শিরোনাম
রাবিতে নতুন অর্থবছরে ৫৫১ কোটি টাকার বাজেট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের জন্য ৫৫১ কোটি ১৪ লক্ষ ৫০ টাকার বাজেট পাস হয়েছে। এতে গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা—যা বাজেটের ২.৮ শতাংশ। অন্যদিকে বেতন-ভাতা ও পেনশনে সর্বোচ্চ ৪২২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—যা বাজেটের ৭৬.৫ শতাংশ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ইতোমধ্যেই ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এ বাজেট সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে।
২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের মূল বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা; মূলধন খাতে ১৬ কোটি ৬ লাখ, পণ্য ও সেবা (সাধারণ) খাতে ৭৬ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার, পণ্য ও সেবা মেরামত ও সংরক্ষণ ১৬ কোটি ৫০ লাখ, বেতন ও ভাতাদি খাতে ৩০৪ কোটি ৯৭ লাখ এবং পেনশন বাবদ ১১৮ কোটি ব্যয় করা হবে।
বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৫৬৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। সে হিসেবে নতুন অর্থবছরের বাজেটে কমেছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। গবেষণা খাতে আগের বছরের তুলনায় ১ কোটি টাকা টাকা বেড়েছে; এছাড়া খাতগুলোতে ব্যয়ের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, "এবারের বাজেটের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয়ের মধ্যে আছে: শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণাগার সরঞ্জামাদি খাতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে; কোন কোন ক্ষেত্রে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
খেলাধুলা ব্যয় ও ক্রীড়া উপকরণ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ণশীপ এবং বর্ধিত হারে মেধাবৃত্তির বিষয়টি বাজেটে বিবেচনা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি সড়ক মেরামত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ২টি বড় বাস বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ধরা হয়েছে।"
কুবি বিএনসিসির ছয় ক্যাডেটের পদন্নোতি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়(কুবি) বিএনসিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর) প্লাটুনের ছয়জন ক্যাডেট বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
বুধবার (৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে এক আয়োজনে নবনির্বাচিতদের র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন বিএনসিসিও প্লাটুন কমান্ডার অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম এবং পিইউও ড. মোসা. শামসুন্নাহার।
পদোন্নতি পাওয়া ক্যাডেটদের মধ্যে সার্জেন্ট পদে আছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শাহিন মিয়া এবং বাংলা বিভাগের মারজান আক্তার। কর্পোরাল পদে নৃবিজ্ঞান বিভাগের মো. হাসিব হাসান এবং ল্যান্স কর্পোরাল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলা বিভাগের শাহনাজ আফরোজা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বৈশাখী চাকমা ও লোকপ্রশাসন বিভাগের আবু বকর সিদ্দিক।
সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পাওয়া শাহিন মিয়া বলেন, ‘প্লাটুন ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াটা সম্মানের। দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যাতে প্লাটুনের আদর্শ বজায় থাকে।’
প্লাটুনের সিইউও মো. তালহা জুবায়ের বলেন, ‘পদোন্নতি শুধু একটি ব্যাজ নয়, এটি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। যারা আজ ব্যাজ পরেছেন, তারা তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এ সম্মান অর্জন করেছেন।আমি প্লাটুনের পক্ষ থেকে সকল পদোন্নতি প্রাপ্ত ক্যাডেটকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আমার বিশ্বাস এই পদোন্নতি তাদের মাঝে আরও দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলবে।'
প্লাটুন কমান্ডার বিএনসিসিও প্রফেসর ড. মো: শামিমুল ইসলাম বলেন, আমাদের র্যাংকিং ব্যবস্থা একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ক্যাডেটদের পদোন্নতি প্রদান করা হয়। ক্যাডেটরা এখানে আর্থিক কিছু না পেলেও, তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এসব র্যাংক প্রদান করা হয়।
আমরা আশাবাদী, যারা নতুনভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা আরও সক্রিয়ভাবে বিএনসিসির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কার্যক্রম ও ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। আমাদের বিশ্বাস, র্যাংক পদোন্নতির মাধ্যমে ক্যাডেটরা আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীল, উৎসাহী ও আন্তরিকভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ক্যাডেটদের পদোন্নতি লিখিত পরীক্ষা, ড্রিল ও ভাইভার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করা হয়।
ইউজিসির শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন কমিটির সদস্য হলেন রাবিপ্রবি উপাচার্য
রাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনিত হয়েছেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।
সোমবার (২৩ জুন) ইউজিসি সচিব ড. মোঃ ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি গঠনের ব্যাপারে জানানো হয়েছে।
কমিটির আহবায়ক এর দায়িত্ব পেয়েছেন ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ সাইদুর রহমান। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব, বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনেরন ১৭০ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণসমূহ সমাধানকল্পে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে অনন্য উচ্চতায় উপনীত করার উদ্যেশ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ২৩ জুলাই ৬(ছয়) সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে কমিশন।
বহিরাগত এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোডাউন দেওয়ার অভিযোগ গোবিপ্রবি ছাত্র অধিকার পরিষদের বিরুদ্ধে
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোডাউন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( গোবিপ্রবি) ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুর ৩ টায় গোপালগঞ্জের স্থানীয়দের সাথে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাইক শোডাউন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বহিরাগত এনে বাইক শোডাউন দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ বলেন, "ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগত ক্যাডার ভাড়া করে ছাত্র অধিকার পরিষদের বাইক শোডাউন। যা ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমাদের ক্যাম্পাসে আওয়ামীলীগ বিরোধী অনেক ছাত্রসংগঠন ই সক্রিয় হয়েছে এবং নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই প্রথম ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা কর্মীরা বহিরাগত ক্যাডার ভাড়া করে বাইক শোডাউন দিয়ে এক ঘৃণিত অধ্যায়ের সূচনা করলো যা এর আগে কখনো আমাদের চোখে পড়েনি।"
তিনি আরও বলেন, "একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে এমন জঘন্যতম কাজের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি, পাশাপাশি ক্যাম্পাস প্রশাসনের জবাবদিহিতা কামনা করতেছি তারা কিভাবে ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন কাজ করতে দিলো।"
বহিরাগত এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোডাউন দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদ গোবিপ্রবি শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন," এখানে বহিরাগত বিষয়টা এরকম না,আমাদের তোহা কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক। আজকে গোপালগঞ্জ জেলার ছাত্র অধিকার পরিষদের কমিটির পরিচিতি সভা ছিল। সেখান থেকে তারা তোহা কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তাকে সংবর্ধনা দিতে আসছে।
ক্যাম্পাসে বহিরাগ প্রবেশ নিষেধ তারপরও কেন প্রবেশ করেছে জানতে চাইলে বলেন,"একথা বললে ভূল হবে,ক্যাম্পাসে তো বহিরাগত আসে।সেটা প্রসাশনও জানে এবং তারা সবাই ছাত্র বেশিরভাগই গোপালগঞ্জ কলেজের ছাত্র।"
বাকৃবিতে পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন
"চাকরির ক্ষেত্রে ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি (কম্বাইন্ড) ডিগ্রিধারীরা প্রাধান্য পাবে" মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এ প্রতিবাদ জানান।
পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টায় এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে পশুপালন অনুষদে এসে শেষ হয়।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় পশুপালন অনুষদীয় ডিন অফিসের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম, অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, পশুপুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। এছাড়াও অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পশুপালন অনুষদ ছাত্র সমিতির পক্ষে জামিল হোসেন। তিনি বলেন, ‘পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। অথচ গত ২৯ জুন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার যে বক্তব্য দিয়েছেন যেখানে তিনি বলেন, ‘চাকরির ক্ষেত্রে কম্বাইন্ড ডিগ্রিকে অবশ্যই প্রাধান্য দেওয়া হবে’ এটি অত্যন্ত অপমানজনক, বৈষম্যমূলক ও হতাশাজনক। এর ফলে দেশে বিভিন্ন চাকরিতে পশুপালন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নষ্ট হবে। এজন্য পশুপালন ডিগ্রীধারীরা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
এসময় তিনি আরও দাবি করেন, প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে (সায়েন্টিফিক অফিসার/ সমমানের পদ) পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ১৯৮০ সালের বর্তমান ডিএলএস কে ডিরেক্টর অফ অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি এবং ডিরেক্টর অফ ভেটেরিনারি সার্ভিসেস দুই ভাগে ভাগ করে পশুপালন ও ডিভিএম ডিগ্রিধারীদের কে চাকরির সুযোগ দিলে এই সেক্টরের স্থায়ী সমাধান হবে। এই প্রস্তাবনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় পশুপালন গ্র্যাজুয়েটদের যথাযথ স্থান দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজিজুল হক বলেন, ‘আমরা যখন দেশ ও কৃষিভিত্তিক উৎপাদন উন্নয়নের কথা বলি, তখন বারবার শুনি কেন দেশ উন্নত হচ্ছে না, কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে, কেন আমদানি কমছে না। এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গেলে দেখতে পাই, আমাদের উৎপাদন সম্পর্কিত সেক্টরগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ প্রাণিসম্পদ খাত দেশের অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি শুধুমাত্র কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত ধ্বংসের মুখে পড়বে। কারণ তারা মূলত চিকিৎসাকেন্দ্রিক, উৎপাদন বিষয়ে তাদের দক্ষতা তুলনামূলক কম। উন্নত বিশ্বে যেমন নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কানাডা ও আমেরিকায় পশুপালনের জন্য আলাদা ডিগ্রি রয়েছে। অথচ আমরা এখনো সেই বাস্তবতা মানতে পারছি না।’
অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘একজন উপদেষ্টা, যিনি রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, তার বক্তব্যে এমন বৈষম্যমূলক মনোভাব গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তব্য দেওয়ার আগে তথ্য-প্রমাণ ও বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’
অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দুটি আলাদা প্রয়োজনকে সামনে রেখে ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদ চালু করা হয়। একটির মূল লক্ষ্য চিকিৎসা, অন্যটির মূল লক্ষ্য উৎপাদন। এই দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম বলেন, ‘খামারে প্রাণী অসুস্থ হলে চিকিৎসা প্রয়োজন, কিন্তু সেই প্রাণী সুস্থ রাখার পেছনে বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন পদ্ধতির অবদান সবচেয়ে বেশি। এজন্য চিকিৎসা ও উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রের শিক্ষার্থীদের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো একপক্ষকে বাদ দেওয়া মানে সমন্বিত উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।’
উল্লেখ্য, বাকৃবি শিক্ষার্থীদের অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি এবং ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) দুইটি ডিগ্রি ভিন্ন অনুষদ থেকে প্রদান করলেও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি দুটি কম্বাইন্ডলি প্রদান করে। ডিগ্রি দুটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ভিন্নভাবে প্রদান করায় এ সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েটদের চাকরি ক্ষেত্রে যোগ্যতাকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।। তাদের মতে, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে একাডেমিক ও পেশাগত ক্ষেত্র আরও সংকটে পড়বে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য