শিরোনাম
ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমের জন্মদিন আজ
আজ ২৮শে জুন, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজসেবক প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আবুল কাসেমের ১০৫তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ (তৎকালীন পটিয়া) উপজেলার বরমা ইউনিয়নের সেবন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই মহান ব্যক্তিত্বের অবদান বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, উচ্চশিক্ষায় মাতৃভাষার ব্যবহার এবং জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে আজও সগৌরবে উচ্চারিত হয়।
প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। ১৯৩৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনটি বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। এরপর ১৯৪১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নিখিল ভারতের মুসলিম ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক এবং ১৯৪৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন, যেখানে বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অধীনে তিনি তাঁর থিসিস সম্পন্ন করেন।
১৯৪৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। তৎকালীন সময়ে যেখানে উর্দু এবং ইংরেজীতে পাঠদান করানো হতো, সেখানে তিনি যোগদান করেই বাংলায় ক্লাস নেওয়ার মতো সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পেছনে যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর রচিত ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু?’ নামক ক্ষুদ্র এক পুস্তিকা প্রকাশ হলে সেটি পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রভাষা হবে সেই ভাষা, যা দেশের অধিকাংশ মানুষের মাতৃভাষা।” এই পুস্তিকাটি ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সুসংহত ও তথ্যনির্ভর প্রকাশনা। পরবর্তীতে "তমদ্দুন মজলিস" প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা ভাষার পক্ষে যে আন্দোলনের সূচনা হয়, তা-ই পরবর্তীতে জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়।
বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের দূরদর্শিতা ছিল অনস্বীকার্য। এর ফলস্বরূপ ১৯৬২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন "বাঙলা কলেজ", যা আজও তাঁর আদর্শে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনন্য; তিনি প্রায় ১০০টি গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে ৪০টি পদার্থবিদ্যা বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক এবং বাকিগুলো শিক্ষা, ইসলাম, সংস্কৃতি ও রাজনীতি বিষয়ক।
শুধু শিক্ষাবিদই নন, মোহাম্মদ আবুল কাসেম ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদও। প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য থাকাকালীন ১৯৫৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি সর্বপ্রথম সরকারি ও শিক্ষার সকল স্তরে বাংলা ভাষা চালু করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল।
বাঙালি জাতির বিকাশে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮২), একুশে পদক (১৯৮৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর, ১৯৯৩), ইসলামী ফাউন্ডেশন পুরস্কার (১৯৮৮), পাকিস্তান রাইটার্স গিল্ড পুরস্কার (১৯৬৪) সহ আরও অনেক সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁকে স্বর্ণপদক, সংবর্ধনা ও সম্মাননায় ভূষিত করে।
১৯৯১ সালের ১১ মার্চ, তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু রেখে যান এক গভীর চেতনাবোধ, এক ভাষাপ্রেমিক উত্তরাধিকার। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে আবুল কাসেম ছিলেন সেতুবন্ধনের মতো—একদিকে রাজনৈতিক আন্দোলন, অন্যদিকে একাডেমিক সংগ্রামকে একত্র করে ভাষা ও জাতিসত্তার ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন।
প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ছিলেন এক বিস্ময়কর মানবপ্রতিভা, যিনি জ্ঞানের আলো, ভাষার মর্যাদা ও জাতীয় চেতনার সোপানে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন নিরলসভাবে। তিনি শুধু ভাষা আন্দোলনের পথিকৃতই নন, ছিলেন একাধারে শিক্ষক, চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক ও সংগঠক—যাঁর প্রত্যেকটি পরিচয়ে ছিল দেশপ্রেমের দীপ্ত প্রতিফলন। যাঁর কলমের জোরে ভাষা আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত গড়ে ওঠে, যাঁর নেতৃত্বে জাতি প্রথম দাবি করে বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, যিনি উচ্চশিক্ষায় মাতৃভাষার দিগন্ত খুলে দেন বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে—তাঁর জন্মদিনে কৃতজ্ঞ জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে।
পোস্ট মডার্ন দুনিয়ায় জাতি যখন ভাষা ও সংস্কৃতির আধুনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন তাঁর চিন্তা ও কীর্তি নতুনভাবে পথ দেখাতে পারে জাতিকে। তরুণ প্রজন্মের উচিত তাঁর জীবনী থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখা। তাঁর নীরব সংগ্রাম, নির্ভীক উচ্চারণ, এবং দীপ্ত জীবনাদর্শ আমাদের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে চিরকাল। তিনি শুধু ইতিহাসের একটি নাম নন -তিনি বাংলা ভাষার অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার এক জীবন্ত প্রতীক।
এস এম মঈন
শিক্ষার্থী, সরকারী বাঙলা কলেজ।
সাপ, মশা আর দুর্গন্ধের সাথে বসবাস; রিডিংরুমে নেই পড়ার উপযুক্ত পরিবেশ
সরকারি বাঙলা কলেজের প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ছাত্রাবাস নিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। সিট বরাদ্দের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা এখনও বঞ্চিত মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে, প্রশাসনের বারবার আশ্বাসেও আসছে না কোনো বাস্তবিক পরিবর্তন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল আবুল কাসেম ছাত্রাবাস। নানা জল্পনা-কল্পনার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর পুনরায় ছাত্রাবাসটি খোলা হয়। শিক্ষার্থীরা মনে করেছিলেন, এবারের সংস্কারে পরিবেশ বদলাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটে ঠিক উল্টোটা।
উল্লেখ্য, ছাত্রাবাস চালু হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলেন দ্রুত চালুর দাবি নিয়ে। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ‘ছাত্রাবাস রং করে সুন্দরভাবে ১ নভেম্বর খোলা হবে।’ কিন্তু খোলার পর দেখা যায়, কোনো রং বা সংস্কার হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রাবাসের বড় বড় সমস্যা:
১. চেয়ার-টেবিল সংকট: ছাত্রাবাসের অধিকাংশ কক্ষে এখনও নেই মানসম্পন্ন চেয়ার ও টেবিল। অনেক শিক্ষার্থী ভাঙা ও পুরোনো আসবাবেই কোনো রকমে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তৈরি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।
২. রিডিং রুম অকার্যকর: ছাত্রাবাসের রিডিং রুমে নেই প্রয়োজনীয় আলো, ফ্যান কিংবা আসবাব। বাইরে থেকে আসা শব্দও সেখানে পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করছে। থাই গ্লাস লাগানোর কথা বলা হলেও এখনও তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।
৩. পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থায় গাফিলতি, মশার উপদ্রব তীব্র: প্রতিটি ফ্লোরের বেসিন থেকে পানি নিচে গড়িয়ে পড়ে নিচতলার কক্ষগুলোর সামনে জমে থাকে। এর ফলে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব দেখা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কখনো কখনো সেই পানি রুমের ভেতরেও ঢুকে পড়ে।
৪. ছাত্রাবাসের আশপাশে আবর্জনার স্তূপ ও ঝোপঝাড়: ছাত্রাবাসের সামনে জঙ্গলের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে আবর্জনার স্তূপ, দুর্গন্ধ এবং সাপের উপদ্রব শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একাধিকবার সাপ দেখা যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
৫. হোস্টেল সুপারের অনুপস্থিতি: ছাত্রাবাসের সাথে থাকা হোস্টেল সুপারের কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সেখানে কাউকে দেখা যায় না। ফলে শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ কিংবা প্রয়োজনে সহায়তা মেলে না।
এই বিষয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ছাত্র প্রতিনিধি সভাগুলোতেও সমাধান হয়নি। অধ্যক্ষের কাছেও গিয়েছি, তবু পরিবর্তন আসেনি।”
আবাসিক শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ছাত্রাবাসে সমস্যা দীর্ঘমেয়াদী হলেও এখনো সেগুলোর সঠিক ও দ্রুত সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, “এবার কেবল আশ্বাস নয়, চাই বাস্তব পদক্ষেপ।”
এই বিষয়ে জানতে চাইলে হোস্টেল সুপার জনাব কামরুন নাহার জানান, “৫ আগস্টের পর ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, কিন্তু আমরা নানা ভাবে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছি। এ বছরের জন্য ৫ লাখ টাকার বাজেট এসেছে, কাজ শুরু হবে খুব দ্রুত। পরবর্তীতে আরও বাজেট আসবে।”
ছাত্রাবাসের সার্বিক বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান বলেন, “ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরীণ সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৫ লাখ টাকার একটি বাজেট এসেছে, সেটি কার্যকর হলেই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।”
ছাত্রাবাসের পরিবেশ যদি দ্রুত শিক্ষার উপযোগী করে তোলা না হয়, তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়বে—এমনটাই আশঙ্কা করছেন সবাই। শিক্ষার্থীদের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়, দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে সমাধান শুরু করতে হবে।
এস এম মঈন,
প্রতিনিধি, সরকারি বাঙলা কলেজ
রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে যায়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ০৪ (চার)টি ভবন (একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র হল ও ছাত্রী হল) নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। একারণে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিরাপত্তা জোরদার এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ছাত্রী হোস্টেলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরী ভিত্তিতে একটি পুলিশ ক্যাম্প/ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আমি এখানে আসার পরপরই ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা তা বাস্তবায়নের দিকে যাবো।
উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে পুরোদমে চলমান রয়েছে। শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী দৈনিক ক্যাম্পাসে যাতায়াত করে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনতিদূরে ছাত্রীদের জন্যে একটি ভবন ভাড়া করা হয়েছে যেখানে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে প্রায় শতাধিক ছাত্রী অবস্থান করছেন।
QS র্যাংকিং আবেদন না করায় জবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে বাগছাসের ক্ষোভ
আন্তর্জাতিক স্বীকৃত QS World University Rankings-এ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কোনো অবস্থান না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), জবি শাখা।
শুক্রবার (২৭ জুন) সংগঠনের মুখপাত্র কামরুল হাসান রিয়াজের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণেই QS র্যাংকিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণের জন্য কোনো আবেদনই করা হয়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। র্যাংকিংয়ে অংশ না নেওয়া শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও স্কলারশিপের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য একটি বড় বাধা।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “এই অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে আমরা বাধ্য হব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ধরণের প্রশাসনিক গাফিলতির শিকার হতে প্রস্তুত নয়। দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সংগঠনটি।
শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গোবিপ্রবিতে ‘স্বনির্ভর কর্মসূচি’ চালু
গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে ‘স্বনির্ভর কর্মসূচি’। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা ও দপ্তরের কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী চলবে এ কর্মসূচি।
এতে অংশ নিচ্ছেন ৩৪টি বিভাগের ১০০ জন শিক্ষার্থী। তারা আটটি বিভাগ—নিরাপত্তা বন্ধু, মেডিকেল বন্ধু, পাঠাগার বন্ধু, পরিবহন বন্ধু, প্রকৌশল বন্ধু, ডে কেয়ার বন্ধু ও হল বন্ধুসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন একজন শিক্ষক।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ৩০৫ নম্বর কক্ষে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবে। এটি শুধু তাদের দক্ষতা বাড়াবে না, আর্থিকভাবেও উপকারে আসবে। শিক্ষার্থীদের চোখ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত হলে তা সমাধানে আমাদেরও সুবিধা হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা বড় স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম। স্বনির্ভর কর্মসূচি তাদের সেই প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।’
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, ‘বিদেশে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ পায়। আমাদের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এমন উদ্যোগ তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে দেবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীব এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মো. বদরুল ইসলাম।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য