ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

১৮ বছরে পাবিপ্রবি: সংকটের চাপ, সম্ভাবনার প্রত্যয়

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৫ জুন, ২০২৫ ১৮:৫৭
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৮ বছরে পাবিপ্রবি: সংকটের চাপ, সম্ভাবনার প্রত্যয়

২০০৮ সালের ৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। দীর্ঘ সতেরো বছর পেরিয়ে আঠারো বছরে পা রাখা এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখন আর শিশুকালের গুটিগুটি হাঁটা নয়—দ্রুতগতির, আত্মবিশ্বাসী এক যৌবনের দিকে এগিয়ে চলেছে। সম্ভাবনা ও সংকট, সাফল্য ও ব্যর্থতা মিলিয়ে গড়া এক বহুমাত্রিক ইতিহাসের অংশ এখন পাবিপ্রবি।

গয়েশপুরের মাঠ থেকে রাজাপুরের যাত্রাঃ

২০০১ সালের ১৫ জুলাই “পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১” প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে পাবনার গয়েশপুর ধোপাঘাটা এলাকায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর দেশের ২৯তম পাবলিক এবং ৭ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে পাবিপ্রবি। শুরুর দিকে রাজাপুরের টিটিসি ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে রাজাপুরে অবস্থিত নিজস্ব ক্যাম্পাসেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

২০০৯ সালের ৫ জুন তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, বীর উত্তম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর হাত ধরে শুরু হয় মূল ক্যাম্পাসে পাঠদান।

বুননের চেয়ে যুদ্ধ বড় ছিলঃ

পাবিপ্রবির অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে। শিক্ষক সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা—সবকিছুই একসময় তার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করেছিল। তবুও আজ পাঁচটি অনুষদের অধীনে ২১টি বিভাগে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কার্যক্রমেও ক্রমাগত নিজেকে প্রমাণ করছে।

সংস্কৃতির আলোকবর্তিকাঃ

ক্যাম্পাসের প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ এখন অনেক বেশি চেনা। রয়েছে বিতর্ক শিখার সংগঠন পাস্ট ডিবেটিং    সোসাইটি, ব্যান্ড দল ‘স্কেচ’, নাট্যসংগঠন ‘অনিরুদ্ধ’, আবৃত্তি সংগঠন ‘কণ্ঠস্বর’ এবং তরুণদের সাহিত্যচর্চা কেন্দ্রিক আড্ডা। জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে একাধিকবার সফল হয়েছে পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর আয়োজিত পিঠা উৎসব, বিতর্ক প্রতিযোগিতা কিংবা সাহিত্য সভাগুলোও পাবিপ্রবিকে আলাদা রঙে রাঙিয়েছে।

যে জীবন শুধুই পাঠ্যবইয়ের নয়ঃ

শিক্ষার্থীরা আজ শুধু ক্লাসরুমেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে। পথশিশুদের পাঠদান, শীতবস্ত্র বিতরণ, পরিবেশ আন্দোলন, বিতর্ক, শুদ্ধাচার—সব কিছুই এখন পাবিপ্রবির পরিচয়ের অংশ। সাংবাদিক সংগঠন পাবিপ্রবি প্রেসক্লাব শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

ভবিষ্যতের রূপরেখা ও প্রশাসনিক আশাবাদ:

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম ও ট্রেজারার অধ্যাপক মো. শামীম আহসানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে প্রাণ ফিরেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত হয়েছে আলাদা নীতিমালা। গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে গঠন করা হয়েছে চারটি বিশেষ সেল। লক্ষ্য—পাবিপ্রবিকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ গ্র্যাজুয়েট হিসেবে প্রস্তুত করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ সেল গঠন করা হয়েছে । জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা ও সহযোগিতার জন্য ‘সেল ফর ন্যাশনাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কোলাবরেশন’ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘সেল ফর এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট’ গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পাবিপ্রবি সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবে।

চলমান সংকট: পথ এখনো মসৃণ নয়

তবে এখনো কিছু মৌলিক সংকট রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে শিক্ষক সংকট। কিছু কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীরা দুকছে সেশন জটে।  ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও মিলনায়তনের অভাব সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। আবাসন সংকটও প্রকট—ছেলেদের জন্য ১টি হল ও মেয়েদের জন্য ১টি হল রয়েছে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য ১০ তলা দুটি নতুন হলে শিক্ষার্থী সীট বরাদ্দ হলে সংকট কিছুটা কমবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই অত্যাধুনিক গবেষণাকেন্দ্র। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সংস্কার ও পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে দরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

আত্মপরিচয়ের নিদর্শন:

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকতেই চোখে পড়ে শহীদ মিনার, স্বাধীনতা স্তম্ভ, মুক্তমঞ্চ, রয়েছে মসজিদ ও মন্দির—সব মিলিয়ে পাবিপ্রবি যেন হয়ে উঠেছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক মোহনীয় ঠিকানা।

দুর্ভাবনার মধ্যে আশার আলো:

শুরুটা হয়েছিল সীমিত পরিসরে, অনেকটা রুক্ষ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে। ১৭বছর অতিক্রম করে আজ পাবিপ্রবি নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও শিক্ষার্থীরা সুনাম ছড়াচ্ছেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকলের প্রত্যাশা—সেশনজটমুক্ত, গবেষণাভিত্তিক ও সম্প্রীতির এক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠবে, যেখান থেকে আলোর দিশা পাবে নতুন প্রজন্ম।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    খুবির নিরাপত্তা কর্মীরা অবহেলিত: নেই চাকরির নিশ্চয়তা, বঞ্চিত মৌলিক সুবিধা থেকে

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৪ জুন, ২০২৫ ১৯:৪
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    খুবির নিরাপত্তা কর্মীরা অবহেলিত: নেই চাকরির নিশ্চয়তা, বঞ্চিত মৌলিক সুবিধা থেকে

    দীর্ঘদিন ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করলেও এখনও চাকরির স্থায়িত্ব, ন্যায্য পারিশ্রমিক কিংবা ওভারটাইম ভাতা পাচ্ছেন না অনেক প্রহরী। মাস্টাররোল ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীরা বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করেও রয়েছেন অনিশ্চয়তায়।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নিরাপত্তা বিভাগে মোট ১০৬ জন প্রহরী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ৮৯ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব, সাতজন আনসার এবং ১১ জন মাস্টার রোলভুক্ত প্রহরী। মাস্টাররোলের মধ্যে তিনজন ছোখ ভাতা পান। এছাড়া আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োজিত কর্মীদের অনেকেই রয়েছেন যারা প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬ জন নিরাপত্তা প্রহরীর মধ্যে ঈদের ছুটি পেয়েছেন মাত্র ১৬ জন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটসোর্সিং ও মাস্টার রোলের ১৭ জন সদস্যের কেউ ঈদ উপলক্ষে কোনো ছুটি পাননি। তারা মোট ৮৯ জন ৩টি শিফটে কাজ করেন। ভোর সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে রাত ১০টা এবং রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে আছেন।

    মাস্টাররোল ভুক্ত নিরাপত্তা কর্মীদের অভিযোগ "দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও আমাদের স্থায়ী কারার কোন পরিকল্পনা নেই। বিগত দিনে আমাদের অগ্রাধিকার না দিয়ে বাইরে থেকে এনে অনেককে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করতেছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর মতো আমাদেরও স্থায়ী করা হবে।

    ঈদের ছুটি না পাওয়া মাস্টার রোলের একজন নিরাপত্তা প্রহরী বলেন, "সাড়ে তেইশ বছর ধরে এই চাকরি করছি। একটা ঈদও পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারিনি। ঈদের দিনও ক্যাম্পাস পাহারা দিতে হয়। এখন আর বাড়ি থেকে কলও আসে না।"

    কর্মীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, অথচ ওভারটাইম ভাতা সেভাবে দেওয়া হয় না। এক কর্মীর ভাষায়, “বেসিক বেতনের ভিত্তিতে যদি ওভারটাইম হিসাব করে দেওয়া হতো তাহলে কিছুটা সচ্ছলতা আসত। পরিবার চালিয়ে মাস শেষে কিছুই হাতে থাকে না। তাঁরা আরো বলেন, এক মাসের কাজ করিয়ে ২৬ দিনের বেতন দেওয়া হয় আর চারদিনের জন্য এক হাজার দেওয়া হয়। 

    গত উপাচার্যের সমালোচনা করে তাঁরা আরো বলেন, করোনার সময় ২০২১ সালের তিন মাসের ওভারটাইমের বকেয়া টাকা এখনও আমরা পাইনি। 

    আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত এক প্রহরী অভিযোগ করেন, তাকে চাকরিতে নিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়েছে। শুরুতে বলা হয়েছিল চাকরিটি স্থায়ী হবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তিনি চান, ভবিষ্যতের নিয়োগে, আগে থেকে নিয়োজিত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।

    তদারক কর্মকর্তা জয়নাল বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে আমানত। দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা করি না।

    নিরাপত্তা শাখার তত্ত্বাবধায়ক আব্দুর রহমান বলেন, জনবল সংকটে আমাদের অতিরিক্ত চাপ নিতে হয়। আরও ২০-২৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিলে কাজের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হতো।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “নিরাপত্তাকর্মীদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত আছি। এখন স্থায়ী নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। একটু সময় নিয়ে সব করা হবে। যাদের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের সময় বাড়ানো হবে।
     

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আধিপত্য, চলছে অশ্লীল ও অসামাজিক কার্যক্রম

      অনলাইন ডেস্ক
      ৪ জুন, ২০২৫ ১৫:৫০
      অনলাইন ডেস্ক
      মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আধিপত্য, চলছে অশ্লীল ও অসামাজিক কার্যক্রম

      টাংগাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ঈদের বন্ধের ফাঁকা সময়ে বাড়ছে বহিরাগতদের আড্ডা, মাদকসেবন, নিয়ন্ত্রিত বাইক চালানো, ছেলে-মেয়েদের অশ্লীল ও অসামাজিক কার্যকলাপ এবং দৃষ্টিকটূ টিকটক ভিডিও। এতে করে দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি, বাড়ছে চুরির শংকা, বাড়ছে উদ্বেগ।

      সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম গেট দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবেশ করছে বহিরাগতদের বাইক, ক্যাম্পাস জুড়ে চলছে অনিয়ন্ত্রিত গতিতে বাইক রেস। এছাড়া হাতির কবর, বিজয় অঙ্গণ, পুরাতন ছাত্রলীগের অফিস, শহিদ মিনার, বুদ্ধিজীবী চত্ত্বর, ক্যাফেটেরিয়া, প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন এলাকা, ১ম একাডেমিক ভবনের রাস্তাসহ বিভিন্ন আনাচে-কানাচে চলছে অবৈধ কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ড ও  মুক্তমঞ্চের পিছনে বেড়েছে প্রকাশ্যে মাদক সেবন। ছেলেদের আবাসিক হলের আশে-পাশে চলছে ছেলে-মেয়েদের অশ্লীল টিকটক ভিডিও।

      এরকম পরিস্থতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের ভুমিকা নিয়েও উঠছে নানান প্রশ্ন।

      গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সাইদুল হাসান সোহাগ বলেব, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানেই জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রশাসন একত্রে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ক্যাম্পাস ছুটির দিনে বা দীর্ঘ বন্ধের সময় ফাঁকা পড়ে থাকে, আর সেই সুযোগে সেখানে ঢুকে পড়ছে বহিরাগতরা। এই বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণহীন বিচরণ এখন এক ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। ফাঁকা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনায় বাড়ছে অশ্লীলতা, মাদক সেবন, জুয়া, কিংবা অবৈধ সমাবেশ। ক্যাম্পাসের গাছপালা, পেছনের মাঠ কিংবা নির্জন ভবনচত্বর ব্যবহার করা হচ্ছে অসামাজিক কার্যকলাপে। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।"

      পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান রাব্বি বলেন, "ক্যাম্পাস এখন এমন ফাঁকা, মনে হয় যেন ছাত্রদের নয়, বহিরাগতদের জন্যই বানানো হয়েছে! আর আমরা ভাবছি এটা কি বিশ্ববিদ্যালয়, না যেন টিকটক স্টুডিও! অশ্লীলতার উৎসব চলতেছে, আর নিরাপত্তা? সেইটা তো গেটেই দাঁড়ায়নি এখনো। প্রশাসন আছেন ঠিকই, কিন্তু কাজকর্মে যেন ইনভিজিবল মোডে! এখনই যদি ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে আসা না যায়, তাহলে 'প্রবেশ নিষেধ' সাইনটা ছাত্রদের জন্যই বসাতে হবে!”

       টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রাকিব বলেন, "ঈদের ছুটিতে যখন শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়িতে, তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে পড়েছে প্রায় জনশূন্য। এই সুযোগে বহিরাগতরা মটরবাইক নিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে, উচ্চ শব্দে বাইক চালানো, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এমন কর্মকাণ্ড একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে ছুটির সময় বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, সেখানে আমাদের প্রশাসনের নজরদারির অভাব স্পষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হলো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা। এই অব্যবস্থাপনা ও দুর্বলতা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দিকেও বড় হুমকি তৈরি করে।"

      এফটিএনএস বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সমাপ্তি খান জানান, "ঈদের এই ছুটিতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে গেছে, ফাঁকা ক্যাম্পাসে যে কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছে, অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। ফলে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা নিরাপত্তাহীন অবস্থা তৈরি হচ্ছে। ক্যাম্পােসর প্রতিটা গেটে নিরাপত্তা কর্মী থাকা সত্বেও ক্যাম্পাসের ভিতরে বহিরাগতদের অবাধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা প্রসাশনের দুর্বলতা। প্রশাসনের প্রতি আহবান থাকবে, তারা যেনো অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে এবং ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনে।"

      ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন জানান, "আমরা দিনে কয়েকবার টহল দিচ্ছি। অপ্রীতিকর কোন বিষয় আমাদের নজরে আসলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা শাখার সদস্যরা নিয়োজিত আছেন। শিক্ষার্থীদেরও এই বিষয়ে সহয়তা করতে হবে প্রশাসনকে।"

      নিরাপত্তার ঘাটতি বা দায়িত্বের কোন অবহেলা আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে নিরাপত্তা শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, "আমাদের দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা নেই। ১ম গেট থেকে বাইকগুলো জিজ্ঞাসাবাদ করে ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। আমাদের পর্যাপ্ত আনসার সদস্য না থাকায় আমরা কিছু জায়গায় তাদের নিয়োজিত করতে পারছি না। আমাদের ৮জন আনসার সদস্য একসময়ে দায়িত্ব পালন করলে সেন্ট্রাল ফিল্ডে একজনকে নিয়োজিত করতে পারবো। আর অসামাজিক কোন কার্যকলাপ আমাদের চোখে পড়লে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব।"

      বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক শ্রেণি ও সচেতন মহল।

      প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      নিজ ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পাবেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৪ জুন, ২০২৫ ১২:৪২
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      নিজ ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পাবেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানী ঢাকার সাত(০৭) টি সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন।

      শিক্ষার্থীদের দাপ্তরিক কাজকর্ম সহজিকরণের লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাত কলেজের প্রত্যেকটা কলেজ ক্যাম্পাসে এ সেবা চালু করা হবে। হেল্প ডেস্কের কার্যক্রম পরিচালিত হবে কলেজ সমূহের উপাধ্যক্ষ অথবা জ্যেষ্ঠ একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে

      সাধারণত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে প্রায় সময়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়, তেমনি যাওয়া-আসা মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ সময়ের ও অর্থের অপচয়  হয়। অপরদিকে, সাত কলেজের দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনেও অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়। 

      মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উপর চাপ কমাতে এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সেবামূলক কার্যক্রম সহজ করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া করা হয়েছে। 

       মঙ্গলবার (৩রা জুন) সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান এবং ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

      বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ (সাত) কলেজের শিক্ষার্থীগণ একাডেমিক সংক্রান্ত সকল কার্যাবলীর (ভর্তি, প্রবেশপত্র, রেজি: সাময়িক সনদপত্র ও সনদপত্র) জন্য প্রায়ই কোনো না কোনো কলেজের শিক্ষার্থীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় যেতে হয়। অনেক সময় ওই শিক্ষার্থীকে আক্ষরিক বা দাপ্তরিক ত্রুটির জন্য কাঙ্খিত সেবা পেতে অসুবিধা হয়। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিজ প্রতিষ্ঠানে থেকে প্রাপ্তির জন্য ও বর্ণিত বিষয়টি বিবেচনাপূর্বক সকল শিক্ষার্থীকে সেবামূলক কাজ সহজীকরণের লক্ষ্যে ০১ (এক) টি হেল্পডেক্স স্থাপন জরুরী। প্রত্যেক কলেজের উপাধ্যক্ষ বা জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ০১ (এক) টি হেল্পডেক্স স্থাপন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

      উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন যাবৎ সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের হয়রানি রোধে স্ব স্ব কলেজে হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সরকারি কলেজসমূহ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, সরকারি বাঙলা কলেজ

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        খুবির নির্মাধীন  এক কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকার  প্রকল্প ‘পন্ড কমপ্লেক্স’

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৩ জুন, ২০২৫ ২১:৪
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        খুবির নির্মাধীন  এক কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকার  প্রকল্প ‘পন্ড কমপ্লেক্স’

        খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের  এক অনন্য নির্মাধীন প্রকল্প হলো পন্ড কমপ্লেক্স।এটি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সামনে অবস্থিত। প্রজেক্টের অধীনে মোট বারোটি পুকুর খনন করা হয়। এই পুকুর গুলোর অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো   সিমেন্টের পিলার   ও  ব্লক  ব্যবহার । প্রকল্পটির জন্য প্রায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ  শুরু হয় চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে এবং শেষ হবে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে।

        প্রকল্প সম্পর্কে দায়িত্ব প্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার বলেন,“এই ছিদ্রযুক্ত সিমেন্টের ব্লক দ্বারা পুকুর বাঁধায় বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। এটা আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের নিজস্ব আইডিয়া।”

        এই পন্ড কমপ্লেক্স সম্পর্কে ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো: গোলাম সরোয়ার বলেন,“ এটি তৈরির লক্ষ্য হলো যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা মৎস্য সম্পর্কে গবেষণা করতে পারে। অনেক সময় মৎস্য সম্পর্কে গবেষণার জন্য বাইরে যেতে হয় এতে  অর্থ এবং সময় দুটারই অপচয় হয়। আশা করি এই পন্ড কমপ্লেক্সের মাধ্যমে এই সমস্যা গুলো দূরের পাশাপাশি  শিক্ষার্থীরা উন্নত মানের  গবেষণার সুযোগ পাবে।”

        “এছাড়া তিনি  বলেন আমরা যে ছিদ্রযুক্ত সিমেন্টের ব্লক ব্যবহার করছি এর কারণ হলো পানি এবং মাটির সম্পর্ক বজায় রাখা। পাশাপাশি পুকুরের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও সৌন্দর্য বর্ধনও এর মূল লক্ষ্য। সাধারণ ভাবে পুকুর বাঁধায় করা হলে বর্ষা মৌসুমে এর পাড় ধসে যায় কিন্তু সিমেন্টের ব্লক ও পিলার দ্বারা পুকুরের পাড় প্রস্তুত করা হলে তা ধসের কোনো  সম্ভবনা থাকে না।”

        ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো:হাদীউজ্জামান বলেন, “এই পুকুর গুলো বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য গবেষণার জন্য তৈরী করা হচ্ছে। এই মৎস্য গবেষণাগারের  মাধ্যমে আমরা আরও বেশি মৎস্য সম্পর্কে গবেষণা করতে পারবো।

        প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত