শিরোনাম
শার্ট-ক্যাপ পরিয়ে বান্ধবীকে হলে নিয়ে রাবি ছাত্রের রাত্রিযাপন
শার্ট ও ক্যাপ পরিয়ে বান্ধবীকে হলে নিয়ে রাত্রিযাপন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিববুর রহমান হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী। গত (৪ জুন) হলের ১৫৩ নম্বর রুমে এই ঘটনা ঘটে।
মেয়ে নিয়ে আসা ও শিক্ষার্থীর নাম মো. নাজমুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী। ছেলেটির বাসা মাদারীপুর। ওই নারী শিক্ষার্থীও একই বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী দুই ছাত্রের ভাষ্যে, ‘আমরা ৪ তারিখ ভোরে বাড়ি ফিরব বলে সবকিছু গুছিয়ে হলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে দেখি, একটা ছেলে সাইকেল চালিয়ে আমাদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তার সাইকেলের পেছনে একটি মেয়ে বসা, মেয়েটির গায়ে স্কুলের শার্ট আর মাথায় ক্যাপ ছিল। বিষয়টি আমাদের চোখে অস্বাভাবিক ঠেকায় আমরা তাকে ধরার চেষ্টা করি, কিন্তু সাইকেলের গতি এত বেশি ছিল যে পিছু নিলেও ধরতে পারিনি। এমনকি দারোয়ান মামাও তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম নারী শিক্ষার্থীকে হলের রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গত তিন তারিখে আমার জন্মদিন ছিল। সেদিন কেক কেটে রাত হয়ে যায়। এদিকে ওর (সাদিয়া) মেস থেকে তিন তারিখের মধ্যে চলে যেতে বলে। ও মেসে যেতে পারবে না বলে আমাকে অনুরোধ করে রাখার জন্য। পরে আমি ওকে রাতে হলে নিয়ে আসি। মূলত আমি ওকে শেল্টার দেওয়ার জন্য রাখি। পরে সকালে চলে যায়। তখন কেউ হয়তো আমাদের দেখে। এবিষয়ে প্রোভোস্ট স্যার আমাকে ডেকেছিল। আমি তাকে বিষয়টি খুলে বলি। তিনি আমাকে হল থেকে বহিষ্কার করেন। এবং বিষয়টি জানাজানি হবে না বলেও আমাকে জানান।
এদিকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ‘হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি একটি ভয়াবহ অপরাধ, এত বড় সাহস হয় কীভাবে? আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি এবং ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে হল প্রাধ্যক্ষ, গেটম্যান ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন গর্হিত কাজ কীভাবে ঘটল, তার সঠিক ব্যাখ্যা চাই।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে হবিবুর রহমান হলের প্রোভোস্ট ড. মো. মোতাহার হোসেন বলেন, এবিষয়ে আমি অবগত আছি এবং ঘটনাটিও সত্যি। হল প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তার সিট বাতিল করা হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি তার বিরুদ্ধে বাকি সিদ্ধান্ত নিবে।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, এটা অবশ্যই সাংঘাতিক একটি ঘটনা। এমন ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে সেটা অনেক বড় অপরাধ। আমরা খোঁজ নিব, বিষয়টি সত্যি হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঙলা কলেজ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতৃত্বে রাব্বি-সৈকত
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, সরকারি বাঙলা কলেজ সংসদের প্রথম আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদাচ্ছির চৌধুরীর সুপারিশে এ কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব।
শুক্রবার (২০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নবঘোষিত এ কমিটি প্রকাশ করা হয়।
কমিটিতে সরকারি বাঙলা কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো. আশরাফুল ইসলাম রাব্বিকে আহ্বায়ক এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্র শাওন আহমেদ সৈকতকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
কমিটির মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মিজানুর রহমান এবং মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন সুশানু ইসলাম দোলা।
৫১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটিতে আরও যুক্ত করা হয়েছে একঝাঁক উদ্যমী ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে, যারা ছাত্র-অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, বাঙলা কলেজ সংসদের পক্ষ থেকে জানানে হয়েছে, নবগঠিত কমিটি আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবে। এই মেয়াদে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তারা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, নতুন নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির ধারা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
এ প্রসঙ্গে নব মনোনীত সদস্য সচিব শাওন আহমেদ সৈকত বলেন, “বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, বাঙলা কলেজ সংসদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করায় কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং মুখ্য সংগঠকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ২৪'র সকল শহীদের স্মরণ করে বলতে চাই জুলাই বিপ্লবের যে আকাঙ্খা গনতন্ত্রের প্রয়োগ এবং সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা আমরা এই ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবো।তারই ধারাবাহিকতায় “ছাত্রদের কল্যাণে ছাত্ররাজনীতি” এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ , বাঙলা কলেজ শাখা কাজ করে যাবে এই অঙ্গীকার করছি।”
এস এম মঈন, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
রাজশাহী কলেজে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ রায়হান আলীর নাম বিকৃতি
জুলাই বিপ্লবে রাজশাহী কলেজের একমাত্র শহীদ রায়হান আলীর স্মরণে একটি নতুন ভবনে তার নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ প্রশাসন। তবে সেই নামকরণে নাম বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। নতুন দশ তলা সেই ভবনের নামফলকে ‘শহীদ রায়হান আলী ভবন’ এর পরিবর্তে লেখা হয়েছে ‘শহীদ রায়হান ব্যবসায় প্রশাসন ভবন’।
আজ শুক্রবার (২০ জুন) সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর থেকেই এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজশাহীতে পুলিশ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী বাহিনীর সাথে ছাত্র-জনতার গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আইসিইউয়ে তিনদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট শাহাদাতবরণ করেন ছাত্রনেতা রায়হান আলী। তাঁর আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ভবনের নামকরণ হলেও ‘আলী’ শব্দটি বাদ দিয়ে এবং বিভাগীয় নাম জুড়ে দিয়ে শহীদের পূর্ণ পরিচয় বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আওয়ামী দোসরদের প্রত্যক্ষ মদদে পরিকল্পিতভাবে শহীদের নামকে খাটো করতেই এ প্রচেষ্টা চালানো হতে পারে। শাহাদাতের মাত্র এক বছর না পেরোতেই শহীদের নাম নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা হলে ভবিষ্যতে হয়তো তাঁর অবদান সব জায়গা থেকেও মুছে ফেলা হবে। ছাত্র-জনতার রক্ত পেরিয়ে প্রশাসনের গুরু দায়িত্ব গ্রহণের পর শহীদদের অবমাননা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নিবে না বলেও প্রশাসনকে সতর্ক করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী রাফিন বলেন, শহীদের ‘আলী’ বাদ দিয়ে শুধু ‘রায়হান’ বলার মানে তাঁর প্রকৃত পরিচয় মুছে ফেলা হয়েছে। এটা কোনো সাধারণ নাম নয়, একজন শহীদের নাম। নাম বিকৃতি মানে ইতিহাস বিকৃতি।
রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক স্যার এই দশতলা ভবনটির নাম শহীদ রায়হান আলীর নামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমরা তখন প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে সকল ভবনের নাম স্বৈরাচারদের নামে রয়েছে, সেগুলোর নাম জুলাই বিপ্লবের শহীদদের নামে নামকরণ করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এই ভবনের নাম শহীদ রায়হান আলীর নামে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে শহীদের পূর্ণাঙ্গ নাম ব্যবহার না করে সংক্ষিপ্ত ও বিকৃতভাবে নামটি টানানো হয়েছে, যা শহীদের প্রতি অসম্মান। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম যে নামটি ভুল হচ্ছে। এরপরও কেন ভুল নাম টানানো হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়।
রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির বলেন, শহীদদের নাম বিকৃতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আমরা শুরু থেকেই শহীদ শাকিব আঞ্জুমের পুরো নাম ব্যবহারের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কলেজ প্রশাসন তখন শুধু 'সাকিব' কিংবা 'আঞ্জুম' নামটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তখনই আমরা বলেছিলাম, একজন শহীদের পূর্ণ নাম ছাড়া তাঁর পরিচয় অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ঠিক একইভাবে শহীদ রায়হান আলীর ক্ষেত্রেও যদি শুধু 'রায়হান' নাম ব্যবহার করা হয় তাহলে তার ইতিহাস ও পরিচয় বিকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, কলেজ প্রশাসন বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমরা বুঝতে পারছি না তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কেন শহীদদের নামকে ছোট করার চেষ্টা করছে। এই কলেজ ও ভবন যাদের রক্ত ও ত্যাগের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে সেই শহীদের নাম বিকৃত করা মানে তাদের সম্মানহানি এবং ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা। এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও নিন্দনীয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মেশকাত চৌধুরী মিশু বলেন, একজন শহীদকে যখন ধারন করবো তখন যেন তার পুরো নামটায় থাকে। শত বছর হাজার বছর পরেও যেন তার এই আত্মত্যাগটা মানুষ রাখতে পারে। যেহেতু উনার নামটা স্মরণ করার জন্য ওই নামে নামকরণ করা হয়েছে সেখানে পুরো নামটা দিলে ভালো হতো। কলেজ প্রশাসনের উচিত তার পুরো নামটা দেওয়া।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি বলেন, একজন শহীদের নাম যদি দিতে হয় তাহলে পুরো নামটা দিতে হবে, অর্ধেক নাম দিলে তাকে অবমাননা করা হবে। যদি নাম ব্যবহার না করে সেটা আলাদা। তবে যদি নাম দিতে হয় তাহলে পুরো নাম দিতে হবে। কলেজ প্রশাসন মনে হয় নাম দিতে চায় না তবুও দিচ্ছে। কিছুদিন পরে এই নাম তুলে ফেলতেও পারে।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহা. শামীম উদ্দীন বলেন, একজন শহীদের নামের ফলক দেওয়ার ক্ষেত্রে কলেজ প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া দরকার ছিল। যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আমরা নতুন একটি দেশ পেয়েছি তাদেরকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করতে হবে। শহীদদের এই ধরনের নামের অবমাননা ছাত্র সমাজ মেনে নিবে না।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি, কলেজের যে সমস্ত ভবন স্বৈরশাসকদের নামে বা তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা রয়েছে, সেগুলিকে বাদ দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সমস্ত ভবনগুলো জুলাই বিপ্লবের শহীদদের নামে নামকরণ করা উচিত। তবে তাদের নাম বিকৃতি যেন না হয় সে দিকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এদিকে শহীদের নাম বিকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী। তিনি বলেন, ‘যাদের দায়িত্ব দেওয়া ছিল তারা হয়তো লেখার সময় ভুলবশত আলী শব্দটি বাদ দিয়েছেন।’ তবে আলী শব্দ বাদ পড়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও ভুল নামফলক লাগানোর প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ জানান, ‘এটা সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব থাকা স্যাররা বলতে পারবেন। হয়তো পরবর্তীতে এটা সংশোধন হতে পারে।
মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ২০২০–২১ সেশনের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকাল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায়, সন্তোষ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থিত একটি ছাত্রাবাস (মেস) থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইমাম হোসেন বলেন, ‘সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান আমাকে ঘটনাটি জানালে আমি ভিসিসহ তার মেসে যাই। কাগমারী পুলিশ ফাঁড়িতে তথ্য দিলে তারা রুমের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং পরে প্রেরণ করে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, সে অনেকদিন ধরে হতাশায় ভুগছিল। এ কারণেই আত্মহত্যা করতে পারে।’"
কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রক্টর আমাকে ফোনে জানালে আমরা গিয়ে দরজা ভেঙে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।”
জুনায়েদের গ্রামের বাসা গাজিপুর জেলার পুবাইল গ্রামে। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহপাঠী ও শিক্ষকরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত শাহজালাল হল, ভোগান্তির শেষ নেই
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহজালাল হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানির সংকট, দুর্বল ইন্টারনেট, নিরাপত্তাহীনতা ও নিম্নমানের খাবারসহ নানামুখী অব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হলের বিভিন্ন ব্লকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে, এক ব্লকে বিদ্যুৎ থাকলে অন্য ব্লকে না থাকা ও ভোল্টেজ ওঠানামায় চার্জে থাকা ডিভাইস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগও অত্যন্ত ধীরগতির এবং অনিয়মিত; বিশেষ করে শুক্র-শনিবার কিছু ব্লকে তা একেবারেই থাকে না। ফলে অনলাইন ক্লাস, গবেষণা ও পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। ব্যবহৃত পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ও ময়লা পানিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এতে অনেকেই চর্মরোগ, চুল পড়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থাও নাজুক যে কিছু কক্ষে জানালায় গ্রিল নেই। ছাদের আস্তর খসে পড়ে, সিঁড়ি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে বৃষ্টির সময়। এক্সটেনশন ভবন এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে সাপসহ বন্যপ্রাণীর ভয়ে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের সুপারভাইজারের দায়িত্বে থাকা আবুল হোসেন মঞ্জু অসুবিধার কথা জানাতে গেলে শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং কার্যত কোনো সমাধান দেন না৷। হলের অন্যান্য কর্মচারীরাও নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “খাবারের মান এতটাই খারাপ যে কয়েকবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছি। ডাইনিং এর কর্মচারীদেরকে বললেও তারা রান্নার মান ভালো করে না, উল্টো আরো খাবারের মান নিম্নগামী হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে নিজেই রান্না করি। তবে সেখানেও বাধা দিচ্ছে হল কর্তৃপক্ষ। এখন বুঝতে পারি না, পড়ব নাকি রান্না করব।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা কোরবানি ঈদের আগে ওয়াইফাই লাইন ঠিক করার ব্যাপারে বলেছি। কিন্তু বারবার বলার পরও এখনো পর্যন্ত তারা এটি ঠিক করতে পারেনি। এক্সটেনশনে সিলিং না থাকায় গরমে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর এক্সটেনশন এলাকায় বের হতে ভয় লাগে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। কয়েকদিন আগে এক বন্ধুর সামনে সাপ দেখা গেছে। অথচ প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “এই হলকে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সব হল থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। অন্য হলে যেখানে উন্নয়ন হচ্ছে, আমরা কেবল অভিযোগ করেই যাচ্ছি কাজ কিছুই হচ্ছে না।”
তবে হল কর্তৃপক্ষের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরকে হলের বৈদ্যুতিক সমস্যা সমাধানের জন্য লিখিত এবং মৌখিক ভাবে বারবার বলা হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে শাহজালাল হলের প্রভোস্ট ড. ফুয়াদ হাসান বলেন, “গত সাত বছরে শাহজালাল হলের অব্যবস্থাপনা চরমে পৌঁছেছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছি। আমি শিক্ষার্থীদের বলেছি খাবারের মান বাড়াতে মিল সিস্টেম চালু করতে, কিন্তু তারা নাকচ করেছে। শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগগুলো করছে, তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। হলের পুরনো বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে রাইস কুকার ব্যবহারে ভোল্টেজ ওঠানামা করছে। এই সমস্যা কাটাতে নতুন লাইন সংযোগ প্রয়োজন, যা প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে। তাদের বারবার জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।”
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য