শিরোনাম
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসান ঘটিয়ে অশ্রুসজল নয়নে বিদায় নিলেন অধ্যাপক তানজিদা হোসাইন
দীর্ঘ ৩২ বছরের অনন্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন সরকারি বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তানজিদা হোসাইন। চাকরি জীবনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরজনিত ছুটিতে গমন করেছেন তিনি। এই সুদীর্ঘ পথচলায় রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি, ভালোবাসা, সাফল্যের গল্প এবং অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী।
বুধবার (৯ই জুলাই) কলেজের অডিটোরিয়ামে অবসরগ্রহণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অশ্রুসজল ভালোবাসায় সিক্ত হন গুণী এই অধ্যাপিকা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আবেগঘন কণ্ঠে অধ্যাপক তানজিদা হোসাইন বলেন, “শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, এটি ছিলো ইবাদত সমতুল্য। একজন শিক্ষকের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তাঁর শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা। আমি তা পেয়েছি। আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমি চাই, ভালোবাসার মাধ্যমেই যেন স্মরণে থাকি আপনাদের হৃদয়ে।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ বলেন, “জীবনে অঢেল সম্পদ অর্জন করার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পারাটাই মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয়। শিক্ষকরা এখানেই সার্থক। একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার শিক্ষার্থীরা। আমরা যারা শিক্ষক আছি, আমরা এটা নিয়ে গর্ব করতে পারি যে অগণিত শিক্ষার্থীর দোয়া এবং ভালোবাসা আমাদের অন্যতম ভরসাস্থল। প্রফেসর তানজিদা হোসাইন একজন সৌভাগ্যবান শিক্ষক, তিনি শিক্ষার্থীদের মনে সেই স্থানটা অধিকার করতে পেরেছেন। দীর্ঘ ৩২ বছরের বর্ণাঢ্য চাকরিজীবনে তিনি অনেক কিছুই উপহার দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের। এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।”
এ সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিদায়ী অধ্যাপিকাকে মানপত্র, ক্রেস্ট এবং শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে বিদায় মুহুর্তে অডিটোরিয়ামজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা স্মৃতিচারণ করেন তার পাঠদান, স্নেহ এবং পথপ্রদর্শনের কথা। কেউ কেউ চোখ মুছতে মুছতে বলেন, “তিনি শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন একজন অভিভাবক, একজন আশ্রয়।”
অধ্যাপক তানজিদা হোসাইন পেশাগত জীবনে যাত্রা শুরু করেন ১৯৯৩ সালে বগুড়া সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারি মহিলা কলেজে। পরবর্তীতে সরকারি বাঙলা কলেজে প্রায় ছয় বছর এবং নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে চার বছর এবং সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে প্রায় চার বছর শিক্ষকতা করেন তিনি।
প্রফেসর তানজিদা হোসাইন দ্বিতীয় দফায় সরকারি বাঙলা কলেজে যোগদান করেন ২০০৮ সালে। এখানেই তিনি তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি অতিক্রম করেন।
শুধু একাডেমিক শিক্ষাদানেই নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশেও তিনি রেখেছেন অসামান্য অবদান।
অধ্যাপক তানজিদা হোসাইনের বিদায় এক যুগের অবসান সমতুল্য হলেও, তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ চিরকাল বেঁচে থাকবে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে। শিক্ষকতা পেশার অনন্য আলো হয়ে তিনি রয়ে যাবেন সকলের অনুপ্রেরণায়।
রাজশাহী কলেজে ২৬ বছরের শিক্ষকতা শেষে ফুলেল শুভেচ্ছায় অধ্যাপক পার্থ সারথির বিদায়
রাজশাহী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের খ্যাতিমান শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর পার্থ সারথি বিশ্বাস রাজশাহী কলেজে তার দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষকতা শেষে সকলের ভালোবাসায় ফুলেল সংবর্ধনার মাধ্যমে তার শিক্ষকতা জীবন শেষ করলেন।
বুধবার (৯ জুলাই) সকাল ১০ টায় কলেজ প্রাঙ্গণে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে প্রিয় শিক্ষককে শেষ বারের মতো বরণ শেষে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। এসময় তার জীবনী নিয়ে একটি মান পত্র পাঠ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী। এছাড়াও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ সেরাজ উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী প্রসঙ্গে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী বলেন, পার্থ সারথি স্যারের আজকের বিদায় অনুষ্ঠানে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বলে দেয় শিক্ষক হিসেবে তিনি অত্যন্ত সফল একজন ব্যক্তি। তার কথা বলার মধ্যে আমি সবসময় অন্যরকম একটা আর্ট বরাবরই লক্ষ্য করেছি। তিনি বলেন, তার শিক্ষকতার ধরণ ও শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে যাওয়ার যে গুণাবলী সেটি সবসময় অন্যান্য শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি তার শিক্ষকতা জীবনের সার্থকতা কে উপস্থাপন করে। আমরা সবসময় তার মধ্যে যে দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখেছি তা সত্যি অতুলনীয়। শিক্ষকতা জীবনের পরিসমাপ্তি শেষে তার বাকি জীবনটা যেন কল্যাণকর হয় এই প্রত্যাশা থাকবে।
আবেগঘন কন্ঠে প্রফেসর পার্থ সারথি বিশ্বাস বলেন, আমি সবসময় আমার দায়িত্ব যথাযথ পালন করার চেষ্টা করেছি। তবে আজকে সকলের অনুভূতি শুনে আমার মনে হয়েছে এবং আশ্বস্ত হতে পেরেছি যে আমি আমার দায়িত্ব পালনে সার্থক। আমি সবসময় আমার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। আমার ব্যস্ততা সবসময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে থাকুক এটাই চেয়েছিলাম তবে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আমি হয়ত পুরোটা সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাটাতে পারিনি। এই একটা আক্ষেপ আমার সবসময়ই ছিলো এবং থাকবে। দিনশেষে যা পেয়েছি তা আমার কল্পনার বাইরে।
এ সময় তিনি তার শিক্ষকতা জীবনের বিদায়ের দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সকল সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বিদায়ী অনুষ্ঠানের আলোচনায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে তার শিক্ষকতার দক্ষতা ও সুসম্পর্কের কথা উঠে আসে এবং অনুষ্ঠান শেষে তাকে ফুল ও স্কেচ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য তিনি ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর ১৯৯৪ সালে বদলি হয়ে রাজশাহী কলেজে আসেন এবং মাঝের পাঁচ বছর শিক্ষা ছুটি বাদে একটানা ২৬ বছরেরও অধিক সময় তিনি রাজশাহী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করে গেছেন।
ঢাবির অধিভুক্তি বাতিল ও বিআইটি গঠনের দাবিতে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ইউনিটের অধীনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টির মধ্যেই তারা এই কর্মসূচি পালন করে।
কলেজের শহীদ মিনার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা কলেজ সংলগ্ন ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল ও রহমতপুর-দিঘারকান্দা বাইপাস সড়ক ঘুরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন। এ সময় একদফা দাবিতে তারা বিআইটির (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) আদলে প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র কাঠামো গঠনের আহ্বান জানান।
সমাবেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, “দীর্ঘ দুই মাস আন্দোলন চললেও আমাদের দাবি নিয়ে কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেনি। তাই আগামীকাল থেকে রহমতপুর বাইপাস মোড়ে পূর্ণ সড়ক অবরোধের কর্মসূচি শুরু হবে। এখান দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।” তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আন্দোলনে সহযোদ্ধা হয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
আত্মহত্যা থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত
গত ১৮ মে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ কর্মকার আত্মহত্যা করেন। চলমান শিক্ষা কাঠামোর চাপে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন বলে সহপাঠীরা অভিযোগ করেন। এরপর ২০ মে থেকে একাডেমিক কম্বাইন্ড সিস্টেম বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামে।
১৪ জুন ঈদের ছুটির পর কলেজ খুললেও শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরেননি। ২৪ জুন থেকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন, ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ৫ জুলাই থেকে শুরু হয় বিআইটি গঠনের দাবিতে আনুষ্ঠানিক আন্দোলন।
শিক্ষার্থীদের বিবৃতি
আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আজ শিক্ষার্থীরা একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে জানানো হয়, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও বরিশাল—এই তিনটি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০ মে থেকে একযোগে সব একাডেমিক কার্যক্রম ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তি ইউনিট সরকারের অধীন এই কলেজগুলোকে উপেক্ষা করে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের প্রতি পক্ষপাতমূলক নীতি নিচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রযুক্তি ইউনিটের মাধ্যমে আয়োজিত ভর্তি পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করছি। এই শিক্ষাবর্ষে কেউ এই ইউনিটের মাধ্যমে উল্লিখিত তিন কলেজে ভর্তি হতে পারবে না।”
তারা দাবি করেন, এই তিনটি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিআইটির আওতায় এনে স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ভর্তির কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
কর্তৃপক্ষের অবস্থান
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, “গতকাল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সব দাবি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গৃহীত হতে হবে এবং এতে সময় লাগবে। সে পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন এবং আগামীকাল (বুধবার) পূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শাবিপ্রবিতে শুরু হলো 'অংকন রায় মেমোরিয়াল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫'
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) হ্যান্ডবল মাঠে আজ থেকে শুরু হয়েছে ‘অংকন রায় মেমোরিয়াল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫’। চার দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট ৯ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
টুর্নামেন্টটির আয়োজন করেছে লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৭তম ব্যাচ। খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং প্রয়াত শিক্ষার্থী অংকন রায়ের স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতেই এই আয়োজনে ব্যাচটি সক্রিয় ভূমিকা নেয়।খেলাটি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ইতোমধ্যে উচ্ছ্বাস ও আবেগ তৈরি করেছে। প্রতিদিন হ্যান্ডবল মাঠে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বন্ধুদের হারানোর বেদনার সঙ্গে এক আত্মিক মিলনও ঘটছে খেলাধুলার মাধ্যমে।
এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য শুধু খেলাধুলার মাধ্যমে শরীরচর্চা ও মননশীলতা বৃদ্ধি নয়—এর নেপথ্যে রয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী স্মৃতি। ১৭তম ব্যাচের মেধাবী ও প্রাণবন্ত শিক্ষার্থী আনকন রায়–এর স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এই আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে যার হাসি, প্রাণবন্ততা ও বন্ধুত্ব সবার মন জয় করেছিল, তার হঠাৎ মৃত্যুই বন্ধুদের মনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। সেই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জায়গা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে এই টুর্নামেন্টের।
টুর্নামেন্টে লোকপ্রশাসন বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে। উদ্বোধনী দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা শুরু হয়। খেলার মধ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ—যা একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণ বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকরা জানান, অংকনের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই তারা এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন এবং আগামী বছরগুলোতেও এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
এই টুর্নামেন্ট শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে স্মৃতি, সম্পর্ক আর আবেগের এক মহামঞ্চ—যেখানে খেলাধুলা আর ভালোবাসা মিলেমিশে তৈরি করছে মানবিকতা ও ঐক্যের নতুন গল্প।
মাভাবিপ্রবিতে শিক্ষা সফরে আসছে দক্ষিণ কোরিয়ান শিক্ষার্থীরা
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যৌথ প্রকল্পের শিক্ষা সফরে আসছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কুংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
দক্ষিণ কোরিয়ার কুংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল ৮ জুলাই রাতে বাংলাদেশে এসেছে এবং আগামী ১১ জুলাই কোরিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হ্যাং মুক চো সফরে আসবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. মো. ইকবাল মাহমুদ।
তিনি জানান, "মাভাবিপ্রবি ও কুংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে চলমান একটি যৌথ শিক্ষা প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ আয়োজন।"
প্রতিনিধি দলটি ১৪ জুলাই মাভাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সফরকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করবে।
এই সফরের কার্যক্রম শেষে তারা আগামী ১৫ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করবেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য