ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

‎খুবিতে ধর্ম অবমাননা ও ‘জুলাই আন্দোলন’ কটাক্ষের প্রতিবাদে মানববন্ধন‎

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১ জুলাই, ২০২৫ ২১:২৮
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
‎খুবিতে ধর্ম অবমাননা ও ‘জুলাই আন্দোলন’ কটাক্ষের প্রতিবাদে মানববন্ধন‎

‎খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননা ও ঐতিহাসিক ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎আজ ১ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “সম্প্রতির এই বাংলায় উস্কানির ঠাঁই নাই”, “অপরাধীদের ক্ষমা নাই, আজীবন বহিষ্কার চাই”, “জিরো টলারেন্স ফর ব্লাসফেমি”—ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

‎সমাবেশে ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী তালহা বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি শহীদ মুগ্ধ ভাইয়ের রক্তে ভেজা। এখানে বসে যারা আওয়ামী লীগের গাদ্দারদের পক্ষে কথা বলবে, তাদের বিরুদ্ধে এই মাটি রুখে দাঁড়াবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে যেকোনো ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করলে তার এখানে কোনো জায়গা হবে না।”

‎১৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী তমিজউদ্দীন বলেন, “৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ধর্ম ও আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে কটূক্তি করার পরও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা দেখতে পাই না। যারা ধর্ম ও ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে কটূক্তি করেছে, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

‎মানববন্ধন থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়:
‎১. রাষ্ট্রের প্রতি দাবি—ধর্ম অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
‎২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি—অভিযুক্তদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে আজীবন বহিষ্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
‎৩. জনসাধারণের প্রতি দাবি—অভিযুক্তদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।

‎‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “ধর্ম অবমাননা এবং ‘জুলাই আন্দোলন’কে কটাক্ষ করার অভিযোগে অভিযুক্তদের আবাসিক হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি প্রদান করা হয়েছে এবং সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

‎উল্লেখ্য, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ২১তম ব্যাচের মো. রাসেল এবং ২৩তম ব্যাচের তনয় রায়।

‎অভিযোগ অনুযায়ী, রাসেল তার ফেসবুক পোস্টে কুরআনের কিছু সূরা নিয়ে আপত্তি ও আল্লাহ তায়ালাকে ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দেন। তিনি ফেসবুকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি ‘জুলাই আন্দোলনকারীদের’ নিয়ে কটূক্তি ও হুমকি প্রদান করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ, কুমিল্লার মুরাদনগরের ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে ফেসবুক স্টোরির মাধ্যমে তিনি ইসলামের ফরজ বিধান ‘জিহাদ’ সম্পর্কেও কটূক্তি করেন।

‎অপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তনয় রায় ওই বিতর্কিত স্টোরিটি নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন এবং এর আগেও ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে কটূক্তি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১ জুলাই, ২০২৫ ১৯:২৯
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)-এর ডিবেটিং সোসাইটির উদ্যোগে "চিন্তা ও চেতনার দ্বার উন্মোচিত হোক যুক্তির ছন্দে" এই শিরোনামে নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার ১লা জুলাই ২০২৫ইং তারিখে বিকাল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিপিএস বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবীন বিতার্কিকদের বরণ ও প্রবীণ বিতার্কিকদের বিদায় জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির কো-মডারেটর ড. জিয়াউর রহমান এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিএস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদের মিয়া, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী এবং প্রভাষক তুহিন আহমেদ । পাশাপাশি সাবেক ও বর্তমান বিতার্কিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম বলেন, “যুক্তিভিত্তিক চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিতর্কের ভূমিকা অপরিসীম। তরুণদের নেতৃত্বদানের গুণাবলি গঠনে ডিবেটিং সোসাইটির এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।"

    সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউর রহমান বলেন, 
    "ডিবেটিং সোসাইটি শুধুমাত্র যুক্তি ও তর্কের চর্চার জায়গা নয়, এটি একটি পরিবার  যেখানে আমরা শিখি, বেড়ে উঠি এবং একে অপরকে অনুপ্রেরণা দিই। তোমাদের মাঝে থেকেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব, যুক্তির দীপ্ত আলোয় আলোকিত হবে আমাদের আগামী দিনের পথচলা। প্রবীন তোমরা এই সংগঠনকে যে শ্রম, সময় ও ভালোবাসা দিয়ে এগিয়ে এনেছ, তা আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। তোমাদের অর্জন, অভিজ্ঞতা এবং বন্ধুত্বের স্মৃতি আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে সবসময়।"

    অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও স্মারক উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বিদায়ী সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রম্য বিতর্কের আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

    মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে দলগত চেতনা ও যুক্তির মাধ্যমে মত প্রকাশের চর্চা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম মাভাবিপ্রবির ফরহাদ হোসেন

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ১ জুলাই, ২০২৫ ১৯:২০
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম মাভাবিপ্রবির ফরহাদ হোসেন
      ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম মাভাবিপ্রবির ফরহাদ হোসেন

      প্রশাসন ক্যাডারে এবার সারা দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন।

      ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল সোমবার (৩০ জুন) রাতে পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১ হাজার ৬৯০ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

      পিএসসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার প্রার্থী। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৫ হাজার ৭০৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন প্রায় চার হাজার। চূড়ান্তভাবে বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট ৭ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২ জন।

      উল্লেখ্য, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দ্বিতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আগের বছরগুলোতেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও এবারই প্রথম কেউ সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করলেন।

      ফরহাদ হোসেন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তার সাফল্যে গর্বিত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই ধারা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তারা।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ঢাকাগামী বাস চায় মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ১ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৪৫
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ঢাকাগামী বাস চায় মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

        দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সকল সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদা বিবেচনায় দেশের সব জেলার শিক্ষার্থীদের ঢাকামুখী হওয়ার আগ্রহ দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় বইপত্র, গবেষণা সামগ্রী, চাকরির প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকাণ্ডসহ নানাবিধ আনুষ্ঠানিকতার জন্য ঢাকা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এমনকি শিক্ষকদেরও নিয়মিত ঢাকামুখী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হয়।

        অথচ প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও, এত চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকার সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব কোনো বাস সার্ভিস চালু হয়নি।

        বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিস যেখানে এক জেলা পেরিয়ে অন্য জেলায় শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দেয়, সেখানে ঢাকার এত কাছে থেকেও মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা নিজস্ব বাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ঢাকা, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর এবং গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস যেখানে জেলা পেরিয়ে চলাচল করে, সেখানে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকা তাদের সার্বিক উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


        এ বিষয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ রাজন বলেন,
        “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একঝাঁক মেধাবী ও উদ্যমী তরুণ রয়েছে, যারা দেশ-বিদেশে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে প্রস্তুত। এর প্রমাণ আমাদের আইসিটি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী সম্প্রতি একটি রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যা আমাদের জন্য গর্বের। কিন্তু ঢাকার সাথে সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক প্রতিযোগিতা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ কিংবা ইন্ডাস্ট্রির সাথে সংযুক্ত থাকার সুযোগ আমরা হারাচ্ছি। যদি সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হতো।”

        তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস কুমিল্লা পর্যন্ত যায়, গোপালগঞ্জের মতো দূরের বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা দেয়। অথচ আমরা ঢাকার এত কাছাকাছি থেকেও বাস সুবিধা পাচ্ছি না—এটি শুধু বৈষম্য নয়, বরং আমাদের সম্ভাবনার পথে বড় বাধা। টাঙ্গাইল শহরের বইয়ের দাম বেশি হওয়ায় মানসম্মত বই সংগ্রহ করতেও আমরা সমস্যায় পড়ি। যদি ঢাকায় যাতায়াতের সহজ ব্যবস্থা থাকত, তাহলে শিক্ষা সংক্রান্ত খরচও কমানো যেত।”

        “আমাদের অনুরোধ, অন্তত সপ্তাহে একদিন হলেও একটি বাস ঢাকায় যাক। এটি শিক্ষার্থীদের ছোট চাওয়া হলেও, আমাদের বিকাশের জন্য বড় সহায়তা।”

        ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান এস মাহমুদ বলেন,
        “ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব রয়েছে, যা নীলক্ষেত থেকে পূরণ করা সম্ভব। যারা চাকরির প্রস্তুতি নেয়, তাদের জন্য নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ঢাকায় চললে সেটি হবে ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যতম একটি দিক, কারণ এখনও অনেকেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালোভাবে চেনে না। ঢাকার সাথে সংযোগ বাড়লে চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটবে। এটি প্রচারের দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।”

        “প্রচুর দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে এই সড়কে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকাগামী বাস চালু করে, তবে সেটি হবে শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।”

        উল্লেখ্য, ঢাকামুখী বাস সার্ভিস চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষরসহ একাধিকবার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

        ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মাওনা প্রভৃতি পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী মাভাবিপ্রবিতে ভর্তি হয়। শিক্ষার্থীদের মতে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোসংবলিত বাস চলাচল শুরু হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং ও পরিচিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

        এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার বলেন,
        "গত অর্থবছরে জ্বালানির জন্য আমাদের পর্যাপ্ত বাজেট ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের ভাতা ও মেরামতের জন্য বাজেট সংকট ছিল এবং এখনো ওভারটাইম ভাতা ৫ মাসের বকেয়া রয়েছে। সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে—এই টাকা তো আমাকে দিতে হবে। এখন যেহেতু এত টাকা ঘাটতি রয়েছে, সেখানে নতুন কোনো সার্ভিস চালু করা, যে সার্ভিসটি আগের কোনো পরিবহন পরিচালক সাহস করেনি চালু করার, আমি বাজেট ঘাটতির মধ্যে সেটি কীভাবে করব?"

        "আর ইন্টারিম সময়ের মধ্যে আমাদের উপাচার্য স্যার নিয়োগ পেয়েছেন, তখন বাজেট নতুন করে বরাদ্দ হয়নি। আগের বাজেট দিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। ফলে, ঢাকাগামী বাস চালুর বিষয়ে প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেও দুই বাজেট ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যদি বাজেট পর্যাপ্ত হয়, অবশ্যই বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।”

        প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের দাবি

        বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নবনির্বাচিত কমিটির আত্মপ্রকাশ

        অনলাইন ডেস্ক
        ১ জুলাই, ২০২৫ ১৪:২২
        অনলাইন ডেস্ক
        বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নবনির্বাচিত কমিটির আত্মপ্রকাশ

        বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নবনির্বাচিত কমিটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ দাবি করেছে সংগঠনটির নেতারা।

        মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

        সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নবনির্বাচিত সভাপতি রশিদুল ইসলাম রিফাত (রিফাত রশিদ) বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ঘোষিত এক দফা ছিল শুধু রেজিম পরিবর্তন নয়, বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি।

        বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মনে করে, ‘বাংলাদেশ ২.০’ গড়ার ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। তবে এখন ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা’র নামে সেই ঐতিহাসিক অর্জনকে পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে আত্মসাৎ করার চেষ্টা চলছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন স্পষ্ট করেছে, তারা এ প্রক্রিয়া মেনে নেবে না এবং গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় নতুন সংবিধান ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের রাজনীতিকে বেগবান করবে।

        সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ সংগঠনের খসড়া ইশতেহার পাঠ করেন। খসড়া ইশতেহারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ প্রদানের দাবি তোলেন।

        দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে

        জুলাই ঘোষণাপত্র

        ১. অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক প্রতিশ্রুত জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে এবং এটির সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

        ২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শুরু থেকে নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সব কর্মকাণ্ডকে সংবিধানের ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

        জুলাই সনদ: বিচার ও সংস্কার

        ৩. নির্বাচনের পর গঠিত সংসদে নয়; নির্বাচনের আগেই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচিত সংসদ সংস্কার করবে না; সংস্কারের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগেই সর্বসম্মতিক্রমে সংস্কার বাস্তবায়নের পথ-পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে কেবলমাত্র রাজনৈতিক দল নয়; জনগণের মতামত গ্রহণের কার্যকর পথ-পদ্ধতি বের করতে হবে।

        ৪. প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ গোষ্ঠীস্বার্থে ঐকমত্য হচ্ছে না অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ, এমন সংস্কার প্রস্তাবগুলোসহ সব সংস্কার প্রস্তাব জুলাই সনদে সন্নিবেশিত করে তা গণভোটে পাঠাতে হবে।

        ৫. জুলাই সনদকে পুনর্লিখিত বা সংস্কারকৃত সংবিধানের অংশ করতে হবে তথা সংবিধানের পরিশিষ্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

        ৬. জুলাই সনদে জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ১৫ বছরের সব হত্যাকাণ্ড, ভোট ডাকাতি, গুম, ক্রসফায়ার, লুণ্ঠনসহ বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সব অপরাধের বিচারের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।

        ৭. অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের দায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনগুলোর ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আইনি হয়রানি বা বিচারের মুখোমুখি না হওয়ার সাংবিধানিক সুরক্ষা থাকতে হবে।

        ৮. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকতে হবে।

        ৯. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৫৮ জন সমন্বয়কের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে।

        আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. ইনামুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুইনুল ইসলাম এবং মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত