শিরোনাম
গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠালো জবি শিক্ষার্থীরা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ‘প্রজেক্ট লাইফলাইন গাজা’-এর আওতায় ২০০টি পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ জুলাই) বিতরণকৃত খাদ্যপ্যাকেটগুলো গাজার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থানকারী অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত পরিবারের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, যারা উত্তর গাজার বাইত হানুন থেকে যুদ্ধের কারণে পালিয়ে এসে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।
এই প্রজেক্টের উদ্যোগ নেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটি এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
এই মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা হলেন- প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের নওশীন নাওয়ার জয়া ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের আম্মার বিন আসাদ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের জুনায়েদ মাসুদ, ইংরেজি বিভাগের তানজিলা সুলতানা তানি, সিফাত হাসান সাকিব, উম্মে হাবিবা এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ওমর ফারুক শ্রাবণ।
প্রজেক্ট পরিচালনায় থাকা জবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আম্মার বিন আসাদ বলেন, আমরা এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র কয়েকজন আন্তরিক মানুষকে নিয়ে খুবই স্বল্প পরিসরে শুরু করেছিলাম। আমরা মনে করি, এই উদ্যোগের সফলতা মূলত আমাদের যাত্রার শুরু। আমরা ফিলিস্তিনের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সামনে আরও বড় পরিসরে এমন উদ্যোগকে চলমান রাখব। আমাদের ইচ্ছা আছে, আমাদের কার্যক্রমকে আমরা শুধুমাত্র সাহায্য পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব না, বরং দখলদার সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েলের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী মানবতাবাদী অবস্থান ও গণহত্যার সম্মতি উৎপাদনকারী ভূমিকার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রো-প্যালেস্টাইন মুভমেন্টের কাতারে বাংলাদেশকে শক্তিশালীভাবে দাঁড় করানোর বৃহৎ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব।

প্রজেক্ট পরিচালনাকারী আরেক শিক্ষার্থী নওশীন নাওয়ার জয়া বলেন, গাজা মানবতার দায়। চোখের সামনে প্রতিনিয়ত গাজাবাসীর ওপর যে নির্মমতা আমরা দেখছি, তার বিপরীতে মানুষ হিসেবে আমাদের সামান্যতম করণীয়টুকুই আমরা করার চেষ্টা করেছি। তারই প্রয়াসে ‘প্রজেক্ট লাইফলাইন গাজা’ নামক প্রকল্পটি আমরা গ্রহণ করি। আমরা এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ২,২৬০ ডলার পাঠাতে সক্ষম হই, যার মাধ্যমে ২০০টি পরিবারের জন্য খাবার প্রদান করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ মাসুদ বলেন, এই মানবিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারা আমাদের জন্য এক গভীর দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। মানবিকতা, ন্যায়বোধ এবং বৈশ্বিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমাদের এই প্রয়াস।
উল্লেখ্য, ‘প্রজেক্ট লাইফলাইন গাজা’ একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ, যা গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক ছাত্র-যুবকদের সক্রিয়তায় গঠিত হয়েছে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও গাজার অসহায় মানুষদের জন্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শাকিল/রাইজিং ক্যাম্পাস
ছাত্রী হলে ঢুকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া সেই ছাত্রলীগ নেতার পদোন্নতি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে প্রবেশ করে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়াসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ইবি শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক সোহাগ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) পদোন্নতি পেয়ে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন। এছাড়াও সবেক এই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় সরাসরি সমর্থন এবং আন্দোলনকারীদের রাজাকার জামায়াত-শিবির বলে দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়ায় অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, গত ৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশে রিজেন্টবোর্ডের ৪০তম সভায় শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। সেখানে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতাকে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট থাকা অবস্থায় দাড়ি রাখলে হল থেকে বের করে দেওয়া, হলে সিটের জন্য আবেদন করলে ভাইবার সময় শিবির করে কিনা তা জানতে মোবাইল চেক করা, বেছে বেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সিট দেওয়া ও সাতক্ষীরা জামায়াতের এলাকা বলে শিক্ষার্থীকে মার্ক শূন্য দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া, ধর্ম ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে কিন্তু সংস্কৃতি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে নাসহ বিভিন্ন উক্তির মাধ্যমে ধর্ম অবমাননা করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) সহ-সভাপতি থাকা অবস্থায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীদের ধর্ষনের হুমকি দেওয়ায় সংবাদের শিরোনামও হতে হয়। এমনকি জুলাই গণহত্যা চলার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা দিয়ে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষক ইমদাদুল হক সোহাগকে মুঠোফোনে কল দেওয়া কলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
অভিযুক্ত শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ সোহেল হাসান বলেন, আমার অজান্তেই এটা হয়েছে, কারণ হায়ার বোর্ডে আমাকে রাখা হয়নি যার ফলে ভাইভার সময় আমি ছিলাম না। আর দুই একজন চালাকি করে তাদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্যের সাথে কথা হয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নিব, তবে সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এ বিষয়ে গোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষিকাকেও নিয়ে অভিযোগ হচ্ছে। তাকে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে আরও একবছর আগে। যেহেতু গত একবছর রিজেন্টবোর্ড হয়নি তাই বর্তমানের রিজেন্টবোর্ডে আগের রিকমেন্ডেশন কার্যকর করা হয়েছে। আর তার বিরুদ্ধে কোনো বডির মাধ্যমে আমরা লিখিত পাইনি যে, তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিওমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আর তারা এখানে প্রতিদিন আসে, ক্লাস নেয়, ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করতেছে সেক্ষেত্রে তারাতো কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমরাতো বাধা দিতে পারিনা, তাহলে আমাদের নামে কেস হয়ে যাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা ঢালাও যে লিখিত অভিযোগ দিছে তাতেতো আর প্রমাণ হয় না সে অপরাধী। প্রমানিত যখন হবে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের নেতৃত্বে মিনহাজ - মাহমুদ
শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণায় আগ্রহ ও উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলতে গঠিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) গবেষণা সংসদের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফলিত গণিত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদীন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদুল।
বৃহস্পতিবার (০৩ জুলাই) আগামী এক বছরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি অনুমোদন করেন গবেষণা সংসদের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবিপ্রবির উপ - উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক এবং মডারেটর ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি মিনহাজুল আবেদীন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বলেন, নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদ দীর্ঘদিন ধরেই একাডেমিক গবেষণার প্রসারে শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। যথাযথ পরিকল্পনা, দৃঢ় সংকল্প ও সহযোগিতামূলক মানসিকতা নিয়ে, নোবিপ্রবি তে গবেষণা সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ করে তোলার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে এবং আমি আশাবাদী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, দলগতভাবে কাজ করে আমরা নোবিপ্রবি রিসার্চ সোসাইটি কে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব।
এছাড়াও তরুণ গবেষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ বলেন, গবেষণাভিত্তিক মনোভাব গড়ে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে আমরা শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ গবেষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে একাডেমিক উৎকর্ষ সাধন এবং নোবিপ্রবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গবেষণাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তুলে ধরা। সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে আশাবাদী।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি (প্রশাসন) মোহসেনা মমতাজ, সহ -সভাপতি (গবেষণা) নাজমুন নাহার লিমা, যুগ্ম - সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন) মো. আরিফুল ইসলাম আরাফাত ভুঁইয়া , যুগ্ম - সাধারণ সম্পাদক (গবেষণা) তানহা জান্নাত ইকরা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল তৌহিদ , দপ্তর ও নথি সম্পাদক সাদিয়া আফরোজ , জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম , গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হোসাইন নবীন , অর্থ সম্পাদক ফায়িকা ফাতিন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাদিয়া সুলতানা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আক্তার ইকরা, নেটওয়ার্কিং ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক আফিয়া আবিদা এশা, কার্যকরী সদস্য পুষ্পিতা বড়ুয়া, শামসুল আলম রুহান, আব্দুস সামাদ, মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, অর্নব দশ, অনিক দাশ, তাজবিউল হাসান।
পবিপ্রবিতে সৌহার্দ্য ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিবেশ, জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সৌহার্দ্য ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ইয়ুথ ফর কেয়ার ও দ্য আর্থ-এর সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশ, জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
৫ জুলাই (শনিবার), বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স রুমে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাইমেট কানেক্টস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সৌহার্দ্য ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের সম্পাদক তানজিদ হাসান জিসান।
সুমাইয়া তাসনিম আশা ও মো. আসিফ-এর সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান নিয়াজ এবং আবিদা শারমিন নাজিয়া। আসিফুর রহমান নিয়াজ তাঁর বক্তব্যে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আবিদা শারমিন নাজিয়া জনসম্পৃক্ততা বিষয়ে আলোকপাত করেন।
শেষ বক্তা তানজিদ হাসান জিসান জলবায়ু সুবিচার ও নবায়নযোগ্য শক্তি গ্রহণে যুবসমাজের ভূমিকা, সামাজিক পরিবর্তনে তাদের অংশগ্রহণ এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে রোল মডেল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
প্রধান বক্তা মনে করেন, এ ধরনের কর্মশালা শিক্ষার্থীদের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য উদ্ভাবনী সমাধান অনুসন্ধানে অনুপ্রাণিত করবে।
আয়োজকদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসাইন তুহিন বলেন, “আমরা এই কর্মশালাটি আয়োজন করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত, যা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে। এই সেশনটি কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে নয়, অনুপ্রেরণার মাধ্যম হিসেবেও কাজ করেছে।”
আরেক আয়োজক মুনতাসির মাহমুদ পুনম বলেন, “আমাদের এমন আয়োজন মানুষকে ভাবতে শেখায় যে পরিচ্ছন্ন বায়ু এবং নবায়নযোগ্য শক্তি একটি সমতাপূর্ণ, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর হতে পারে।”
আয়োজক আজমান ইমতিয়াজ মুরাদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, একত্রিত হয়ে আমরা এমন একটি ভবিষ্যতের কল্পনা করতে পারি, যেখানে প্রতিটি শ্বাস হবে পরিচ্ছন্ন এবং প্রতিটি স্থান হবে সবুজ।”
আয়োজক কমিটি সকল আগ্রহীকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।
উল্লেখ্য, ক্লাইমেট কানেক্টস একটি যুব-নেতৃত্বাধীন জলবায়ুবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম, যা শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কাজ করে। সৌহার্দ্য ইয়ুথ ফাউন্ডেশন তরুণদের ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতা ও প্রবক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে, যেখানে পরিবেশগত স্থায়িত্বে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে দেশ ছাড়ার হুমকি প্রদানকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি
জুলাই গণহত্যায় সরাসরি সমর্থন ও আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে দেশ ছাড়ার হুমকি প্রদানকারী শিক্ষকদের জুলাই মাসে পদোন্নতি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) এর শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই অফিস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশে রিজেন্টবোর্ডের ৪০ তম সভায় শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। যার মধ্যে দুইজন বিতর্কিত শিক্ষক বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তাকে সহযোগী অধ্যাপক ও বিজিই বিভাগের প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন চলাকালে সরাসরি বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই মাসে তাদের পদোন্নতি দেওয়ায় জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কোটা বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা যখন একীভূত তখন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কঠোর দমন পীড়ন শুরু করে। সেখানে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নায্য অধিকারের পক্ষে থাকার কথা থাকলেও কিছু শিক্ষক স্বৈরাচারের দালালিতে ব্যস্ত ছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম ভূমিকা পালন করে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা, যিনি শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে দেশ ছাড়ার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের কটুক্তি করেন।
পদোন্নতি পাওয়া অপরজন হলেন বিজিই বিভাগের প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগ, যার বিরুদ্ধে শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট থাকা অবস্থায় দাড়ি রাখলে হল থেকে বের করে দেওয়া ও সাতক্ষীরা জামাতের এলাকা বলে শিক্ষার্থীকে মার্ক শূন্য দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় ধর্ম ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে কিন্তু সংস্কৃতি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে না সহ বিভিন্ন উক্তির মাধ্যমে ধর্ম অবমাননারও অভিযোগ তুলেছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) সহ-সভাপতি থাকা অবস্থায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীদের ধর্ষনের হুমকি দেওয়ায় সংবাদের শিরোনামও হতে হয়। এমনকি জুলাই গণহত্যা চলার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা দিয়ে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি বিরোধিতা করার পরেও দুইজন শিক্ষক কীভাবে পদোন্নতি পেতে পারে! এটা আমাদের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। স্বৈরাচারমুক্ত এই ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও আমরা তাদের ন্যূনতম অনুশোচনার লেশমাত্র দেখতে পাইনি। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির দুইটি গ্রুপ ছিল। এই দুই গ্রুপই ‘চেতনার বীজ’ বপন করে, ফ্যাসিবাদের বৈধতা দিয়ে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। এখনও সেই ধারাবাহিকতা চলমান। যে শিক্ষক সরাসরি ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে, ‘চেতনার ব্যবসা’ করতে পারে, তার পদোন্নতি এই পবিত্র জুলাই আন্দোলনকে অপমান করেছে। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি থেকে আজ সে সহযোগী অধ্যাপক! বাহ! নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে যার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সে কখনোই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার ন্যূনতম যোগ্যতাও রাখে না।"
তিনি আরও বলেন,"৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে যখন কোটা আন্দোলনে একের পর এক লাশ পড়ছিল, তখন এই শিক্ষকরাই ছাত্রদের কটাক্ষ করে পোস্ট করেছে, হুমকি দিয়েছে। আমরা জুলাই আন্দোলনে যারা সরাসরি বিরোধিতা করেছে, তাদের তালিকা কয়েক মাস আগেই জমা দিয়েছি। তারপরও কীভাবে তারা পদোন্নতি পায়? আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই অবিলম্বে এই পদোন্নতি বাতিল করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে, এই ক্যাম্পাসে আবারো ‘জুলাই’ নেমে আসবে।"
এ বিষয়ে গোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ বলেন,"২৪ পরবর্তী সময়ে এমনটা দুঃখজনক। এটা ২৪ এর শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী ছাড়া আর কিছুই নয়। উনারও হয়তো ভুলে গেছেন, উনারা ২৪ এর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে দায়িত্বে এসেছেন।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ সোহেল হাসান বলেন, "আমার অজান্তেই এটা হয়েছে কারন হায়ার বোর্ডে আমাকে রাখা হয়নি যার ফলে ভাইভার সময় আমি ছিলাম না। আর দুই একজন চালাকি করে তাদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্যের সাথে কথা হয়েছে আমরা ব্যবস্থা নিব, তবে সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। "
তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন," বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে অভিযোগ হচ্ছে, তাকে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে আরো একবছর আগে, যেহেতু গত একবছর রিজেন্টবোর্ড হয়নি তাই বর্তমানের রিজেন্টবোর্ডে আগের রিকমেন্ডেশন কার্যকর করা হয়েছে। আর তার বিরুদ্ধে কোনো বডির মাধ্যমে আমরা লিখিত পাইনি যে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিও মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আর তারা এখানে প্রতিদিন আসে, ক্লাস নেয়, ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করতেছে সেক্ষেত্রে তারাতো কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমরাতো বাধা দিতে পারিনা, তাহলে আমাদের নামে কেস হয়ে যাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা ঢালাও যে লিখিত অভিযোগ দিছে তাতেতো আর প্রমাণ হয় না সে অপরাধী। প্রমানিত যখন হবে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য