শিরোনাম
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে, অধ্যাদেশ জারি হতে পারে সেপ্টেম্বরে
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পরিকল্পনা এগিয়ে চলেছে পূর্ণ মাত্রায়। বিগত মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য নাম প্রস্তাব করা হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সরকারি অধ্যাদেশ জারির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউজিসি সূত্রমতে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কলেজ প্রশাসন এ নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় ধরা হয়েছে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ, আর ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে। জোর সম্ভাবনা রয়েছে ভর্তি পরিক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ থাকার।
গঠন প্রক্রিয়ার আইনি দিকগুলো পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনে আইনবিদ নিয়োগ করা হতে পারে। এ ছাড়া, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও পরিচয়ের অংশ হিসেবে লোগো প্রকাশের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে—যা শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো সহজ ও সময়োপযোগী রাখতে কিছু বিভাগ বা বিষয় বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে ইউজিসি নীতিনির্ধারকদের মতে, বিষয়টি এখন প্রস্তুতির প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।
এস এম মঈন
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, সরকারি বাঙলা কলেজ
চাকসুর গঠন ও লক্ষ্য ঠিক করতে প্রস্তাবনা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) গঠনতন্ত্র সংস্কার প্রস্তাবনা ও সংযোজনী নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ।
লিখিত বক্তব্যে কেফায়েত উল্লাহ চাকসুর গঠনতন্ত্রের কার্যাবলী অংশের প্রস্তাবনায় বলেন, ' চাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার, চাহিদা, দাবী ও সমস্যাগুলো প্রশাসন এবং শিক্ষকমন্ডলীর নিকট উপস্থাপন করবে এবং প্রতিটি প্রস্তাবনা পেশ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিকট সচ্ছতা বজায় রাখবে। চাকসু বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সংসদকে দলীয়করণ হওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, চাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকরী ও যথোপযুক্ত মানবিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান-গবেষণার বিকাশ ঘটাতে বছরে অন্তত একবার জার্নাল, গবেষণামূলক সাময়িকী, সৃজনশীল লিখনিমূলক সাময়িকী প্রকাশ করবে। '
চাকসুর কার্যকরী কমিটির সংস্কার প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, ' চাকসুর সভাপতি ছাত্রদের থেকে নির্বাচিত হতে হবে যেহেতু চাকসু একটি ছাত্র সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় এ সংসদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন। '
এছাড়াও চাকসুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য , পদাধিকার সংশোধনী, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিমালা তুলে ধরেন ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দরা।
এ সময় ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জুয়েনা সুলতানা, ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক আরিফুল হক, চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার প্রান্ত, সহ-সভাপতি রেশমা আক্তার, সহ -সাধারণ সম্পাদক মো. মিজান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম সাকিব, অর্থ সম্পাদক জুনায়েদ শিবলী, গাজী সাকিব, তাহসিন, সৃজা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন: শিক্ষা উপদেষ্টা
কেউ যদি মনে করে আমি রাজনীতি করব। অবশ্যই আপনি রাজনীতির অঙ্গনে চলে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা আপনি ছেড়ে দেন। কারণ রাজনীতিতে ভালো যোগ্য লোকের দরকার আছে। সেখানেও আপনি সম্মান পাবেন। কিন্ত পঙ্কিল রাজনীতি আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্ত্বরে আনবেন না। সামনের দিন গুলোতে দেশে রাজনৈতিক সরকার আসবে তারা বিষয় গুলোকে বিবেচনায় আনবে। নোয়াখালীতে (নোবিপ্রবি) ১৯তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
এ সময় তিনি বলেন, পঙ্কিল রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে আনবেন না। আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকতে পারে। কিন্ত সে রাজনৈতিক বিশ্বাস,বিশ্বাসের পর্যায়ে থাকবে। সেই রাজনীতি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দির মধ্যে আনবো না। সেখানে আমার সকল ছাত্রের প্রতি দায়িত্ব যেটা সেটা পালন করব।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে সোমবার (২৩ জুন) দুপুরের দিকে মুহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১৯তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন, রিসার্চ ফেয়ার এবং একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
নিজের শিক্ষকতা জীবনের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমি ৪০ বছর নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করেছি। জ্ঞানত আমি কখনো ফাঁকি দেয়নি। সব সময় নীতিবান শিক্ষক হিসেবে আদর্শ ধারণ করতে চেষ্টা করেছি, সব সময় পারিনি, কিন্ত করেছি। কিন্ত যখনই আমি দেখেছি,আমারই বন্ধু,বান্ধব টিচার্স লাউঞ্জে বসে সময় কাটাচ্ছে, তাদের ৩০-৪০টা ক্লাস নেওয়ার কথা। তার মধ্যে তারা ৪-৫টা ক্লাস নিচ্ছে। পরে তারা বাকী ক্লাস নিচ্ছেন না। ছাত্র প্রতিনিধি এসে যখন বলছেন যে ম্যাডাম বা স্যার আপনাদের ক্লাস আছে। তখন বলে তোমরা বসো গিয়ে, আমি আসছি। আরও ১০-১৫ মিনিট গল্প করে তিনি গেলেন, আবার ক্লাস শেষ হওয়ার ১৫মিনিট আগে তিনি ফিরে আসলেন। এ ধরনেরও আমরা দেখেছি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যে শিক্ষক রিকোয়েন্টমেন্ট, সেখানে শিক্ষক রিকোয়েন্টমেন্ট হতো না। সেখানে ভোটার রিকোয়েন্টমেন্ট হতো। আমি বিশ্বাস করতে চাই, এই ধরনের একটা বাস্তবতা আমরা পার হয়ে আসতে চাই। কাজেই নতুন ভাবে আমাকে সব কিছু ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা যদি আশা করি আমাদের ছাত্ররা নিয়মিত ক্লাস করবে,আমরা যদি আশা করি তারা মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করবে, তবে সেই পরিবেশ আমাকে সৃষ্টি করতে হবে। সাথে অব্যশই আমাদের শিক্ষকদের যে নিজস্ব নীতিবোধ সেটাকেও অনেক সমুন্নত রাখতে হবে। শিক্ষক হিসেবে আমার যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হবে।
এ সময় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড.মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ,জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ,জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছন, তাদের কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন। নোবিপ্রবিতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনকে ঘিরে প্রথমবারের মতো রিসার্চ ফেয়ার উদ্বোধন এবং রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড, ডীনস অ্যাওয়ার্ড ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বিকেলে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির রিসার্চ প্রেজেন্টেশন এবং সর্বশেষ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শিবির সভাপতির গোপন সাক্ষাৎ ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’: নাছির
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় ‘জড়িত’ ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতির ‘গোপন সাক্ষাৎ’কে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
সোমবার (২৩ জুন) রাজধানীর তিতুমীর কলেজে ছাত্রদলের সদস্য ফরম বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাছির উদ্দীন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র সংগঠনের উত্তরসূরিই আজকের ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তান। সেই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে শিবিরের সভাপতি গোপনে সাক্ষাৎ করেছেন। আসলে তারা এখনও তাদের প্রিয় অভিভাবককে ভুলতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যাকারী সংগঠন, যারা বাঙালি ভাইদের হত্যা করেছিল এবং বোনদের ধর্ষণ করেছিল, তাদেরই উত্তরসূরি ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে শিবিরের সভাপতির এই গোপন সাক্ষাৎ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিবির যেখানে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, সেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তারা গোপন রেখেছে। বিষয়টি পাকিস্তানের ওই সংগঠনের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জনসম্মুখে আসে। ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তান তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছে যে তারা শিবিরের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি মিশন বাস্তবায়নে কাজ করবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, তালাবা পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে কোন মিশনে নেমেছে তা ছাত্র শিবিরকে স্পষ্ট করতে হবে। ১৯৭১ সালের গণহত্যাকারীদের সঙ্গে দেখা করে ছাত্র শিবির যে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তার জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।
ইসলামী জমিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে দেখা যায়, শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসিম বিল্লাহ হাসমি ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম হায়দার সাক্ষাৎ করেছেন।
ছাত্রদলের নারী কর্মীর লাশ উদ্ধার নিয়ে রহস্য
গত ১৭ জুন ভোলা থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী-৪ লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেত্রী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতা। পরে ৪দিন পর রবিবার (২২ জুন) রাতে লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষীপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আক্তার হোসেন ও লক্ষীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ।
আব্দুল মোন্নাফ বলেন, শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে নৌ-পুলিশকে খবর দিলে ওইদিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মরদেহের পরিচয় পেতে বিলম্ব হওয়ায় শনিবার (২১ জুন) আইনি প্রক্রিয়া শেষে লক্ষ্মীপুর আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম কর্তৃক মরদেহটি দাফন করা হয়।
এ ছাড়াও নৌ-পুলিশ লক্ষীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে ভোলা সদর মডেল থানায় ইস্পিতার বাবার দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির আলোকে থানা পুলিশ ইপ্সিতার পরিবারকে লক্ষ্মীপুর নৌথানায় এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে মর্মে খবর দেয়।
পরে ইস্পিতার বাবা মরদেহের ছবি দেখে নিশ্চিত হন। বিষয়টি ইস্পিতার বাবা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতা ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেত্রী ও অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৭ জুন সকালের দিকে বাসা থেকে প্রাইভেট পড়ানোর নাম বলে বের হন তিনি। পরে আর সে বাসায় ফিরেনি।
এ ঘটনায় ইস্পিতার বাবা মাসুদ রানা ভোলা সদর মডেল থানায় একদিন পর নিখোঁজ দাবি করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
জানা গেছে, গত ১৭ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়া এমভি কর্নফুলি-৪ লঞ্চের একটি কেবিন বুকিং দিয়ে, সেখানে উঠেন ইস্পিতা। পরে লঞ্চটি কালিগঞ্জ স্টেশন পার হলে লঞ্চের তৃতীয় তলায় থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি।
এ সময় যাত্রীদের চিৎকারে লঞ্চটি দাঁড় করানো হয় এবং তাকে দেখে লাইফ বয়া ফেলানো হয়। কিন্তু নদীতে অতিরিক্ত ডেউ থাকায় ডুবে যান তিনি।
এ ঘটনায় লঞ্চে থাকা অন্য আরেক নারী ৯৯৯-এ কল দিয়ে ঝাঁপ দেওয়া তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ দেয়। পরে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পুলিশ ওই লঞ্চ থেকে দুইজন স্টাফ ও অভিযোগকারীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। ঘটনার প্রাথমিক তথ্য জেনে তাদেরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
ইস্পিতার বাবা মাসুদ রানা বলেন, ‘আমাদের কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা খুঁজে বের করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য