শিরোনাম
যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ
রাতে ছাত্রীকে ভিডিও কল দেন ইবি শিক্ষক
বাজে ইঙ্গিত প্রদান, কুরুচিপূর্ণ মেসেজ ও যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত ২২ জুন বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ডজনখানেক ছাত্রী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঐ শিক্ষককে বিভাগের কার্যক্রম থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
অভিযোগপত্রে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী বলেন, ‘স্যার আমাকে ইমোতে ভিডিও কল দেন। আমি কল রিসিভ না করায় পরে অডিও কল দেন। তখন তিনি বলেন, অনেকদিন তোমাদের দেখি না, তোমরা মোটা হয়েছো না চিকন হয়েছো দেখার জন্য ভিডিও কল দিচ্ছি। তারপর উনি বলেন, তোমার কি কথা বলার লোক আছে?’ আমি বলি না নেই। তখন তিনি বলেন, এখন বলছো কেউ নাই, কিছুদিন পর তো দেখবো ক্যাম্পাসে কোনো ছেলের হাত ধরে ঘুরছো।’
ওই ছাত্রী আরও জানান, ‘স্যার ক্লাসে বিভিন্ন সময় আমাকে উদ্দেশ্য করে আজেবাজে ইঙ্গিত করে বাজে কথা বলেন। আমার উচ্চতা নিয়ে তিনি কুরুচিপূর্ণ জোকস করেন। আমি বিবাহিত হওয়ায় বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে আমাকে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তিনি আমাকে সবার মাঝে ক্লাসে দাগ করিয়ে মেন্সট্রুয়েশন সাইকেল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন। যা আমার জন্য খুবই অপমানজনক। এভাবে বিভিন্ন সময় উনি ক্লাসে বাজে ঈঙ্গিতপূর্ণ কথা বলার পাশাপাশি বডি শেমিং করেন এবং হুমকি দেন যে তার কোর্সে ভালো রেজাল্ট করতে পারবো না।’
বিভাগটির শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রীদের সাথে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ব্যবহার করে আসছেন। হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ প্রদান, ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেওয়া, রুমে ডেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে আপত্তিকর জিজ্ঞাসা, ক্লাসে সবার সামনে আজেবাজে ইঙ্গিত করা, ছাত্রীদের রাতে ভিডিও কল দেওয়া, কল না ধরলে রেজাল্ট খারাপ করানোর হুমকি, বিবাহিত ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, নিজের আন্ডারে প্রজেক্ট করতে পছন্দের ছাত্রীদের বাধ্য করা ও ছাত্রীদের বডি শেমিং করাসহ নানাভাবে হেনস্তা করতেন। তবে এতোদিন শিক্ষার্থীরা ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করেনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করিনি। বরং তারা আমার কথা ও কাজকে ভুলভাবে নিয়েছে। আমি মনে করি পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে অসত্য অভিযোগ দিয়েছে। আর কখন কোন পরিস্থিতিতে কি বলেছি তা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। বিভাগের বিভিন্ন কাজের সুবাদে অনেক প্রোগ্রাম ও মিটিং করেছি, আমি আন্তরিকতা নিয়ে সুন্দর ড্রেস পড়ে আসার কথা বলেছি। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি সবার মেন্টালিটি সমান না।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম নাজমুল হুদা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে আমরা নিয়মানুযায়ী একাডেমিক কমিটির সভায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।
খুবিতে ধর্ম অবমাননা ও ‘জুলাই আন্দোলন’ কটাক্ষের প্রতিবাদে মানববন্ধন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননা ও ঐতিহাসিক ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “সম্প্রতির এই বাংলায় উস্কানির ঠাঁই নাই”, “অপরাধীদের ক্ষমা নাই, আজীবন বহিষ্কার চাই”, “জিরো টলারেন্স ফর ব্লাসফেমি”—ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী তালহা বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি শহীদ মুগ্ধ ভাইয়ের রক্তে ভেজা। এখানে বসে যারা আওয়ামী লীগের গাদ্দারদের পক্ষে কথা বলবে, তাদের বিরুদ্ধে এই মাটি রুখে দাঁড়াবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে যেকোনো ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করলে তার এখানে কোনো জায়গা হবে না।”
১৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী তমিজউদ্দীন বলেন, “৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ধর্ম ও আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে কটূক্তি করার পরও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা দেখতে পাই না। যারা ধর্ম ও ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে কটূক্তি করেছে, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মানববন্ধন থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. রাষ্ট্রের প্রতি দাবি—ধর্ম অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি—অভিযুক্তদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে আজীবন বহিষ্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. জনসাধারণের প্রতি দাবি—অভিযুক্তদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “ধর্ম অবমাননা এবং ‘জুলাই আন্দোলন’কে কটাক্ষ করার অভিযোগে অভিযুক্তদের আবাসিক হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি প্রদান করা হয়েছে এবং সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ২১তম ব্যাচের মো. রাসেল এবং ২৩তম ব্যাচের তনয় রায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাসেল তার ফেসবুক পোস্টে কুরআনের কিছু সূরা নিয়ে আপত্তি ও আল্লাহ তায়ালাকে ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দেন। তিনি ফেসবুকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি ‘জুলাই আন্দোলনকারীদের’ নিয়ে কটূক্তি ও হুমকি প্রদান করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ, কুমিল্লার মুরাদনগরের ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে ফেসবুক স্টোরির মাধ্যমে তিনি ইসলামের ফরজ বিধান ‘জিহাদ’ সম্পর্কেও কটূক্তি করেন।
অপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তনয় রায় ওই বিতর্কিত স্টোরিটি নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন এবং এর আগেও ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে কটূক্তি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)-এর ডিবেটিং সোসাইটির উদ্যোগে "চিন্তা ও চেতনার দ্বার উন্মোচিত হোক যুক্তির ছন্দে" এই শিরোনামে নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ১লা জুলাই ২০২৫ইং তারিখে বিকাল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিপিএস বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবীন বিতার্কিকদের বরণ ও প্রবীণ বিতার্কিকদের বিদায় জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির কো-মডারেটর ড. জিয়াউর রহমান এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিএস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদের মিয়া, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী এবং প্রভাষক তুহিন আহমেদ । পাশাপাশি সাবেক ও বর্তমান বিতার্কিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম বলেন, “যুক্তিভিত্তিক চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিতর্কের ভূমিকা অপরিসীম। তরুণদের নেতৃত্বদানের গুণাবলি গঠনে ডিবেটিং সোসাইটির এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।"

সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউর রহমান বলেন,
"ডিবেটিং সোসাইটি শুধুমাত্র যুক্তি ও তর্কের চর্চার জায়গা নয়, এটি একটি পরিবার যেখানে আমরা শিখি, বেড়ে উঠি এবং একে অপরকে অনুপ্রেরণা দিই। তোমাদের মাঝে থেকেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব, যুক্তির দীপ্ত আলোয় আলোকিত হবে আমাদের আগামী দিনের পথচলা। প্রবীন তোমরা এই সংগঠনকে যে শ্রম, সময় ও ভালোবাসা দিয়ে এগিয়ে এনেছ, তা আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। তোমাদের অর্জন, অভিজ্ঞতা এবং বন্ধুত্বের স্মৃতি আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে সবসময়।"
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও স্মারক উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বিদায়ী সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রম্য বিতর্কের আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে দলগত চেতনা ও যুক্তির মাধ্যমে মত প্রকাশের চর্চা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।
৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম মাভাবিপ্রবির ফরহাদ হোসেন
প্রশাসন ক্যাডারে এবার সারা দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন।
৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল সোমবার (৩০ জুন) রাতে পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১ হাজার ৬৯০ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
পিএসসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার প্রার্থী। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৫ হাজার ৭০৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন প্রায় চার হাজার। চূড়ান্তভাবে বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট ৭ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২ জন।
উল্লেখ্য, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দ্বিতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আগের বছরগুলোতেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও এবারই প্রথম কেউ সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করলেন।
ফরহাদ হোসেন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তার সাফল্যে গর্বিত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই ধারা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তারা।
ঢাকাগামী বাস চায় মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সকল সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদা বিবেচনায় দেশের সব জেলার শিক্ষার্থীদের ঢাকামুখী হওয়ার আগ্রহ দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় বইপত্র, গবেষণা সামগ্রী, চাকরির প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকাণ্ডসহ নানাবিধ আনুষ্ঠানিকতার জন্য ঢাকা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এমনকি শিক্ষকদেরও নিয়মিত ঢাকামুখী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হয়।
অথচ প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও, এত চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকার সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব কোনো বাস সার্ভিস চালু হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিস যেখানে এক জেলা পেরিয়ে অন্য জেলায় শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দেয়, সেখানে ঢাকার এত কাছে থেকেও মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা নিজস্ব বাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ঢাকা, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর এবং গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস যেখানে জেলা পেরিয়ে চলাচল করে, সেখানে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকা তাদের সার্বিক উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ রাজন বলেন,
“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একঝাঁক মেধাবী ও উদ্যমী তরুণ রয়েছে, যারা দেশ-বিদেশে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে প্রস্তুত। এর প্রমাণ আমাদের আইসিটি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী সম্প্রতি একটি রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যা আমাদের জন্য গর্বের। কিন্তু ঢাকার সাথে সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক প্রতিযোগিতা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ কিংবা ইন্ডাস্ট্রির সাথে সংযুক্ত থাকার সুযোগ আমরা হারাচ্ছি। যদি সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হতো।”
তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস কুমিল্লা পর্যন্ত যায়, গোপালগঞ্জের মতো দূরের বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা দেয়। অথচ আমরা ঢাকার এত কাছাকাছি থেকেও বাস সুবিধা পাচ্ছি না—এটি শুধু বৈষম্য নয়, বরং আমাদের সম্ভাবনার পথে বড় বাধা। টাঙ্গাইল শহরের বইয়ের দাম বেশি হওয়ায় মানসম্মত বই সংগ্রহ করতেও আমরা সমস্যায় পড়ি। যদি ঢাকায় যাতায়াতের সহজ ব্যবস্থা থাকত, তাহলে শিক্ষা সংক্রান্ত খরচও কমানো যেত।”
“আমাদের অনুরোধ, অন্তত সপ্তাহে একদিন হলেও একটি বাস ঢাকায় যাক। এটি শিক্ষার্থীদের ছোট চাওয়া হলেও, আমাদের বিকাশের জন্য বড় সহায়তা।”
ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান এস মাহমুদ বলেন,
“ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব রয়েছে, যা নীলক্ষেত থেকে পূরণ করা সম্ভব। যারা চাকরির প্রস্তুতি নেয়, তাদের জন্য নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ঢাকায় চললে সেটি হবে ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যতম একটি দিক, কারণ এখনও অনেকেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালোভাবে চেনে না। ঢাকার সাথে সংযোগ বাড়লে চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটবে। এটি প্রচারের দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।”
“প্রচুর দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে এই সড়কে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকাগামী বাস চালু করে, তবে সেটি হবে শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।”
উল্লেখ্য, ঢাকামুখী বাস সার্ভিস চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষরসহ একাধিকবার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মাওনা প্রভৃতি পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী মাভাবিপ্রবিতে ভর্তি হয়। শিক্ষার্থীদের মতে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোসংবলিত বাস চলাচল শুরু হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং ও পরিচিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার বলেন,
"গত অর্থবছরে জ্বালানির জন্য আমাদের পর্যাপ্ত বাজেট ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের ভাতা ও মেরামতের জন্য বাজেট সংকট ছিল এবং এখনো ওভারটাইম ভাতা ৫ মাসের বকেয়া রয়েছে। সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে—এই টাকা তো আমাকে দিতে হবে। এখন যেহেতু এত টাকা ঘাটতি রয়েছে, সেখানে নতুন কোনো সার্ভিস চালু করা, যে সার্ভিসটি আগের কোনো পরিবহন পরিচালক সাহস করেনি চালু করার, আমি বাজেট ঘাটতির মধ্যে সেটি কীভাবে করব?"
"আর ইন্টারিম সময়ের মধ্যে আমাদের উপাচার্য স্যার নিয়োগ পেয়েছেন, তখন বাজেট নতুন করে বরাদ্দ হয়নি। আগের বাজেট দিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। ফলে, ঢাকাগামী বাস চালুর বিষয়ে প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেও দুই বাজেট ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যদি বাজেট পর্যাপ্ত হয়, অবশ্যই বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।”
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য