ব্যানারে বানান ভুল জুলাইয়ের প্রতি অবহেলার চিত্র৷ অন্যদিকে এমন খাবারের মান সর্বশেষ ছাত্রলীগের সময়ে দেখেছি৷ আজ যেনো জুলাই চব্বিশের পরিবর্তে সেটারই স্মৃতি প্রতিফলিত হইছে৷’

    আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, ‘এটা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুলটা হয়েছে৷ কিছু ভূলত্রুটি হয়েছে আমি সমাপনী বক্তব্যে দুঃখপ্রকাশ করেছি৷ কথাটা উঠে এসেছে, এগুলো যত বাজেট ভালো হয় তত কোয়ালিটিপূর্ণ হয়৷ তবুও আমরা চেষ্টা করেছি; যাদেরকে দিয়ে করিয়েছি তাদেরকে বহুবার সর্তক করিয়েছি৷ এরপরেও আমি নিজেও দেখেছি, কথা বলেছি এমনটা হলো কেন৷’

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রাজশাহী কলেজের একমাত্র শহীদ রায়হান আলীর পরিবার ছাড়াই প্রশাসনের শহীদ দিবস পালন

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১৭ জুলাই, ২০২৫ ২০:২৪
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    রাজশাহী কলেজের একমাত্র শহীদ রায়হান আলীর পরিবার ছাড়াই প্রশাসনের শহীদ দিবস পালন

    ‎জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ‎সারাদেশের ন্যায় রাজশাহী কলেজেও ১৬ জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে কলেজের মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং জুলাই পুনর্জাগরণের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। তবে জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডাকা হয় নি রাজশাহী কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও রাজশাহী কলেজের একমাত্র শহীদ রায়হান আলীর পরিবারকে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    ‎জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ জুলাই রাজশাহী কলেজেও নানান আয়োজনে পালিত হয়েছে জুলাই শহীদ দিবস। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছেন কলেজ শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এবং জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে অনুষ্ঠানে তারা বক্তব্যও রাখেন। তবে সেখানে দেখা যায় নি কোনো শহীদ পরিবারের স্বজন কিংবা আহত জুলাই যোদ্ধাদের। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজশাহী কলেজের একমাত্র শহীদ রায়হান আলীর পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত করেননি কলেজ প্রশাসন। এছাড়াও রাজশাহীর প্রথম শহীদ সাকিব আঞ্জুমের স্বজনদেরও জানানো হয়নি। 

    ‎এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে রাজশাহী কলেজের পক্ষ থেকে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও শহীদদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে রাজশাহীর কোনো শহীদ পরিবারের সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। শহীদদের আত্মত্যাগের সবচেয়ে বড় সাক্ষী ও উত্তরাধিকারী হচ্ছেন তাঁদের পরিবার। তাঁদের উপস্থিতি ছাড়া শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো কখনোই সম্পূর্ণ হয় না। 

    ‎তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত অযত্ন ও অবিবেচনার কাজ। আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাই, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন যেন শহীদ পরিবারদের যথাযোগ্য সম্মান ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়। যাতে তাঁদের ত্যাগ ও বেদনার কণ্ঠস্বর সবার নিকট পৌঁছে এবং নতুন প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

    ‎ কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, বিষয়টা দুঃখজনক এবং বেমানান। আমাদের রাজশাহীতে যেহেতু দুইজন শহীদ আছে, দুই পরিবারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হলে অনুষ্ঠানটা পরিপূর্ণতা লাভ করতো। বিশেষ করে আমাদের রাজশাহী কলেজের গর্ব রাজশাহী কলেজের জুলাই বিপ্লবের একমাত্র শহীদ রায়হান আলী ভাইয়ের পরিবারকে ডাকা দরকার ছিল। কিন্তু কলেজ প্রশাসন বিষয়টা গুরুত্ব দেয়নি।

    তিনি বলেন, ‎আমরা আগেও দেখেছি কলেজ প্রশাসন শহীদ রায়হান আলীর নামে ভবনের নামকরণের সময়ও ইচ্ছাকৃত ভুল করেছিলো। আবারও দেখলাম যে তারা তাদেরই কলেজের একমাত্র শহীদ ছাত্রের পরিবারকে এরকম একটা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করেনি। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে কলেজ প্রশাসনের যথেষ্ট অনীহা আছে বলেও অভিযোগ করেন এই ছাত্রশিবির নেতা। 

    ‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষক বলেন, ‘কলেজ প্রশাসন বরাবরই ২৪- ইস্যুতে অপ্রত্যাশিত আচরণ করে আসছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে বাহ্যিক দৃষ্টিতে কলেজে অনেক পরিবর্তন আসলেও অভ্যন্তর থেকে এখনও একটা গোষ্ঠী বিতর্কিত করার চেষ্টায় আছেন। তারই অংশ হিসেবে গত বছরের ১৬ জুলাই কলেজের নিন্দনীয় ঘটনায় দায় সারা তদন্ত কমিটি, কলেজের ডিজিটাল বোর্ডে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বার্তা প্রকাশ, বিতর্কিত ভূমিকার জন্য সমালোচিত শিক্ষককে প্রশ্রয় দেওয়া, আওয়ামী আমলে প্রশাসনের কাছে সুবিধাভোগী ও নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষকদের শেল্টার, নতুন ভবনে রায়হান আলীর নামকরণ কাণ্ডের মতো ঘটনাগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটারও কোনো সমাধান করা যায়নি। কলেজ প্রশাসন দ্রুতই তাদের ভুলগুলো শোধরাবেন বলেও আশা করেন তিনি। 

    এ বিষয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজশাহী কলেজের একমাত্র শহীদ রায়হান আলীর বাবা মোঃ মুসলেম উদ্দীন বলেন, এ রকম প্রোগ্রামের ব্যাপারে রাজশাহী কলেজ থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। আমরা রাজশাহীতেই জেলা প্রশাসকের অনুষ্ঠানে ছিলাম। কলেজে তাকে স্মরণ করে দোয়া হচ্ছে, জানলে আমরা সেখানেও যেতাম। 

    ‎তবে এ বিষয়ে জানতে জুলাই শহীদ দিবস কর্মসূচির সভাপতি ও রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলীর সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য
      সর্বশেষ সংবাদ
        সর্বাধিক পঠিত