শিরোনাম
৫ বছর পর খুবির সেই দুই শিক্ষার্থীর মুক্তি
জঙ্গি সন্দেহে তুলে নেওয়ার ৫ বছর পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মাদ অনিক এবং মোজাহিদুল ইসলাম। সোমবার সন্ধ্যায় খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত সপ্তাহে উচ্চ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
সহপাঠীরা জানান, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি ওই দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ১৭ দিন অজানা স্থানে রেখে তাদের নির্যাতন করা হয়। পরে ২৫ জানুয়ারি তাদের বিস্ফোরক দ্রব্যসহ গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। ওই দিনই তাদের খুলনার কৃষক লীগ কার্যালয় ও আড়ংঘাটা থানার গাড়ির গ্যারেজে বোমা হামলা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর একে একে তাদের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা করে পুলিশ। সেই থেকে পাঁচ বছর তারা কারাবন্দি ছিলেন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ডিসিপ্লিনের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ অনিক ও পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোজাহিদুল ইসলাম।
অভ্যুত্থানের পরে তাদের মুক্তির দাবিতে খুবি ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করেন সহপাঠী, রুমমেট, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরা। পরে ক্যাম্পাসে মানববন্ধনও করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছাত্রদের আইনজীবী আকতার জাহান রুকু বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় খালাস, দুটি মামলায় জামিন এবং সোনাডাঙ্গা থানার দুটি মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজা হওয়া দুটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়।
আদালত গত সপ্তাহে জামিন মঞ্জুর করেন। আশুরার ছুটি থাকায় তিন দিন পর আদেশ কারাগারে এসে পৌঁছায়। সোমবার সন্ধ্যায় তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, জঙ্গি নাটকে যারা জড়িত ছিল তাদের বিচার হওয়া উচিত। দীর্ঘদিন জেলে থাকা দুই শিক্ষার্থী নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। তাদেরকে বরণ করার জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল খুলনা কারাগারের ফটোকে অবস্থান করেছিল। এই দুই শিক্ষার্থীর ছাত্র জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য আমার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।
কারাগার থেকে মুক্তির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
অ্যাম্বুলেন্সের দাবিতে জাবিপ্রবিতে মানববন্ধন: ৭ দিনের আল্টিমেটাম
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোন অ্যাম্বুলেন্স। রাতে কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ‘প্রশাসন শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ একটি মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণা দিলেও শুক্রবার ও শনিবার মাইক্রোবাসটি বন্ধ থাকে। রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে যেতে হয় জেলা শহরে চিকিৎসা নিতে।’
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, 'অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়া গাড়িটি কখনো সময়মতো মেলে না। অনেক সময় গাড়িটি চালক দূরে থাকে। কয়েকদিন আগে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে চালককে ফোন দিলে অনুমতির দোহাই দিয়ে কালক্ষেপন করেন।’ এসময় শিক্ষার্থীরা আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে স্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। একইসঙ্গে মাইক্রোবাস ব্যবহারের ঘোষণা বর্জনের ঘোষণা দেন।
মানববন্ধনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক লিটন আকন্দ বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল অ্যাম্বুলেন্স প্রদান। প্রশাসন শিক্ষকদের গাড়িকে ‘অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস’ হিসেবে দেখিয়ে জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চাপিয়ে দিচ্ছে, যা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলাম। আগামী সাত দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’
জাবিপ্রবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব যীনাত মিয়া আজিজুল বলেন, ‘কিছুদিন আগে এক ছাত্রী অসুস্থ হলে ৩৫ মিনিট পরেও গাড়ি মেলেনি। এমনকি এক ছাত্র হলের হামজা ভাই অসুস্থ হলে তাঁকে বাইকে করেই হাসপাতালে নিতে হয়। ড্রাইভারকে ফোন দিলে তিনি মেলান্দহে থাকার কথা জানান। প্রশাসনকে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিচ্ছি এটার সূরহা করবে৷’
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফসান হামিদ রানা ও কাজী মোহাম্মদ ইসমাইল প্রমুখ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘গত অর্থ বছরে অ্যাম্বুলেন্স কেনার জন্য একটি বাজেট পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সরকারি গাড়ি কেনার অনুমোদন না থাকায় কিনতে পারেনি। এ বছরও গাড়ি কেনার প্রস্তাব দেওয়া রয়েছে। সরকার যদি অনুমোদন দেন তাহলে গাড়ি কিনে ফেলবো আমরা।’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ৭ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)-তে একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে নতুন করে ৭ জন শিক্ষককে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়, ৭ জুলাই ২০২৫ তারিখ থেকে এই নিয়োগ আদেশ কার্যকর হবে। নিয়োগপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন—
০১।ড. মো. রাশেদুজ্জামান, সহযোগী অধ্যাপক, ইইই বিভাগ, শাবিপ্রবি
০২। ড. মুহম্মদ ওমর ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক, পিএমই বিভাগ, শাবিপ্রবি
০৩। জনাব ফারহা মুন, প্রভাষক, আর্কিটেকচার বিভাগ, শাবিপ্রবি
০৪। জনাব আফসানা বেগম, প্রভাষক, ইইই বিভাগ, শাবিপ্রবি
০৫। জনাব মো. সাদেকিন ইসলাম, প্রভাষক, পরিসংখ্যান বিভাগ, শাবিপ্রবি
০৬। জনাব যুবাইর ইবনে দ্বীন, প্রভাষক, বিএমবি বিভাগ, শাবিপ্রবি
০৭। জনাব মোহাম্মদ ইমরান হোসেইন, প্রভাষক, রসায়ন বিভাগ, শাবিপ্রবি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, নতুন শিক্ষকরা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।
এ নিয়োগের মাধ্যমে শাবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে চলমান শিক্ষক সংকটও কিছুটা লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কক্সবাজারে সমুদ্রে নেমে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২
কক্সবাজারে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে কে এম শাদনান সাবাব রহমান (২১) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) হিমছড়ি সমুদ্র সৈকত পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। গোসলের এক পর্যায়ে স্রোতের টানে তিনজনই ভেসে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আক্রান্ত তিনজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
মারা যাওয়া শিক্ষার্থী সাবাব রহমান ঢাকার মিরপুর এলাকার কে এম আনিসুর রহমানের ছেলে। এখনো যে দুজন নিখোঁজ রয়েছেন তারা হলেন, বগুড়া জেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে আসিফ আহমেদ (২২), একই এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে অরিত্র (২২)।
হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সুমনাথ বসু বলেন, চার বন্ধু মিলে হিমছড়ি পয়েন্টে ঘুরতে আসেন। তিন বন্ধু এক সঙ্গে গোসল করতে নামেন। গোসলের এক পর্যায়ে স্রোতের টানে তারা ভেসে যান। একজনের মরদেহ পাওয়া গেলেও এখনো দুইজন নিখোঁজ আছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সি সেইফ লাইফ গার্ড উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে।
শাবিপ্রবিতে লোক প্রশাসন বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) লোক প্রশাসন বিভাগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি বিল্ডিংয়ের ৪০২২ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নবীনদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম, অধ্যাপক ড. ফাতেমা খাতুন, অধ্যাপক ড. ইসমত আরা, সহযোগী অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল হুসাইনি, সহকারী অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা, সহকারী অধ্যাপক মো. জহির উদ্দিন এবং প্রভাষক ও ছাত্র উপদেষ্টা আব্দুল বাছিত।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বাবা-মা, বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং লোক প্রশাসন সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য নাঈম, রিপন, অংকুর, মিলন ও হ্রিদিকা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা এবং সামাজিক উদ্যোগে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবসময়ই অনন্য। সদ্য প্রকাশিত ৪৪তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে আমাদের বিভাগের একজন শিক্ষার্থী প্রথম স্থান অর্জন করেছে, যা আমাদের গর্বের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তারা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। আমাদের শিক্ষকরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছেন এবং থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে স্বপ্ন নিয়ে এসেছ, এখন তা পূরণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করো। বাবা-মা ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করাই হবে তোমার মূল দায়িত্ব।”
নতুনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা থাকবে, তবে তোমার জন্য কোনটা ভালো সেটা বুঝে নিতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে এবং কোনো বিশৃঙ্খলতায় জড়ানো যাবে না। এখন থেকেই লক্ষ্য স্থির করে নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাও।”
উল্লেখ্য, নবীন হলেও লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা, প্রশাসন ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে সাফল্যের ছাপ রেখেছেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য