শিরোনাম
৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম মাভাবিপ্রবির ফরহাদ হোসেন
প্রশাসন ক্যাডারে এবার সারা দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন।
৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল সোমবার (৩০ জুন) রাতে পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১ হাজার ৬৯০ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
পিএসসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার প্রার্থী। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৫ হাজার ৭০৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন প্রায় চার হাজার। চূড়ান্তভাবে বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট ৭ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২ জন।
উল্লেখ্য, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দ্বিতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আগের বছরগুলোতেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও এবারই প্রথম কেউ সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করলেন।
ফরহাদ হোসেন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তার সাফল্যে গর্বিত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই ধারা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তারা।
ঢাকাগামী বাস চায় মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সকল সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদা বিবেচনায় দেশের সব জেলার শিক্ষার্থীদের ঢাকামুখী হওয়ার আগ্রহ দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় বইপত্র, গবেষণা সামগ্রী, চাকরির প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকাণ্ডসহ নানাবিধ আনুষ্ঠানিকতার জন্য ঢাকা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এমনকি শিক্ষকদেরও নিয়মিত ঢাকামুখী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হয়।
অথচ প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও, এত চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকার সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব কোনো বাস সার্ভিস চালু হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিস যেখানে এক জেলা পেরিয়ে অন্য জেলায় শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দেয়, সেখানে ঢাকার এত কাছে থেকেও মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা নিজস্ব বাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ঢাকা, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর এবং গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস যেখানে জেলা পেরিয়ে চলাচল করে, সেখানে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকা তাদের সার্বিক উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ রাজন বলেন,
“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একঝাঁক মেধাবী ও উদ্যমী তরুণ রয়েছে, যারা দেশ-বিদেশে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে প্রস্তুত। এর প্রমাণ আমাদের আইসিটি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী সম্প্রতি একটি রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যা আমাদের জন্য গর্বের। কিন্তু ঢাকার সাথে সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক প্রতিযোগিতা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ কিংবা ইন্ডাস্ট্রির সাথে সংযুক্ত থাকার সুযোগ আমরা হারাচ্ছি। যদি সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হতো।”
তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস কুমিল্লা পর্যন্ত যায়, গোপালগঞ্জের মতো দূরের বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা দেয়। অথচ আমরা ঢাকার এত কাছাকাছি থেকেও বাস সুবিধা পাচ্ছি না—এটি শুধু বৈষম্য নয়, বরং আমাদের সম্ভাবনার পথে বড় বাধা। টাঙ্গাইল শহরের বইয়ের দাম বেশি হওয়ায় মানসম্মত বই সংগ্রহ করতেও আমরা সমস্যায় পড়ি। যদি ঢাকায় যাতায়াতের সহজ ব্যবস্থা থাকত, তাহলে শিক্ষা সংক্রান্ত খরচও কমানো যেত।”
“আমাদের অনুরোধ, অন্তত সপ্তাহে একদিন হলেও একটি বাস ঢাকায় যাক। এটি শিক্ষার্থীদের ছোট চাওয়া হলেও, আমাদের বিকাশের জন্য বড় সহায়তা।”
ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান এস মাহমুদ বলেন,
“ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব রয়েছে, যা নীলক্ষেত থেকে পূরণ করা সম্ভব। যারা চাকরির প্রস্তুতি নেয়, তাদের জন্য নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ঢাকায় চললে সেটি হবে ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যতম একটি দিক, কারণ এখনও অনেকেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালোভাবে চেনে না। ঢাকার সাথে সংযোগ বাড়লে চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটবে। এটি প্রচারের দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।”
“প্রচুর দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে এই সড়কে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকাগামী বাস চালু করে, তবে সেটি হবে শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।”
উল্লেখ্য, ঢাকামুখী বাস সার্ভিস চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষরসহ একাধিকবার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মাওনা প্রভৃতি পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী মাভাবিপ্রবিতে ভর্তি হয়। শিক্ষার্থীদের মতে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোসংবলিত বাস চলাচল শুরু হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং ও পরিচিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার বলেন,
"গত অর্থবছরে জ্বালানির জন্য আমাদের পর্যাপ্ত বাজেট ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের ভাতা ও মেরামতের জন্য বাজেট সংকট ছিল এবং এখনো ওভারটাইম ভাতা ৫ মাসের বকেয়া রয়েছে। সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে—এই টাকা তো আমাকে দিতে হবে। এখন যেহেতু এত টাকা ঘাটতি রয়েছে, সেখানে নতুন কোনো সার্ভিস চালু করা, যে সার্ভিসটি আগের কোনো পরিবহন পরিচালক সাহস করেনি চালু করার, আমি বাজেট ঘাটতির মধ্যে সেটি কীভাবে করব?"
"আর ইন্টারিম সময়ের মধ্যে আমাদের উপাচার্য স্যার নিয়োগ পেয়েছেন, তখন বাজেট নতুন করে বরাদ্দ হয়নি। আগের বাজেট দিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। ফলে, ঢাকাগামী বাস চালুর বিষয়ে প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেও দুই বাজেট ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যদি বাজেট পর্যাপ্ত হয়, অবশ্যই বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।”
জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের দাবি
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নবনির্বাচিত কমিটির আত্মপ্রকাশ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নবনির্বাচিত কমিটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ দাবি করেছে সংগঠনটির নেতারা।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নবনির্বাচিত সভাপতি রশিদুল ইসলাম রিফাত (রিফাত রশিদ) বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ঘোষিত এক দফা ছিল শুধু রেজিম পরিবর্তন নয়, বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মনে করে, ‘বাংলাদেশ ২.০’ গড়ার ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। তবে এখন ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা’র নামে সেই ঐতিহাসিক অর্জনকে পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে আত্মসাৎ করার চেষ্টা চলছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন স্পষ্ট করেছে, তারা এ প্রক্রিয়া মেনে নেবে না এবং গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় নতুন সংবিধান ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের রাজনীতিকে বেগবান করবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ সংগঠনের খসড়া ইশতেহার পাঠ করেন। খসড়া ইশতেহারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ প্রদানের দাবি তোলেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে
জুলাই ঘোষণাপত্র
১. অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক প্রতিশ্রুত জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে এবং এটির সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শুরু থেকে নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সব কর্মকাণ্ডকে সংবিধানের ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
জুলাই সনদ: বিচার ও সংস্কার
৩. নির্বাচনের পর গঠিত সংসদে নয়; নির্বাচনের আগেই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচিত সংসদ সংস্কার করবে না; সংস্কারের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগেই সর্বসম্মতিক্রমে সংস্কার বাস্তবায়নের পথ-পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে কেবলমাত্র রাজনৈতিক দল নয়; জনগণের মতামত গ্রহণের কার্যকর পথ-পদ্ধতি বের করতে হবে।
৪. প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ গোষ্ঠীস্বার্থে ঐকমত্য হচ্ছে না অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ, এমন সংস্কার প্রস্তাবগুলোসহ সব সংস্কার প্রস্তাব জুলাই সনদে সন্নিবেশিত করে তা গণভোটে পাঠাতে হবে।
৫. জুলাই সনদকে পুনর্লিখিত বা সংস্কারকৃত সংবিধানের অংশ করতে হবে তথা সংবিধানের পরিশিষ্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৬. জুলাই সনদে জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ১৫ বছরের সব হত্যাকাণ্ড, ভোট ডাকাতি, গুম, ক্রসফায়ার, লুণ্ঠনসহ বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সব অপরাধের বিচারের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
৭. অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের দায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনগুলোর ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আইনি হয়রানি বা বিচারের মুখোমুখি না হওয়ার সাংবিধানিক সুরক্ষা থাকতে হবে।
৮. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকতে হবে।
৯. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৫৮ জন সমন্বয়কের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. ইনামুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুইনুল ইসলাম এবং মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা।
জুলাই বিপ্লবের প্রথম ঘোষণা: পরবর্তী মেগা প্রজেক্ট চাকসু নির্বাচন — উপ-উপাচার্য
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘জুলাই বিপ্লব’ স্মরণে আয়োজিত র্যালি ও দোয়া মাহফিলে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, *“জুলাই বিপ্লবের প্রথম ঘোষণা হচ্ছে—আমাদের পরবর্তী মেগা প্রজেক্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচন আয়োজন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর কখনো ফ্যাসিবাদী রূপ নিতে না পারে।”
সোমবার (১ জুলাই) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে জিরো পয়েন্ট থেকে র্যালি ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন।
বক্তব্যে অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার মনে করেছিল—নির্যাতন, খুন, গুমের মাধ্যমে জুলাইয়ের আন্দোলনকে মুছে ফেলতে পারবে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমি লজ্জিত—আমরা এখনো সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারিনি, যার জন্য ছাত্ররা রক্ত দিয়েছিল। আমাদের চোখের সামনে যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তারা আজও মুচকি হাসে।”
তিনি বলেন, *“আমাদের উচিত এই চেয়ারে না থেকে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া। কারণ আমরা এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশকে সেভাবে গড়তে পারিনি, যেভাবে তা গড়ে তোলার কথা ছিল। তবে যখন আহতরা আমাদের দেখতে আসে, তখন আবার মনে হয়—দেশের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছু করা দরকার।”
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “জুলাই শুধু একটি মাস নয়—এটি একটি প্রেরণা, প্রতিবাদের ইতিহাস এবং দায়বোধের প্রতীক। এই মাসেই ছাত্ররা বুক পেতে দিয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল স্বৈরাচারের বিপরীতে। এই আন্দোলন না হলে আমরা হয়তো এই প্রশাসনে আসতেই পারতাম না।”
তিনি আরও বলেন, *“তাঁদের রক্তের অক্ষরে লেখা আছে আমাদের শিক্ষাঙ্গনের গৌরবময় ইতিহাস। আজ তাঁদের স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায়।”
পাবিপ্রবিতে স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম–২০২৫’। অসচ্ছল,মেধাবী ও উদ্ভাবনী শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষাবৃত্তি ও প্রণোদনা প্রদান করা হয়।
সোমবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ২১৫ জন মেধাবী অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প উদ্ভাবন ও উপস্থাপনের জন্য ১৫ জন শিক্ষার্থীকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের উদ্যোগে এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
সঞ্চালনায় ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবির হাসান এবং লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক নিশাত তাবাসসুম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল-আওয়াল বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী ও একাডেমিকভাবে শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এতোদিন এখানে কোনো জাতীয় সম্মেলন হয়নি, যা ছিল খুবই হতাশাজনক। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যেই দুটি জাতীয় কনফারেন্স আয়োজন করেছি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নের মাইলফলক।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য আমরা নিয়মিতভাবে স্কলারশিপ ও অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। আজকের এই প্রোগ্রামে যারা ইতোমধ্যে ইনোভেটিভ কিছু উপস্থাপন করতে পেরেছে, তাদের আমরা দুটি ধরনের স্বীকৃতি দিয়েছি—একটি আর্থিক প্রণোদনা, অন্যটি সম্মাননাপত্র। অর্থ যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই স্বীকৃতি, যা একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক প্রতিভা রয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো এই প্রতিভাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং তাদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামীম আহসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাশেদুল হক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মীর খালেদ ইকবাল চৌধুরী এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সম্মাননা ও প্রণোদনা পাওয়া শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল আনন্দ ও প্রত্যয়ের ছাপ। অনেকেই জানান, এমন স্বীকৃতি তাঁদের আগামী দিনে আরও বড় কিছু অর্জনের অনুপ্রেরণা জোগাবে। উদ্ভাবনী প্রজেক্টের জন্য পুরস্কৃত শিক্ষার্থীরা বলেন, গবেষণা ও প্রকল্পভিত্তিক কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেছে, এবং ভবিষ্যতে তারা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার জন্য প্রস্তুত।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য