ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত ইবি শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে কমিটি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৫ জুলাই, ২০২৫ ২০:৬
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত ইবি শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে কমিটি

যৌন হয়রানি, অশ্লীল আচরণসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া উক্ত ঘটনার তদন্তে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো: মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক দুই অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, অনাকাঙ্খিত ও অশ্লীল আচরণ, ক্লাস রুমে পোষাক ও শারীরিক গঠন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও কলে নানাবিধ আপত্তিকর মন্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানিয়ে আবেদন করেছে। যার কারণে এ সংক্রান্ত সংবাদ বেশ কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এজন্য তাকে উক্ত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

তবে বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে বিধি মোতাবেক জীবন ধারণ ভাতা পাবেন তিনি।

উক্ত ঘটনা তদন্তের জন্য আরেক অফিস আদেশে, আল ফিকহ্ অ্যান্ড ল' বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ফকরুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খোন্দকার আরিফা আক্তার, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাকসুদা আক্তার।

গঠিত কমিটিতে উক্ত ঘটনার তদন্ত পূর্বক ২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বরাবর রিপোর্ট পেশ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ইবিতে চা বিক্রেতার কাছে বড় ভাইয়ের জন্য ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৯:১৬
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ইবিতে চা বিক্রেতার কাছে বড় ভাইয়ের জন্য ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি
    ইবিতে চা বিক্রেতার কাছে বড় ভাইয়ের জন্য ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলামঞ্চ সংলগ্ন দোকানদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদল নেতা উল্লাস মাহমুদ ও সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে। ছাত্রদল নেতা উল্লাস ও সাব্বির দুজনই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের অনুসারী বলে জানা গেছে। 

    আব্দুল আহাদ নামে এক দোকানদার শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে প্রক্টর বরাবর ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। 

    চাঁদা দাবি করা দুই নেতা ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উল্লাস মাহমুদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন। আব্দুল আদাদের তথ্যমতে, শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ছাত্রদল নেতা উল্লাস ও সাব্বির তার থেকে চাঁদা দাবি করেন। 

    দোকানদার আব্দুল আহাদ বলেন, ঈদের আগে দেখা করে আমাকে দোকান ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু আমি স্পষ্ট জানাই যে দোকান ছাড়ব না। এরপর আজ দুপুরে সাব্বির ও উল্লাস দোকানে এসে বলেন, দোকান চালাতে হলে তাদের ‘বড় ভাই’ এলে কিছু টাকা দিতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক না বললেও জানান, ভবিষ্যতে সমস্যা হলে তারা দেখবেন।

    চাঁদার বিষয় উল্লাস মাহমুদ বলেন, 'সে যদি সরাসরি প্রমাণ দিতে পারে যে আমি তার দোকানে গিয়েছি তাহলে সে যা বলবে আমি মাথা পেতে নিবো। তবে আমি এ বিষয়ে কোন কিছু জানিও না আর আমি যাইনি কোথাও। কেউ সম্মান নষ্ট করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।'

    চাঁদার বিষয়ে সাব্বির হোসেন বলেন, 'এটা সম্পূর্ণ একটা মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে। আমি আজ সকালে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম তারপর আমি আমাদের সভাপতির সাথে দেখা করে ঝিনাইদহে চলে আছি দুপুরে। বাংলামঞ্চের পাশে যে ঘটনার কথাটা আপনি বলছেন সেদিকে আমি যাইনি। এটা হতে পারে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের ষড়যন্ত্র। কোন পক্ষের ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে বলেন, এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।'

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে কর্মচারীকে পেটালেন কুবি ছাত্রদল নেতা

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৭:১
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে কর্মচারীকে পেটালেন কুবি ছাত্রদল নেতা
      কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান

      কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চাকরিতে যোগদানের দিনেই এক কর্মচারীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। গত ৩ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ঢুকেই পেটানো শুরু করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপিপন্থি এক শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে অর্থ দিয়ে চাকরি না পাওয়ায় তাদের ইন্ধনে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। 

      ভুক্তভোগী কর্মচারী সম্প্রতি প্রশাসনিক ভাবে রেজিস্ট্রার দপ্তরে কার্য সহকারী পদে নিয়োগ পান এবং ৩ জুলাই ছিল তার যোগদান দিবস। 

      অভিযুক্ত মেহেদী হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী পদ হিসাব রক্ষক পদে আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভর পক্ষের রাজনীতি করেন।

      প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন সকালে অভিযুক্ত ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মেহেদী হাসান সকালে ভুক্তভোগীকে কল দিয়ে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে দেন এবং দেখা করার কথা বলেন। ভুক্তভোগী দেখা করবেন বলে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ব্যস্ততার কারণে আর দেখা করতে পারেন নি। ঐ দিন বিকেলে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেন "তুই আজাদ?"। ভুক্তভোগী হ্যাঁ বলার সাথে সাথে প্রকাশ্যে পেটানো শুরু করেন।  এসময় সেখানে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। জানা যায়, ভুক্তভোগী তাকে চিনতেন না। তাকে কেন মারা হয়েছে তাও তা তিনি জানেন না। 

      সেসময় ভুক্তভোগীকে মেরে বের হয়ে যান অভিযুক্ত হাসান। অফিস শেষে বাড়িতে ফেরার সময় আবারো ক্যাম্পাস গেটের বাহিরে তাকে আটকে রাখেন অভিযুক্ত হাসান সোহাগ ও তার সাথের লোকজন। 

      তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, বিএনপিপন্থী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভয়ে তিনি মুখ খুলতে রাজি হননি।

      অভিযোগ ও মারধরের বিষয় স্বীকার করে করেন অভিযুক্ত মেহেদী হাসান। ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে কর্মকর্তাকে মারার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি তাকে কল দিয়েছিলাম যে সে আমার সাথে দেখা করে। সে প্রথমে কল ধরে আমাকে মিথ্যা বলে কিন্তু পরবর্তীতে কল দিলে আর পাওয়া যায়নি। সে মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিলো। তাই আমার রাগ উঠে যায়। পরে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তারে খোঁজে পাই। সেখানে রাগের মাথায় তাকে থাপ্পড় মারি।'

      গুঞ্জন রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি পন্থী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য করে আসছেন ছাত্রদলের এই নেতা। উক্ত পদ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে হয়েছে অর্থ লেনদেন। কিন্তু ঐ প্রার্থী চাকরি না পাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটান। ছাত্রদলের কতিপয় নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রদলের পাওয়ারে নিয়মিত প্রশাসনিক ভবনে বিভিন্ন জনের চাকরির জন্য তদবির করছেন তিনি। এছাড়াও ছাত্রদল ও এলাকার ক্ষমতা দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

      স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনের কর্মকর্তার কথা শুনে মামলা করে এই নিয়োগ আটকে দেওয়া চেষ্টা চেয়েছিলেন। তখন আমরা বলেছি এই সরকার তো বেশি দিন থাকবে না। পরে সে আর মামলা করেনি।

      কর্মচারীকে মারার বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর বলেন, ঘটনাটি আমি জানতাম না। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই আমরা সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নিবো। এটি আমাদের আদর্শের সাথে যায় না। যথাযথ প্রমাণ পেলে প্রয়োজনে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিবো।

      এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হোক কিংবা কর্মকর্তা, কারওই গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার নেই। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মূল্যবোধের পরিপন্থী। এমন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

      ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভর অনুসারীর এমন কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এই ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। 
       
      কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দীন বলেন, "এমন ঘটনা অপ্রত্যাশীত। তবে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।  বিষয়টি আমি প্রেসিডেন্টকে জানাবো।"

      এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ঐ ভুক্তভোগী আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জানাতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ  করবো

      উল্লেখ্য, এছাড়াও সম্প্রতি ছাত্রদল কর্তৃক সাংবাদিকদের উপর হামলা হলেও তার বিচার এখনো হয়নি।

      মন্তব্য

      হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতিতে চবিতে বোর্ড বসার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: বোর্ড বাতিল

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:২২
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতিতে চবিতে বোর্ড বসার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: বোর্ড বাতিল

      চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষক ও ব্যারিস্টার আলিফ হত্যা মামলার আসামি ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতি বোর্ড বসানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

      বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসার কথা রয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

      এরই প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

      ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, আলিফ হত্যা মামলার আসামি ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীকে আজ পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। যে প্রশাসন আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেই প্রশাসন কীভাবে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের সঙ্গে বেঈমানি করে একজন হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতির বোর্ড বসায় তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

      তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন অনুমতি ছাড়া কুশল বরণ কীভাবে উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করেন, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এতে স্পষ্ট যে বর্তমান প্রশাসন জুলাই আন্দোলনের চেতনায় বিশ্বাসী নয়।”


       ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব বলেন, “আলিফ হত্যা মামলার ২০ নম্বর আসামিকে পদোন্নতি দিতে বোর্ড বসানো হয়েছে, আমরা এর প্রতিবাদ জানাতেই এখানে এসেছি।”
      তিনি আরও বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, যারা ফ্যাসিবাদের দোসর এবং ভারতীয় আগ্রাসনকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের আমরা কোনোভাবেই এই ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে তাদের বহিষ্কার করতে হবে।”

      এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামিম উদ্দীন খান বলেন, “আজ দুপুর ৩টায় সংস্কৃত বিভাগের একটি পদোন্নতির বোর্ড বসার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জানতে পারি, সেই বোর্ডের একজন শিক্ষক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বিষয়টি সামনে আসার পরপরই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে।পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পদোন্নতির বোর্ডটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সময়ে অপর একজন শিক্ষকের বোর্ড যথারীতি সম্পন্ন হয়েছে।”

      শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “তাদের অভিযোগ বৈছাআ’র বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা ছিলেন। তারা চেয়েছে, আগামী ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

      ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী বলেন, আমি এখনো নিশ্চিত নই যে, আমার পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত বোর্ড ভাইভা বাতিল করা হয়েছে কি না। শিক্ষার্থীরা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি সম্ভবত একমাত্র শিক্ষক, যিনি কোনো আমলে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেননি।

      বর্তমানে যারা আন্দোলন করছেন, আমার মনে হয় তাদের কেউ একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উসকে দিচ্ছে। যে ব্যক্তিকে বাদী বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, আমি তাকে চিনিই না। আমার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগই মিথ্যা ও মনগড়া।”

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানব ভাস্কর্য ও পথনাট্য

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:১৪
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানব ভাস্কর্য ও পথনাট্য

        জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরের পরিবেশ সংকট নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হলো “নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানব ভাস্কর্য ও পথনাট্য” শীর্ষক কর্মসূচি।

        ৪ জুলাই( শুক্রবার)  লাল সবুজ সোসাইটি এবং সৌহার্দ্য ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে ও দ্যা আর্থ এর ইয়ুথ ফর কেয়ার প্ল্যাটফর্ম এর সহযোগিতায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল অরুণ থিয়েটার দলের পরিবেশনায় একটি মানব ভাস্কর্য এবং পথনাট্য, যা নগরের বায়ুদূষণ, জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর প্রভাব ও নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে। নাটকের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে, আমাদের সবাইকে মিলে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করতে হবে এবং নিজেদের মান উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই।
        সৌহার্দ্য ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে তানজিদ জিসান বলেন, “বর্তমানে শহরের বায়ুদূষণ যে মাত্রায় পৌঁছেছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরই এই দূষণের কার্যকর সমাধান। আমরা চাই মানুষ বুঝুক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর জীবনের জন্য আমাদের এখনই নবায়নযোগ্য শক্তির পথ বেছে নিতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তি বর্তমান সময়ের একটি অত্যাবশ্যকতা।”

        লাল সবুজ সোসাইটি-এর প্রতিনিধি আজিজুন তমা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইত্যাদি শব্দ শুনলে সাধারণ মানুষ স্বভাবতই ভেবে নেয় এটি একটি কঠিন বিষয়, এসব বিষয় নিয়ে যারা কাজ করে শুধু তারা এগুলো বুঝলেই চলবে। এইজন্যই আমাদের আজকের এই আয়োজন, আমরা পথ নাটকের মাধ্যমে এই বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই, এ পৃথিবী রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। এই ইট পাথরের শহরের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ”

        দ্যা আর্থ এর পক্ষ থেকে মোঃ মোসলে উদ্দিন সূচক বলেন, “মানব ভাস্কর্য হয়তো এখনও অনেকের কাছে কম জনপ্রিয়, তবে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাধ্যম।  আমরা চেষ্টা করেছি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যেন নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে পারি। এই প্রতীকী উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দ্রুত ন্যায্য রুপান্তরের জন্য সবাইকে আহবান জানাচ্ছি।”

        এই কর্মসূচি তরুণ নেতৃত্বে পরিচালিত একটি সচেতনতামূলক পদক্ষেপ, যা নবায়নযোগ্য শক্তি, স্বাস্থ্যকর নগর, ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য নাগরিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে।

        পরিবেশের জন্য, ভবিষ্যতের জন্য, চলুন একসাথে দাঁড়াই।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত