শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ডিসিপ্লিনভিত্তিক কাউন্সেলিংয়ে গুরুত্ব দিতে হবে : খুবি উপাচার্য
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনে `Understanding the Risk of Suicide and How to Save Lives’ শীর্ষক কর্মশালা আজ ২৮ জুন (শনিবার) অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিবেশে শিক্ষার্থীদের নানামুখী মানসিক চাপ ও হতাশাজনিত কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা একটি উদ্বেগজনক সামাজিক বাস্তবতা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ বাস্তবতা থেকে মুক্ত নয়। এজন্য আমাদের প্রয়োজন একটি সমন্বিত উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার। এই পরিবারে কেউ সংকটে পড়লে তাকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। আত্মহত্যা কখনো কোনো সমাধান নয়। বরং জীবনের প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলায় শক্ত মনোবল ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলা দরকার। এজন্য প্রতিটি ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের উচিত- ৫ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীর একটি করে গ্রুপ গঠন করে নিয়মিত কাউন্সেলিং করা, তাদের কথা শোনা, বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা এবং যথাযথ পরামর্শ দেওয়া।
উপাচার্য বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং সচেতন একাডেমিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের আবেগ-অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করতে পারবে। মনে রাখতে হবে, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের উপর। সেই ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা শিক্ষকদের দায়িত্ব।
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলাম এর সভাপতিত্বে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের ডাঃ এস এম সাইফুল ইসলাম রাজু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ ইয়াছিন আলী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ সুমন ইসলাম ও জারিন তাসনিম স্বর্ণা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টেকনিক্যাল সেশনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলাম, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ আনিসুর রহমান, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ মতিউল ইসলাম, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের ডাঃ এস এম সাইফুল ইসলাম রাজু।
এ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নোবিপ্রবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অংশগ্রহণে শিক্ষক পরিষদ গঠন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সকল প্রকার ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্বেও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অংশগ্রহণে সাধারণ শিক্ষক পরিষদ গঠন করার অভিযোগ উঠেছে। কট্টর আওয়ামীপন্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের বহিষ্কৃত আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাদশা মিয়াসহ চিহ্নিত আওয়ামীপন্থী অনেক শিক্ষক নেতা সাধারণ শিক্ষক পরিষদ গঠনের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন বলে জানা যায়৷
গতকাল শুক্রবার (২৭ জুন) সাধারণ শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানাো হয়। বার্তা প্রেরক ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ কাইয়ুমের সাক্ষরিত ঐ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ২৪.০৬.২৫ ইং তারিখে আইকিউএসি সেমিনার রুমে সাধারণ শিক্ষকদের সাথে আলোচনা এবং ২৬.০৬.২০২৫ ইং তারিখে অনলাইনে (জুম মিটিংয়ে) সাধারণ শিক্ষকদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত জোরালোভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করার জন্য একটি অন্তবর্তীকালীন "নোবিপ্রবি সাধারণ শিক্ষক পরিষদ" গঠন করার প্রস্তাব আসে। গঠিত কমিটি পরবর্তী শিক্ষক সমিতির নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নোবিপ্রবি শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সাধারণ শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট (জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়) একটি কমিটির অনুমোদন করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ভবিষ্যতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছক কষেছেন বিএনপি-জামাত পন্থী শিক্ষকরা। এতে নিজেদের ভোটের পাল্লা ভারি করতে শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যায় করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি পাওয়া আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদেরও কাছে টানছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে সাধারণ শিক্ষকদের নাম করে গুটিকয়েক শিক্ষক নিয়ে করা মিটিং এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়েজ আহমদের ইস্যু এবং পর্দা নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে শাস্তি প্রাপ্ত আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাদশা মিয়াকে। এছাড়াও ১৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে স্বৈরাচার সরকারের আমলে আওয়ামীপন্থী নীল দলের পদধারী নেতাকেও রাখা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাধারণ শিক্ষক পরিষদ গঠনের উদ্দেশ্যে গত ২৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি রুমে মাত্র ২৫-৩০ জন শিক্ষক নিয়ে একটি আলোচনা সভা করা হয়। পরবর্তীতে মাত্র প্রায় ৮০ জন শিক্ষক গত ২৬.০৬.২৫ (বৃহস্পতিবার) অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্ম) অনুষ্ঠিত মিটিয়ে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৪২১ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রশ্ন উঠেছে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষক নিয়ে শিক্ষক সমিতির বিকল্প হিসেবে নোবিপ্রবির পুরো শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন তৈরি করা আদৌ কতটুকু যুক্তিসঙ্গত।
এ বিষয়ে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী অধ্যাপক জানান, শিক্ষক সমিতির বিকল্প হিসেবে যে শিক্ষক সংগঠন দাড় করানো হচ্ছে তা আরো গঠনতান্ত্রিক হওয়া উচিত ছিলো। ১৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি আগে থেকেই প্রস্তুত করে এভাবে ঘোষণা করা কোনো নিয়মের মধ্যে পড়তে পারে না। শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন অবশ্যই অধিকাংশ শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা সাধারণ শিক্ষক পরিষদের সদস্য বিএনপি পন্থী শিক্ষক নেতা অধ্যাপক ড. মাসুদ কাইয়ুম বলেন, আমরা শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের আগে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বকারী সাধারণ শিক্ষক পরিষদ গঠন করেছি। এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। শুধুমাত্র শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই সংগঠন কাজ করবে। অনলাইনে করা জুমে প্রায় ৮২ জন শিক্ষক অংশগ্রহন করেছেন।
আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে উক্ত শিক্ষক নেতা বলেন, প্রোগ্রামে সকল শিক্ষকের অংশগ্রহনের সুযোগ ছিলো। যেহেতু এটি শিক্ষকদের প্লাটফর্ম, আমরা কাউকে বাধা দিতে পারি না। আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাদশা মিয়া সাময়িক সময়ের জন্য বহিষ্কার হলেও তিনি একজন শিক্ষক। তাই উনাকেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এপ্লাইড ম্যাথ বিভাগের চেয়ারম্যান ও জামায়াত পন্থী শিক্ষক নেতা সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, শিক্ষক সমিতি যেহেতু নাই তাই শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষার্থে সাধারণ শিক্ষক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে আমাদের প্রায় সময় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে হয়৷ তখন আমরা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। তাই শিক্ষকদের সংগঠন হিসেবে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষক পরিষদ কাজ করে যাবে।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য প্রশাসনের দরজা সবসময় খোলা। তারা যে কোনো সময় তাদের দাবি-দাওয়া প্রশাসনের কাছে পেশ করতে পারে। এক্ষেত্রে কেউ চাইলে ব্যক্তি হিসেবে চাইলে তুলে ধরতে পারে আবার সম্মিলিতভাবেও তুলে ধরতে পারে। সাধারণ শিক্ষক পরিষদ যেহেতু প্রশাসনের অংশ নয় তাই এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
চবিতে আর্থিক অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর ভর্তির দায়িত্ব নিলেন বিএনপি নেতা নোমান
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী এক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপি নেতা সাঈদ আল নোমান (তূর্য্য)। পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়া সেই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীটি ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক হাসান আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা শাফায়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, তার পিতা আর বেঁচে নেই এবং পরিবার চরম আর্থিক সংকটে আছে। ৩০ জুন ভর্তির শেষ দিন হলেও নির্ধারিত টাকা সংগ্রহে ব্যর্থ হয় পরিবার। বিষয়টি জানার পর ছাত্রদলের নেতারা তাৎক্ষণিক সাঈদ আল নোমানকে অবহিত করলে, তিনি শিক্ষার্থীটির সম্পূর্ণ ভর্তির দায়িত্ব নেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক হাসান আহমেদ বলেন, “ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার পাশে থেকেছে। ভর্তির এই অনিশ্চয়তার কথা জানার পরেই আমরা আমাদের নেতা ও শিক্ষানুরাগী সাঈদ আল নোমান ভাইকে জানাই। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই দায়িত্ব নেন এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।”
ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমের জন্মদিন আজ
আজ ২৮শে জুন, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজসেবক প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আবুল কাসেমের ১০৫তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ (তৎকালীন পটিয়া) উপজেলার বরমা ইউনিয়নের সেবন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই মহান ব্যক্তিত্বের অবদান বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, উচ্চশিক্ষায় মাতৃভাষার ব্যবহার এবং জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে আজও সগৌরবে উচ্চারিত হয়।
প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। ১৯৩৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনটি বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। এরপর ১৯৪১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নিখিল ভারতের মুসলিম ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক এবং ১৯৪৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন, যেখানে বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অধীনে তিনি তাঁর থিসিস সম্পন্ন করেন।
১৯৪৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। তৎকালীন সময়ে যেখানে উর্দু এবং ইংরেজীতে পাঠদান করানো হতো, সেখানে তিনি যোগদান করেই বাংলায় ক্লাস নেওয়ার মতো সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পেছনে যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর রচিত ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু?’ নামক ক্ষুদ্র এক পুস্তিকা প্রকাশ হলে সেটি পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রভাষা হবে সেই ভাষা, যা দেশের অধিকাংশ মানুষের মাতৃভাষা।” এই পুস্তিকাটি ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সুসংহত ও তথ্যনির্ভর প্রকাশনা। পরবর্তীতে "তমদ্দুন মজলিস" প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা ভাষার পক্ষে যে আন্দোলনের সূচনা হয়, তা-ই পরবর্তীতে জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়।
বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের দূরদর্শিতা ছিল অনস্বীকার্য। এর ফলস্বরূপ ১৯৬২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন "বাঙলা কলেজ", যা আজও তাঁর আদর্শে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনন্য; তিনি প্রায় ১০০টি গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে ৪০টি পদার্থবিদ্যা বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক এবং বাকিগুলো শিক্ষা, ইসলাম, সংস্কৃতি ও রাজনীতি বিষয়ক।
শুধু শিক্ষাবিদই নন, মোহাম্মদ আবুল কাসেম ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদও। প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য থাকাকালীন ১৯৫৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি সর্বপ্রথম সরকারি ও শিক্ষার সকল স্তরে বাংলা ভাষা চালু করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল।
বাঙালি জাতির বিকাশে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮২), একুশে পদক (১৯৮৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর, ১৯৯৩), ইসলামী ফাউন্ডেশন পুরস্কার (১৯৮৮), পাকিস্তান রাইটার্স গিল্ড পুরস্কার (১৯৬৪) সহ আরও অনেক সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁকে স্বর্ণপদক, সংবর্ধনা ও সম্মাননায় ভূষিত করে।
১৯৯১ সালের ১১ মার্চ, তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু রেখে যান এক গভীর চেতনাবোধ, এক ভাষাপ্রেমিক উত্তরাধিকার। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে আবুল কাসেম ছিলেন সেতুবন্ধনের মতো—একদিকে রাজনৈতিক আন্দোলন, অন্যদিকে একাডেমিক সংগ্রামকে একত্র করে ভাষা ও জাতিসত্তার ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন।
প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ছিলেন এক বিস্ময়কর মানবপ্রতিভা, যিনি জ্ঞানের আলো, ভাষার মর্যাদা ও জাতীয় চেতনার সোপানে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন নিরলসভাবে। তিনি শুধু ভাষা আন্দোলনের পথিকৃতই নন, ছিলেন একাধারে শিক্ষক, চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক ও সংগঠক—যাঁর প্রত্যেকটি পরিচয়ে ছিল দেশপ্রেমের দীপ্ত প্রতিফলন। যাঁর কলমের জোরে ভাষা আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত গড়ে ওঠে, যাঁর নেতৃত্বে জাতি প্রথম দাবি করে বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, যিনি উচ্চশিক্ষায় মাতৃভাষার দিগন্ত খুলে দেন বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে—তাঁর জন্মদিনে কৃতজ্ঞ জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে।
পোস্ট মডার্ন দুনিয়ায় জাতি যখন ভাষা ও সংস্কৃতির আধুনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন তাঁর চিন্তা ও কীর্তি নতুনভাবে পথ দেখাতে পারে জাতিকে। তরুণ প্রজন্মের উচিত তাঁর জীবনী থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখা। তাঁর নীরব সংগ্রাম, নির্ভীক উচ্চারণ, এবং দীপ্ত জীবনাদর্শ আমাদের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে চিরকাল। তিনি শুধু ইতিহাসের একটি নাম নন -তিনি বাংলা ভাষার অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার এক জীবন্ত প্রতীক।
এস এম মঈন
শিক্ষার্থী, সরকারী বাঙলা কলেজ।
সাপ, মশা আর দুর্গন্ধের সাথে বসবাস; রিডিংরুমে নেই পড়ার উপযুক্ত পরিবেশ
সরকারি বাঙলা কলেজের প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ছাত্রাবাস নিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। সিট বরাদ্দের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা এখনও বঞ্চিত মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে, প্রশাসনের বারবার আশ্বাসেও আসছে না কোনো বাস্তবিক পরিবর্তন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল আবুল কাসেম ছাত্রাবাস। নানা জল্পনা-কল্পনার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর পুনরায় ছাত্রাবাসটি খোলা হয়। শিক্ষার্থীরা মনে করেছিলেন, এবারের সংস্কারে পরিবেশ বদলাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটে ঠিক উল্টোটা।
উল্লেখ্য, ছাত্রাবাস চালু হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলেন দ্রুত চালুর দাবি নিয়ে। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ‘ছাত্রাবাস রং করে সুন্দরভাবে ১ নভেম্বর খোলা হবে।’ কিন্তু খোলার পর দেখা যায়, কোনো রং বা সংস্কার হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রাবাসের বড় বড় সমস্যা:
১. চেয়ার-টেবিল সংকট: ছাত্রাবাসের অধিকাংশ কক্ষে এখনও নেই মানসম্পন্ন চেয়ার ও টেবিল। অনেক শিক্ষার্থী ভাঙা ও পুরোনো আসবাবেই কোনো রকমে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তৈরি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।
২. রিডিং রুম অকার্যকর: ছাত্রাবাসের রিডিং রুমে নেই প্রয়োজনীয় আলো, ফ্যান কিংবা আসবাব। বাইরে থেকে আসা শব্দও সেখানে পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করছে। থাই গ্লাস লাগানোর কথা বলা হলেও এখনও তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।
৩. পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থায় গাফিলতি, মশার উপদ্রব তীব্র: প্রতিটি ফ্লোরের বেসিন থেকে পানি নিচে গড়িয়ে পড়ে নিচতলার কক্ষগুলোর সামনে জমে থাকে। এর ফলে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব দেখা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কখনো কখনো সেই পানি রুমের ভেতরেও ঢুকে পড়ে।
৪. ছাত্রাবাসের আশপাশে আবর্জনার স্তূপ ও ঝোপঝাড়: ছাত্রাবাসের সামনে জঙ্গলের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে আবর্জনার স্তূপ, দুর্গন্ধ এবং সাপের উপদ্রব শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একাধিকবার সাপ দেখা যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
৫. হোস্টেল সুপারের অনুপস্থিতি: ছাত্রাবাসের সাথে থাকা হোস্টেল সুপারের কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সেখানে কাউকে দেখা যায় না। ফলে শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ কিংবা প্রয়োজনে সহায়তা মেলে না।
এই বিষয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ছাত্র প্রতিনিধি সভাগুলোতেও সমাধান হয়নি। অধ্যক্ষের কাছেও গিয়েছি, তবু পরিবর্তন আসেনি।”
আবাসিক শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ছাত্রাবাসে সমস্যা দীর্ঘমেয়াদী হলেও এখনো সেগুলোর সঠিক ও দ্রুত সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, “এবার কেবল আশ্বাস নয়, চাই বাস্তব পদক্ষেপ।”
এই বিষয়ে জানতে চাইলে হোস্টেল সুপার জনাব কামরুন নাহার জানান, “৫ আগস্টের পর ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, কিন্তু আমরা নানা ভাবে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছি। এ বছরের জন্য ৫ লাখ টাকার বাজেট এসেছে, কাজ শুরু হবে খুব দ্রুত। পরবর্তীতে আরও বাজেট আসবে।”
ছাত্রাবাসের সার্বিক বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান বলেন, “ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরীণ সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৫ লাখ টাকার একটি বাজেট এসেছে, সেটি কার্যকর হলেই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।”
ছাত্রাবাসের পরিবেশ যদি দ্রুত শিক্ষার উপযোগী করে তোলা না হয়, তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়বে—এমনটাই আশঙ্কা করছেন সবাই। শিক্ষার্থীদের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়, দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে সমাধান শুরু করতে হবে।
এস এম মঈন,
প্রতিনিধি, সরকারি বাঙলা কলেজ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য