ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

রাবির কলা অনুষদভুক্ত সকল বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৫ জুন, ২০২৫ ১৯:৪৪
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
রাবির কলা অনুষদভুক্ত সকল বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা ও একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ কলা অনুষদভুক্ত সকল বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করেছেন।

গত ২ জুনে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব এবং বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রিটের শুনানি শেষে এ বিষয়ে একটি রুল নিশি জারি করেন।

মো. বুলবুল রহমান নামের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ৮৮৩৭/২০২৫) দায়ের করে অভিযোগ করেন। তিনি রাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। রিট পিটিশনে তিনি উল্লেখ করেন, এ বছরের ১৫ এপ্রিলে প্রকাশিত 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নয়ন ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৫' এবং এর ভিত্তিতে ৩০ এপ্রিলে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নং ০১/২০২৫-এর শর্ত নং-১ তাকে আবেদন করতে বাধা দিচ্ছে। যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) কর্তৃক ২০২১ সালে প্রকাশিত ন্যূনতম যোগ্যতার গাইডলাইন লঙ্ঘন করছে।

আদালত জানতে চেয়েছেন, কেন এই নিয়োগ নীতিমালা এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির 'শর্ত নং ১' বেআইনি, খারাপ উদ্দেশ্যপূর্ণ ও বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হবে না। সঙ্গে সঙ্গে, হাইকোর্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত নং ১-এর কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন এবং আবেদনকারীকে উর্দু বিভাগের প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করতে অনুমতি দিয়েছেন।

এই রিটটি করা হয়েছে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে, যা রাষ্ট্র বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেআইনি সিদ্ধান্ত বা কার্যকলাপ প্রতিরোধে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
আবেদনের পক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রশিদ টিপু এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আকতার হোসেন মো. আবদুল ওহাব ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলগণ।

রুলে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষদের (বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি) আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। পরে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে রুল অ্যাবসুলুট (গ্রাহ্য) বা ডিসচার্জ (বাতিল) করা হবে।

এ বিষয়ে রিট পিটিশনকারী মো. বুলবুল রহমান বলেন, ২০২৫ সালের পিএসসি সার্কুলারে সকল অনুষদে সকল অনুষদে অনার্স-মাস্টার্সের ন্যূনতম সিজি ৩.৫০ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অন্য অনুষদের তুলনায় আমাদের কলা অনুষদের সিজি তুলনামূলক একটু কম হয়। আমি মনে করি এখানে আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। এজন্যই আমি রিট করেছিলাম। মহামান্য আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। যতদিন পর্যন্ত মামলা চলবে ততদিন শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

উর্দু বিভাগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার জন্য অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট ভালো হওয়া প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলারে উর্দু বিভাগে মোট ৫৭ জন আবেদন করেছেন। যার মধ্যে শর্ত পূরণ করেছেন মোট ৪৭ জন। এদের প্রত্যেকেরই অর্নাস ও মাস্টার্স দুটো মিলিয়ে রেজাল্ট খুবই ভালো এবং অনেকেরই দুটো মিলিয়ে সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ আছে। কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আদালতে যে অভিযোগ করেছে তার অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট সিজি ৩.৩৫ যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুর রহিম বলেন, আমরা জেনেছি যিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন, তার অনার্সের সিজিপিএ ৩.৩৬ এবং মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৫০-এর উপরে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী অনার্স-মাস্টার্স পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৫০ উপরে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি ইউজিসি নীতিমালা অনুযায়ী ৩.২৫ উপরে থাকা বিষয়টি নিয়ে এসেছে। 

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসিত ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৯৭৩ সালের অ্যাক্ট অনুযায়ী চলে। তারা নিজের পরিচালিত নিয়মনীতি অনুযায়ী চলবে। শিক্ষা, গবেষণা এক্সিলেন্সি বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় যে নীতিমালা নেবে সেটায় চূড়ান্ত। ইউজিসির যেকোনো নীতিমালা মানা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাধ্যবাধকতা নেই। 
 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে, অধ্যাদেশ জারি হতে পারে সেপ্টেম্বরে

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৫ জুন, ২০২৫ ১৭:১২
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে, অধ্যাদেশ জারি হতে পারে সেপ্টেম্বরে

    রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পরিকল্পনা এগিয়ে চলেছে পূর্ণ মাত্রায়। বিগত মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য নাম প্রস্তাব করা হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সরকারি অধ্যাদেশ জারির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ইউজিসি সূত্রমতে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কলেজ প্রশাসন এ নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় ধরা হয়েছে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ, আর ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে। জোর সম্ভাবনা রয়েছে ভর্তি পরিক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ থাকার।

    গঠন প্রক্রিয়ার আইনি দিকগুলো পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনে আইনবিদ নিয়োগ করা হতে পারে। এ ছাড়া, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও পরিচয়ের অংশ হিসেবে লোগো প্রকাশের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে—যা শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো সহজ ও সময়োপযোগী রাখতে কিছু বিভাগ বা বিষয় বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে ইউজিসি নীতিনির্ধারকদের মতে, বিষয়টি এখন প্রস্তুতির প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।

    এস এম মঈন
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, সরকারি বাঙলা কলেজ

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      চাকসুর গঠন ও লক্ষ্য ঠিক করতে প্রস্তাবনা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৫ জুন, ২০২৫ ১৭:৪
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      চাকসুর গঠন ও লক্ষ্য ঠিক করতে প্রস্তাবনা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের

      চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) গঠনতন্ত্র সংস্কার প্রস্তাবনা ও সংযোজনী নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট। 

      চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ। 

      লিখিত বক্তব্যে কেফায়েত উল্লাহ চাকসুর গঠনতন্ত্রের কার্যাবলী অংশের প্রস্তাবনায় বলেন, ' চাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার, চাহিদা, দাবী ও সমস্যাগুলো প্রশাসন এবং শিক্ষকমন্ডলীর নিকট উপস্থাপন করবে এবং প্রতিটি প্রস্তাবনা পেশ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিকট সচ্ছতা বজায় রাখবে। চাকসু বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সংসদকে দলীয়করণ হওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, চাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকরী ও যথোপযুক্ত মানবিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান-গবেষণার বিকাশ ঘটাতে বছরে অন্তত একবার জার্নাল, গবেষণামূলক সাময়িকী, সৃজনশীল লিখনিমূলক সাময়িকী প্রকাশ করবে। ' 

      চাকসুর কার্যকরী কমিটির সংস্কার প্রস্তাবনা  তুলে ধরে  বলেন, '  চাকসুর সভাপতি ছাত্রদের থেকে নির্বাচিত হতে হবে যেহেতু চাকসু একটি ছাত্র সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় এ সংসদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন। '

      এছাড়াও চাকসুর  লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য , পদাধিকার সংশোধনী, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিমালা তুলে ধরেন ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দরা।

      এ সময়  ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জুয়েনা সুলতানা, ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক আরিফুল হক, চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার প্রান্ত, সহ-সভাপতি রেশমা আক্তার, সহ -সাধারণ সম্পাদক মো. মিজান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম সাকিব, অর্থ সম্পাদক জুনায়েদ শিবলী, গাজী সাকিব, তাহসিন, সৃজা উপস্থিত ছিলেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        রাজনীতি করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন: শিক্ষা উপদেষ্টা

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৩ জুন, ২০২৫ ১৯:৩১
        অনলাইন ডেস্ক
        রাজনীতি করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন: শিক্ষা উপদেষ্টা

        কেউ যদি মনে করে আমি রাজনীতি করব। অবশ্যই আপনি রাজনীতির অঙ্গনে চলে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা আপনি ছেড়ে দেন। কারণ রাজনীতিতে ভালো যোগ্য লোকের দরকার আছে। সেখানেও আপনি সম্মান পাবেন। কিন্ত পঙ্কিল রাজনীতি আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্ত্বরে আনবেন না। সামনের দিন গুলোতে দেশে রাজনৈতিক সরকার আসবে তারা বিষয় গুলোকে বিবেচনায় আনবে। নোয়াখালীতে (নোবিপ্রবি) ১৯তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।

        এ সময় তিনি বলেন, পঙ্কিল রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে আনবেন না। আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকতে পারে। কিন্ত সে রাজনৈতিক বিশ্বাস,বিশ্বাসের পর্যায়ে থাকবে। সেই রাজনীতি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দির মধ্যে আনবো না। সেখানে আমার সকল ছাত্রের প্রতি দায়িত্ব যেটা সেটা পালন করব।      

        বর্ণাঢ্য আয়োজনে সোমবার (২৩ জুন) দুপুরের দিকে মুহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১৯তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন, রিসার্চ ফেয়ার এবং একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।

        নিজের শিক্ষকতা জীবনের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমি ৪০ বছর নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করেছি। জ্ঞানত আমি কখনো ফাঁকি দেয়নি। সব সময় নীতিবান শিক্ষক হিসেবে আদর্শ ধারণ করতে চেষ্টা করেছি, সব সময় পারিনি, কিন্ত করেছি। কিন্ত যখনই আমি দেখেছি,আমারই বন্ধু,বান্ধব টিচার্স লাউঞ্জে বসে সময় কাটাচ্ছে, তাদের ৩০-৪০টা ক্লাস নেওয়ার কথা। তার মধ্যে তারা ৪-৫টা ক্লাস নিচ্ছে। পরে তারা বাকী ক্লাস নিচ্ছেন না। ছাত্র প্রতিনিধি এসে যখন বলছেন যে ম্যাডাম বা স্যার আপনাদের ক্লাস আছে। তখন বলে তোমরা বসো গিয়ে, আমি আসছি। আরও ১০-১৫ মিনিট গল্প করে তিনি গেলেন, আবার ক্লাস শেষ হওয়ার ১৫মিনিট আগে তিনি ফিরে আসলেন। এ ধরনেরও আমরা দেখেছি।

        তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যে শিক্ষক রিকোয়েন্টমেন্ট, সেখানে শিক্ষক রিকোয়েন্টমেন্ট হতো না। সেখানে ভোটার রিকোয়েন্টমেন্ট হতো। আমি বিশ্বাস করতে চাই, এই ধরনের একটা বাস্তবতা আমরা পার হয়ে আসতে চাই। কাজেই নতুন ভাবে আমাকে সব কিছু ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা যদি আশা করি আমাদের ছাত্ররা নিয়মিত ক্লাস করবে,আমরা যদি আশা করি তারা মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করবে, তবে সেই পরিবেশ আমাকে সৃষ্টি করতে হবে। সাথে অব্যশই আমাদের শিক্ষকদের যে নিজস্ব নীতিবোধ সেটাকেও অনেক সমুন্নত রাখতে হবে। শিক্ষক হিসেবে আমার যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হবে।  
        এ সময় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড.মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ,জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ,জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
         
        উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছন, তাদের কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন। নোবিপ্রবিতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনকে ঘিরে প্রথমবারের মতো রিসার্চ ফেয়ার উদ্বোধন এবং রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড, ডীনস অ্যাওয়ার্ড ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বিকেলে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির রিসার্চ প্রেজেন্টেশন এবং সর্বশেষ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

        মন্তব্য

        শিবির সভাপতির গোপন সাক্ষাৎ ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’: নাছির

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৩ জুন, ২০২৫ ১৯:১৯
        অনলাইন ডেস্ক
        শিবির সভাপতির গোপন সাক্ষাৎ ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’: নাছির

        ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় ‘জড়িত’ ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতির ‘গোপন সাক্ষাৎ’কে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

        সোমবার (২৩ জুন) রাজধানীর তিতুমীর কলেজে ছাত্রদলের সদস্য ফরম বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

        নাছির উদ্দীন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র সংগঠনের উত্তরসূরিই আজকের ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তান। সেই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে শিবিরের সভাপতি গোপনে সাক্ষাৎ করেছেন। আসলে তারা এখনও তাদের প্রিয় অভিভাবককে ভুলতে পারেনি।  

        তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যাকারী সংগঠন, যারা বাঙালি ভাইদের হত্যা করেছিল এবং বোনদের ধর্ষণ করেছিল, তাদেরই উত্তরসূরি ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে শিবিরের সভাপতির এই গোপন সাক্ষাৎ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।  

        তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিবির যেখানে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, সেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তারা গোপন রেখেছে। বিষয়টি পাকিস্তানের ওই সংগঠনের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জনসম্মুখে আসে। ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তান তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছে যে তারা শিবিরের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি মিশন বাস্তবায়নে কাজ করবে।

        তিনি প্রশ্ন তোলেন, তালাবা পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে কোন মিশনে নেমেছে তা ছাত্র শিবিরকে স্পষ্ট করতে হবে। ১৯৭১ সালের গণহত্যাকারীদের সঙ্গে দেখা করে ছাত্র শিবির যে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তার জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।

        ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে দেখা যায়, শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসিম বিল্লাহ হাসমি ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম হায়দার সাক্ষাৎ করেছেন।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত