ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

জুলাই বিপ্লবের প্রথম ঘোষণা: পরবর্তী মেগা প্রজেক্ট চাকসু নির্বাচন — উপ-উপাচার্য

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৯
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
জুলাই বিপ্লবের প্রথম ঘোষণা: পরবর্তী মেগা প্রজেক্ট চাকসু নির্বাচন — উপ-উপাচার্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘জুলাই বিপ্লব’ স্মরণে আয়োজিত র‍্যালি ও দোয়া মাহফিলে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, *“জুলাই বিপ্লবের প্রথম ঘোষণা হচ্ছে—আমাদের পরবর্তী মেগা প্রজেক্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচন আয়োজন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর কখনো ফ্যাসিবাদী রূপ নিতে না পারে।”

সোমবার (১ জুলাই) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে জিরো পয়েন্ট থেকে র‍্যালি ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয়। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন।

বক্তব্যে অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার মনে করেছিল—নির্যাতন, খুন, গুমের মাধ্যমে জুলাইয়ের আন্দোলনকে মুছে ফেলতে পারবে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমি লজ্জিত—আমরা এখনো সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারিনি, যার জন্য ছাত্ররা রক্ত দিয়েছিল। আমাদের চোখের সামনে যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তারা আজও মুচকি হাসে।”

তিনি বলেন, *“আমাদের উচিত এই চেয়ারে না থেকে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া। কারণ আমরা এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশকে সেভাবে গড়তে পারিনি, যেভাবে তা গড়ে তোলার কথা ছিল। তবে যখন আহতরা আমাদের দেখতে আসে, তখন আবার মনে হয়—দেশের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছু করা দরকার।”

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “জুলাই শুধু একটি মাস নয়—এটি একটি প্রেরণা, প্রতিবাদের ইতিহাস এবং দায়বোধের প্রতীক। এই মাসেই ছাত্ররা বুক পেতে দিয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল স্বৈরাচারের বিপরীতে। এই আন্দোলন না হলে আমরা হয়তো এই প্রশাসনে আসতেই পারতাম না।”

তিনি আরও বলেন, *“তাঁদের রক্তের অক্ষরে লেখা আছে আমাদের শিক্ষাঙ্গনের গৌরবময় ইতিহাস। আজ তাঁদের স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায়।”

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    পাবিপ্রবিতে স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৩০ জুন, ২০২৫ ২১:৪১
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    পাবিপ্রবিতে স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

    পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম–২০২৫’। অসচ্ছল,মেধাবী ও উদ্ভাবনী শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষাবৃত্তি ও প্রণোদনা প্রদান করা হয়।

    সোমবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ২১৫ জন মেধাবী অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প উদ্ভাবন ও উপস্থাপনের জন্য ১৫ জন শিক্ষার্থীকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের উদ্যোগে এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

    সঞ্চালনায় ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবির হাসান এবং লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক নিশাত তাবাসসুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল-আওয়াল বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী ও একাডেমিকভাবে শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এতোদিন এখানে কোনো জাতীয় সম্মেলন হয়নি, যা ছিল খুবই হতাশাজনক। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যেই দুটি জাতীয় কনফারেন্স আয়োজন করেছি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নের মাইলফলক।”

    তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য আমরা নিয়মিতভাবে স্কলারশিপ ও অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। আজকের এই প্রোগ্রামে যারা ইতোমধ্যে ইনোভেটিভ কিছু উপস্থাপন করতে পেরেছে, তাদের আমরা দুটি ধরনের স্বীকৃতি দিয়েছি—একটি আর্থিক প্রণোদনা, অন্যটি সম্মাননাপত্র। অর্থ যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই স্বীকৃতি, যা একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক প্রতিভা রয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো এই প্রতিভাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং তাদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা।”

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামীম আহসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাশেদুল হক।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মীর খালেদ ইকবাল চৌধুরী এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    সম্মাননা ও প্রণোদনা পাওয়া শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল আনন্দ ও প্রত্যয়ের ছাপ। অনেকেই জানান, এমন স্বীকৃতি তাঁদের আগামী দিনে আরও বড় কিছু অর্জনের অনুপ্রেরণা জোগাবে। উদ্ভাবনী প্রজেক্টের জন্য পুরস্কৃত শিক্ষার্থীরা বলেন, গবেষণা ও প্রকল্পভিত্তিক কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেছে, এবং ভবিষ্যতে তারা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার জন্য প্রস্তুত।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      সমকামিতা ও শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির দায়ে ইবি শিক্ষককে চাকরি থেকে অপসারণ

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৩০ জুন, ২০২৫ ২১:২৯
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      সমকামিতা ও শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির দায়ে ইবি শিক্ষককে চাকরি থেকে অপসারণ

      ইসলামী বিশ্বািবদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি ও সমকামিতায় বাধ্য করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হাফিজুল ইসলামকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

      অফিস আদেশ সূত্রে, গত ৩১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৮ তম (সাধারণ) সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার ০৭ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী তদন্তের আলোকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে ওই শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ড ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধির চরম পরিপন্থি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধির ৪(১) (F) ধারা মোতাবেক তাঁকে ৩১ মে থেকে চাকুরী হতে অপসারণ (Dismissal from Service) করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

      এ বিষয়ে জানার জন্য হাফিজুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

      এর আগে, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৬ তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ভিসি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেশ করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী সিন্ডিকেট সভার ৪৪ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধির (4) i (b) ও (e) ধারা মোতাবেক তাঁকে বাৎসরিক ০১ (এক) টি ইনক্রিমেন্ট/খাপ বাতিল করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে ২২ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটি প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত মানেনি শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলন শুরু করেন এবং তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অপসারণের দাবি জানান। পরে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৬৭ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি পুনরায় ব্যাপক তদন্তের জন্য নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকেই ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

      উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে শিক্ষক হাফিজুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে উপাচার্যের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্তত ২৭টি অভিযোগ তুলে ধরেন এবং মৌখিকভাবে আরও বিভিন্ন অভিযোগ ও ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তাকে অপসারণের দাবি জানান। অভিযোগ তদন্তে ৮ অক্টোবর পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির কাছেও অভিযোগগুলো জমা দেয় শিক্ষার্থীরা। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষককে বিভাগের একাডেমিকসহ সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয় কর্তৃপক্ষ। 

      এদিকে ওই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে কয়েক দফায় আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষক হাফিজুল ইসলামের ছবি সম্বলিত কুশপুত্তলিকা হাতে পুরো ক্যাম্পাসে মিছিল করেন তারা। মিছিল শেষে তারা ক্যাম্পাসের ফটকের সাথে কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে তাতে জুতা ও থুতু নিক্ষেপ করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক যৌন হয়রানিসহ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ চারিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করেন। এ ছাড়া ছাত্রদের জোরপূর্বক সমকামিতায় বাধ্য করা, মেয়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক, পরিবার ও চেহারা নিয়ে প্রতিনিয়ত বাজে মন্তব্য করেন এবং মেয়েদের নর্তকী, বাজারের মেয়েসহ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ ছাড়াও এটেনডেন্সের বিনিময়ে ছাত্রলীগের মিছিলে পাঠানো, কথার অবাধ্য হলে ইন্টারনাল মার্কস কমিয়ে দেয়া, শিক্ষার্থীদের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে মারার হুমকি, দাড়ি থাকলে শিবির ট্যাগ দিয়ে হেনস্থা, ক্লাসের শিডিউল দিয়ে ডেকে এনে জোরপূর্বক তার জন্মদিন পালন করানোর অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        মাভাবিপ্রবিতে পর্দা কর্ণার স্থাপনের দাবি নিয়ে ভোগান্তিতে নারী শিক্ষার্থীরা

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৩০ জুন, ২০২৫ ১৯:৪১
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        মাভাবিপ্রবিতে পর্দা কর্ণার স্থাপনের দাবি নিয়ে ভোগান্তিতে নারী শিক্ষার্থীরা

        ‎মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় একটি পৃথক, নিরাপদ ও পর্দাবেষ্টিত কর্ণার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা ‘আল আসলামিয়া পর্দা কর্নার’ নামে একটি নির্ধারিত জায়গা বরাদ্দের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

        আজ ‎সোমবার (৩০ জুন) ২০২৫ ইং তারিখে শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক এবং এস্টেট অফিসের পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনেক নারী শিক্ষার্থী পর্দা মেনে চলেন। নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব ও অন্যান্য একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় হলে কিংবা মেসে গিয়ে খাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে ক্যাফেটেরিয়াই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান ভরসা। কিন্তু সেখানে পর্দাব্যবস্থা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার গ্রহণ করতে পারেন না, যা তাদের একধরনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

        ‎স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা ‎তাদের প্রস্তাবিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

        ‎১. বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পৃথক, নিরাপদ ও পর্দাবেষ্টিত ‘আল আসলামিয়া পর্দা কর্নার’ স্থাপন।
        ‎২. ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানজনক পরিবেশে খাবার গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।
        ‎৩. শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলা।

        গণিত বিভাগের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আমিনা সুলতানা মুনা জানান, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মমাফিক ফর্মালিটিজ রক্ষা করে, আমরা নারী শিক্ষার্থীরা ৬ মাস আগে এস্টেট পরিচালক স্যার বরাবর এপ্লিকেশন দিয়েছিলাম, যার ফাইনাল অফিশিয়াল নোটিশ আনতে ২ থেকে ৩ বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু আমরা কোন অফিসিয়াল বিবৃতি পাইনি তখন। এভাবে কালক্ষেপণ এরকম একটা বেসিক রাইটস বিষয়ে, এরজন্য আমরা ভিসি স্যার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতে গিয়েছিলাম, স্যার আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেননি, এবং আবারও এস্টেট পরিচালক বরাবর এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দিতে বলেন। আমরা ৬ মাস আগে দিয়ে এখনও অফিশিয়াল বিবৃতি পাইনি বললে, স্যার বলেন, সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপনের পর বাতিল হয়েছে। এই স্মারকলিপি উনি গ্রহণ করতে পারবেন না আবারও এস্টেট হয়ে আসতে হবে । স্যার বলেছেন, বিষয়টা উনি পরবর্তীতে দেখবেন ।

        তিনি আরও জানান, আমরা এরপর শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক স্যার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে, স্যার রিসিভ করেন স্মারকলিপি এবং এটা এস্টেট পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি ফরোয়ার্ড করেন। পরবর্তীতে আমরা এস্টেট পরিচালক স্যার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করি,স্যার বিষয় টা নিয়ে ভিসি স্যার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন এবং আমরা সময় জানতে চাইলে,৮-৯ জুলাই পরবর্তী আপডেট স্যার থেকে নিতে বলেন। আমরা জানি না পরবর্তীতে আমরা আমাদের বেসিক হিউম্যান রাইটস এর জন্য কতখানি সহযোগিতা পাবো।যেখানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্দা কর্ণার খুব সুন্দরভাবেই মেইনটেনেন্স হচ্ছে, সেখানে কেন কালক্ষেপণ হচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তা আমার বোধগম্য নয়।"

        ২০১৮-১৯ সেশনের আরেক শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা নূপুর জানান, "আমরা অযৌক্তিক এবং অসম্ভব কোনো দাবী করিনি। আমরা বলিনি ক্যাফেটেরিয়া আলাদা হোক, শুধু একটি ছোট জায়গা পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার মতো সরল ও যৌক্তিক সমাধান চেয়েছি যা খুবই সহজ এবং এতে বাড়তি খরচ বা কাঠামো পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হবে না। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মকে অবহেলা নয়। এই কর্নার প্রতিষ্ঠা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয় বরং আমাদের মৌলিক অধিকার।  আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চেতনা, মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকারকে সম্মান জানিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

        এ বিষয়ে এস্টেট অফিসের পরিচালক ড. মো. আশারাফ আলী জানান, "আমার কাছে স্মারকলিপি এসেছে আমি গ্রহণ করেছি। এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য এটি আলোচনা সভায় পাঠাবো। এর বেশি আমি মন্তব্য করতে পারবো না।"



        ‎‎শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম বলেন,
        "আমার কাছে ছাত্রীরা একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। আমি সেটি এস্টেট অফিসে ফরওয়ার্ড করে দিচ্ছি। এ বিষয়ে এস্টেট অফিস থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অতএব, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নই।"

        ‎নারী শিক্ষার্থীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে ক্যাম্পাসে একটি সমতা ও মর্যাদাভিত্তিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          গাজায় চলমান নৃশংসতার প্রতিবাদে ইবিতে 'শোক বই লেখা' ক্যাম্পেইন শুরু

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ৩০ জুন, ২০২৫ ১৯:৩৬
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          গাজায় চলমান নৃশংসতার প্রতিবাদে ইবিতে 'শোক বই লেখা' ক্যাম্পেইন শুরু

          বাংলাদেশের মানবিক সংগঠন ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’ এর পক্ষ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শুরু হয়েছে ‌‘শোক বই লেখা’ ক্যাম্পেইন। গাজায় চলমান নৃশংসতা ও ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের প্রতি আবেগ, অনুভূতি ও প্রতিবাদের ভাষা দিয়ে লিখিত দলিল তৈরির লক্ষ্যে এই ক্যাম্পেইন শুরু করেন তারা।

          রবিবার (২৯ জুন) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাল চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

          সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই লেখা সংগ্রহ কর্মসূচি আগামী ৩-৪ দিনব্যাপী চলবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত লেখাগুলো একত্রিত করে একটি বৃহৎ শোক বই হিসেবে সংকলন করা হবে। যা নিবেদিত থাকবে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের প্রতি। সাক্ষী দিবে মুক্তির দলিল হিসেবে।

          সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন এই মানবিক উদ্যোগে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর-সহ হাতে লেখা শোকবার্তা জমা দিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী মানবিক দলিল হিসেবে সংরক্ষিত হবে।

          সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বইটি পরবর্তীতে দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সেলিব্রেটি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের মূল্যবান মন্তব্যে সমৃদ্ধ করে ঢাকার একটি জাতীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে। যেন আগামী প্রজন্ম জানতে পারে- ‘আমরা নীরব থাকিনি। পাশে ছিল বাংলাদেশ’।

          এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের ইবি প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ার জানান, ‘গাজায় যা ঘটছে, তা সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে পারে। শক্তিশালী দলিল হিসেবে শোক বই প্রকাশে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা তরুণ প্রজন্ম চাই শান্তি, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতা। এই শোক বই শুধু একটি দলিল নয়, এটি হবে ন্যায়বিচারের দাবিতে লেখা একটি মানবিক ইতিহাস।’

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত