শিরোনাম
বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত
দেশের একমাত্র মেরিটাইম বিষয়ক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে "বিশ্ব সমুদ্র দিবস" ২০২৫ উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫জুন (বুধবার) বেলা ১০টায় মিরপুরস্থ মোয়াজ্জেম হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
"ওয়ান্ডার: সাসটেইনিং হোয়াট সাসটেইনস আস" শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল ড. খন্দকার আক্তার হোসেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ মেরিটাইম রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (BIMRAD) এর ডিরেক্টর জেনারেল কমডোর মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ ও বিশ্ববিদ্যালয়টির জেনেটিক অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজির হোসাইন।পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির দুইজন শিক্ষার্থীও বক্তব্য রাখেন।
এসময় বক্তারা সমুদ্র নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা,সম্ভাবনা ও শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন।
মানবসভ্যতা কোন না কোন জল কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, আমাদের বসতি,বেঁচে থাকা সবকিছু পানির উপর নির্ভর করে এবং সমুদ্রই একমাত্র সহজ মাধ্যম যোগাযোগ করার।
এছাড়াও তিনি বলেন,আধুনিক এ বিশ্বে নিজের দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।এজন্য সবার উচিত নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট যেমন,ড্রাইভিং,আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স,ভাষা ইত্যাদি শেখা। সেই প্রেক্ষিতে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ,এআই প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়েছে - যোগ করেন তিনি।
এর আগে মেরিটাইম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া কুইজের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের মাঝে। সবশেষে শিক্ষক,কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সাথে ফটোসেশনের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান শেষ হয়।
রাবিতে কলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হলো ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কলা অনুষদের উদ্যোগে "ইস্যুজ অ্যারাউন্ড পেডাগোজি: টিচিং-লার্নিং স্ট্রাটেজিস ইন আর্টস এন্ড হিউম্যানিটিজ ফর দ্যা টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি" শীর্ষক দুই দিনব্যাপী ৩য় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শুরু হয়েছে।
এ সম্মেলনে ১৩টি দেশের ৪ শতাধিক গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও রিসোর্স পারসন অংশগ্রহণ করছেন। এসময় আগত বক্তারা এখানে বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফার্সি ও সংস্কৃত ভাষায় বক্তব্য পেশ করেন। প্রোগ্রামে ৯টি ভেন্যুতে ৩৬টি সেশনে মোট ২১৬টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে।
কলা অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মুহাম্মদ বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান, মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটা অধ্যাপক রোজনানি হাশিম ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রাদওয়ান জামাল ইউসুফ আল-আতরাশ।
ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রুবাইদা আখতারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতা দেন প্রফেসর মাসউদ আখতার। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. নিজাম উদ্দীন।
সম্মেলন উদ্বোধন করে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব তাঁর বক্তব্য বলেন, "উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় রাবির এক বৈশ্বিক অবস্থান আছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন র্যাংকিংয়ে এর প্রতিফলন দেখা যায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ জ্ঞান চর্চায় বিশেষ ঐতিহ্যের অধিকারী। সেই ঐতিহ্যের ধারা প্রবহমান রাখতে তাদের প্রয়াসের নিদর্শন এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন। প্রথম দুটো সম্মেলন আয়োজনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই ৩য় সম্মেলনও সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"
এসময় তিনি আরো বলেন, "সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহ থেকে আমরা বাংলাদেশের কলা ও মানববিদ্যাচর্চা, বিশেষ করে এর ভাষা ও সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক ক্ষেত্রে আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন অনেক তথ্য জানতে পারবো ও তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আগামী দিনের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পর্কে এক পথরেখা পাওয়া যাবে।"
সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর প্রথম দিনের কি-নোট সেশনে সভাপতিত্ব করেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। এ অধিবেশনে কি-নোট স্পিকার হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাপানের আকিতা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির অধ্যাপক প্যাট্রিক ডগহার্টি, মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটা অধ্যাপক রোজনানি হাশিম ও মালয়েশিয়ার সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক জাসনি বিন সুলং।
সম্মেনের প্লেনারি সেশনে সভাপতিত্ব করেন মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটা প্রফেসর রোজনানি হাশিম। এই অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর রাদওয়ান জামাল ইউসুফ আল-আতরাশ, নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গোপাল প্রসাদ পান্ডে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট এর মহাপরিচালক ড. এম. আবদুল আজিজ এবং মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর নাজাতুল আকমার বিনতি মোক্তার।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কলা অনুষদের ডিন মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, "আজকের অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। ৯টি ভেন্যুতে ১২টি বিভাগ থেকে মোট ২৬টি প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ, যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। এই সম্মেলনে ১৩টি দেশের গবেষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মাত্রায় উন্নীত করেছে। আজকের অনুষ্ঠানটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সফল ও চমৎকারভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, রাবির কলা অনুষদের উদ্যোগে ২০ ও ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ প্রথম এবং ১৩ ও ১৪ নভেম্বর ২০২২ দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সে প্রদানকৃত লেকচারগুলো পরবর্তীতে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হয়।
রাবির কলা অনুষদভুক্ত সকল বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা ও একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ কলা অনুষদভুক্ত সকল বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করেছেন।
গত ২ জুনে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব এবং বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রিটের শুনানি শেষে এ বিষয়ে একটি রুল নিশি জারি করেন।
মো. বুলবুল রহমান নামের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ৮৮৩৭/২০২৫) দায়ের করে অভিযোগ করেন। তিনি রাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। রিট পিটিশনে তিনি উল্লেখ করেন, এ বছরের ১৫ এপ্রিলে প্রকাশিত 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নয়ন ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৫' এবং এর ভিত্তিতে ৩০ এপ্রিলে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নং ০১/২০২৫-এর শর্ত নং-১ তাকে আবেদন করতে বাধা দিচ্ছে। যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) কর্তৃক ২০২১ সালে প্রকাশিত ন্যূনতম যোগ্যতার গাইডলাইন লঙ্ঘন করছে।
আদালত জানতে চেয়েছেন, কেন এই নিয়োগ নীতিমালা এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির 'শর্ত নং ১' বেআইনি, খারাপ উদ্দেশ্যপূর্ণ ও বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হবে না। সঙ্গে সঙ্গে, হাইকোর্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত নং ১-এর কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন এবং আবেদনকারীকে উর্দু বিভাগের প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করতে অনুমতি দিয়েছেন।
এই রিটটি করা হয়েছে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে, যা রাষ্ট্র বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেআইনি সিদ্ধান্ত বা কার্যকলাপ প্রতিরোধে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
আবেদনের পক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রশিদ টিপু এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আকতার হোসেন মো. আবদুল ওহাব ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলগণ।
রুলে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষদের (বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি) আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। পরে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে রুল অ্যাবসুলুট (গ্রাহ্য) বা ডিসচার্জ (বাতিল) করা হবে।
এ বিষয়ে রিট পিটিশনকারী মো. বুলবুল রহমান বলেন, ২০২৫ সালের পিএসসি সার্কুলারে সকল অনুষদে সকল অনুষদে অনার্স-মাস্টার্সের ন্যূনতম সিজি ৩.৫০ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অন্য অনুষদের তুলনায় আমাদের কলা অনুষদের সিজি তুলনামূলক একটু কম হয়। আমি মনে করি এখানে আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। এজন্যই আমি রিট করেছিলাম। মহামান্য আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। যতদিন পর্যন্ত মামলা চলবে ততদিন শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
উর্দু বিভাগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার জন্য অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট ভালো হওয়া প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলারে উর্দু বিভাগে মোট ৫৭ জন আবেদন করেছেন। যার মধ্যে শর্ত পূরণ করেছেন মোট ৪৭ জন। এদের প্রত্যেকেরই অর্নাস ও মাস্টার্স দুটো মিলিয়ে রেজাল্ট খুবই ভালো এবং অনেকেরই দুটো মিলিয়ে সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ আছে। কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আদালতে যে অভিযোগ করেছে তার অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট সিজি ৩.৩৫ যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুর রহিম বলেন, আমরা জেনেছি যিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন, তার অনার্সের সিজিপিএ ৩.৩৬ এবং মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৫০-এর উপরে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী অনার্স-মাস্টার্স পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৫০ উপরে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি ইউজিসি নীতিমালা অনুযায়ী ৩.২৫ উপরে থাকা বিষয়টি নিয়ে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসিত ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৯৭৩ সালের অ্যাক্ট অনুযায়ী চলে। তারা নিজের পরিচালিত নিয়মনীতি অনুযায়ী চলবে। শিক্ষা, গবেষণা এক্সিলেন্সি বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় যে নীতিমালা নেবে সেটায় চূড়ান্ত। ইউজিসির যেকোনো নীতিমালা মানা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাধ্যবাধকতা নেই।
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে, অধ্যাদেশ জারি হতে পারে সেপ্টেম্বরে
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পরিকল্পনা এগিয়ে চলেছে পূর্ণ মাত্রায়। বিগত মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য নাম প্রস্তাব করা হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সরকারি অধ্যাদেশ জারির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউজিসি সূত্রমতে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কলেজ প্রশাসন এ নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় ধরা হয়েছে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ, আর ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে। জোর সম্ভাবনা রয়েছে ভর্তি পরিক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ থাকার।
গঠন প্রক্রিয়ার আইনি দিকগুলো পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনে আইনবিদ নিয়োগ করা হতে পারে। এ ছাড়া, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও পরিচয়ের অংশ হিসেবে লোগো প্রকাশের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে—যা শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো সহজ ও সময়োপযোগী রাখতে কিছু বিভাগ বা বিষয় বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে ইউজিসি নীতিনির্ধারকদের মতে, বিষয়টি এখন প্রস্তুতির প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।
এস এম মঈন
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, সরকারি বাঙলা কলেজ
চাকসুর গঠন ও লক্ষ্য ঠিক করতে প্রস্তাবনা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) গঠনতন্ত্র সংস্কার প্রস্তাবনা ও সংযোজনী নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ।
লিখিত বক্তব্যে কেফায়েত উল্লাহ চাকসুর গঠনতন্ত্রের কার্যাবলী অংশের প্রস্তাবনায় বলেন, ' চাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার, চাহিদা, দাবী ও সমস্যাগুলো প্রশাসন এবং শিক্ষকমন্ডলীর নিকট উপস্থাপন করবে এবং প্রতিটি প্রস্তাবনা পেশ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিকট সচ্ছতা বজায় রাখবে। চাকসু বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সংসদকে দলীয়করণ হওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, চাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকরী ও যথোপযুক্ত মানবিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান-গবেষণার বিকাশ ঘটাতে বছরে অন্তত একবার জার্নাল, গবেষণামূলক সাময়িকী, সৃজনশীল লিখনিমূলক সাময়িকী প্রকাশ করবে। '
চাকসুর কার্যকরী কমিটির সংস্কার প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, ' চাকসুর সভাপতি ছাত্রদের থেকে নির্বাচিত হতে হবে যেহেতু চাকসু একটি ছাত্র সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় এ সংসদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন। '
এছাড়াও চাকসুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য , পদাধিকার সংশোধনী, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিমালা তুলে ধরেন ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দরা।
এ সময় ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জুয়েনা সুলতানা, ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক আরিফুল হক, চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার প্রান্ত, সহ-সভাপতি রেশমা আক্তার, সহ -সাধারণ সম্পাদক মো. মিজান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম সাকিব, অর্থ সম্পাদক জুনায়েদ শিবলী, গাজী সাকিব, তাহসিন, সৃজা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য