ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ঢাবিতে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলার দাবি সাদা দলের

অনলাইন ডেস্ক
১১ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৫০
অনলাইন ডেস্ক
ঢাবিতে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলার দাবি সাদা দলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মামলা করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী আদর্শের শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। বিশেষ করে গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তৎকালীন শিক্ষক সমিতি ও নীল দলের চিহ্নিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সাদা দলের সাধারণ সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন আবদুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে এসব দাবিসহ মোট ৬টি দাবি পেশ করেন সাদা দলের শিক্ষকরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রাধ্যক্ষ এম এ কাউসারসহ প্রমুখ।

ঢাবি প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর নিয়াজ আহমেদ খান, উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড.সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.জাহাঙ্গীর আলমও প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদসহ অনেকেই।

সাদা দলের ৬ দফা দাবি—

১. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তৎকালীন শিক্ষক সমিতি ও নীল দলের চিহ্নিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মামলা করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

২. নীল দলের (বিবৃতিতে সই করা) শিক্ষকদেরকে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে হবে।

৩. পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারকে সমর্থনকারী জসীমউদ্দীন হল ও অমর একুশে হলের প্রভোস্টদ্বয়কে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

৪. বিগত প্রশাসনের সময় যে সব নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ আছে সে সব শিক্ষকদের অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো রকম স্থায়ীকরণ অথবা পদোন্নতি অথবা কোনো রকম সুবিধা দেওয়া যাবে না।

৫. সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কর্তৃক সাম্প্রতিক কার্যকলাপ ফ্যাসিস্টদের উৎসাহিত করছে। অবিলম্বে তাকে বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. উপরোক্ত দাবিগুলো সাত দিনের মধ্যে কার্যকর না করলে সাধারণ শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে সাদা দল কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

এ সময় সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শেখ হাসিনার ভয়েস কল এখন একটি প্রমাণিত সত্য। তাই তার বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে আমরা মানববন্ধন করব।’

তিনি বলেন, ‘আগামী রোববার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে এগারোটায় আমরা অপরাজয় পাদদেশে শেখ হাসিনার বিচারকে ত্বরান্বিত করবার জন্য আমরা একটি মানববন্ধন করব এবং সঙ্গে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শেখ হাসিনার দোসর হিসেবে চিহ্নিত তাদের বিচারের দাবি করব।’

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    জাবিপ্রবিতে জুলাই স্মৃতি আন্ত:বিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উন্মোচন

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১১ জুলাই, ২০২৫ ১৩:১৪
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    জাবিপ্রবিতে জুলাই স্মৃতি আন্ত:বিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উন্মোচন

    জুলাই বিপ্লবকে স্মরণীয় করে রাখতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবিতে) আয়োজিত হচ্ছে আন্ত:বিভাগ জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। 

    বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের উপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব নির্ধারন (ড্র) অনুষ্ঠিত হয়৷ 

    বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের টিম প্রতিনিধিদের সামনে ফুটবল টুর্নামেন্টের দলগুলোর লটারির মাধ্যমে গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়। টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের অংশগ্রহণে লটারির মাধ্যমে দলগুলোকে দুুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে৷ গ্রুপ-১ এ গণিত, ম্যানেজমেন্ট, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ অন্যদিকে গ্রুপ-২ এ সমাজকর্ম, ফিশারিজ এবং ভূতত্ত্ব বিভাগ থাকবে৷ 

    এ সময় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এমন আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সকল দলের জন্য শুভকামনা জানান।

    এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী, মেডিকেল সেন্টার পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান, সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান মো. অলি উল্লাহ্ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ ১৪ জুলাই বিকেল ৩ টায় ম্যানেজমেন্ট ও  কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মধ্যে যাত্রা শুরু করবে। অন্যদিকে টুর্নামেন্ট ফাইনাল ও সমাপনী অনুষ্ঠান ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. সৈয়দ নাজমুল হুদা৷ এদিকে টূর্নামেন্ট ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
     

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      জাবিপ্রবির সঙ্গে দুই হাসপাতালের এমওইউ স্বাক্ষর: শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসা সেবার প্রত্যাশা

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ১১ জুলাই, ২০২৫ ১৩:১০
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      জাবিপ্রবির সঙ্গে দুই হাসপাতালের এমওইউ স্বাক্ষর: শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসা সেবার প্রত্যাশা

      স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে জামালপুরের হযরত শাহজামাল (র.) জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড ও বুলবুল জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের উপস্থিতিতে তার সভাকক্ষে দুই পক্ষের মাঝে এ সমঝোতা সই হয়। 

      সমঝোতা স্মারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী সই করেন। আর হাসপাতাল দু’টির পক্ষে প্রতিষ্ঠানসমূহের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বুলবুল। 

      এই সমঝোতার আওতায় হযরত শাহজামাল (র.) জেনারেল হাসপাতালে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে আগামী ০৩ (তিন) বছরের জন্য বিশেষ সুবিধা পাবেন।

      এ চুক্তির অধীনে শিক্ষার্থীদের সাশ্রয়ী এবং উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রী অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

      এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, মেডিকেল সেন্টার পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. নীলিমা নাসরীন, হযরত শাহজামাল (র.) জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডের সিনিয়র ডেন্টাল সার্জন ডা. নাহিদা আক্তার পিংকি, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ, অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মো. মেহেদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

      প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      জুলাই শহীদদের স্মরনে জাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর অভিনব উদ্যোগ

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ১১ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৬
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      জুলাই শহীদদের স্মরনে জাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর অভিনব উদ্যোগ

      শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও উৎসাহিতকরণ, পরিবশ সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ও অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং একটি বাসযোগ্য সবুজ পরিবেশ তৈরিতে বৃক্ষরোপন হতে পারে ইতিবাচক উদ্যোগ তবে সেটা যদি হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বরণে তবে তো অভিনব বলাই চলে৷      

      তাইতো গতানুগতিকতার বাহিরে ভিন্নধর্মী উদ্যোগের মাধ্যমে গতবছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরনে ক্যাম্পাসে ব্যক্তি উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নেয় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যীনাত মিয়া আজিজুল।

      বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সহপাঠী, অনুজ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে ক্যাম্পসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় পনেরোটি ফুল ও ফলের চারা রোপন করে যীনাত৷ এর মধ্যে ছিলো- আতা, পেয়ারা, কাঠাল, কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি৷ 

      এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থী যীনাত মিয়া আজিজুল দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘দেশপ্রেম ও পরিবেশ রক্ষার চেতনাকে ধারণ করে এবং জুলাই চব্বিশের শহীদদের স্মরনে আমরা ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আমরা পরিবেশ উন্নয়নে ক্যাম্পাসে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ জুলাই চব্বিশে যাঁরা দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের স্মৃতি যেন হারিয়ে না যায়, সেই চেতনা থেকেই আমরা আজ এই বৃক্ষরোপন লক্ষ সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।’ 

      পড়াশোনার পাশাপাশি যীনাত ছাত্র রাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত৷ তিনি রাজনীতি নিষিদ্ধ জাবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ১০ জুলাই মাভাবিপ্রবিসাসের 'কালো দিবস’

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ১০ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৪১
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ১০ জুলাই মাভাবিপ্রবিসাসের 'কালো দিবস’

        ‎টাঙ্গাইলের  মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  সাংবাদিক সমিতি—মাভাবিপ্রবিসাস—আজ দিনটি ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালিত করেছে। ২০২৪ সালের ১০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একতরফা ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তে সমিতির কার্যক্রম স্থগিতের ঘটনাকে স্মরণ করেই এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

        ‎গত বছরের ওই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মেধা-নির্ভর ভর্তি নাগরিক সুবিধার দাবিতে জড়িত ছাত্রদের খবর প্রচার করায় সাংবাদিক জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে “সরকারি এম.এম. আলী কলেজের শিক্ষার্থী মাহিনকে মিছিলে নেন”—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহীর ন্যায় বর্হিবিশ্বাস আগ্রহী ঘোষণা করা হয়। এরপর তার কাছ থেকে স্বল্প খসড়ে একটি মুচলেকা নিয়ে সাংবাদিক সমিতির কার্যক্রম একতরফাভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

        ‎প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের পিছনে কাজ করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, প্রক্টর, জনসংযোগ ও প্রকাশনা পরিচালক এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি মানিক শীল ও তার সহযোগীরা।

        ‎সাংবাদিক জাহিদ হোসেন বলেন, “ওই দিনটি আমার জন্য ছিল ভয়াবহ একটি দিন। নিউজ প্রচার ও সহায়তার জন্য আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অনুঘটক বানিয়ে মুচলেকা নেয়া হয়। যা জীবনের জন্যই এক ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।” সংবাদ সংগ্রহে বাধা, মানসিক হুমকি ও প্রশাসনের তীক্ষ্ণ নজরদারিতেও মাভাবিপ্রবি সাংবাদিকরা থেমে যায়নি—এই সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী একটি সাহসী কর্মজীবনের ইতিহাস রচনা করেছে।

        ‎বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক তুষার আহমেদ বলেন, “ স্বৈরাচারের সময়ে গণমাধ্যম এবং নিউজ চ্যানেল গুলো ছিল ক্রয় করা পণ্যের মতো। কিন্তু এর মধ্যেও যে সাংবাদিক ভাইয়েরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন তাদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ দিয়ে মুখ বন্ধ করানো হতো। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রশাসনও সেটার ব্যতিক্রম ছিল না। 10 জুলাই সাংবাদিক সমিতি বন্ধ করার পরেও আমাদের সাহসী সাংবাদিক রা দমে যান নি বরং জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। অবশ্যই তাদের কাজের জন্যে তারা প্রশংসার দাবিদার
        ‎‎
        ‎বর্তমান সভাপতি বিজয় সরকার জানান, “জুলাই আন্দোলনের সময় সাংবাদিক সমিতির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের সকল তথ্য সরবরাহ করছিলাম। প্রশাসন সাংবাদিক সমিতি বন্ধ ঘোষণা করলেও আমরা কখনো পিছিয়ে যাইনি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি সংবাদ প্রচার করতে।”

        ‎আজকের ‘কালো দিবস’ কেবল একটি প্রতিবাদ নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি ঐতিহাসিক বার্তা। ভবিষ্যতে এমন স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসন যেন গণতন্ত্রের শর্ত ভঙ্গ না করে—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে এই দিনকে স্মরণ করে রাখা হলো। মভাবিপ্রবি সাংবাদিকদের অঝোর সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের কাছে উদ্দীপনা রূপে থাকবে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত