শিরোনাম
১৬ই জুলাই ছাত্রলীগমুক্ত প্রথম ক্যাম্পাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মাধ্যমে বিভিন্ন দমন নিপীড়নের শিকার হয় ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফুঁসে ওঠে প্রতিটি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা দমন করার দায়িত্ব নেয় ছাত্রলীগ। হুমকিধামকি দিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধা দিত তারা। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালাতে থাকে তারা। শিক্ষার্থীরা বুঝে যায়, ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করতে না পারলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। এই বুঝ থেকে ছাত্রলীগকে প্রথমে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের বিকাল চারটার দিকে ক্যাম্পাস থেকে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সব নেতাকর্মীকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাবি হয়ে ওঠে ছাত্রলীগমুক্ত প্রথম ক্যাম্পাস।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাবেক সমন্বয়কদের সাথে কথা বলে সেদিনের ঘটনা জানা যায়। তাদের বরাতে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায় ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করার মাধ্যমে। দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। সেদিন শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ছিল বেলা আড়াইটায়। তবে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি নস্যাৎ করতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে একই স্থানে জমায়েতের ডাক দেয় ছাত্রলীগ। কিন্তু সবকিছু গোপন রেখে দু-তিন ঘণ্টা আগে থেকে শিক্ষার্থীদের বের হয়ে আসতে বলা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর থেকে দুশো-আড়াইশোর মতো শিক্ষার্থী নিয়ে একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে যায়। সেখানে প্রায় ১০০ জনের মতো পুলিশ থাকলেও তারা কোনো বাধা দেয়নি। সেসময় ছাত্রলীগের হাত থেকে প্রতিরোধের জন্য সকলের হাতে ছিল রড, পাইপ ও লাঠিসোঁটা।
শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তে সব হলের শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হতে থাকে। বিক্ষোভ মিছিলটি জোহা চত্বরের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্যারিস রোডে এলে বিপরীত দিক থেকে কয়েকশ শিক্ষার্থী এসে মিলিত হয়। মিছিলটি মেয়েদের হলের সামনে এলে হাজার দেড়েকের মতো মেয়ে শিক্ষার্থীদের এক দল তাতে যোগ দেন।
মিছিলটি বিজ্ঞান ভবনের পাশ দিয়ে হবিবুর রহমান হলের মাঠ দিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসে। সেসময় শিক্ষার্থীরা হলের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হলের ভেতর থেকে প্রতিহত করতে শুরু করেন। সেখানে ইটপাটকেল খেয়ে মাদার বখ্শ হলের সামনে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ততক্ষণে সোহ্রাওয়ার্দী ও জোহা হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শাহ মখ্দুম, লতিফ ও আমীর আলী হলের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল গালিবকে তাড়া করেন। ফলে সাড়ে ১৫ বছরের রাজত্ব ফেলে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সাধারণ সম্পাদক গালিবের পালানোর ১০ সেকেন্ডের ভিডিয়ো ব্যাপক ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার হলের কক্ষটি ভাংচুর চালায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এরপর বিক্ষোভ মিছিলটি বিজয় ২৪ হলের (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল) সামনে এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রুম ভাঙচুর করে। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুকে পুলিশ উদ্ধার করে অন্যত্র নিয়ে যায়। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির কক্ষ এবং দপ্তর সেল থেকে তিনটি পিস্তল, ছয়টি রামদা, ১০-১৫টি মদের বোতল, কয়েকটি দা-সহ রড উদ্ধার করেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা। পরে উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্রগুলো রাবি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন তারা।
সেদিন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পালিয়ে যাওয়া প্রত্যক্ষ করেন সাবেক সমন্বয়ক মেশকাত মিশু বলেন,১৬ জুলাই শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ছিল বেলা আড়াইটায়। এ কর্মসূচিকে নস্যাৎ করতে একই স্থানে জমায়েতের ডাক দেয় সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ। এছাড়া প্রতিটি হলের সামনে চেয়ার পেতে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে তারা। কয়েকটি হলের গেটে তারা তালা মেরে দেয় যাতে হলে থাকা শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে যেতে না পারে। তাদের সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে সেদিন সবচেয়ে বড় আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, ওইদিন আমি ছাত্রলীগের গতিবিধি লক্ষ করার জন্য মাদার বখ্শ হলের সামনে আসি। দেখি ছাত্রলীগের সেক্রেটারি গালিব তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে বেঞ্চে বসে আছে। কিছুক্ষণ পরেই কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর একটি বিক্ষোভ মিছিল আসাদুল্লাহ-হিল গালিব ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের তাড়া করেন। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। নিমেষেই তাদের দীর্ঘদিনের মসনদ ভেঙে খান খান হয়ে যায়। বিরল সে মাহেন্দ্রক্ষণ স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য আমার হলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে প্রথম ছাত্রলীগমুক্ত প্রথম ক্যাম্পাস।
আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সানজিদা ঢালি। তিনি বলেন, ১৬ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। এই ঘটনার জন্য আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল ১৫ তারিখ থেকেই। যদিও আন্দোলনের সময় নির্ধারণ ছিল ১৬ জুলাই বিকেল ৩টা। তবে ছাত্রলীগের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আমরা গোপনে সময় এগিয়ে এনে দুপুর আড়াইটায় আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নিই। মেয়েদের হলগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাকে। সেই অনুযায়ী আমি ১৬ তারিখ দুপুর ১টা থেকেই মন্নুজান হলে ঘণ্টা বাজিয়ে ডাকাডাকি শুরু করি এবং আন্দোলনের জন্য মেয়েদের জড়ো করতে থাকি। পরে একত্রিত হয়ে আমরা অন্যান্য হলগুলোতেও যাই এবং স্লোগানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আহ্বান জানাতে থাকি।
তিনি আরও বলেন, সব হলের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে যখন মন্নুজান হলের সামনে অবস্থান নেয়, তখন দেখি ছেলেরা প্যারিস রোড হয়ে মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসছে। আমরা মেয়েরা সেই মিছিলে যুক্ত হই এবং একসঙ্গে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করি। আমাদের মিছিলের সংখা এতটাই বড় ও শক্তি।
নোবিপ্রবির ৩ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৩
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার পৌর হাজীপুর গ্রামের ইদ্রিস ড্রাইভার বাড়ির রহমত উল্লাহর ছেলে মো. তারেক রহমান (২২), জামাল উদ্দিন লিটনের ছেলে মো. আহাত হোসেন রিশাদ (২২) এবং আবদুল বারিক মিয়া বাড়ির কামরুজ্জামানের ছেলে মো. ইউসুফ শামীম (২১)।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১২ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী ফেরার পথে নোবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দেব নাথ এবং তার দুই সহপাঠীর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় হামলাকারীরা এক শিক্ষার্থীর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে এবং অন্যদের কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাও করে সন্ত্রাসীরা।
ঘটনার পরপরই বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
এর প্রতিবাদে রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৪টা থেকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী চৌরাস্তার চার লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৫টায় ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘টিকিটে দেওয়া ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এএফএম আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে এমন ঘটনার শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানাই।
নোবিপ্রবিতে ইউজিসি কর্তৃক বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান উৎকর্ষে কৌশলগত কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) দপ্তর ও শাখা প্রধানদের অংশগ্রহণে ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান শক্তিশালীকরণ: ইউজিসির কৌশলগত ভূমিকা’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ জুলাই ২০২৫) নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে আইকিউএসি সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।

আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) মাননীয় সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। কর্মশালায় আলোচক হিসেবে ছিলেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ। প্রোগ্রাম মডারেটর ছিলেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক জি এম রাকিবুল ইসলাম।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছি। উপকূলীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নোবিপ্রবিতে পৃথিবীর উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীরা যেনো শিক্ষকতার সুযোগ পায় আমরা সে চেষ্টা করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেনো গবেষণার ক্ষেত্রে মনোযোগী হয় সেজন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা তা করবো। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিতকরণে আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে তা দিয়েই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
কর্মশালার কি-নোট স্পিকার ইউজিসির মাননীয় সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বে আদলে গড়ে তুলতে হলে সর্বাগ্রে এর উচ্চশিক্ষার মান শক্তিশালী করতে হবে। আর এটা যদি নিশ্চিত করা যায় তখনই কেবল দেশের উন্নয়ন সম্ভব। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা চাই বৈষম্যহীন শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।
কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ জিয়ার ছবি অবমাননা ও তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগানের প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ছবি অবমাননা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগানের প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদ, ইউনিভার্সিটি টিসার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ও শাখা ছাত্রদল সম্মিলিতভাবে এ কর্মসূচি পালন করে। এসময় সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদও জানানো হয়।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের অনুষদ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা। এসময় সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই করো’, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে, ‘জামাত শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিন্ডি যাবে রাজাকার’, ‘রাজাকার আর স্বৈরাচার মিলেমিশে একাকার’, স্বৈরাচার গেছে যেই পথে, রাজাকার যাবে সেই পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ইবি জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বক্তব্য রাখেন।
শহীদ জিয়াউর রহমানকে অবমাননা ও তারেক রহমান নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগানে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার উত্তরসূরী তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে যা ইতিহাসে নজিরবিহীন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি অবমাননা করে তারা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে অপমানিত করেছে। একটা পাকিস্তানি গোষ্ঠী ও বটচক্র দেশনায়ক তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন রিউমার ছড়াচ্ছে এবং তাকে অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। তারা এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ধারণ করে না। সেই রাজাকার আর চব্বিশের স্বৈরাচার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। তাদের ঠিকানা বাংলাদেশ নয়, তাদের ঠিকানা দিল্লি আর পাকিস্তান।
সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে অনেকে গাদ্দারি করেছে, অনেকে চব্বিশের ৫ আগস্টে গাদ্দারি করেছে। গাদ্দারি বন্ধ করেন, আমাদেরকে ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যেতে বাধ্য করবেন না। এমন কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকবেন না, যাতে বাংলাদেশ থেকে সমূলে ফ্যাসিস্টের মতো বিদায় করে দিতে হয়।
জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান যদি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু না করতেন তাহলে আজকে যারা রাজনীতির নামে এসব করছেন তারা কি রাজনীতির সুযোগ পেতেন? যিনি আপনাদের এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে তাকেই আপনারা অপমান করছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আপনাদের সতর্ক করছি, সতর্ক করার পরেও যদি এসব কুরুচিপূর্ণ কথা ও অবমাননা চালিয়ে যান আমরা এর দাঁত ভাঙা জবাব দিবো।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানি কারা রগ কাটার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। আপনারা একপেশে প্রচারণা চালিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছেন এটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট। নির্বাচন বিলম্বিত করা এবং স্বৈরশাসকের রাজনীতি যাতে বাংলাদেশে করতে পারে আপনারা সেই পথেই হাঁটছেন। আমরা সতর্ক করছি আমরা কিন্তু দুর্বল নই, আমরা মাঠে নামলে কিন্তু আপনাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চাইলে স্বনামে আসেন, সাধারণ ছাত্রের নামে দিয়ে কেন আসছেন? স্বনামে আসেন আমরা আপনাদের প্রতিহত করবো।
৭ বছর পর রাজশাহী কলেজের ভ্রাম্যমাণ সততা লাইব্রেরি চালু
রাজশাহী কলেজের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি দীর্ঘ ৭ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে গ্রীন ভয়ের কলেজ শাখার উদ্যোগে চালু করা হয়েছে। চালুর প্রথম দিনেই এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে বারোটার দিকে গ্রীন ভয়েস রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি রাবেয়া খাতুনের নেতৃত্বে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী দীপালোক নামে লাইব্রেরি উদ্ভোধন করেন। এসময় তিনি বলেন, গ্রীন ভয়েস কলেজ শাখা যে উদ্যোগ নিয়েছে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য অনন্য ভুমিকা রাখবে এবং তিনি এই উদ্যোগের সাফল্য কামনা করেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, গ্রীন ভয়েস কলেজ শাখার উপদেষ্টাবৃন্দ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো: মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম কিবরিয়া, গ্রীন ভয়েস কলেজ শাখা সাধারণ সম্পাদক মো. আশিক আলীসহ প্রমুখ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাইব্রেরিতে বাংলা, ইংরেজি, সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই রাখা হয়েছে। রাজশাহীর কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা তাদের আইডি কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের পর বই পড়তে এবং ৭ দিনের জন্য বাসায় নিয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। এটি মূলত সোমবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কলেজ চলাকালীন খোলা থাকবে। বুধবার ও শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকবে এবং বুধবার বিকেলে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে এবং উদ্বোধনের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের আগ্রহের সাথে লাইব্রেরি সামনে তাদের পছন্দের বই পড়তে ভিড় জমাতে দেখা গেছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য