শিরোনাম
সাত কলেজের ভর্তি পরিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা
রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরিক্ষা আয়োজনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন।
বুধবার (১৮ই জুন) অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিয়মিত সভা শেষে এ তথ্য জানান সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ইলিয়াস।
তিনি বলেন, ‘মিটিংয়ে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও ভর্তিবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিতে হলে আমাদের আগামী সপ্তাহে আরেকটি সভার আয়োজন করতে হবে। টেকনিক্যাল কিছু জটিলতার কারণে আমরা এখনই বিজ্ঞাপন দিতে পারছি না।’
এই টেকনিক্যাল জটিলতা প্রসঙ্গে প্রশাসক জানান, ‘আমরা এখন কোথায় আছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে, না কি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে—এটা স্পষ্ট নয়। ফলে ভর্তি পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় পরিষ্কার করেই আমরা পরবর্তী সভায় বসব।’
পরীক্ষার সময়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা ধরে নিচ্ছি, আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রক্রিয়াগত জটিলতা না কাটলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা বা এমনকি মামলা হতে পারে। সেজন্য আরেকটি সভা আমাদের করতে হচ্ছে।”
সভায় সাত কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য(শিক্ষা)' একজন প্রতিনিধি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার, এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি)'র তিনজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত থাকা সরকারি কলেজসমূহ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে উপরোক্ত সাতটি কলেজের অধিভুক্তি বাতিল এবং কলেজগুলোর সমন্বয়ে 'ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়' গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় আসন্ন নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে।
এস এম মঈন
সরকারি বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি
টানা দুইবার টাইমস হায়ার ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিংয়ে খুবি
যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) ২০২৫ সালের সর্বশেষ ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। বুধবার (১৮ জুন) এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই র্যাঙ্কিংয়ে টানা দুইবার অবস্থান করে নিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের ৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা হয়েছে। সেগুলো হলো, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি।
১৭টি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ওপর ভিত্তি করে র্যাংঙ্কিংটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, নো পোভার্টি; জিরো হাঙ্গার; গুড হেলথ এন্ড ওয়েলবিং; কোয়ালিটি এডুকেশন; জেন্ডার ইকুয়ালিটি; ক্লিন ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশন; অফ ডল এন্ড ক্লিন এনার্জি; ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইকোনমিক গ্রোথ; ইন্ডাস্ট্রি ইনোভেশন এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার; রিকোয়ার্ড ইনেকুয়ালিটিস; সাসটেইনেবল সিটিজ এন্ড কমিউনিটিস; রেসপন্সিবল কনসামশান এন্ড প্রোডাকশন; ক্লাইমেট চেঞ্জ; লাইফ বিলোওয়াটার; লাইফ অন ল্যান্ড; পিস, জাস্টিস এণ্ড স্ট্রং ইন্সটিটিউশন্স ও পার্টনারশিপ ফর দ্যা গোলস। এবারের তালিকায় ১ নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়। এরপরেই আছে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের ওয়েবসাইটে র্যাঙ্কিংয়ে নির্ধারণে বিবেচিত সূচকগুলো বিশদ ব্যাখ্যাও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিক্ষাদান সূচকটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান, অর্থাৎ র্যাঙ্কিংয়ে নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দ্বিতীয় সূচক গবেষণায় দেখা হয় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকর্মের খ্যাতি-জরিপ, গবেষণা থেকে আয় এবং গবেষণার সংখ্যা ও মান।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, টানা দুইবার টাইমস হায়ার ইম্প্যাক্ট এডুকেশন র্যাঙ্কিংয়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান পাওয়ায় গর্বিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। গবেষণার প্রতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোনিবেশ ও আন্তরিকতার ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় উৎকর্ষ সাধনে সকলের অবদান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একাডেমিক ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। আগামীতে আরও ভালো অবস্থানে যাওয়ার জন্য গবেষণায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ছাত্রলীগের হাতে ‘পা’ বিচ্ছিন্ন হওয়ার লোমহর্ষক আঘাতের বর্ণনা দিল রাবি শিক্ষার্থী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরীক্ষার হলে শিবিরের কয়েকজন শিক্ষার্থী আসার খবরে চতুর্দিকে ঘিরে ফেলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিষিদ্ধ সংগঠনের ছাত্রলীগের ২৫-৩০ জন নেতাকর্মীরা। সেসময় পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সামনে এক শিক্ষার্থীকে গুলি ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ডান পা বিচ্ছিন্ন করে দেয় তৎকালীন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।
২০১৪ সালের ১৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদুল্লাহ কলা ভবন এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতাবস্থা দুই ছাত্রশিবির নেতাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
মো. রাসেল আলম (তৎকালীন নবাব আব্দুল লতিফ হল সেক্রেটারি) -এর বক্তব্য ওঠে আসে লোমহর্ষক ঐ ঘটনার বর্ণনা।
তিনি বলেন, "ছাত্রলীগ সেদিন শহিদুল্লাহ কলা ভবনের গেট বন্ধ করে দেয়। আমি তখন ভেতরে আটকা পড়ে যাই। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে হাসিব ভাই ও মঞ্জুর ভাইকে (ছাত্রশিবির নেতা) গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আমাকে পুলিশ কিছু না বলায় আমিও চুপচাপ থাকি। গেটের বাইরে পুলিশের আরেকটা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কিন্তু তখনও আমি বুঝতে পারিনি আমাকে নিয়ে ওরা কি জঘন্য চক্রান্ত করে রেখেছে!
বেলা তিনটার দিকে প্রায় ২৫-৩০ জন অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ আমাকে ঘিরে ফেলে এবং একটা রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। তাদের হাতে বন্দুক, চাপাতি, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র। তারা এক ঘন্টা ধরে আমাকে আটকে রেখে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল হোসেন তুহিন ছিল সেখানে। বেলা চারটার দিকে আমি তাকে বলি, তোমাদের কারো তো আমি কোন ক্ষতি করিনি, আমাকে যেতে দাও। এই বলে পিছন ফিরে পা বাড়াতেই রিনেট নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী আমাকে পিঠে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। কি হলো বুঝার জন্য ঘুরে দেখা মাত্রই অন্য কেউ আমার হাতে আরেকটা চাপাতি দিয়ে আঘাত করে। আমার হাত কব্জি থেকে কেটে চামড়ার সাথে ঝুলতে থাকে।
আমি ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হওয়ারও সময় পাইনি। ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ রুনু (পরবর্তীতে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক) আমার দুই পায়ে গুলি করে। আমি মাটিতে পড়ে যাই। আমাকে এই অবস্থায় ফেলে তারা সবাই চলে যাচ্ছিল, কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া (পরবর্তীতে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি) ফিরে এসে চাপাতি নিয়ে আমার পায়ে কোপাতে থাকে। আমি আমার পায়ের অনুভূতি পাচ্ছিলাম না। আমাকে ওরা আঘাত করছে অথচ আমি কিছুই বুজছি না। ভয়ংকর কিছু হয়ে গেছে সেটাও বুঝতে পারিনি।
আমাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ওরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়াতে গিয়ে দেখি আমার এক পা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে। কিছুক্ষণ আগেও যেই আমি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ ছিলাম, মুহূর্তের মধ্যেই সেই আমি ছাত্রলীগের নৃশংসতায় একেবারে পঙ্গু হয়ে গেলাম। রক্তের ধারা বয়ে যাচ্ছিল আমার শরীর দিয়ে। সারা শরীর ভালভাবে দেখলাম, মনে হলো আমি পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলাম ও কয়েকবার তওবা পরে নিলাম। এরপর মনে মনে বলছিলাম, হে আল্লাহ আমি শহিদি মৃত্যু চেয়েছিলাম, তুমি কবুল করেছ, আলহামদুলিল্লাহ। তুমি শুধু আমার বাবা-মাকে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দিও। আমি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। আমাকে নিয়ে তাদের দুনিয়ার সকল স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে গেল, তুমি তাদের আখিরাতে প্রতিদান দিও।
এরপর আমি মৃত্যুর অপেক্ষা করছি। এভাবে বেশকিছুটা সময় নিজের রক্তের ভিতরে ডুবে ছিলাম। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ আসে। তখনকার মতিহার থানার ওসি আলমগীর আমাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান। শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডা. বি. কে. দাম আমার অপারেশন করতে অস্বীকৃতি জানায়।
রক্তক্ষরণ আটকাতে আমার পা বেধে রাখা হয়েছিল। পায়ে কোন অনুভূতি না থাকলেও কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা করছিল। প্রায় এক ঘন্টা ধরে যন্ত্রনায় চিৎকার চেঁচামেচির পর আমার অপারেশন শুরু করে। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অপারেশন শেষে আমাকে আইসিইউতে শিফট করে। তারপর আইসিইউতে আমাকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়। আমি পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে থাকি। আমার সাথে কারো দেখা করার ব্যাপারেও বিধিনিষেধ ছিল। এই অবস্থায় কাউকে গ্রেফতার করা হতে পারে আমার কল্পনাতেও ছিলো না।"
সংস্কারের নামে ভাঙা হচ্ছে ভাস্কর্য, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কারের নাম করে ভেঙে ফেলা হচ্ছে 'অঞ্জলি লহ মোর' নামের ভাস্কর্য। আর এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৮ জুন) ভাস্কর্যটির পাশেই রঙ্গিন কাগজের উপর 'শিল্পের উপর আঘাত বন্ধ করতে হবে', 'সংস্কৃতির উপর আঘাত বন্ধ করতে হবে', মূলডিজাইন অনুযায়ী ভাস্কর্যটি মডিফাই করতে হবে' দাবি লিখে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।
ফোকলোর বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার বলেন, "এই ভাস্কর্য ভাঙ্গার মধ্যে দিয়ে স্পষ্টত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভাস্কর্যের মধ্যে একটা শিল্প-সংস্কৃতির গুন আছে। ভাস্কর্য ভাঙার কারণে এই শিল্প-সংস্কৃতিকে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ভাস্কর্যতে যদি আর একটা আঘাত করা হয়, ভাস্কর্যটি যদি পুনঃনির্মাণ না করা হয়। তাহলে আমরা সকলকে নিয়ে এই প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো। জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন তা না করে স্বৈরাচারী মনোভাব দেখিয়েছে তার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি।"
ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী বলেন, 'অঞ্জলি লহ মোর' ভাস্কর্যটি যতুটুকু ভাঙা হয়েছে ততটুকুই থাকবে। এরচেয়ে আর বেশি ভাঙ্গা হবেনা। আগামী ২২ তারিখ একটা মিটিং আছে সেই মিটিং-এ ভাস্কর্যটি পুনঃনির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ ভবন এবং পুরাতন কলা অনুষদ ভবনের মাঝামাঝি পুকুরের অংশে। ভাস্কর্যটি একজন নারী দু’হাত সংযুক্ত করে অঞ্জলি দিচ্ছে; সেই ভাবনা বহন করত। ভাস্কর্যটি দেশের খ্যাতনাম নৃত্যশিল্পী, শিক্ষক, অভিনেত্রী মুনমুন আহমেদের হাতের ছবি থেকে করা। এটি করেছিলেন ভাস্কর্যবিদ মনিন্দ্র পাল।
আইসিটি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৫ (আঞ্চলিক পর্ব) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ জুন) সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের ল্যাবে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
সিএসটিই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাহিদ আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব মো. আবু নাছের। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন নোবিপ্রবি সাইবার সেন্টারের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ইফতেখার মাহমুদ তওহীদ।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আইসিটি ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের প্রোগ্রামিং দক্ষতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ২০১৫ সাল থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, আইসিটি কুইজ ও দাবা বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও প্রতিযোগিদের জন্য AI & Cyber Security বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের সনদ ও মেডেল তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় বক্তারা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও তথ্য প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন যে ডেটা সায়েন্স বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা রোবটিক্স বলি সেটাতে আইসিটির গুরুত্ব রয়েছে। আইসিটিকে বাদ দিয়ে আমাদের শিক্ষা-গবেষণা বা আমাদের দৈনন্দিন কাজে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব না। কাজেই আইসিটি মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে নিঃসন্দেহে এটি পরবর্তী প্রজন্মকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযুক্ত করে গড়ে তুলবে।”
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য