ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

আন্দোলনকারীদের  রাজাকার বলে দেশ ছাড়ার হুমকি প্রদানকারী শিক্ষকদের  পদোন্নতি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৫ জুলাই, ২০২৫ ২০:১২
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
আন্দোলনকারীদের  রাজাকার বলে দেশ ছাড়ার হুমকি প্রদানকারী শিক্ষকদের  পদোন্নতি

জুলাই গণহত্যায় সরাসরি সমর্থন ও আন্দোলনকারীদের  রাজাকার বলে দেশ ছাড়ার হুমকি প্রদানকারী শিক্ষকদের জুলাই মাসে পদোন্নতি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) এর শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই অফিস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে  সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশে রিজেন্টবোর্ডের ৪০ তম সভায় শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। যার মধ্যে দুইজন বিতর্কিত শিক্ষক বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক  জাকিয়া সুলতানা মুক্তাকে সহযোগী অধ্যাপক ও বিজিই বিভাগের প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।  তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন চলাকালে সরাসরি বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই মাসে তাদের পদোন্নতি দেওয়ায় জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কোটা বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা যখন একীভূত তখন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কঠোর দমন পীড়ন শুরু করে। সেখানে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নায্য অধিকারের পক্ষে থাকার কথা থাকলেও কিছু শিক্ষক স্বৈরাচারের দালালিতে ব্যস্ত ছিল। তাদের  মধ্যে অন্যতম ভূমিকা পালন করে বাংলা বিভাগের  সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা, যিনি শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে দেশ ছাড়ার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের কটুক্তি করেন।  

পদোন্নতি পাওয়া  অপরজন হলেন বিজিই বিভাগের প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগ, যার বিরুদ্ধে শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট থাকা অবস্থায় দাড়ি রাখলে হল থেকে বের করে দেওয়া ও সাতক্ষীরা জামাতের এলাকা বলে শিক্ষার্থীকে মার্ক শূন্য দেওয়াসহ বিভিন্ন  অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় ধর্ম ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে কিন্তু সংস্কৃতি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে না সহ বিভিন্ন উক্তির মাধ্যমে ধর্ম অবমাননারও অভিযোগ তুলেছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল ইসলামি  বিশ্ববিদ্যালয়ের  ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন)  সহ-সভাপতি  থাকা অবস্থায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীদের ধর্ষনের হুমকি দেওয়ায় সংবাদের শিরোনামও হতে হয়। এমনকি জুলাই গণহত্যা চলার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা দিয়ে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।


এ বিষয়ে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি বিরোধিতা করার পরেও দুইজন শিক্ষক কীভাবে পদোন্নতি পেতে পারে! এটা আমাদের  সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। স্বৈরাচারমুক্ত এই ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও আমরা তাদের ন্যূনতম অনুশোচনার লেশমাত্র দেখতে পাইনি। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির দুইটি গ্রুপ ছিল। এই দুই গ্রুপই ‘চেতনার বীজ’ বপন করে, ফ্যাসিবাদের বৈধতা দিয়ে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। এখনও সেই ধারাবাহিকতা চলমান। যে শিক্ষক সরাসরি ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে, ‘চেতনার ব্যবসা’ করতে পারে, তার পদোন্নতি এই পবিত্র জুলাই আন্দোলনকে অপমান করেছে। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি থেকে আজ সে সহযোগী অধ্যাপক! বাহ! নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে যার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সে কখনোই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার ন্যূনতম যোগ্যতাও রাখে না।"

তিনি আরও বলেন,"৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে যখন কোটা আন্দোলনে একের পর এক লাশ পড়ছিল, তখন এই শিক্ষকরাই ছাত্রদের কটাক্ষ করে পোস্ট করেছে, হুমকি দিয়েছে। আমরা জুলাই আন্দোলনে যারা সরাসরি বিরোধিতা করেছে, তাদের তালিকা কয়েক মাস আগেই জমা দিয়েছি। তারপরও কীভাবে তারা পদোন্নতি পায়? আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই অবিলম্বে এই পদোন্নতি বাতিল করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে, এই ক্যাম্পাসে আবারো ‘জুলাই’ নেমে আসবে।"

 এ বিষয়ে গোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ  বলেন,"২৪ পরবর্তী সময়ে এমনটা দুঃখজনক।  এটা ২৪ এর শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী ছাড়া আর কিছুই নয়। উনারও হয়তো ভুলে গেছেন, উনারা ২৪ এর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে দায়িত্বে এসেছেন।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ সোহেল হাসান বলেন, "আমার অজান্তেই এটা হয়েছে কারন হায়ার বোর্ডে আমাকে রাখা হয়নি যার ফলে ভাইভার সময় আমি ছিলাম না। আর দুই একজন চালাকি করে তাদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্যের সাথে কথা হয়েছে আমরা ব্যবস্থা নিব, তবে সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। "

তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন," বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে অভিযোগ হচ্ছে, তাকে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে আরো একবছর আগে, যেহেতু গত একবছর রিজেন্টবোর্ড হয়নি তাই বর্তমানের রিজেন্টবোর্ডে আগের রিকমেন্ডেশন কার্যকর করা হয়েছে। আর তার বিরুদ্ধে কোনো বডির মাধ্যমে আমরা  লিখিত পাইনি যে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিও মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আর তারা এখানে প্রতিদিন আসে, ক্লাস নেয়, ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করতেছে সেক্ষেত্রে তারাতো কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমরাতো বাধা দিতে পারিনা, তাহলে আমাদের নামে  কেস হয়ে যাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা ঢালাও যে লিখিত অভিযোগ দিছে তাতেতো আর প্রমাণ হয় না সে অপরাধী। প্রমানিত যখন হবে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত ইবি শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে কমিটি

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৫ জুলাই, ২০২৫ ২০:৬
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত ইবি শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে কমিটি

    যৌন হয়রানি, অশ্লীল আচরণসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া উক্ত ঘটনার তদন্তে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো: মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক দুই অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, অনাকাঙ্খিত ও অশ্লীল আচরণ, ক্লাস রুমে পোষাক ও শারীরিক গঠন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও কলে নানাবিধ আপত্তিকর মন্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানিয়ে আবেদন করেছে। যার কারণে এ সংক্রান্ত সংবাদ বেশ কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এজন্য তাকে উক্ত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

    তবে বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে বিধি মোতাবেক জীবন ধারণ ভাতা পাবেন তিনি।

    উক্ত ঘটনা তদন্তের জন্য আরেক অফিস আদেশে, আল ফিকহ্ অ্যান্ড ল' বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ফকরুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খোন্দকার আরিফা আক্তার, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাকসুদা আক্তার।

    গঠিত কমিটিতে উক্ত ঘটনার তদন্ত পূর্বক ২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বরাবর রিপোর্ট পেশ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ইবিতে চা বিক্রেতার কাছে বড় ভাইয়ের জন্য ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৯:১৬
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ইবিতে চা বিক্রেতার কাছে বড় ভাইয়ের জন্য ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি
      ইবিতে চা বিক্রেতার কাছে বড় ভাইয়ের জন্য ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি

      ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলামঞ্চ সংলগ্ন দোকানদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদল নেতা উল্লাস মাহমুদ ও সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে। ছাত্রদল নেতা উল্লাস ও সাব্বির দুজনই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের অনুসারী বলে জানা গেছে। 

      আব্দুল আহাদ নামে এক দোকানদার শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে প্রক্টর বরাবর ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। 

      চাঁদা দাবি করা দুই নেতা ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উল্লাস মাহমুদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন। আব্দুল আদাদের তথ্যমতে, শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ছাত্রদল নেতা উল্লাস ও সাব্বির তার থেকে চাঁদা দাবি করেন। 

      দোকানদার আব্দুল আহাদ বলেন, ঈদের আগে দেখা করে আমাকে দোকান ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু আমি স্পষ্ট জানাই যে দোকান ছাড়ব না। এরপর আজ দুপুরে সাব্বির ও উল্লাস দোকানে এসে বলেন, দোকান চালাতে হলে তাদের ‘বড় ভাই’ এলে কিছু টাকা দিতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক না বললেও জানান, ভবিষ্যতে সমস্যা হলে তারা দেখবেন।

      চাঁদার বিষয় উল্লাস মাহমুদ বলেন, 'সে যদি সরাসরি প্রমাণ দিতে পারে যে আমি তার দোকানে গিয়েছি তাহলে সে যা বলবে আমি মাথা পেতে নিবো। তবে আমি এ বিষয়ে কোন কিছু জানিও না আর আমি যাইনি কোথাও। কেউ সম্মান নষ্ট করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।'

      চাঁদার বিষয়ে সাব্বির হোসেন বলেন, 'এটা সম্পূর্ণ একটা মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে। আমি আজ সকালে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম তারপর আমি আমাদের সভাপতির সাথে দেখা করে ঝিনাইদহে চলে আছি দুপুরে। বাংলামঞ্চের পাশে যে ঘটনার কথাটা আপনি বলছেন সেদিকে আমি যাইনি। এটা হতে পারে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের ষড়যন্ত্র। কোন পক্ষের ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে বলেন, এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।'

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে কর্মচারীকে পেটালেন কুবি ছাত্রদল নেতা

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৭:১
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে কর্মচারীকে পেটালেন কুবি ছাত্রদল নেতা
        কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান

        কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চাকরিতে যোগদানের দিনেই এক কর্মচারীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। গত ৩ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ঢুকেই পেটানো শুরু করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপিপন্থি এক শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে অর্থ দিয়ে চাকরি না পাওয়ায় তাদের ইন্ধনে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। 

        ভুক্তভোগী কর্মচারী সম্প্রতি প্রশাসনিক ভাবে রেজিস্ট্রার দপ্তরে কার্য সহকারী পদে নিয়োগ পান এবং ৩ জুলাই ছিল তার যোগদান দিবস। 

        অভিযুক্ত মেহেদী হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী পদ হিসাব রক্ষক পদে আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভর পক্ষের রাজনীতি করেন।

        প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন সকালে অভিযুক্ত ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মেহেদী হাসান সকালে ভুক্তভোগীকে কল দিয়ে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে দেন এবং দেখা করার কথা বলেন। ভুক্তভোগী দেখা করবেন বলে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ব্যস্ততার কারণে আর দেখা করতে পারেন নি। ঐ দিন বিকেলে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেন "তুই আজাদ?"। ভুক্তভোগী হ্যাঁ বলার সাথে সাথে প্রকাশ্যে পেটানো শুরু করেন।  এসময় সেখানে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। জানা যায়, ভুক্তভোগী তাকে চিনতেন না। তাকে কেন মারা হয়েছে তাও তা তিনি জানেন না। 

        সেসময় ভুক্তভোগীকে মেরে বের হয়ে যান অভিযুক্ত হাসান। অফিস শেষে বাড়িতে ফেরার সময় আবারো ক্যাম্পাস গেটের বাহিরে তাকে আটকে রাখেন অভিযুক্ত হাসান সোহাগ ও তার সাথের লোকজন। 

        তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, বিএনপিপন্থী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভয়ে তিনি মুখ খুলতে রাজি হননি।

        অভিযোগ ও মারধরের বিষয় স্বীকার করে করেন অভিযুক্ত মেহেদী হাসান। ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে কর্মকর্তাকে মারার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি তাকে কল দিয়েছিলাম যে সে আমার সাথে দেখা করে। সে প্রথমে কল ধরে আমাকে মিথ্যা বলে কিন্তু পরবর্তীতে কল দিলে আর পাওয়া যায়নি। সে মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিলো। তাই আমার রাগ উঠে যায়। পরে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তারে খোঁজে পাই। সেখানে রাগের মাথায় তাকে থাপ্পড় মারি।'

        গুঞ্জন রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি পন্থী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য করে আসছেন ছাত্রদলের এই নেতা। উক্ত পদ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে হয়েছে অর্থ লেনদেন। কিন্তু ঐ প্রার্থী চাকরি না পাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটান। ছাত্রদলের কতিপয় নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রদলের পাওয়ারে নিয়মিত প্রশাসনিক ভবনে বিভিন্ন জনের চাকরির জন্য তদবির করছেন তিনি। এছাড়াও ছাত্রদল ও এলাকার ক্ষমতা দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

        স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনের কর্মকর্তার কথা শুনে মামলা করে এই নিয়োগ আটকে দেওয়া চেষ্টা চেয়েছিলেন। তখন আমরা বলেছি এই সরকার তো বেশি দিন থাকবে না। পরে সে আর মামলা করেনি।

        কর্মচারীকে মারার বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর বলেন, ঘটনাটি আমি জানতাম না। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই আমরা সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নিবো। এটি আমাদের আদর্শের সাথে যায় না। যথাযথ প্রমাণ পেলে প্রয়োজনে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিবো।

        এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হোক কিংবা কর্মকর্তা, কারওই গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার নেই। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মূল্যবোধের পরিপন্থী। এমন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

        ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভর অনুসারীর এমন কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এই ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। 
         
        কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দীন বলেন, "এমন ঘটনা অপ্রত্যাশীত। তবে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।  বিষয়টি আমি প্রেসিডেন্টকে জানাবো।"

        এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ঐ ভুক্তভোগী আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জানাতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ  করবো

        উল্লেখ্য, এছাড়াও সম্প্রতি ছাত্রদল কর্তৃক সাংবাদিকদের উপর হামলা হলেও তার বিচার এখনো হয়নি।

        মন্তব্য

        হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতিতে চবিতে বোর্ড বসার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: বোর্ড বাতিল

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:২২
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতিতে চবিতে বোর্ড বসার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: বোর্ড বাতিল

        চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষক ও ব্যারিস্টার আলিফ হত্যা মামলার আসামি ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতি বোর্ড বসানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

        বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসার কথা রয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

        এরই প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

        ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, আলিফ হত্যা মামলার আসামি ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীকে আজ পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। যে প্রশাসন আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেই প্রশাসন কীভাবে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের সঙ্গে বেঈমানি করে একজন হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতির বোর্ড বসায় তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

        তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন অনুমতি ছাড়া কুশল বরণ কীভাবে উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করেন, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এতে স্পষ্ট যে বর্তমান প্রশাসন জুলাই আন্দোলনের চেতনায় বিশ্বাসী নয়।”


         ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব বলেন, “আলিফ হত্যা মামলার ২০ নম্বর আসামিকে পদোন্নতি দিতে বোর্ড বসানো হয়েছে, আমরা এর প্রতিবাদ জানাতেই এখানে এসেছি।”
        তিনি আরও বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, যারা ফ্যাসিবাদের দোসর এবং ভারতীয় আগ্রাসনকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের আমরা কোনোভাবেই এই ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে তাদের বহিষ্কার করতে হবে।”

        এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামিম উদ্দীন খান বলেন, “আজ দুপুর ৩টায় সংস্কৃত বিভাগের একটি পদোন্নতির বোর্ড বসার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জানতে পারি, সেই বোর্ডের একজন শিক্ষক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বিষয়টি সামনে আসার পরপরই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে।পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পদোন্নতির বোর্ডটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সময়ে অপর একজন শিক্ষকের বোর্ড যথারীতি সম্পন্ন হয়েছে।”

        শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “তাদের অভিযোগ বৈছাআ’র বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা ছিলেন। তারা চেয়েছে, আগামী ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

        ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী বলেন, আমি এখনো নিশ্চিত নই যে, আমার পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত বোর্ড ভাইভা বাতিল করা হয়েছে কি না। শিক্ষার্থীরা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি সম্ভবত একমাত্র শিক্ষক, যিনি কোনো আমলে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেননি।

        বর্তমানে যারা আন্দোলন করছেন, আমার মনে হয় তাদের কেউ একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উসকে দিচ্ছে। যে ব্যক্তিকে বাদী বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, আমি তাকে চিনিই না। আমার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগই মিথ্যা ও মনগড়া।”

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত