ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

মাভাবিপ্রবিতে পর্দা কর্ণার স্থাপনের দাবি নিয়ে ভোগান্তিতে নারী শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৩০ জুন, ২০২৫ ১৯:৪১
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
মাভাবিপ্রবিতে পর্দা কর্ণার স্থাপনের দাবি নিয়ে ভোগান্তিতে নারী শিক্ষার্থীরা

‎মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় একটি পৃথক, নিরাপদ ও পর্দাবেষ্টিত কর্ণার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা ‘আল আসলামিয়া পর্দা কর্নার’ নামে একটি নির্ধারিত জায়গা বরাদ্দের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

আজ ‎সোমবার (৩০ জুন) ২০২৫ ইং তারিখে শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক এবং এস্টেট অফিসের পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনেক নারী শিক্ষার্থী পর্দা মেনে চলেন। নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব ও অন্যান্য একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় হলে কিংবা মেসে গিয়ে খাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে ক্যাফেটেরিয়াই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান ভরসা। কিন্তু সেখানে পর্দাব্যবস্থা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার গ্রহণ করতে পারেন না, যা তাদের একধরনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

‎স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা ‎তাদের প্রস্তাবিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

‎১. বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পৃথক, নিরাপদ ও পর্দাবেষ্টিত ‘আল আসলামিয়া পর্দা কর্নার’ স্থাপন।
‎২. ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানজনক পরিবেশে খাবার গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।
‎৩. শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলা।

গণিত বিভাগের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আমিনা সুলতানা মুনা জানান, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মমাফিক ফর্মালিটিজ রক্ষা করে, আমরা নারী শিক্ষার্থীরা ৬ মাস আগে এস্টেট পরিচালক স্যার বরাবর এপ্লিকেশন দিয়েছিলাম, যার ফাইনাল অফিশিয়াল নোটিশ আনতে ২ থেকে ৩ বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু আমরা কোন অফিসিয়াল বিবৃতি পাইনি তখন। এভাবে কালক্ষেপণ এরকম একটা বেসিক রাইটস বিষয়ে, এরজন্য আমরা ভিসি স্যার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতে গিয়েছিলাম, স্যার আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেননি, এবং আবারও এস্টেট পরিচালক বরাবর এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দিতে বলেন। আমরা ৬ মাস আগে দিয়ে এখনও অফিশিয়াল বিবৃতি পাইনি বললে, স্যার বলেন, সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপনের পর বাতিল হয়েছে। এই স্মারকলিপি উনি গ্রহণ করতে পারবেন না আবারও এস্টেট হয়ে আসতে হবে । স্যার বলেছেন, বিষয়টা উনি পরবর্তীতে দেখবেন ।

তিনি আরও জানান, আমরা এরপর শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক স্যার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে, স্যার রিসিভ করেন স্মারকলিপি এবং এটা এস্টেট পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি ফরোয়ার্ড করেন। পরবর্তীতে আমরা এস্টেট পরিচালক স্যার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করি,স্যার বিষয় টা নিয়ে ভিসি স্যার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন এবং আমরা সময় জানতে চাইলে,৮-৯ জুলাই পরবর্তী আপডেট স্যার থেকে নিতে বলেন। আমরা জানি না পরবর্তীতে আমরা আমাদের বেসিক হিউম্যান রাইটস এর জন্য কতখানি সহযোগিতা পাবো।যেখানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্দা কর্ণার খুব সুন্দরভাবেই মেইনটেনেন্স হচ্ছে, সেখানে কেন কালক্ষেপণ হচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তা আমার বোধগম্য নয়।"

২০১৮-১৯ সেশনের আরেক শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা নূপুর জানান, "আমরা অযৌক্তিক এবং অসম্ভব কোনো দাবী করিনি। আমরা বলিনি ক্যাফেটেরিয়া আলাদা হোক, শুধু একটি ছোট জায়গা পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার মতো সরল ও যৌক্তিক সমাধান চেয়েছি যা খুবই সহজ এবং এতে বাড়তি খরচ বা কাঠামো পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হবে না। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মকে অবহেলা নয়। এই কর্নার প্রতিষ্ঠা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয় বরং আমাদের মৌলিক অধিকার।  আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চেতনা, মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকারকে সম্মান জানিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে এস্টেট অফিসের পরিচালক ড. মো. আশারাফ আলী জানান, "আমার কাছে স্মারকলিপি এসেছে আমি গ্রহণ করেছি। এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য এটি আলোচনা সভায় পাঠাবো। এর বেশি আমি মন্তব্য করতে পারবো না।"



‎‎শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম বলেন,
"আমার কাছে ছাত্রীরা একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। আমি সেটি এস্টেট অফিসে ফরওয়ার্ড করে দিচ্ছি। এ বিষয়ে এস্টেট অফিস থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অতএব, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নই।"

‎নারী শিক্ষার্থীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে ক্যাম্পাসে একটি সমতা ও মর্যাদাভিত্তিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    গাজায় চলমান নৃশংসতার প্রতিবাদে ইবিতে 'শোক বই লেখা' ক্যাম্পেইন শুরু

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৩০ জুন, ২০২৫ ১৯:৩৬
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    গাজায় চলমান নৃশংসতার প্রতিবাদে ইবিতে 'শোক বই লেখা' ক্যাম্পেইন শুরু

    বাংলাদেশের মানবিক সংগঠন ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’ এর পক্ষ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শুরু হয়েছে ‌‘শোক বই লেখা’ ক্যাম্পেইন। গাজায় চলমান নৃশংসতা ও ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের প্রতি আবেগ, অনুভূতি ও প্রতিবাদের ভাষা দিয়ে লিখিত দলিল তৈরির লক্ষ্যে এই ক্যাম্পেইন শুরু করেন তারা।

    রবিবার (২৯ জুন) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাল চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই লেখা সংগ্রহ কর্মসূচি আগামী ৩-৪ দিনব্যাপী চলবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত লেখাগুলো একত্রিত করে একটি বৃহৎ শোক বই হিসেবে সংকলন করা হবে। যা নিবেদিত থাকবে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের প্রতি। সাক্ষী দিবে মুক্তির দলিল হিসেবে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন এই মানবিক উদ্যোগে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর-সহ হাতে লেখা শোকবার্তা জমা দিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী মানবিক দলিল হিসেবে সংরক্ষিত হবে।

    সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বইটি পরবর্তীতে দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সেলিব্রেটি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের মূল্যবান মন্তব্যে সমৃদ্ধ করে ঢাকার একটি জাতীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে। যেন আগামী প্রজন্ম জানতে পারে- ‘আমরা নীরব থাকিনি। পাশে ছিল বাংলাদেশ’।

    এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের ইবি প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ার জানান, ‘গাজায় যা ঘটছে, তা সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে পারে। শক্তিশালী দলিল হিসেবে শোক বই প্রকাশে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা তরুণ প্রজন্ম চাই শান্তি, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতা। এই শোক বই শুধু একটি দলিল নয়, এটি হবে ন্যায়বিচারের দাবিতে লেখা একটি মানবিক ইতিহাস।’

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৩০ জুন, ২০২৫ ১৭:১৩
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান

      "একটি হলেও বৃক্ষরোপণ করব জনে জনে, সবুজ দেশের সুস্থ বাতাস লাগুক সবার প্রাণে" প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান পালিত হয়েছে।

      সোমবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে তিন টায় কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুম এর নেতৃত্বে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহা: শামীম উদ্দিন, কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেনসহ ছাত্রশিবির অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

      রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহা: শামীম উদ্দিন বলেন, মাসব্যাপী আমাদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে সেই ধারাবাহিকতায় আজকে রাজশাহী কলেজে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাজশাহীতে তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা রাজশাহী মহানগর কে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। 

      এছাড়াও তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির এই মাসে উদ্যোগ নিয়েছিল দশ লক্ষ্য বৃক্ষ রোপণের। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এখন পর্যন্ত শুধু রাজশাহী মহানগরে প্রায় তিন হাজার বৃক্ষ রোপণ করেছি।

      রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, আমরা উদ্যোগ নিয়েছি রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসের কোনো জায়গা যেন ফাঁকা অবস্থায় পড়ে না থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কলেজ ক্যাম্পাসের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি।

      বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে কলেজের বিভিন্ন প্রাঙ্গণে পলাশ ফুল, বকুল ফুল, আমড়া গাছ, বেল গাছ, কাঠ বাদামসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ লাগানো হয়।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        কুবি সায়েন্স ক্লাবের নবীন বরণ ও বিজ্ঞান কর্মশালা অনুষ্ঠিত

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৩০ জুন, ২০২৫ ১৬:১৫
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        কুবি সায়েন্স ক্লাবের নবীন বরণ ও বিজ্ঞান কর্মশালা অনুষ্ঠিত

        “বিজ্ঞানকে জানো, বিশ্বকে জানো” প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব ২০২৩-২৪ সেশনের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও বিজ্ঞানচর্চা উৎসাহিত করতে আয়োজন করে ‘নবীন বরণ ও বিজ্ঞান কর্মশালা’।

        সোমবার (৩০ জুন) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের হলরুমে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয় আকর্ষণীয় উপহার ও শুভেচ্ছা বার্তার মাধ্যমে।

        অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গোমতি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. মো. মুজিবুর রহমান, ক্লাবের উপদেষ্টা ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড.মো: শহাদাত হোসেন, আইসিটি বিভাগের প্রভাষক খোন্দকার অলিউল্লাহ,ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মাসুদ পারভেজ সবুজ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবং বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রাণবন্তভাবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

        ক্লাবের উপদেষ্টা ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড.মো: শহাদাত হোসেন বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবকে এমনভাবে কাজ করে যেতে হবে, যাতে তারা কুমিল্লা অঞ্চলে বিজ্ঞানচর্চাকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারে। পাশাপাশি, তাদের কর্মকাণ্ড যেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়ে সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নবীন সদস্যদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।"

         আইসিটি বিভাগের প্রভাষক খোন্দকার অলিউল্লাহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার উপর আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চিকিৎসা খাতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। রোগ শনাক্তকরণ, স্বাস্থ্য পূর্বাভাস এবং রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে AI অত্যন্ত কার্যকর। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নৈতিক সচেতনতা জরুরি।”

        ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর শুধু মেধাই নয়, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা যেমন সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম — একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

        গোমতি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. মো. মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বুদ্ধিবৃত্তিক সচেতনতা ও শারীরিক ফিটনেস বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, “যারা ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে, তাদের অবশ্যই নিজেকে শারীরিকভাবে ফিট ও মানসিকভাবে সচেতন রাখতে হবে। প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য জ্ঞানের সমন্বয় একজন তরুণকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।”

        সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি জনি সরকার বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ, বিজ্ঞান কর্মশালা, প্রজেক্ট, বিজ্ঞান উৎসব পরিচালনা করে আসছে। তোমরা অনুজ যারা আছো, তোমরাই সায়েন্স ক্লাবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। সায়েন্স ক্লাব একটি পরিবারের মতো, সেই পরিবারে অগ্রজ-অনুজ সবার দৃঢ় বন্ধন ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে সায়েন্স ক্লাব আরও অনেক দূর এগিয়ে যাক। সর্বোপরি সায়েন্স ক্লাবের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।”

        অনুষ্ঠানের শেষাংশে  অনুষ্ঠিত হয় কেস স্টাডি প্রতিযোগিতা। নির্বাচিত বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।

        প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        সাভার থেকে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মাহিরা

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৩০ জুন, ২০২৫ ১০:৩৩
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        সাভার থেকে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মাহিরা

        এইচএসসি পরীক্ষার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মাহিরা বিনতে মারুফ পিউলী উদ্ধার হয়েছেন।

        রবিবার(২৯শে জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাভার থেকে র‍্যাব-৪ প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

        এদিন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে র‍্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএন রায় নিয়তি এ তথ্য জানিয়েছেন।

        সংবাদমাধ্যমে পাঠানো ক্ষুদেবার্তায় তিনি বলেন, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহিরা বিনতে মারুফ পুলিকে সাভার থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৪। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

        নিখোঁজ পিউলি উদ্ধার হওয়ার পরবর্তীতে র‍্যাবের কাছে দাবি করেছেন, পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে হলে যাওয়ার পথে এক নারীর খপ্পরে পড়েন। তার নাকে কিছু একটা ছোয়ানোর পরে তিনি জ্ঞান হারান। এরপর তাকে সাভারের নির্জন একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছু সময় থাকার পরে তার জ্ঞান ফেরে। এরপর তাকে একটি পোশাক দেওয়া হয় কলেজের ড্রেস পরিবর্তন করার জন্য৷ এই পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি ওই স্থান থেকে বেড়িয়ে আসেন৷ আশেপাশে জঙ্গল থাকায় তিনি দিগ্বিদিক হয়ে দৌড়াতে থাকেন। একটা পর্যায়ে রাস্তায় তিনি র‍্যাব-৪ এর একটি গাড়ি দেখেন। গাড়িতে থাকা র‍্যাব সদস্যদের কাছে ঘটনা খুলে বললে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাতে তাদের হাতে তুলে দেয় র‍্যাব।

        তবে ভুক্তভোগী পুলির দেওয়া বক্তব্য যাচাই করতে পারেনি র‍্যাব।

        এর আগে, রোববার (২৯ জুন) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হন মাহিরা। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর বাসায় ফেরেননি।

        পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর ১টার দিকে তার পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাহিরা বাড়ি না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে খোঁজ নিতে যায়। সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, মাহিরা ওই দিন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিতই হননি।

        এ ঘটনায় সন্ধ্যার দিকে মাহিরার পরিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এরপর থেকেই তার খোঁজে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত