ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতিতে চবিতে বোর্ড বসার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: বোর্ড বাতিল

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:২২
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতিতে চবিতে বোর্ড বসার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: বোর্ড বাতিল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষক ও ব্যারিস্টার আলিফ হত্যা মামলার আসামি ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতি বোর্ড বসানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসার কথা রয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এরই প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, আলিফ হত্যা মামলার আসামি ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীকে আজ পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। যে প্রশাসন আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেই প্রশাসন কীভাবে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের সঙ্গে বেঈমানি করে একজন হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতির বোর্ড বসায় তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন অনুমতি ছাড়া কুশল বরণ কীভাবে উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করেন, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এতে স্পষ্ট যে বর্তমান প্রশাসন জুলাই আন্দোলনের চেতনায় বিশ্বাসী নয়।”


 ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব বলেন, “আলিফ হত্যা মামলার ২০ নম্বর আসামিকে পদোন্নতি দিতে বোর্ড বসানো হয়েছে, আমরা এর প্রতিবাদ জানাতেই এখানে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, যারা ফ্যাসিবাদের দোসর এবং ভারতীয় আগ্রাসনকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের আমরা কোনোভাবেই এই ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে তাদের বহিষ্কার করতে হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামিম উদ্দীন খান বলেন, “আজ দুপুর ৩টায় সংস্কৃত বিভাগের একটি পদোন্নতির বোর্ড বসার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জানতে পারি, সেই বোর্ডের একজন শিক্ষক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বিষয়টি সামনে আসার পরপরই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে।পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পদোন্নতির বোর্ডটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সময়ে অপর একজন শিক্ষকের বোর্ড যথারীতি সম্পন্ন হয়েছে।”

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “তাদের অভিযোগ বৈছাআ’র বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা ছিলেন। তারা চেয়েছে, আগামী ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী বলেন, আমি এখনো নিশ্চিত নই যে, আমার পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত বোর্ড ভাইভা বাতিল করা হয়েছে কি না। শিক্ষার্থীরা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি সম্ভবত একমাত্র শিক্ষক, যিনি কোনো আমলে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেননি।

বর্তমানে যারা আন্দোলন করছেন, আমার মনে হয় তাদের কেউ একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উসকে দিচ্ছে। যে ব্যক্তিকে বাদী বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, আমি তাকে চিনিই না। আমার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগই মিথ্যা ও মনগড়া।”

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানব ভাস্কর্য ও পথনাট্য

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:১৪
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানব ভাস্কর্য ও পথনাট্য

    জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরের পরিবেশ সংকট নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হলো “নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানব ভাস্কর্য ও পথনাট্য” শীর্ষক কর্মসূচি।

    ৪ জুলাই( শুক্রবার)  লাল সবুজ সোসাইটি এবং সৌহার্দ্য ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে ও দ্যা আর্থ এর ইয়ুথ ফর কেয়ার প্ল্যাটফর্ম এর সহযোগিতায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল অরুণ থিয়েটার দলের পরিবেশনায় একটি মানব ভাস্কর্য এবং পথনাট্য, যা নগরের বায়ুদূষণ, জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর প্রভাব ও নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে। নাটকের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে, আমাদের সবাইকে মিলে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করতে হবে এবং নিজেদের মান উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই।
    সৌহার্দ্য ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে তানজিদ জিসান বলেন, “বর্তমানে শহরের বায়ুদূষণ যে মাত্রায় পৌঁছেছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরই এই দূষণের কার্যকর সমাধান। আমরা চাই মানুষ বুঝুক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর জীবনের জন্য আমাদের এখনই নবায়নযোগ্য শক্তির পথ বেছে নিতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তি বর্তমান সময়ের একটি অত্যাবশ্যকতা।”

    লাল সবুজ সোসাইটি-এর প্রতিনিধি আজিজুন তমা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইত্যাদি শব্দ শুনলে সাধারণ মানুষ স্বভাবতই ভেবে নেয় এটি একটি কঠিন বিষয়, এসব বিষয় নিয়ে যারা কাজ করে শুধু তারা এগুলো বুঝলেই চলবে। এইজন্যই আমাদের আজকের এই আয়োজন, আমরা পথ নাটকের মাধ্যমে এই বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই, এ পৃথিবী রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। এই ইট পাথরের শহরের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ”

    দ্যা আর্থ এর পক্ষ থেকে মোঃ মোসলে উদ্দিন সূচক বলেন, “মানব ভাস্কর্য হয়তো এখনও অনেকের কাছে কম জনপ্রিয়, তবে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাধ্যম।  আমরা চেষ্টা করেছি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যেন নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে পারি। এই প্রতীকী উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দ্রুত ন্যায্য রুপান্তরের জন্য সবাইকে আহবান জানাচ্ছি।”

    এই কর্মসূচি তরুণ নেতৃত্বে পরিচালিত একটি সচেতনতামূলক পদক্ষেপ, যা নবায়নযোগ্য শক্তি, স্বাস্থ্যকর নগর, ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য নাগরিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে।

    পরিবেশের জন্য, ভবিষ্যতের জন্য, চলুন একসাথে দাঁড়াই।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ৩২ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে পাবিপ্রবিতে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু।

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:১২
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৩২ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে পাবিপ্রবিতে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু।

      পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। ‘পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটি’র উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে অংশ নিচ্ছে দেশের ৩২টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়।

      শুক্রবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিযোগীতা  চলবে শনিবার পর্যন্ত।

      জাতীয় এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান এবং ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক।

      উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়,বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়,ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী কলেজ,রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,রুয়েট (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়),কুয়েট (খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়),চুয়েট (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়),ডুয়েট (ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়),বুটেক্স (বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়),পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ,নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়,ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি,স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি,গ্রীন ইউনিভার্সিটি,বিইউবি (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল) এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠান পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

      প্রতিযোগিতার শুরুতে পাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি হৃদয় আলম উল্লাস বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ের একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের স্বপ্ন দেখছিলাম। নানা প্রতিকূলতায় সেটি সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এবার ডিবেটিং সোসাইটির তরুণ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের সম্মিলিত চেষ্টায় সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পেরেছে।”

      প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল  বক্তব্যের শুরুতেই  শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জুলাই বিপ্লবের শহীদদের। এরপর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “পাবনার মতো একটি শহরে জাতীয় পরিসরে এতো বড় আয়োজন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত এমন আয়োজন বড় শহরগুলোতে হয়, যেখানে পৃষ্ঠপোষক ও সহায়তা পাওয়া সহজ। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে, সাহস, পরিকল্পনা ও নিষ্ঠা থাকলে আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন ছোট শহরেও সম্ভব।”

      বিতার্কিকদের উদ্দীপনা ও মেধার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “একজন দক্ষ বিতার্কিক শুধু মঞ্চেই নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কথাই ধরা যাক, তিনি ছাত্রজীবনে একজন চৌকস বিতার্কিক ছিলেন।”

      তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরিতে ভাষা দক্ষতা ও যুক্তিবোধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিতর্কচর্চা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে।”

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        রাবিতে নতুন অর্থবছরে ৫৫১ কোটি টাকার বাজেট

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:৯
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        রাবিতে নতুন অর্থবছরে ৫৫১ কোটি টাকার বাজেট

        রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের জন্য ৫৫১ কোটি ১৪ লক্ষ ৫০ টাকার বাজেট পাস হয়েছে। এতে গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা—যা বাজেটের ২.৮ শতাংশ। অন্যদিকে বেতন-ভাতা ও পেনশনে সর্বোচ্চ ৪২২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—যা বাজেটের ৭৬.৫ শতাংশ।

        রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ইতোমধ্যেই ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এ বাজেট সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে।

        ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের মূল বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা; মূলধন খাতে ১৬ কোটি ৬ লাখ, পণ্য ও সেবা (সাধারণ) খাতে ৭৬ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার, পণ্য ও সেবা মেরামত ও সংরক্ষণ ১৬ কোটি ৫০ লাখ, বেতন ও ভাতাদি খাতে ৩০৪ কোটি ৯৭ লাখ এবং পেনশন বাবদ ১১৮ কোটি ব্যয় করা হবে।

        বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৫৬৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। সে হিসেবে নতুন অর্থবছরের বাজেটে কমেছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। গবেষণা খাতে আগের বছরের তুলনায় ১ কোটি টাকা টাকা বেড়েছে; এছাড়া খাতগুলোতে ব্যয়ের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।

        তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, "এবারের বাজেটের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয়ের মধ্যে আছে: শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণাগার সরঞ্জামাদি খাতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে; কোন কোন ক্ষেত্রে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

        খেলাধুলা ব্যয় ও ক্রীড়া উপকরণ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ণশীপ এবং বর্ধিত হারে মেধাবৃত্তির বিষয়টি বাজেটে বিবেচনা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি সড়ক মেরামত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ২টি বড় বাস বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ধরা হয়েছে।"
         

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          কুবি বিএনসিসির ছয় ক্যাডেটের পদন্নোতি

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ৪ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৫৩
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          কুবি বিএনসিসির ছয় ক্যাডেটের পদন্নোতি

          কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়(কুবি) বিএনসিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর) প্লাটুনের ছয়জন ক্যাডেট বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। 

          বুধবার (৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে এক আয়োজনে নবনির্বাচিতদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন বিএনসিসিও প্লাটুন কমান্ডার অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম এবং পিইউও ড. মোসা. শামসুন্নাহার।

          পদোন্নতি পাওয়া ক্যাডেটদের মধ্যে সার্জেন্ট পদে আছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শাহিন মিয়া এবং বাংলা বিভাগের মারজান আক্তার। কর্পোরাল পদে নৃবিজ্ঞান বিভাগের মো. হাসিব হাসান এবং ল্যান্স কর্পোরাল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলা বিভাগের শাহনাজ আফরোজা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বৈশাখী চাকমা ও লোকপ্রশাসন বিভাগের আবু বকর সিদ্দিক।

          সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পাওয়া শাহিন মিয়া বলেন, ‘প্লাটুন ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াটা সম্মানের। দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যাতে প্লাটুনের আদর্শ বজায় থাকে।’

          প্লাটুনের সিইউও মো. তালহা জুবায়ের বলেন, ‘পদোন্নতি শুধু একটি ব্যাজ নয়, এটি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। যারা আজ ব্যাজ পরেছেন, তারা তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এ সম্মান অর্জন করেছেন।আমি প্লাটুনের পক্ষ থেকে সকল পদোন্নতি প্রাপ্ত ক্যাডেটকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আমার বিশ্বাস এই পদোন্নতি তাদের মাঝে আরও দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলবে।'

          প্লাটুন কমান্ডার বিএনসিসিও প্রফেসর ড. মো: শামিমুল ইসলাম বলেন, আমাদের র‌্যাংকিং ব্যবস্থা একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ক্যাডেটদের পদোন্নতি প্রদান করা হয়। ক্যাডেটরা এখানে আর্থিক  কিছু না পেলেও, তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এসব র‌্যাংক প্রদান করা হয়।

          আমরা আশাবাদী, যারা নতুনভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা আরও সক্রিয়ভাবে বিএনসিসির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কার্যক্রম ও ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। আমাদের বিশ্বাস, র‌্যাংক পদোন্নতির মাধ্যমে ক্যাডেটরা আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীল, উৎসাহী ও আন্তরিকভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

          বিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ক্যাডেটদের পদোন্নতি লিখিত পরীক্ষা, ড্রিল ও ভাইভার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করা হয়।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত