শিরোনাম
সাভার থেকে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মাহিরা
এইচএসসি পরীক্ষার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মাহিরা বিনতে মারুফ পিউলী উদ্ধার হয়েছেন।
রবিবার(২৯শে জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাভার থেকে র্যাব-৪ প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এদিন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে র্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএন রায় নিয়তি এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো ক্ষুদেবার্তায় তিনি বলেন, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহিরা বিনতে মারুফ পুলিকে সাভার থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৪। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিখোঁজ পিউলি উদ্ধার হওয়ার পরবর্তীতে র্যাবের কাছে দাবি করেছেন, পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে হলে যাওয়ার পথে এক নারীর খপ্পরে পড়েন। তার নাকে কিছু একটা ছোয়ানোর পরে তিনি জ্ঞান হারান। এরপর তাকে সাভারের নির্জন একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছু সময় থাকার পরে তার জ্ঞান ফেরে। এরপর তাকে একটি পোশাক দেওয়া হয় কলেজের ড্রেস পরিবর্তন করার জন্য৷ এই পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি ওই স্থান থেকে বেড়িয়ে আসেন৷ আশেপাশে জঙ্গল থাকায় তিনি দিগ্বিদিক হয়ে দৌড়াতে থাকেন। একটা পর্যায়ে রাস্তায় তিনি র্যাব-৪ এর একটি গাড়ি দেখেন। গাড়িতে থাকা র্যাব সদস্যদের কাছে ঘটনা খুলে বললে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাতে তাদের হাতে তুলে দেয় র্যাব।
তবে ভুক্তভোগী পুলির দেওয়া বক্তব্য যাচাই করতে পারেনি র্যাব।
এর আগে, রোববার (২৯ জুন) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হন মাহিরা। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর বাসায় ফেরেননি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর ১টার দিকে তার পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাহিরা বাড়ি না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে খোঁজ নিতে যায়। সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, মাহিরা ওই দিন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিতই হননি।
এ ঘটনায় সন্ধ্যার দিকে মাহিরার পরিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এরপর থেকেই তার খোঁজে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাঙলা কলেজ শিক্ষার্থীর উপর হামলার অভিযোগবাঙলা কলেজ শিক্ষার্থীর উপর হামলার অভিযোগ
সরকারি বাঙলা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী তাজমুল ইসলাম জিতু (২৩) মিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাজমুল ইসলাম জিতু মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি মিরপুর মডেল থানাধীন হাবুলের পুকুরপাড় এলাকার সায়েদআলী রোডের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
ঘটনার বিবরণে বলা হয়, গত ২৮ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জিতুর রুমমেট আনিস তাকে ফোন করে বাসার নিচে নামতে বলেন। নিচে গিয়ে জিতু দেখতে পান, তার রুমমেটের সঙ্গে অভিযুক্ত মো. সুমনের (৩৫) কাপড় শুকানো নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছে। জিতু পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তার রুমমেট সেখান থেকে সরে যায়। পরে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টিউশনি করতে যাওয়ার পথে মিরপুর সেকশন-১ এর ছাপাখানা মোড় এলাকায় পৌঁছালে সুমন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জন একত্রিত হয়ে জিতুর পথরোধ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্তরা জিতুর ওপর এলোপাতাড়ি কিলঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারতে থাকে। একপর্যায়ে সুমন তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে জিতুর কোমরের নিচে এবং দুই পায়ে বেধড়ক আঘাত করে। অন্য একজন লোহার রড দিয়ে জিতুর মাথায় আঘাত করতে গেলে জিতু হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে ডান হাতের কব্জি ও বাম হাতের বৃদ্ধ আঙুলের গোড়ায় গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে জোর করে পাশের একটি দোকানে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে জিতুর কলেজের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন।
আহত অবস্থায় প্রথমে জিতুকে মিরপুর-১ ডেল্টা হাসপাতালে এবং পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জিতু।
জানা গেছে, অভিযুক্ত সুমন ঢাকা মহানগরীর মিরপুর থানাধীন ১১ নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ পত্রটি এখন পর্যন্ত হাতে পাইনি। তবে, হাতে পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগীর পরিবার ও সহপাঠীরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় উক্ত এলাকায় বসবাসরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ছবি: আহত শিক্ষার্থী জিতু (বামে) এবং অভিযুক্ত যুবদল নেতা সুমন (লাল চিহ্নিত)
এস এম মঈন,
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, সরকারি বাঙলা কলেজ
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসে নিখোঁজ মাহিরা
রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন মাহিরা বিনতে মারুফ পিউলি নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন, তার পরিক্ষাকেন্দ্র ছিলো মিরপুর কলেজে।
রবিবার (২৯ জুন) সকাল ৮টার দিকে পরীক্ষাকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলেও তিনি আর পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাননি, ফেরেন নি বাড়িতেও। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মাহিরার বাসা ভাটারা থানাধীন জগন্নাথপুর এলাকার কেবি বিল্ডিং, যমুনা হাজী সমীর উদ্দিন রোডে। তার বাবার নাম মো. আব্দুল্লাহ আল মারুফ এবং মায়ের নাম রেহানা পারভীন।
মাহিরার বড় বোন জানান, ঐদিন দুপুর ১টার দিকে তার পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাহিরা বাড়ি না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে খোঁজ নিতে যায়। সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, মাহিরা ওই দিন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিতই হননি।
এ ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে মাহিরার পরিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাহিরার গায়ের রং ফর্সা, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি এবং নিখোঁজের সময় তার পরনে ছিল সাদা কলেজ ড্রেস। এ ঘটনায় বড় বোন মারিয়া বিনতে মারুফ ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর: ১৩৩৬/২৫) করেছেন। নিখোঁজ মাহিরার সন্ধান পেলে ভাটারা থানা বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মাহিরার খোঁজ পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আসাদুজ্জামান জানান, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। এখনো পর্যন্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাইনি। তবে আমরা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালাচ্ছি। কোনো খবর পেলেই সাথে সাথে পরিবারকে অবহিত করা হবে।”
চবি বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ, পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে মানববন্ধন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফলাফলে ‘অবিচারমূলক আচরণের’ অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৯ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফলাফল গত ২৬ মে ২০২৫ প্রকাশিত হয়। ফলাফলে দেখা যায়, যেখানে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী ৩.০০-এর নিচে সিজিপিএ পেয়েছিলেন, সেখানে স্নাতকোত্তরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে। যা ব্যাখ্যাতীত এবং অস্বাভাবিক বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
তাদের ভাষ্য, একই ব্যাচের সম্মান পরীক্ষার ফলাফলের তুলনায় এই ফলাফলে চরম অসঙ্গতি রয়েছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, যা সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ বলে তারা মনে করছেন।
মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা চাই নিরপেক্ষভাবে আমাদের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হোক। এতে যদি কেউ ন্যায্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তারা যেন প্রকৃত মূল্যায়ন পান।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা উচিত। একজন শিক্ষক যেন তার মতাদর্শগত বা ব্যক্তিগত পক্ষপাতের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিনষ্ট করতে না পারেন, সে বিষয়টি প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগের দীর্ঘদিনের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের ব্যাচ প্রতিবাদ করে আসছিল। এর জের ধরেই এবার পরীক্ষার ফলাফলে তাদের ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
শিক্ষার্থীরা ফলাফল বাতিল করে নতুনভাবে নিরপেক্ষ খাতা মূল্যায়নের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। দাবি আদায় না হলে পরবর্তী কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
ঢাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে ছাত্রশিবিরের ৪ দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সদ্য ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত সংকট নিরসনে চার দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
রোববার (২৯ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবাসনসংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। অথচ তাদের নিয়মিত পাঠদান আগামী ২রা জুলাই ২০২৫ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ফলে নবাগত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে পার করছেন। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই উদ্বেগ আরও প্রকট হয়ে ওঠেছে।
ছাত্রশিবির দাবি করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হলে সিট পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং প্রথম বর্ষেই সিট বরাদ্দ পাওয়া তাদের একটি মৌলিক ও ন্যায্য অধিকার। এই প্রেক্ষাপটে তারা চারটি দাবি উত্থাপন করেছে—
১। নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য অবিলম্বে আবাসনসংক্রান্ত একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর আবাসিক থাকার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, তাদের সিট বাতিল করে নবাগতদের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। সিট বরাদ্দে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতহীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
২। সিট সংকটের অস্থায়ী সমাধান হিসেবে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে হবে। এবং সেখান থেকে মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের হলে স্থানান্তরের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩। অথবা, শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা হারে আবাসনভাতা (বৃত্তি) প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যতদিন সিট বরাদ্দ সম্ভব না হবে, ততদিন এ ভাতা বহাল থাকবে। সিট বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বৃত্তি বন্ধ হয়ে যাবে।
৪। জুলাইয়ের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যেই গণরুম সংস্কৃতির কবর রচিত হয়েছে সেই সংস্কৃতি যেন শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আবারও ফিরে না আসে। প্রশাসন যেন কোনভাবেই সংকটের আপাত সমাধান হিসেবে গণরুম সৃষ্টির অপচেষ্টা না করে।
এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রশিবির সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, ক্যাম্পাসে আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু মহল (বড় ভাই) সেজে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিচ্ছে ‘তোমাদের সিট দেব, তোমরা চলে এসো’। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সাময়িকভাবে আশ্বস্ত হলেও, এটি একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ। আবাসন সংকট এখনো নিরসন না হওয়ায়, এই সুযোগকে ব্যবহার করে তারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। ফলে শেষমেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরাই। এমন পরিস্থিতিতে আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি—যাতে তারা অবিলম্বে আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেন। এছাড়াও আমরা প্রশাসনকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, শিক্ষার্থীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যেন ‘গণরুম’ সংস্কৃতি আবারও হলে ফিরে না আসে।
ছাত্রশিবিরের ভাষ্য অনুযায়ী স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপাচার্য আশ্বস্ত করে বলেন, ডিন’স কমিটি, প্রভোস্ট কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ছাত্রদের আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় নেওয়া করা হবে।
প্রসঙ্গত, এর পূর্বেও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ছাত্রীদের আবাসন বৃত্তি প্রদানের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রীদের আবাসন ভাতা প্রদানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য