ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২০ জুন, ২০২৫ ২১:১০
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ২০২০–২১ সেশনের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

‎বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকাল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায়, সন্তোষ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থিত একটি ছাত্রাবাস (মেস) থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইমাম হোসেন বলেন, ‘সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান আমাকে ঘটনাটি জানালে আমি ভিসিসহ তার মেসে যাই। কাগমারী পুলিশ ফাঁড়িতে তথ্য দিলে তারা রুমের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং পরে প্রেরণ করে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, সে অনেকদিন ধরে হতাশায় ভুগছিল। এ কারণেই আত্মহত্যা করতে পারে।’"

‎কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রক্টর আমাকে ফোনে জানালে আমরা গিয়ে দরজা ভেঙে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।”

জুনায়েদের গ্রামের বাসা গাজিপুর জেলার পুবাইল গ্রামে। ‎তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহপাঠী ও শিক্ষকরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত শাহজালাল হল, ভোগান্তির শেষ নেই

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২০ জুন, ২০২৫ ১২:১৫
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত শাহজালাল হল, ভোগান্তির শেষ নেই

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহজালাল হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানির সংকট, দুর্বল ইন্টারনেট, নিরাপত্তাহীনতা ও নিম্নমানের খাবারসহ নানামুখী অব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের।

    সরেজমিনে দেখা যায়, হলের বিভিন্ন ব্লকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে, এক ব্লকে বিদ্যুৎ থাকলে অন্য ব্লকে না থাকা ও ভোল্টেজ ওঠানামায় চার্জে থাকা ডিভাইস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগও অত্যন্ত ধীরগতির এবং অনিয়মিত; বিশেষ করে শুক্র-শনিবার কিছু ব্লকে তা একেবারেই থাকে না। ফলে অনলাইন ক্লাস, গবেষণা ও পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে।  ব্যবহৃত পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ও ময়লা পানিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এতে অনেকেই চর্মরোগ, চুল পড়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থাও নাজুক যে কিছু কক্ষে জানালায় গ্রিল নেই।  ছাদের আস্তর খসে পড়ে, সিঁড়ি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে বৃষ্টির সময়। এক্সটেনশন ভবন এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে সাপসহ বন্যপ্রাণীর ভয়ে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের সুপারভাইজারের দায়িত্বে থাকা আবুল হোসেন মঞ্জু অসুবিধার কথা জানাতে গেলে শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং কার্যত কোনো সমাধান দেন না৷। হলের অন্যান্য কর্মচারীরাও নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। 

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “খাবারের মান এতটাই খারাপ যে কয়েকবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছি। ডাইনিং এর কর্মচারীদেরকে বললেও তারা রান্নার মান ভালো করে না, উল্টো আরো খাবারের মান নিম্নগামী হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে নিজেই রান্না করি। তবে সেখানেও বাধা দিচ্ছে হল কর্তৃপক্ষ। এখন বুঝতে পারি না, পড়ব নাকি রান্না করব।”

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা কোরবানি ঈদের আগে ওয়াইফাই লাইন ঠিক করার ব্যাপারে বলেছি। কিন্তু বারবার বলার পরও এখনো পর্যন্ত তারা এটি ঠিক করতে পারেনি। এক্সটেনশনে সিলিং না থাকায়  গরমে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর এক্সটেনশন এলাকায় বের হতে ভয় লাগে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। কয়েকদিন আগে এক বন্ধুর সামনে সাপ দেখা গেছে। অথচ প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।”


    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “এই হলকে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সব হল থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। অন্য হলে যেখানে উন্নয়ন হচ্ছে, আমরা কেবল অভিযোগ করেই যাচ্ছি কাজ কিছুই হচ্ছে না।”

    তবে  হল কর্তৃপক্ষের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরকে হলের বৈদ্যুতিক সমস্যা সমাধানের জন্য লিখিত এবং মৌখিক ভাবে  বারবার বলা হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

    এ বিষয়ে শাহজালাল হলের প্রভোস্ট ড. ফুয়াদ হাসান বলেন, “গত সাত বছরে শাহজালাল হলের অব্যবস্থাপনা চরমে পৌঁছেছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছি। আমি শিক্ষার্থীদের বলেছি খাবারের মান বাড়াতে মিল সিস্টেম চালু করতে, কিন্তু তারা নাকচ করেছে। শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগগুলো করছে, তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। হলের পুরনো বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে রাইস কুকার ব্যবহারে ভোল্টেজ ওঠানামা করছে। এই সমস্যা কাটাতে নতুন লাইন সংযোগ প্রয়োজন, যা প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে। তাদের বারবার জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।”

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ‎টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাঙ্কিংয়ে এবারও নেই মাভাবিপ্রবি

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ১৯ জুন, ২০২৫ ১৩:১৭
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ‎টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাঙ্কিংয়ে এবারও নেই মাভাবিপ্রবি

      ‎বিশ্বখ্যাত শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইসই) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং ২০২৫’-এর তালিকায় এবারও জায়গা হয়নি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি)।

      ‎বুধবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এই তালিকায় বিশ্বের ১১৫টি দেশের দুই হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় স্থান পেলেও মাভাবিপ্রবি অনুপস্থিত রয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

      ‎বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি:

      ‎এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ৮টি সরকারি ও ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। ‎বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, যেটি বিশ্বের ১০১–২০০তম অবস্থানে রয়েছে এবং বাংলাদেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (UIU) যৌথভাবে রয়েছে ৬০১–৮০০তম স্থানে।

      ‎সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর আছে ‎বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

      ‎কেন নেই মাভাবিপ্রবি?

      ‎টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাঙ্কিং জানা গেছে, ১৭টি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে র‌্যাঙ্কিংটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, নো পোভার্টি; জিরো হাঙ্গার; গুড হেলথ এন্ড ওয়েলবিং; কোয়ালিটি এডুকেশন; জেন্ডার ইকুয়ালিটি; ক্লিন ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশন; অফ ডল এন্ড ক্লিন এনার্জি; ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইকোনমিক গ্রোথ; ইন্ডাস্ট্রি ইনোভেশন এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার; রিকোয়ার্ড ইনেকুয়ালিটিস; সাসটেইনেবল সিটিজ এন্ড কমিউনিটিস; রেসপন্সিবল কনসামশান এন্ড প্রোডাকশন; ক্লাইমেট চেঞ্জ; লাইফ বিলোওয়াটার; লাইফ অন ল্যান্ড; পিস, জাস্টিস এণ্ড স্ট্রং ইন্সটিটিউশন্স ও পার্টনারশিপ ফর দ্যা গোলস। সংশ্লিষ্ট সূচকে পিছিয়ে থাকাই মাভাবিপ্রবির তালিকায় স্থান না পাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

      ‎এ বিষয়ে মাভাবিপ্রবি গবেষণা সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির বলেন, “ আমাদের গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগ কম, গবেষণা অনুদান পর্যাপ্ত নয়, আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও যৌথ গবেষণার অভাব রয়েছে। যা আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলে। ‎আমাদের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ ও শিক্ষকসংখ্যা কম। র‍্যাঙ্কিংয়ে যেতে হলে কমপক্ষে ৩৫টি বিভাগ এবং ৭০০ শিক্ষক প্রয়োজন। পাশাপাশি টানা ৫ বছর ধরে বছরে ৫০০টির বেশি ইনডেক্সড জার্নালে গবেষণা প্রকাশনার প্রয়োজন হয়।”

      ‎তিনি আরও বলেন, “মাভাবিপ্রবি থেকে অতীতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত (ডেটা) প্রদান করা হয়নি। তবে বর্তমানে ‘র‍্যাঙ্কিং বিষয়ক কমিটি’ গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ডেটা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সময়মতো তা প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই আমরা ভালো করতে পারব।”

      ‎তবে অনেকেই মনে করেন, র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান না পাওয়া মানেই বিশ্ববিদ্যালয়টি অকার্যকর—এমনটা নয়। বরং এটি একটি চ্যালেঞ্জিং বার্তা, যা ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

      ‎উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়া জরুরি:

      ‎বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং এখন আর শুধু কাগজে তালিকা নয়; এটি একটি প্রতিচ্ছবি, যা শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তা বুঝতে সহায়ক। মাভাবিপ্রবির জন্য এটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গবেষণা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

      ‎বিশ্বমানের তালিকায় স্থান পেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণায় বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে মাভাবিপ্রবি গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থীরা ও সংশ্লিষ্টরা।

      ‎মো.জাহিদ হোসেন/

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        সাত কলেজের ভর্তি পরিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ১৯ জুন, ২০২৫ ৬:১১
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        সাত কলেজের ভর্তি পরিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা

        রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরিক্ষা আয়োজনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন। 

         বুধবার (১৮ই জুন) অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিয়মিত সভা শেষে এ তথ্য জানান সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ইলিয়াস।

        তিনি বলেন, ‘মিটিংয়ে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও ভর্তিবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিতে হলে আমাদের আগামী সপ্তাহে আরেকটি সভার আয়োজন করতে হবে। টেকনিক্যাল কিছু জটিলতার কারণে আমরা এখনই বিজ্ঞাপন দিতে পারছি না।’

        এই টেকনিক্যাল জটিলতা প্রসঙ্গে প্রশাসক জানান, ‘আমরা এখন কোথায় আছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে, না কি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে—এটা স্পষ্ট নয়। ফলে ভর্তি পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় পরিষ্কার করেই আমরা পরবর্তী সভায় বসব।’


        পরীক্ষার সময়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা ধরে নিচ্ছি, আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রক্রিয়াগত জটিলতা না কাটলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা বা এমনকি মামলা হতে পারে। সেজন্য আরেকটি সভা আমাদের করতে হচ্ছে।”

        সভায় সাত কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য(শিক্ষা)' একজন প্রতিনিধি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার, এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি)'র তিনজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

        উল্লেখ্য, পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত থাকা সরকারি কলেজসমূহ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

        সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে উপরোক্ত সাতটি কলেজের অধিভুক্তি বাতিল এবং কলেজগুলোর সমন্বয়ে 'ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়' গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় আসন্ন নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে।

        এস এম মঈন
        সরকারি বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          টানা দুইবার টাইমস হায়ার ইমপ্যাক্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে খুবি

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ১৮ জুন, ২০২৫ ২১:১৭
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          টানা দুইবার টাইমস হায়ার ইমপ্যাক্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে খুবি

          যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) ২০২৫ সালের সর্বশেষ ইমপ্যাক্ট র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। বুধবার (১৮ জুন) এই র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই র‍্যাঙ্কিংয়ে টানা দুইবার অবস্থান করে নিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

          খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের ৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা হয়েছে। সেগুলো হলো,  ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি,  আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি। 

          ১৭টি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ওপর ভিত্তি করে র‌্যাংঙ্কিংটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, নো পোভার্টি; জিরো হাঙ্গার; গুড হেলথ এন্ড ওয়েলবিং; কোয়ালিটি এডুকেশন; জেন্ডার ইকুয়ালিটি; ক্লিন ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশন; অফ ডল এন্ড ক্লিন এনার্জি; ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইকোনমিক গ্রোথ; ইন্ডাস্ট্রি ইনোভেশন এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার; রিকোয়ার্ড ইনেকুয়ালিটিস; সাসটেইনেবল সিটিজ এন্ড কমিউনিটিস; রেসপন্সিবল কনসামশান এন্ড প্রোডাকশন; ক্লাইমেট চেঞ্জ; লাইফ বিলোওয়াটার; লাইফ অন ল্যান্ড; পিস, জাস্টিস এণ্ড স্ট্রং ইন্সটিটিউশন্স ও পার্টনারশিপ ফর দ্যা গোলস। এবারের তালিকায় ১ নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়। এরপরেই আছে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি।

           টাইমস হায়ার এডুকেশনের ওয়েবসাইটে র‌্যাঙ্কিংয়ে নির্ধারণে বিবেচিত সূচকগুলো বিশদ ব্যাখ্যাও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিক্ষাদান সূচকটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান, অর্থাৎ র‌্যাঙ্কিংয়ে নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দ্বিতীয় সূচক গবেষণায় দেখা হয় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকর্মের খ্যাতি-জরিপ, গবেষণা থেকে আয় এবং গবেষণার সংখ্যা ও মান।

          খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, টানা দুইবার টাইমস হায়ার ইম্প্যাক্ট এডুকেশন র‌্যাঙ্কিংয়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান পাওয়ায় গর্বিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। গবেষণার প্রতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোনিবেশ ও আন্তরিকতার ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় উৎকর্ষ সাধনে সকলের অবদান রয়েছে।

          তিনি আরো বলেন, একাডেমিক ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। আগামীতে আরও ভালো অবস্থানে যাওয়ার জন্য গবেষণায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত