শিরোনাম
নিজ ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পাবেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানী ঢাকার সাত(০৭) টি সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের দাপ্তরিক কাজকর্ম সহজিকরণের লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাত কলেজের প্রত্যেকটা কলেজ ক্যাম্পাসে এ সেবা চালু করা হবে। হেল্প ডেস্কের কার্যক্রম পরিচালিত হবে কলেজ সমূহের উপাধ্যক্ষ অথবা জ্যেষ্ঠ একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে
সাধারণত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে প্রায় সময়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়, তেমনি যাওয়া-আসা মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ সময়ের ও অর্থের অপচয় হয়। অপরদিকে, সাত কলেজের দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনেও অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়।
মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উপর চাপ কমাতে এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সেবামূলক কার্যক্রম সহজ করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩রা জুন) সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান এবং ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ (সাত) কলেজের শিক্ষার্থীগণ একাডেমিক সংক্রান্ত সকল কার্যাবলীর (ভর্তি, প্রবেশপত্র, রেজি: সাময়িক সনদপত্র ও সনদপত্র) জন্য প্রায়ই কোনো না কোনো কলেজের শিক্ষার্থীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় যেতে হয়। অনেক সময় ওই শিক্ষার্থীকে আক্ষরিক বা দাপ্তরিক ত্রুটির জন্য কাঙ্খিত সেবা পেতে অসুবিধা হয়। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিজ প্রতিষ্ঠানে থেকে প্রাপ্তির জন্য ও বর্ণিত বিষয়টি বিবেচনাপূর্বক সকল শিক্ষার্থীকে সেবামূলক কাজ সহজীকরণের লক্ষ্যে ০১ (এক) টি হেল্পডেক্স স্থাপন জরুরী। প্রত্যেক কলেজের উপাধ্যক্ষ বা জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ০১ (এক) টি হেল্পডেক্স স্থাপন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন যাবৎ সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের হয়রানি রোধে স্ব স্ব কলেজে হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সরকারি কলেজসমূহ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, সরকারি বাঙলা কলেজ
খুবির নির্মাধীন এক কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকার প্রকল্প ‘পন্ড কমপ্লেক্স’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনন্য নির্মাধীন প্রকল্প হলো পন্ড কমপ্লেক্স।এটি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সামনে অবস্থিত। প্রজেক্টের অধীনে মোট বারোটি পুকুর খনন করা হয়। এই পুকুর গুলোর অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো সিমেন্টের পিলার ও ব্লক ব্যবহার । প্রকল্পটির জন্য প্রায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে এবং শেষ হবে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে।
প্রকল্প সম্পর্কে দায়িত্ব প্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার বলেন,“এই ছিদ্রযুক্ত সিমেন্টের ব্লক দ্বারা পুকুর বাঁধায় বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। এটা আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের নিজস্ব আইডিয়া।”
এই পন্ড কমপ্লেক্স সম্পর্কে ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো: গোলাম সরোয়ার বলেন,“ এটি তৈরির লক্ষ্য হলো যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা মৎস্য সম্পর্কে গবেষণা করতে পারে। অনেক সময় মৎস্য সম্পর্কে গবেষণার জন্য বাইরে যেতে হয় এতে অর্থ এবং সময় দুটারই অপচয় হয়। আশা করি এই পন্ড কমপ্লেক্সের মাধ্যমে এই সমস্যা গুলো দূরের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা উন্নত মানের গবেষণার সুযোগ পাবে।”
“এছাড়া তিনি বলেন আমরা যে ছিদ্রযুক্ত সিমেন্টের ব্লক ব্যবহার করছি এর কারণ হলো পানি এবং মাটির সম্পর্ক বজায় রাখা। পাশাপাশি পুকুরের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও সৌন্দর্য বর্ধনও এর মূল লক্ষ্য। সাধারণ ভাবে পুকুর বাঁধায় করা হলে বর্ষা মৌসুমে এর পাড় ধসে যায় কিন্তু সিমেন্টের ব্লক ও পিলার দ্বারা পুকুরের পাড় প্রস্তুত করা হলে তা ধসের কোনো সম্ভবনা থাকে না।”
ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো:হাদীউজ্জামান বলেন, “এই পুকুর গুলো বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য গবেষণার জন্য তৈরী করা হচ্ছে। এই মৎস্য গবেষণাগারের মাধ্যমে আমরা আরও বেশি মৎস্য সম্পর্কে গবেষণা করতে পারবো।
কুবি বিএনসিসি ক্যাডেটদের ব্যান্ড প্রশিক্ষণে সনদ অর্জন
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্লাটুনের একদল ক্যাডেট সম্প্রতি ব্যান্ড প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন ময়নামতি রেজিমেন্ট সদর দপ্তরের রেজিমেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল ইসলাম।
গত ১২ মে শুরু হয়ে ১৮ দিনব্যাপী চলা এই বিশেষ প্রশিক্ষণ আয়োজন করে বিএনসিসি ময়নামতি রেজিমেন্ট সদর দপ্তর। প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা সেনানিবাসে, যেখানে প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ক্যাডেটদের বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ব্যান্ড পরিচালনা এবং শৃঙ্খলা ও দলগত কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়।

এই কোর্সে পুরো রেজিমেন্ট থেকে মাত্র ২৫ জন ক্যাডেট নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন ক্যাডেটের অন্তর্ভুক্তি ছিল এতে, যা কুবি প্লাটুনের জন্য একটি গর্বের বিষয়। প্রশিক্ষণ চলাকালে কুবি ক্যাডেটদের নেতৃত্বে ব্যান্ড প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

এ বিষয়ে কুবি বিএনসিসি প্লাটুনের সিনিয়র আন্ডার অফিসার (সিইউও) মো. তালহা জুবায়ের বলেন, "রেজিমেন্ট সদর দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এই বিশেষ ব্যান্ড প্রশিক্ষণ কোর্সে পুরো রেজিমেন্টের মধ্যে মাত্র ২৫ জন ক্যাডেটকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ৫ জন। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্যাডেটদের দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র বাজানোসহ ব্যান্ড পরিচালনার বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়েছে, যা আমাদের প্লাটুনের অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।"
দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের ২০০ একর জমি বুঝে পেলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের ২০০ একর জমি বুঝে পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় হস্তান্তরে বাকি থাকা ১১.৪০ একর জমি দাপ্তরিকভাবে হস্তান্তর করে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে একনেক সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ একরের নতুন ক্যাম্পাসের অনুমোদন পায়। তবে ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ১৮৮ দশমিক ৬০ একর জমি বুঝিয়ে দেয় ঢাকার জেলা প্রশাসন। তবে হস্তান্তর বাকি ছিল ১১ দশমিক ৪০ একর জমি।
এর আগে গতকাল ঢাকা জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা-০২ এক বিজ্ঞপ্তিতে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি জানানো হয়। এ জমি কেরানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমদী মৌজায় অবস্থিত খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আজকের জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে আমাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা দ্রুত টেন্ডার ও নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের আন্তরিক সহযোগিতায় এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কাজটি সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, এই জমিটুকু আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর বাকি ছিল। অবশেষে আমরা সেটাও বুঝে পেলাম। আরডিপিপিও অনুমোদন হয়েছে। আশা করি দ্রুতগতিতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ এগোবে।
তিনি আরও বলেন, এই জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে আমাদের পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হলো। খুব শিগগিরই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় ২০০ একর জমির ওপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। গত ১৬ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন : ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ ‘অর্পিত ক্রয় কার্য’ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর এবং বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
জবির সিন্ডিকেটে আওয়ামীপন্থীদের উপস্থিতি, পদত্যাগ দাবি জবি ঐক্যের
আওয়ামী আমলে নিয়োগ পাওয়া সিন্ডিকেট সদস্যরা এখনো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বহাল তবিয়তে।
আজ বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১ তম সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত হয়েছেন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দোসর শিক্ষক প্রতিনিধিরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্লাটফর্ম 'জবি ঐক্য' এর নেতৃবৃন্দ এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এসময় ফ্যাসিস্ট দোসরদের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করেন তারা। পরে তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করে প্রশাসন বরাবর একটি স্মারকলিপিও দেয় নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে তারা চারজনের পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। তারা হলেন - রাজশাহী অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ইলিয়াস হোসেন, জবির আইন অনুষদের ডিন খ্রীস্টিন রিচার্ডসন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মনিরুজ্জামান, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহম্মেদ লিসা।
এ স্মারকলিপি দেওয়ার পর প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহম্মেদ লিসা উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হলো সিন্ডিকেট। ফ্যাসিবাদের দোসরদের বাদ দিয়ে নতুন সিন্ডিকেট গঠন করার দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় নি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫ অনুযায়ী, সিন্ডিকেট সদস্য থাকবেন ১৬ জন। উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার সহ সরকার কর্তৃক মনোনীত নূন্যতম দুজন যুগ্ম সচিব, সরকার কর্তৃক মনোনীত শিক্ষা ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতে দুজন, ইউজিসি থেকে ১ জন, আচার্য থেকে মনোনীত দুজন শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন থেকে তিনজন ও একাডেমিক কাউন্সিল থেকে তিন জন সিন্ডিকেট সদস্য হবেন।
জানা যায়, আজকের সিন্ডিকেট সভায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সানজিদা ফারহানা, লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন ও আইন অনুষদের ডিন খ্রিস্টিন রিচার্ডসন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মনিরুজ্জামান, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহমেদ লিসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ইলিয়াস হোসেন, জবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. রইছ উদ্দিন, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ সহ সরকার মনোনীত ২ জন যুগ্ম সচিব।
এর মধ্যে অধ্যাপক ড. ইলিয়াস হোসেন ২০২১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পন্থী শিক্ষকদের হলুদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে একাডেমিক সভায় অশালীন ভাষা ব্যবহার করে সহকর্মী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এ. কে. এম. মনিরুজ্জামান ২০১৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগসমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন নীলদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থনে ২০১৭ সালে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হওয়ায় ২০২৩ সালে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন।
জবির প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ড. লাইসা আহমদ লিসা একই সাথে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি কর্মীদের আঁকড়া খ্যাত ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। অপর ফ্যাসিবাদের দোসর ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সনজিদা খাতুন ছিলেন তার সম্পর্কে শ্বাশুড়ি। শ্বাশুড়ি সনজিদা খাতুন ও ছায়ানটের পদকে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাব খাটাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে এখনও স্বৈরাচারের দোসর কিভবে বসে?
আমাদের ত্যাগ কি এই জন্য ছিল? একবছর হতে না হতেই আমাদের শিক্ষকগণও তাদের সাথে বসা শুরু করেছে। তাই একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমি এটা হতে দিতে পারি না। দোসরদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে।"
জবি শাখা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, "৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সেক্টর থেকে স্বৈরাচারদের দোসরমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানোর পরও আজকে ফ্যাসিস্টদেরকে নিয়ে সিন্ডিকেট মিটিং বসানো হয়েছে। আমরা চাই, অতিদ্রুত সময়ে স্বৈরাচারের দোসরদেরকে সিন্ডিকেট থেকে বের করে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিকে নিয়ে সিন্ডিকেট পুনর্গঠন করতে হবে।"
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ এর নেতা নূর নবী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে এখনো এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের দমনমূলক নীতির সহযোগী ছিলেন। তারা ছাত্রদের উপর নিপীড়ন চালিয়েছেন, বহিষ্কার করেছেন, পুলিশে ধরিয়েছেন। এমন ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্ষমতায় রাখা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আমরা দাবি জানাই—স্বৈরাচারের সহযোগীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অপসারণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হোক মুক্ত চিন্তার নিরাপদ স্থান, কোনো শাসকের নয়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য