ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৪ জুলাই, ২০২৫ ১৩:২৪
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন

নিজ সহপাঠিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা আজ রবিবার বিকেলে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা বেগমগঞ্জ চৌরাস্তার মূল সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা চৌরাস্তা ব্লকেড দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং সবধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ অবরোধে নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুরের সাথে ঢাকা-চট্টগ্রামের যান চলাচল বন্ধ থাকে। 

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দেব নাথ ও তাঁর দুই সহপাঠীর ওপর চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এর আগেও গত মাসে একই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা দুঃখজনক। বক্তৃতায় এসিসিই বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মেহেদী বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা নোয়াখালীর পুলিশের সাথে যোগাযোগ করি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা করে একটি মামলা দায়ের করেছে। সেখানে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা খুবই সহজ ব্যাপার। কিন্তু প্রশাসনকে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সমাজকর্ম বিভাগের রিয়াদুল জান্নাত মারিয়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এক জুলাইয়ে আমরা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছি, আরেক জুলাইয়ে প্রয়োজনে আমরা এই সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের পতন ঘটাবো। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি।  

বিজিই ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন মহসিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চুড়ি পরে বসে থাকার জন্য রাষ্ট্র বেতন দেয় না। যদি আপনারা ব্যর্থ হন তাহলে ছাত্রজনতা বাকিটা দেখে নিবে। এর আগেও আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তখন আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখি নাই। আমরা আজকে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই আপনাদের এই সন্ত্রাসী হামলার বিচার করতে হবে। 

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ। এপ্লাইড ম্যাথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল করিম বলেন, আজকের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এর পিছনে আমি মনে করি নড়বড়ে প্রশাসন এবং একটার পর একটা ঘটনা ঘটলেও কোনো সুষ্ঠু বিচার না হওয়া। আমি প্রশাসনের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাতে চাই, যারা হামলা করেছে তাদেরকে দ্রুত শনাক্ত করে বিচারেরে আওতায় আনেন। 

সর্বশেষ শিক্ষার্থীরা আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে সড়কে অবরোধ তুলে নেন।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রাতে ফেসবুকে লিখলেন ক্ষমা চাচ্ছি, ভোরে মৃত্যু

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৪ জুলাই, ২০২৫ ১২:৫৭
    অনলাইন ডেস্ক
    রাতে ফেসবুকে লিখলেন ক্ষমা চাচ্ছি, ভোরে মৃত্যু

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের ৪র্থ শিক্ষার্থী সঞ্জয় বাড়ৈ। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই জগন্নাথ হলে। হবিগঞ্জের চা শ্রমিক বাবা-মায়ের সন্তান, সংগ্রাম করে শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবুজ চত্বরে।  

    তবে ‘কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরো’ বলা ছেলেটা আজ আত্মহত্যা করে পরপারে পাড়ি জমালেন। আত্মহত্যার আগে তার দেওয়া ফেসবুক স্টেটাস থেকে ধারণা করা হচ্ছে প্রেম ঘটিত বিষয় নিয়ে হতাশার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। 

    ৬ দিন আগে সঞ্জয় তার দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জীবন ছোট্ট তবে সুন্দর, কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরো, অপেক্ষা করো, সমস্যা আসবেই, ধৈর্যের সঙ্গে সমাধানের পথ খুঁজো, দেখবে একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।  

    কিন্তু কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরতে পারলেন না তিনি। বেছে নিলেন আত্মহত্যার পথ। গতকাল (১৩ জুলাই) রাতে তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি, আমি দিনের পর দিন কাউকে ডিস্টার্ব করে গেছি, উল্টো মানুষকে দোষারোপ করা আমার একদম ঠিক হয়নি, আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি দিনের পর দিন অন্যায় করেছি, নিজের দোষ ঢেকে অপরজনকে দোষ দেওয়া আমার ঠিক হয়নি। আমি সকলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমার কারণে কারো কোনো ক্ষতি হলে সে দায় একান্তই আমার, আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

    সোমবার (১৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জগন্নাথ হলের নবনির্মিত রবীন্দ্র ভবনে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

    তার আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথ হলেও প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল বলেন, সঞ্জয় নামে ছেলেটি কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রেম ঘটিত কারণে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করছেন হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি গত দুদিন ধরে সে হলেও থাকে না। আজ ভোর ৪ টার দিকে সে হলে আসে এবং ৪টা ১০ মিনিটে হলের ছাদে যায়। সেখান থেকে সে লাফ দেয়।

    তিনি বলেন, আনুমানিক ৫টা ৩৬ মিনিটে একজন ক্লিনার তার কাজ করার সময় উপর থেকে কিছু পড়ার শব্দ পায়। কাছে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে। পরবর্তীতে দারোয়ানকে জানালে তিনি আমাকে অবগত করে এবং অন্যান্যদের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার প্রথমে তার পরিচয় সনাক্ত করতে পারছিলাম না। পরবর্তীতে শাহবাগ থানা থেকে পুলিশ এসে তার পকেট থেকে একটা নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রশ্ন পায়। তারপর আমরা তার সহপাঠীদের কাছ থেকে তার পরিচয় জানতে পারি।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা নয়, ময়লার ডাম্পিং জোন! ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ১৪ জুলাই, ২০২৫ ১২:৪৬
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা নয়, ময়লার ডাম্পিং জোন! ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ

      সরকারি মাদ্রাসা -ই-আলিয়া ঢাকার পূর্ব পাশে, কাশগরী হলের প্রবেশপথের ঠিক সামনের রাস্তায় প্রতিদিন জমা হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ভাগাড়। এতে গোটা মাদ্রাসা ক্যাম্পাস ও দুইটি আবাসিক হলে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে থাকলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

      স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের আশপাশের আবাসিক ভবনগুলোর ময়লা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এনে এই নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করছেন। অথচ দেয়ালে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে, “এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ।” তা সত্ত্বেও পুরো বকশিবাজার এলাকার ময়লা এখানে এনে ফেলা হচ্ছে নিয়মিত।

      শিক্ষার্থীরা একাধিকবার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ময়লা না ফেলতে অনুরোধ করেছেন, কিন্তু তাদের কথা আমলে নেওয়া হয়নি। কেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার পূর্ব পাশের রাস্তায় ময়লা ফেলা হচ্ছে জানতে চাইলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের একজন বলেন,
      আমাদের সিটি কর্পোরেশন যে জায়গায় ময়লা ফেলতে বলে, আমরা সেখানেই ফেলি। রাতের বেলায় ট্রাক এসে নিয়ে যায়। আপনারা চাইলে সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা শুধু দায়িত্ব পালন করি।

      আরাফাত, মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী বলেন,দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশেই মাদ্রাসার গেটে ময়লার ভাগাড় প্রশাসকের কাছে জবাব চাই । হালকা বাতাস হলেই দুর্গন্ধে ক্লাসে মন বসে না, খাওয়া-দাওয়াও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে। এটা কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ হতে পারে? সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন কি এই পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখেছে? আমরা কেমন করে পড়াশোনা করব এমন পরিবেশে?

      নুর আহমেদ নামের শিক্ষার্থী বলেন, মাদ্রাসার সামনে দিনের পর দিন ময়লা ফেলা হচ্ছেত এটা এক প্রকার অবহেলা। আমার প্রশ্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটির কর্মীদের অবাধ ময়লা ফেলা প্রশাসক কি দেখছেন না,  বারবার বলা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এই জায়গা তো আবর্জনা ফেলার জায়গা নয় । ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি অনুগ্রহ করে দ্রুত হস্তক্ষেপ করুন। 

      আশিক বলেন, দেয়ালে  “এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ ” লেখা আছে তা  সত্ত্বেও এখানে প্রতিদিন ময়লার ভাগাড় জমা হচ্ছে। আমরা বহুবার বাধা দিয়েছি, বলেছি এখানে শিক্ষার্থীরা বসবাস করে, ক্লাস হয়। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কথা শোনে না।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেটে ময়লার স্তুপ দক্ষিণ সিটির প্রশাসক কি চোখ বন্ধ করে আছেন ? এটা শুধু বিরক্তিকর নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করছে। স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ইবিতে খুলনা জেলা কল্যাণ সমিতির নবীন বরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ১৩ জুলাই, ২০২৫ ২২:৫৮
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ইবিতে খুলনা জেলা কল্যাণ সমিতির নবীন বরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত

        কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে খুলনা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সংগঠন খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির নবীন বরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

        রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির ১১৬ নাম্বার কক্ষে শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নবীন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ এবং প্রবীণ সদস্যদের ক্রেস্ট ও  বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

        অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদুর রহমান, অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী, সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েল, উপ-রেজিষ্ট্রার মাকসুদুর রহমান মাসুদসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ, নবীন এবং প্রবীণ সদস্যবৃন্দ।

        নবীন শিক্ষার্থীরা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির এমন সুন্দর আয়োজন আমাদের সবার জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধুবান্ধব আর বড় ভাই-বোনদের স্নেহ-ভালোবাসা পেয়ে আমরা খুবই উচ্ছ্বাসিত। মনে হয় সমিতি প্রত্যেক বড় ভাই আপু আমাদের নিজ পরিবারের সদস্য। তারা এতটাই আমাদের আপন করে নিয়েছে, মনে হয় না যে আমরা পরিবার থেকে দূরে আছি। আমরা আশা করি, একে অপরের পাশে থেকে সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে পারব।"

        ক্যাম্পাসের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রবীণ শিক্ষার্থীরা বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আবেগের একটি মুহূর্ত। নতুন যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে, তাদেরকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই শুরুটা এক নতুন যাত্রা। এখানে তোমাদের দায়িত্ব শুধু পড়াশোনা করা নয়, বরং আত্মিক ও মানবিকভাবে বড় হয়ে ওঠা। আর অবশ্যই স্যারদের সাথে তোমরা যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে যাতে করে যেকোনো প্রয়োজনে স্যারদের সহায়তা নেওয়া যায়। তোমরা নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহনশীলতা আর সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলবে। খুলনা জেলা সমিতি সবসময়ই পরিবার হিসেবে পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
         
        উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জেলা সমিতি অন্যান্য জেলা সমিতি থেকে অনেক সক্রিয়। আজকে এই অনুষ্ঠান একদিক যেমন আনন্দের তেমনি একদিকে বেদনা দায়ক। আমাদের সাথে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ খুবই কম। আমরা চাই এটা বৃদ্ধি পাক। তোমরা যেকোনো সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসতে পারো। আমরা তোমাদের সাধ্য মতো সহায়তা করার চেষ্টা করবো। আমরা কিন্তু এই সুযোগ তখন পাই নাই তাই তোমরা যেন এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারো। 

        তিনি আরো বলেন, আমাদের জেলায় যেমন বিভিন্ন রকমের প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। তেমনি ক্যাম্পাসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সংগঠন। তোমরা সে সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে নিজেকে আলোকিত করতে পারো। আর প্রবীণদের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে কারণ আগামীর দেশ ও জাতির দায়ভার একদিন তারাই নিবে। তাই তাদের আগামী দিনগুলো যেন অনেক সুন্দর হয় তাদের জন্য অনেক শুভকামনা রইল।

        সভাপতি সাজ্জাতুলাহ শেখ বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে নবীনদের অনেক অনেক অভিনন্দন এবং বিদায়ী বড় ভাইদের জন্য অনেক শুভকামনা জ্ঞাপন করছি। জেলা সংগঠন একটি আবেগের জায়গা। এখানে আমরা প্রত্যেকেই একটি পরিবারের সদস্য। তো সবসময় সকলের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। আর খুব শ্রীঘ্রই খুলনা জেলা থেকে যারা আসবে তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। কারোর যেন টাকার জন্য পড়ালেখার কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হবে। সবশেষে আগামীতে সকলকে একসাথে নিয়ে সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারি সকলের কাছে দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করছি।

        উল্লেখ্য, এইদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে আয়োজন শুরু হয়। এসময় অনুষ্ঠানটির যৌথ সঞ্চালনায় ছিলেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন রূপক এবং একই ব্যাচের সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাবরিনা।

        প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ইবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ১৩ জুলাই, ২০২৫ ২২:৪৯
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ইবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

        ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের আন্তঃসেশন ফুটবল টুর্নামেন্টে দুই দলের মধ্যে মারামারির তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

        রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় বিভাগের ২০২০-২১ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। 

        এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে গণমাধ্যম রুখে দাড়াক, নির্যাতনের প্রতিবাদ হোক; সাংবাদিকের উপর হামলা মানেই গণতন্ত্রের কবর; সাংবাদিকের কন্ঠরোধ, চলবে না চলবে না; সাংবাদিকের কন্ঠরোধ মানিনা মানবো না; অপরাধ কোনটি, সাংবাদিকতা না হামলা? যতই করো হামলা, কলম থামবে না ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। 

        সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহর জন্য একজন সাংবাদিককে যেভাবে ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা করা হয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটবে তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সাংবাদিকের প্রথম কাজ হয় যেকোন ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ডকুমেন্টস সংগ্রহ করা। তারপর সে সেটা যাচাই করে নিউজ হবে কিনা। ডকুমেন্টস সংগ্রহ করতে যেয়ে যদি এরকম হামলার শিকার হতে হয় তাহলে সাংবাদিকরা কাজ করবে কীভাবে। 

        চ্যানেল আই প্রতিনিধি সাদিয়া আফরিন অমিন্তা বলেন, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়, এটি মুক্ত পেশা। যদি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মার খেতে হয় সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হয়ে এর থেকে লজ্জ্বাজনক বিষষয় আর হতে পারেনা। যারা এই হামলার সাথে জড়িত আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

        ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাহিমা হিমা বলেন, আমাদের বিভাগের বড় ভাইকে মারা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকতাকে বলা হয় সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিক হিসেবে এটা আমাদের দায়ুত্ব কোনো দূর্ঘটনা ঘটলে তা তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া। এই তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি মার খেতে হয় তা কখনোই কাম্য নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি যাতে পরবর্তীতে আর কেও এধরনের কাজ করার সাহস না দেখায়। 

        ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শামীম হোসেন বলেন, আমরা দেখেছি গতকাল আমাদের সহপাঠি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে অপর একজন সাংবাদিককে মারধর করা হচ্ছিলো এটা অবশ্যই একটি নিউজ। সেই ঘটনা ভিডিও করতে যাওয়া তার পেশাগত দায়িত্ব। একজন সাংবাদিককে অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে মারা হয়েছিলো কি না তা বিষয় নয়,  এখানে প্রধান বিষয় একজন সাংবাদিককে প্রহার করা হচ্ছিলো, আমাদের সহপাঠি একজন সাংবাদিক হিসেবে সেটা ভিডিও করতে গেলে তাকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশাসনের কাছে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

        এছাড়াও এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও এনটিভি অনলাইনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মায়িশা মালিহা চৌধুরী, চ্যানেল আই প্রতিনিধি সাদিয়া আফরিন অমিন্তা, দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি ফারহানা ইয়াসমিন, দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি ওয়াসিফ আল আবরার, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিনিধি মানিক হোসেন, দৈনিক মূলধারার প্রতিনিধি আবু বকর, দৈনিক দেশের ডাকের প্রতিনিধি সুবংকর রয়, রাজ টাইমসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাদ, দিক দিগন্তের প্রতিনিধি আবু সালমান।

        প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত