ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইকসু গঠনের দাবিতে ইবি উপাচার্যের নিকট ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের স্মারকলিপি প্রদান

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৬ জুন, ২০২৫ ০:২৯
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
ইকসু গঠনের দাবিতে ইবি উপাচার্যের নিকট ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের স্মারকলিপি প্রদান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি জটিলতা দূর করে আইন প্রণয়ন ও নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রদানসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন। 

আজ বুধবার (২৫ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে একটি স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন শাখা সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাব্বির প্রমুখ। 

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১০ দফা দাবি নিচে তুলে ধরা হলো:
‎১। কোটার হার সংস্কার: অগণিত প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে সফল হয়েছি। যে কোটার বিরুদ্ধে এত কিছু, এখনো আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে দেখতে পাচ্ছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় পোষ্য কোটার মতো কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অনতিবিলম্বে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা ও প্রতিবন্ধী কোটা ব্যতীত অন্যান্য অযৌক্তিক সকল কোটা ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। 

‎২। সড়ক সংস্কার : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা শহরের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের সড়ক পথে যাতায়াত করতে হয়। বিভিন্ন সময় এই কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে আমাদের ভাইবোনেরা সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাই অতিদ্রুত কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংস্কার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের সাথে যোগাযোগ করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। 

‎৩। মেয়েদের নামাজের স্থান নির্ধারণ: বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদেরদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রতিটি আবাসিক হলে এবং প্রায় প্রতিটি বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজ আদায়ের সুযোগের অভাব রয়েছে। কিছু কিছু জায়গা নামাজের জায়গা আলাদা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই অতিদ্রুত আমাদের দ্বীনি বোনদের জন্য নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। 

‎৪। সেশনজট নিরসন: করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছিল তার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই গতবছর শিক্ষকদের পেনশন সংক্রান্ত কর্মবিরতি এবং জুলাই আন্দোলনে কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় আবারও সেশনজটের কবলে পড়েছে। তাই সেশনজট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। 

‎৫। ভর্তি ফি হ্রাস: ভর্তি ফি কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার সপ্ন বিলীন না হয়ে যায় এবং সামর্থ্যের ভিতরে থাকে! 

‎৬। ইকসু আইন প্রণয়ন ও ইকসু গঠন : গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম ক্ষেত্র ইকসু গঠন ইবির জন্মলগ্ন থেকে থমকে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের চাহিদার আলোকে ও নেতৃত্ব বিকাশ এবং সুন্দর ক্যাম্পাস বিনির্মানে ইকসু আইন প্রণয়ন ও দ্রুততম সকল আইনি জটিলতা কাটিয়ে ইকসু রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। 

‎৭। সুপেয় পানির জন্য ফিল্টার স্থাপন: বিভিন্ন অনুষদ ও ভবনে বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিটি ভবনে আধুনিক ও কার্যকর পানির ফিল্টার স্থাপন করতে হবে। এছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পুর্বে স্থাপিত টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সেদিকে নজর দিয়ে টিউবওয়েল গুলো পুনরায় সচল করতে হবে।

‎৮। সনদ উত্তোলনে ভোগান্তি নিরসন: বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে সনদপত্র, নম্বরপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলনে শিক্ষার্থীরা বারবার হেনস্থার শিকার হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে একাডেমিক শাখায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিহীন সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বে তদারকি করতে মনিটরিং সেল তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা। 

‎৯। নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরাক্ষা : নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হল সমুহে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করে হাইজিন সামগ্রী (স্যানিটারি ন্যাপকিন, টিস্যু) ও 
‎ওষুধ (ব্যথানাশক, প্রাথমিক চিকিৎসার পণ্য) সরবরাহ নিশ্চিত করা। 

‎১০। বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের সেবা উন্নতকরণ : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে মানসম্মত ওষুধের ঘাটতি ও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব রয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের আধুনিকীকরণ নিশ্চিত ও দায়িত্বরতদের দায়িত্ব তদারকিতে মনিটরিং সেল তৈরি করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    শুধু পড়ানো নয়, সমাজ গড়ার দায়িত্বও অধ্যক্ষদের — ড. শামছুল আলম

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৫ জুন, ২০২৫ ২০:৮
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    শুধু পড়ানো নয়, সমাজ গড়ার দায়িত্বও অধ্যক্ষদের — ড. শামছুল আলম

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শামছুল আলম বলেন, মাদরাসার অধ্যক্ষদের শিক্ষা ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক নেতৃত্ব প্রদানের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে তাদের সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশ ও সমাজ পরিচালনায় সঠিক পথের দিশা পাবে। শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক কাজের স্বচ্ছতা নিরূপণ এবং যুগপোযোগী ও আধুনিক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার  (২৫ জুন ২০২৫) বিকেল ৫টায় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে সারা দেশের কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষদের নিয়ে ১২ দিনব্যাপী “একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার-২০২৫” এর সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ।

    সমাপনীপর্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান, ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাযাআত উল্লাহ ফারুকী, রেজিস্ট্রার মো: আইউব হোসেন, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের পরিচালক প্রফেসর ড. মো: রফিক আল-মামুন। রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো: নুরুল হক।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ২০২৫ তারিখ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং অধ্যক্ষগণের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, দেশের স্বনামধন্য গবেষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞ অধ্যাপক ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন-কর্মকর্তা’সহ একাধিক দক্ষ রিসোর্স পার্সন  কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে আগত কামিল মাদরাসার প্রায় তিন শতাধিক অধ্যক্ষ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৫ জুন, ২০২৫ ১৯:৪৯
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

      দেশের একমাত্র মেরিটাইম বিষয়ক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে "বিশ্ব সমুদ্র দিবস" ২০২৫ উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫জুন (বুধবার) বেলা ১০টায় মিরপুরস্থ মোয়াজ্জেম হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

      "ওয়ান্ডার: সাসটেইনিং হোয়াট সাসটেইনস আস" শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল ড. খন্দকার আক্তার হোসেন।
      এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ মেরিটাইম রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (BIMRAD) এর ডিরেক্টর জেনারেল কমডোর মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ ও বিশ্ববিদ্যালয়টির জেনেটিক অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজির হোসাইন।পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির দুইজন শিক্ষার্থীও বক্তব্য রাখেন।

      এসময় বক্তারা সমুদ্র নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা,সম্ভাবনা ও শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন।

      মানবসভ্যতা কোন না কোন জল কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, আমাদের বসতি,বেঁচে থাকা সবকিছু পানির উপর নির্ভর করে এবং সমুদ্রই একমাত্র সহজ মাধ্যম যোগাযোগ করার।

      এছাড়াও তিনি বলেন,আধুনিক এ বিশ্বে নিজের দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।এজন্য সবার উচিত নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট যেমন,ড্রাইভিং,আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স,ভাষা ইত্যাদি শেখা। সেই প্রেক্ষিতে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ,এআই প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়েছে - যোগ করেন তিনি।

      এর আগে মেরিটাইম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া কুইজের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের মাঝে। সবশেষে শিক্ষক,কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সাথে ফটোসেশনের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান শেষ হয়।
       

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        রাবিতে কলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হলো ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ২৫ জুন, ২০২৫ ১৯:৪৬
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        রাবিতে কলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হলো ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন

        রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কলা অনুষদের উদ্যোগে "ইস্যুজ অ্যারাউন্ড পেডাগোজি: টিচিং-লার্নিং স্ট্রাটেজিস ইন আর্টস এন্ড হিউম্যানিটিজ ফর দ্যা টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি" শীর্ষক দুই দিনব্যাপী ৩য় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু হয়েছে। 

        বুধবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শুরু হয়েছে।

        এ সম্মেলনে ১৩টি দেশের ৪ শতাধিক গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও রিসোর্স পারসন অংশগ্রহণ করছেন। এসময় আগত বক্তারা এখানে বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফার্সি ও সংস্কৃত ভাষায় বক্তব্য পেশ করেন। প্রোগ্রামে ৯টি ভেন্যুতে ৩৬টি সেশনে মোট ২১৬টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে।

        কলা অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মুহাম্মদ বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান, মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটা অধ্যাপক রোজনানি হাশিম ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রাদওয়ান জামাল ইউসুফ আল-আতরাশ।

        ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রুবাইদা আখতারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতা দেন প্রফেসর মাসউদ আখতার। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. নিজাম উদ্দীন।

        সম্মেলন উদ্বোধন করে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব তাঁর বক্তব্য বলেন, "উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় রাবির এক বৈশ্বিক অবস্থান আছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন র‌্যাংকিংয়ে এর প্রতিফলন দেখা যায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ জ্ঞান চর্চায় বিশেষ ঐতিহ্যের অধিকারী। সেই ঐতিহ্যের ধারা প্রবহমান রাখতে তাদের প্রয়াসের নিদর্শন এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন। প্রথম দুটো সম্মেলন আয়োজনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই ৩য় সম্মেলনও সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"

        এসময় তিনি আরো বলেন, "সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহ থেকে আমরা বাংলাদেশের কলা ও মানববিদ্যাচর্চা, বিশেষ করে এর ভাষা ও সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক ক্ষেত্রে আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন অনেক তথ্য জানতে পারবো ও তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আগামী দিনের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পর্কে এক পথরেখা পাওয়া যাবে।"

        সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর প্রথম দিনের কি-নোট সেশনে সভাপতিত্ব করেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। এ অধিবেশনে কি-নোট স্পিকার হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাপানের আকিতা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির অধ্যাপক প্যাট্রিক ডগহার্টি, মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটা অধ্যাপক রোজনানি হাশিম ও মালয়েশিয়ার সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক জাসনি বিন সুলং। 

        সম্মেনের প্লেনারি সেশনে সভাপতিত্ব করেন মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটা প্রফেসর রোজনানি হাশিম। এই অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর রাদওয়ান জামাল ইউসুফ আল-আতরাশ, নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গোপাল প্রসাদ পান্ডে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট এর মহাপরিচালক ড. এম. আবদুল আজিজ এবং মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর নাজাতুল আকমার বিনতি মোক্তার।

        অনুষ্ঠানের সভাপতি কলা অনুষদের ডিন মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, "আজকের অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। ৯টি ভেন্যুতে ১২টি বিভাগ থেকে মোট ২৬টি প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ, যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। এই সম্মেলনে ১৩টি দেশের গবেষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মাত্রায় উন্নীত করেছে। আজকের অনুষ্ঠানটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সফল ও চমৎকারভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।”

        প্রসঙ্গত, রাবির কলা অনুষদের উদ্যোগে ২০ ও ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ প্রথম এবং ১৩ ও ১৪ নভেম্বর ২০২২ দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সে প্রদানকৃত লেকচারগুলো পরবর্তীতে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হয়। 

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          রাবির কলা অনুষদভুক্ত সকল বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ২৫ জুন, ২০২৫ ১৯:৪৪
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          রাবির কলা অনুষদভুক্ত সকল বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত

          রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা ও একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ কলা অনুষদভুক্ত সকল বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করেছেন।

          গত ২ জুনে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব এবং বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রিটের শুনানি শেষে এ বিষয়ে একটি রুল নিশি জারি করেন।

          মো. বুলবুল রহমান নামের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ৮৮৩৭/২০২৫) দায়ের করে অভিযোগ করেন। তিনি রাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। রিট পিটিশনে তিনি উল্লেখ করেন, এ বছরের ১৫ এপ্রিলে প্রকাশিত 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নয়ন ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৫' এবং এর ভিত্তিতে ৩০ এপ্রিলে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নং ০১/২০২৫-এর শর্ত নং-১ তাকে আবেদন করতে বাধা দিচ্ছে। যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) কর্তৃক ২০২১ সালে প্রকাশিত ন্যূনতম যোগ্যতার গাইডলাইন লঙ্ঘন করছে।

          আদালত জানতে চেয়েছেন, কেন এই নিয়োগ নীতিমালা এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির 'শর্ত নং ১' বেআইনি, খারাপ উদ্দেশ্যপূর্ণ ও বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হবে না। সঙ্গে সঙ্গে, হাইকোর্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত নং ১-এর কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন এবং আবেদনকারীকে উর্দু বিভাগের প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করতে অনুমতি দিয়েছেন।

          এই রিটটি করা হয়েছে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে, যা রাষ্ট্র বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেআইনি সিদ্ধান্ত বা কার্যকলাপ প্রতিরোধে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
          আবেদনের পক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রশিদ টিপু এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আকতার হোসেন মো. আবদুল ওহাব ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলগণ।

          রুলে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষদের (বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি) আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। পরে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে রুল অ্যাবসুলুট (গ্রাহ্য) বা ডিসচার্জ (বাতিল) করা হবে।

          এ বিষয়ে রিট পিটিশনকারী মো. বুলবুল রহমান বলেন, ২০২৫ সালের পিএসসি সার্কুলারে সকল অনুষদে সকল অনুষদে অনার্স-মাস্টার্সের ন্যূনতম সিজি ৩.৫০ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অন্য অনুষদের তুলনায় আমাদের কলা অনুষদের সিজি তুলনামূলক একটু কম হয়। আমি মনে করি এখানে আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। এজন্যই আমি রিট করেছিলাম। মহামান্য আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। যতদিন পর্যন্ত মামলা চলবে ততদিন শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

          উর্দু বিভাগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার জন্য অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট ভালো হওয়া প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলারে উর্দু বিভাগে মোট ৫৭ জন আবেদন করেছেন। যার মধ্যে শর্ত পূরণ করেছেন মোট ৪৭ জন। এদের প্রত্যেকেরই অর্নাস ও মাস্টার্স দুটো মিলিয়ে রেজাল্ট খুবই ভালো এবং অনেকেরই দুটো মিলিয়ে সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ আছে। কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আদালতে যে অভিযোগ করেছে তার অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট সিজি ৩.৩৫ যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

          বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুর রহিম বলেন, আমরা জেনেছি যিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন, তার অনার্সের সিজিপিএ ৩.৩৬ এবং মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৫০-এর উপরে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী অনার্স-মাস্টার্স পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৫০ উপরে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি ইউজিসি নীতিমালা অনুযায়ী ৩.২৫ উপরে থাকা বিষয়টি নিয়ে এসেছে। 

          তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসিত ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৯৭৩ সালের অ্যাক্ট অনুযায়ী চলে। তারা নিজের পরিচালিত নিয়মনীতি অনুযায়ী চলবে। শিক্ষা, গবেষণা এক্সিলেন্সি বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় যে নীতিমালা নেবে সেটায় চূড়ান্ত। ইউজিসির যেকোনো নীতিমালা মানা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাধ্যবাধকতা নেই। 
           

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত