শিরোনাম
সাত কলেজে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০ জুলাইয়ের মধ্যে, থাকছে সেকেন্ড টাইম
রাজধানীর সরকারি সাত কলেজে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর চলতি মাস থেকে শুরু হতে পারে অনলাইন আবেদন।
আবেদন প্রক্রিয়া শেষে আগস্ট মাসের শেষদিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে চায় কর্তৃপক্ষ। এ বছর থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) অধীনে সাত কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘আমরা পাঠদানের অনুমোদন পেয়েছি। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ অনুমোদন দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য খুঁটিনাটি কিছু কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহে আমরা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চাই। খুব বেশি দেরি হলেও ২০ জুলাই পার হবে না। তার আগেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’
আবেদন ও ভর্তি পরীক্ষার তারিখ বিষয়ে প্রশাসক অধ্যাপক ইলিয়াস বলেন, ‘ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে সেটা স্পষ্ট উল্লেখ করে দেওয়া হবে। এ পর্যন্ত যে পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি, তাতে আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। দ্রুত ফল প্রকাশ ও ভর্তি শেষ করে অক্টোবরে ক্লাস শুরু করতে চাই আমরা।’
আসন সংখ্যা ও সিলেবাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এবারও আমরা বিদ্যমান কাঠামোতে থাকছি। সেভাবেই (বিদ্যমান কাঠামো মেনে) শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। আসন কমানো বলতে...যে বিভাগগুলোতে একেবারেই শিক্ষক নেই, শিক্ষকশূন্য; সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত রাখা হতে পারে। তাছাড়া বাকি সব ঠিক থাকবে। শিক্ষার্থীদের দাবি শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ভর্তি। সেটা এবার হয়তো পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আগামীতে হিসাব কষে আসন কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
সেকেন্ড টাইম বা ২০২৩ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে সাত কলেজ প্রশাসক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা সেকেন্ড টাইম রাখতে চাইছি। তারা হয়তো সুযোগ পাবে। আমাদের ভর্তির কমিটিগুলো কাজ করছে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। তবে আগামী বছর থেকে সেকেন্ড টাইম নাও থাকতে পারে।’
ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা সনাতন পদ্ধতি বা যেটি ছিল সেটাতেই এবার ভর্তি পরীক্ষা নেবো। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আমরা বুয়েটের টেকনিক্যাল সহায়তা নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। বুয়েটের টিমের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। চূড়ান্ত হলে ভর্তির টেকনিক্যাল দিকটা বুয়েটই দেখবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাবির অধিভুক্ত থাকার সময়ে চলতি বছর এক দফা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে সাত কলেজের অধীনে সব অনুষদ মিলিয়ে মোট ২৩ হাজার ৫২৮টি আসন ছিল। বিজ্ঞান অনুষদে মোট আসন ছিল ৮ হাজার ৬২৭টি। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আসন সংখ্যা ১০ হাজার ১৯টি। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে আসন ছিল চার হাজার ৮৯২টি।
অন্তর্বর্তী প্রশাসকের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাবির অধিভুক্ত থাকা অবস্থায় সাত কলেজে যে আসন ছিল, তা এ বছর খুব সামান্য কমতে পারে।
দলাদলিতে সময় নষ্ট না করে শিক্ষার ভিত মজবুত করতে হবে- ঢাবি উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান দলাদলিতে সময় নষ্ট না করে নিজেদের শিক্ষার ভিত মজবুত করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা, ব্যবহার ও আচার-আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে।
আজ ১৪ জুলাই ২০২৫ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১ম বর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আলী আশরাফের সভাপতিত্বে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন এবং অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বক্তব্য রাখেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈশ্বিক ও আন্ত:ব্যক্তিক যোগাযোগে দক্ষতা অর্জন, বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জনসহ উচ্চশিক্ষায় উৎকর্ষ সাধনের অনেক সুযোগ রয়েছে। এসব সুযোগের যথাযথ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পিতা-মাতা ও সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত সেমিনার, সম্মেলন, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি এবং জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইবিতে সাংবাদিকদের মারধর; তদন্ত কমিটি
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মরত সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশ সূত্রে জানা যায়, কমিটিতে ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিন্নাতুল করিমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, দা'ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম।
আদেশ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে অর্থনীতি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ প্রতিনিধিদের (শিক্ষার্থীদের) মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ, তথ্য উৎঘাটন ও প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন বা সুপারিশ জমা দিতে বলা হলো।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, হিট প্রজেক্ট এর কাজে ঢাকায় যাচ্ছি। এখনো চিঠি হাতে পাইনি। ১৬ তারিখে ক্যাম্পাসে ফিরবো। তারপর দেখবো।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে আন্তঃসেশন খেলাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ভিডিও করতে গেলে এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে দফায় দফায় তিন সাংবাদিককে মারধর করেছে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ওই তিন সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এর ফলশ্রুতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
১৬ই জুলাই ছাত্রলীগমুক্ত প্রথম ক্যাম্পাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মাধ্যমে বিভিন্ন দমন নিপীড়নের শিকার হয় ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফুঁসে ওঠে প্রতিটি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা দমন করার দায়িত্ব নেয় ছাত্রলীগ। হুমকিধামকি দিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধা দিত তারা। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালাতে থাকে তারা। শিক্ষার্থীরা বুঝে যায়, ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করতে না পারলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। এই বুঝ থেকে ছাত্রলীগকে প্রথমে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের বিকাল চারটার দিকে ক্যাম্পাস থেকে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সব নেতাকর্মীকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাবি হয়ে ওঠে ছাত্রলীগমুক্ত প্রথম ক্যাম্পাস।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাবেক সমন্বয়কদের সাথে কথা বলে সেদিনের ঘটনা জানা যায়। তাদের বরাতে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায় ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করার মাধ্যমে। দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। সেদিন শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ছিল বেলা আড়াইটায়। তবে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি নস্যাৎ করতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে একই স্থানে জমায়েতের ডাক দেয় ছাত্রলীগ। কিন্তু সবকিছু গোপন রেখে দু-তিন ঘণ্টা আগে থেকে শিক্ষার্থীদের বের হয়ে আসতে বলা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর থেকে দুশো-আড়াইশোর মতো শিক্ষার্থী নিয়ে একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে যায়। সেখানে প্রায় ১০০ জনের মতো পুলিশ থাকলেও তারা কোনো বাধা দেয়নি। সেসময় ছাত্রলীগের হাত থেকে প্রতিরোধের জন্য সকলের হাতে ছিল রড, পাইপ ও লাঠিসোঁটা।
শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তে সব হলের শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হতে থাকে। বিক্ষোভ মিছিলটি জোহা চত্বরের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্যারিস রোডে এলে বিপরীত দিক থেকে কয়েকশ শিক্ষার্থী এসে মিলিত হয়। মিছিলটি মেয়েদের হলের সামনে এলে হাজার দেড়েকের মতো মেয়ে শিক্ষার্থীদের এক দল তাতে যোগ দেন।
মিছিলটি বিজ্ঞান ভবনের পাশ দিয়ে হবিবুর রহমান হলের মাঠ দিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসে। সেসময় শিক্ষার্থীরা হলের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হলের ভেতর থেকে প্রতিহত করতে শুরু করেন। সেখানে ইটপাটকেল খেয়ে মাদার বখ্শ হলের সামনে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ততক্ষণে সোহ্রাওয়ার্দী ও জোহা হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শাহ মখ্দুম, লতিফ ও আমীর আলী হলের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল গালিবকে তাড়া করেন। ফলে সাড়ে ১৫ বছরের রাজত্ব ফেলে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সাধারণ সম্পাদক গালিবের পালানোর ১০ সেকেন্ডের ভিডিয়ো ব্যাপক ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার হলের কক্ষটি ভাংচুর চালায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এরপর বিক্ষোভ মিছিলটি বিজয় ২৪ হলের (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল) সামনে এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রুম ভাঙচুর করে। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুকে পুলিশ উদ্ধার করে অন্যত্র নিয়ে যায়। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির কক্ষ এবং দপ্তর সেল থেকে তিনটি পিস্তল, ছয়টি রামদা, ১০-১৫টি মদের বোতল, কয়েকটি দা-সহ রড উদ্ধার করেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা। পরে উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্রগুলো রাবি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন তারা।
সেদিন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পালিয়ে যাওয়া প্রত্যক্ষ করেন সাবেক সমন্বয়ক মেশকাত মিশু বলেন,১৬ জুলাই শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ছিল বেলা আড়াইটায়। এ কর্মসূচিকে নস্যাৎ করতে একই স্থানে জমায়েতের ডাক দেয় সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ। এছাড়া প্রতিটি হলের সামনে চেয়ার পেতে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে তারা। কয়েকটি হলের গেটে তারা তালা মেরে দেয় যাতে হলে থাকা শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে যেতে না পারে। তাদের সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে সেদিন সবচেয়ে বড় আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, ওইদিন আমি ছাত্রলীগের গতিবিধি লক্ষ করার জন্য মাদার বখ্শ হলের সামনে আসি। দেখি ছাত্রলীগের সেক্রেটারি গালিব তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে বেঞ্চে বসে আছে। কিছুক্ষণ পরেই কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর একটি বিক্ষোভ মিছিল আসাদুল্লাহ-হিল গালিব ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের তাড়া করেন। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। নিমেষেই তাদের দীর্ঘদিনের মসনদ ভেঙে খান খান হয়ে যায়। বিরল সে মাহেন্দ্রক্ষণ স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য আমার হলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে প্রথম ছাত্রলীগমুক্ত প্রথম ক্যাম্পাস।
আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সানজিদা ঢালি। তিনি বলেন, ১৬ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। এই ঘটনার জন্য আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল ১৫ তারিখ থেকেই। যদিও আন্দোলনের সময় নির্ধারণ ছিল ১৬ জুলাই বিকেল ৩টা। তবে ছাত্রলীগের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আমরা গোপনে সময় এগিয়ে এনে দুপুর আড়াইটায় আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নিই। মেয়েদের হলগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাকে। সেই অনুযায়ী আমি ১৬ তারিখ দুপুর ১টা থেকেই মন্নুজান হলে ঘণ্টা বাজিয়ে ডাকাডাকি শুরু করি এবং আন্দোলনের জন্য মেয়েদের জড়ো করতে থাকি। পরে একত্রিত হয়ে আমরা অন্যান্য হলগুলোতেও যাই এবং স্লোগানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আহ্বান জানাতে থাকি।
তিনি আরও বলেন, সব হলের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে যখন মন্নুজান হলের সামনে অবস্থান নেয়, তখন দেখি ছেলেরা প্যারিস রোড হয়ে মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসছে। আমরা মেয়েরা সেই মিছিলে যুক্ত হই এবং একসঙ্গে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করি। আমাদের মিছিলের সংখা এতটাই বড় ও শক্তি।
নোবিপ্রবির ৩ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৩
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার পৌর হাজীপুর গ্রামের ইদ্রিস ড্রাইভার বাড়ির রহমত উল্লাহর ছেলে মো. তারেক রহমান (২২), জামাল উদ্দিন লিটনের ছেলে মো. আহাত হোসেন রিশাদ (২২) এবং আবদুল বারিক মিয়া বাড়ির কামরুজ্জামানের ছেলে মো. ইউসুফ শামীম (২১)।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১২ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী ফেরার পথে নোবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দেব নাথ এবং তার দুই সহপাঠীর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় হামলাকারীরা এক শিক্ষার্থীর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে এবং অন্যদের কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাও করে সন্ত্রাসীরা।
ঘটনার পরপরই বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
এর প্রতিবাদে রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৪টা থেকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী চৌরাস্তার চার লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৫টায় ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘টিকিটে দেওয়া ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এএফএম আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে এমন ঘটনার শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানাই।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য