শিরোনাম
জবির সিন্ডিকেটে আওয়ামীপন্থীদের উপস্থিতি, পদত্যাগ দাবি জবি ঐক্যের
আওয়ামী আমলে নিয়োগ পাওয়া সিন্ডিকেট সদস্যরা এখনো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বহাল তবিয়তে।
আজ বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১ তম সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত হয়েছেন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দোসর শিক্ষক প্রতিনিধিরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্লাটফর্ম 'জবি ঐক্য' এর নেতৃবৃন্দ এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এসময় ফ্যাসিস্ট দোসরদের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করেন তারা। পরে তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করে প্রশাসন বরাবর একটি স্মারকলিপিও দেয় নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে তারা চারজনের পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। তারা হলেন - রাজশাহী অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ইলিয়াস হোসেন, জবির আইন অনুষদের ডিন খ্রীস্টিন রিচার্ডসন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মনিরুজ্জামান, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহম্মেদ লিসা।
এ স্মারকলিপি দেওয়ার পর প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহম্মেদ লিসা উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হলো সিন্ডিকেট। ফ্যাসিবাদের দোসরদের বাদ দিয়ে নতুন সিন্ডিকেট গঠন করার দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় নি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫ অনুযায়ী, সিন্ডিকেট সদস্য থাকবেন ১৬ জন। উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার সহ সরকার কর্তৃক মনোনীত নূন্যতম দুজন যুগ্ম সচিব, সরকার কর্তৃক মনোনীত শিক্ষা ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতে দুজন, ইউজিসি থেকে ১ জন, আচার্য থেকে মনোনীত দুজন শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন থেকে তিনজন ও একাডেমিক কাউন্সিল থেকে তিন জন সিন্ডিকেট সদস্য হবেন।
জানা যায়, আজকের সিন্ডিকেট সভায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সানজিদা ফারহানা, লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন ও আইন অনুষদের ডিন খ্রিস্টিন রিচার্ডসন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মনিরুজ্জামান, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহমেদ লিসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ইলিয়াস হোসেন, জবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. রইছ উদ্দিন, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ সহ সরকার মনোনীত ২ জন যুগ্ম সচিব।
এর মধ্যে অধ্যাপক ড. ইলিয়াস হোসেন ২০২১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পন্থী শিক্ষকদের হলুদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে একাডেমিক সভায় অশালীন ভাষা ব্যবহার করে সহকর্মী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এ. কে. এম. মনিরুজ্জামান ২০১৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগসমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন নীলদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থনে ২০১৭ সালে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হওয়ায় ২০২৩ সালে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন।
জবির প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ড. লাইসা আহমদ লিসা একই সাথে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি কর্মীদের আঁকড়া খ্যাত ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। অপর ফ্যাসিবাদের দোসর ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সনজিদা খাতুন ছিলেন তার সম্পর্কে শ্বাশুড়ি। শ্বাশুড়ি সনজিদা খাতুন ও ছায়ানটের পদকে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাব খাটাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে এখনও স্বৈরাচারের দোসর কিভবে বসে?
আমাদের ত্যাগ কি এই জন্য ছিল? একবছর হতে না হতেই আমাদের শিক্ষকগণও তাদের সাথে বসা শুরু করেছে। তাই একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমি এটা হতে দিতে পারি না। দোসরদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে।"
জবি শাখা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, "৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সেক্টর থেকে স্বৈরাচারদের দোসরমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানোর পরও আজকে ফ্যাসিস্টদেরকে নিয়ে সিন্ডিকেট মিটিং বসানো হয়েছে। আমরা চাই, অতিদ্রুত সময়ে স্বৈরাচারের দোসরদেরকে সিন্ডিকেট থেকে বের করে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিকে নিয়ে সিন্ডিকেট পুনর্গঠন করতে হবে।"
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ এর নেতা নূর নবী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে এখনো এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের দমনমূলক নীতির সহযোগী ছিলেন। তারা ছাত্রদের উপর নিপীড়ন চালিয়েছেন, বহিষ্কার করেছেন, পুলিশে ধরিয়েছেন। এমন ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্ষমতায় রাখা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আমরা দাবি জানাই—স্বৈরাচারের সহযোগীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অপসারণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হোক মুক্ত চিন্তার নিরাপদ স্থান, কোনো শাসকের নয়।
কি হয়েছিল সেদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্টে!
গত ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কনসার্টে মার্কেটিং বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় একপক্ষ দুষছেন অন্যপক্ষকে। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে কুবিতে দুই বিভাগের মধ্যে চলছে সমালোচনার ঝড়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
ওই দিনের ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে সাদির মিয়া বলেন, "কনসার্ট চলাকালে সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েেকজন শিক্ষার্থী মুক্তমঞ্চ থেকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছিল। আশেপাশে অনেক সিনিয়র আপুসহ অনেক মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল। তাদের কে যখন বলি, 'ভাই এসব বাজে ভাষা না বললে হয় না?', তখন তারা আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। এটা নিয়ে তাদের সাথে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আমার হলের কয়েকজন বড় ভাই এসে আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।"
অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জিসান (১৬তম) বলেন, "আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম। এ সময় কথার মাঝে মাওলা একটি অশোভন শব্দ ব্যবহার করে। তখন মার্কেটিং বিভাগের সাদির ভাই বিষয়টি লক্ষ্য করে আমাদের এমন ভাষা ব্যবহারে নিষেধ করেন। আমরা তখন বলি যে, 'নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম এবং আর এমনটা হবে না।' তবুও তিনি আমাদের ওপর কিছুটা রাগান্বিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে রিফাত ভাই এগিয়ে আসেন। এরপর আমাকে কেউ একজন মুক্তমঞ্চের উপরের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি, নিচে ঝামেলা তৈরি হয়েছে।"
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জিসান, গোলাম মাওলাসহ আরও কয়েকজন কনসার্ট চলাকালীন মুক্তমঞ্চের উপর থেকে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করছিলেন। এ সময় মার্কেটিং বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদির মিয়া তাদের এমন আচরণের প্রতিবাদ করে ভাষা সংযত রাখার অনুরোধ জানান। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আয়োজক কমিটির সদস্যরা সাদিরকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।
সেই সময় মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে তর্কে জড়ান। ফলে আবারও দুই বিভাগের মধ্যে বাগবিতন্ডা শুরু হয়। এসময় সাংবদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সাদেককে ঘুষি ও লাথি মারতে মারতে মুক্তমঞ্চের উপর থেকে নিচে নামিয়ে আনে। প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এই সময় হামলায় অংশ নেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ সিদ্দিকী (১৪তম), আতিকুর রহমান তনয় (১৫তম), প্রসেনজিৎ দাস (১৬) এবং আল শাহরিয়ার অন্তু (১৭তম)।
গতকাল (৩১ মে) এই হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রক্টর বরাবর এই চার জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে স্মারকলিপি জমা দেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
হামলায় অভিযুক্ত চারজনের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তাদের মধ্যে সৌরভ, অন্তু এবং প্রসেনজিৎ জানান সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হাসান রিফাতকে ধাক্কা মারায় তারা সংঘর্ষে জড়ান।
আতিকুর রহমান তনয় বলেন, "দর্শক সারিতে রিফাত ভাই ও কয়েকজন জুনিয়রের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি চলছিলো। সামাধানের উদ্দেশ্যে আমরা ঘটনাস্থলে গেলে সাদেক আমাকে বলে, 'সাংবাদিকতার হ্যাডম দেখাতে এসেছিস?' আমি এমন প্রশ্নের কারণ জানতে চাইলে সে হঠাৎ আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি পড়ে যাই, চশমাও মাটিতে পড়ে যায়।"
তবে এই বিষয়টি অস্বীকার করে সাদেক সরকার বলেন,"আমি ঝামেলা হচ্ছে দেখে সেখানে যাই এবং আমার পরিচিতদের বলি, এখন কোনো ঝামেলা না করতে। প্রোগ্রামটা যাতে সুষ্ঠু ভাবে শেষ হয়। তাদের কে হয়তো কেউ পিছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। তারা ভাবছে এটা আমি দিয়েছি এবং কয়েকজন আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর শুরু করে এবং মারতে মারতে মুক্তমঞ্চ থেকে নিচে নিয়ে যায়।"
এই ঘটনার জেরে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাদেক সরকারকে সাথে নিয়ে সাখাওয়াত অরণ্য, তাজওয়ার তাজ, তাওহিদ রহমান সাকিব, মোহাম্মদ সাজিদসহ ওই বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী আবারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাগবিতন্ডায় জড়ান।
এসময় সাখাওয়াত অরণ্যকে বেল্ট খুলে সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারতে দেখা যায়। তখন অরণ্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিনিধি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু শামা প্রশ্ন করতে গেলে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। এই বিষয়ে তার নিকট প্রশ্ন করলে তিনি আবু শামাকে ধাক্কা দেন। এবং তার কর্মীরা “আগে সাংবাদিক মার” বলে পেশাগত দায়িত্বপালন করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন। এঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীরা হলেন সাইফুল মালেক আকাশ (বাংলা-১৫), জহিরুল ইসলাম জয় (ইংরেজি -১৬), তাওহিদ রহমান সাকিব (মার্কেটিং-১৭) ও মার্কেটিং -১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাজওয়ার তাজসহ ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী। এসময় ভিডিও ফুটেজ নিতে গেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক সংবাদের প্রতিনিধি চৌধুরী মাছাবিহর ফোন কেঁড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন ছাত্রদলকর্মী সাইফুল মালেক আকাশ।
পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "ইমেইলের মাধ্যমে আমি একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে এখন কোনো বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না। খোলার পর আমরা সবগুলো বিষয় নিয়ে বসবো।"
শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়নে জবিতে সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ
জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পাঠদান কার্যক্রম মনিটরিং ও শিক্ষকদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে ‘ক্লাস মনিটরিং সফটওয়্যার’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সফটওয়্যারটির কার্যক্রম আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে উপাচার্য দপ্তরের কনফারেন্স রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরিচালক ও আইসিটি সেলের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ‘জেএনইউ ক্লাস মনিটরিং সিস্টেম (সিএমএস)’ নামে সফটওয়্যারটি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিদিনের ক্লাস রুটিন অনুসারে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম মনিটরিং করার পাশাপাশি সফটওয়্যারটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরবর্তী রিভিউ ও রেটিং দিতে পারবেন। এতে শিক্ষকের পাঠদানের গুণগত মান যাচাই ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে সফটওয়্যারটির ফিচার ও সম্ভাব্য ব্যবহারের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের মতামতের ভিত্তিতে সফটওয়্যারে কিছু নতুন ফিচার সংযুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় উপাচার্যের ঘোষণার মাধ্যমে ‘সিএমএস’ সফটওয়্যারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।##
৩ বছর আগে শিক্ষার্থীদের জন্য শিবিরের দেওয়া কুরবানির গোশতের হদিস মেলেনি আজও
২০২২ সালের ১২ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঈদ করা শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের কুরবানির গোশত বিতরণ করেছিল শাখা ছাত্রশিবির। বিষয়টা জানাজানি হলে সব গোশত জব্দ করে ক্যাফেটেরিয়ার ফ্রিজে রেখে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কিন্তু শাখা ছাত্রশিবিরের দেওয়া সে গোশতের হদিস মেলেনি আজও। এ বিষয়ে তৎকালীন রাবি সেক্রেটারি ও সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম শনিবার (৩১ মে) তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি যা জানান তা হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লেখেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঐতিহ্য হলো প্রতিবছর স্থানীয় শহীদ পরিবার, জনশক্তি, গরিব শিক্ষার্থী ও অসহায় পরিবারগুলো নিয়ে একসাথে ঈদ উদযাপন করা। সেই ধারাবাহিতায় ২০২২ সালের ১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে গোশত উপহার দেওয়ার সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন ভাইদের আন্তরিকতায় ও আল্লাহর রহমতে আমরা ৬টি গরু ও ২১টি খাসি কুরবানি করতে সক্ষম হয়েছিলাম।
আমাদের সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থানরত ২২৬ জন শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের কথা ভেবে। তাঁদের কাছে আমরা কীভাবে গোশত পৌঁছাব? প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে বিগত বছরগুলোতে গোপনে কিছু পরিবার এবং শিক্ষার্থীদের নিকট পৌঁছানো হতো। কিন্তু হলের সকল ভাই-বোনের কাছে প্রশান্তির সাথে গোশত পৌঁছাতে পারিনি।
আমাদের সাংগঠনিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, সভাপতি অথবা সেক্রেটারি দুইজনের যেকোনো একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদ করেন। ঈদের পরে শহীদ পরিবার, জনশক্তি ও অন্যান্য স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাবেক ভাইদের সাথে ঈদ উপভোগ করেন।
আজিজুর রহমান আজাদ ভাই (বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক) তখন বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি। তিনি ঈদুল ফিতর রাজশাহীতে করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ঈদুল আজহার দায়িত্ব পড়ে আমার কাঁধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন অফিস সম্পাদক আব্দুল মোহাইমিন ভাই (সাবেক সভাপতি) এবং আমি, কয়েকজন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীতে ঈদ করি।
কুরবানির একপর্যায়ে গোশত বণ্টনের সময় আমরা চিন্তা করছিলাম আমাদের হলের ভাই-বোনদের কাছে কীভাবে এই গোশত পৌঁছাব? বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ভাইকে জানালাম ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি। কিছুক্ষণ পর ভাই জানালেন, কুরবানি তো আজ শেষ, রাত হয়ে গেছে। নিরাপাত্তা-সহ সার্বিক বিষয় চিন্তা করে আগামীকাল সকালে হলে গোশত পৌঁছানো যেতে পারে, তাহলে সবাই একসাথে আনন্দের সাথে দুপুরে খেতে পারবেন।
যেহেতু দীর্ঘদিন পর এইভাবে গোশত উপহার দিতে যাচ্ছি, তাই বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে গোপন মাধ্যমে খবর নিই। জানতে পারি আমরা যেন কোনো কার্যক্রম করতে না পারি, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে স্থানীয় ছাত্রলীগের স'ন্ত্রা'সী'রা অবস্থান করছে। সেজন্য খুব সতর্কতার সাথে আমরা সিদ্ধান্ত নিই ছাত্রদের আবাসিক হলগুলোতে আগামীকাল সকালেই গোশত পৌঁছাব, (পরবর্তীকালে আল্লাহ সুযোগ দিলে তখন বোনদের কাছেও পৌঁছাব) ইনশাআল্লাহ।
পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী বিনোদপুর বাজার মসজিদ থেকে আমরা নফল নামাজ আদায় করে, আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হই। যেহেতু বেশি সংখ্যক লোক ক্যাম্পাসে ঢুকলে প্রশাসনের চোখে পড়বে (সেসময় রাবির হলের সকল গেটে পুলিশ থাকত, গোয়েন্দাদেরও ব্যাপক তৎপরতা থাকত, ছাত্রলীগ সভাপতি-সেক্রেটারি ২ জনেরও পাশে বাড়ি), তাই আমরা ভাইদের ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে হলে পাঠাই। আর আমরা কয়েকজন ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করি।
আমাদের গোশত পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর জানতে পারলাম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোশতগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ ঈদের আনন্দ বাদ দিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে।
তখন খুব খারাপ লেগেছিল। যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় করে, আত্মসাৎ করে, তারা তাদের ২২৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য কোনো আয়োজন করার প্রয়োজন বোধ করেনি। অথচ আমরা সামান্য একটু চেষ্টা করলাম, সেই চেষ্টাটুকুও তারা সফল হতে দিলো না। বরং তারা গোশতগুলো শিক্ষার্থীদের মুখের সামনে থেকে ছিনিয়ে নিলো।
কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে ছবি আসতে থাকল, কারা কোন গেট দিয়ে গোশত বিতরণ করতে প্রবেশ করেছিল, কোন গেট দিয়ে বের হয়েছিল। সিসি ক্যামেরা দেখে দেখে প্রশাসন তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের অভিযান শুরু করে। শুনলাম গোশতের ফরেনসিক টেস্ট করা হবে, তদন্ত করা হবে! সেজন্য মতিহার থানায় আমাদের নামে জিডিও করল। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের উপহার দেওয়া সেই গোশতের আজও সন্ধান মেলেনি।
আবারও ঈদ আসছে, প্রশাসন যেন আগের মতো অন্ধ-অমানবিক না হয়। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল শিক্ষার্থীকে পরিবার হিসাবে গ্রহণ করবেন, যারা থাকতে চায় তাদের থাকার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং কোরবানির আনন্দ উপভোগ করার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
জব্দ করা সেই কুরবানির গোশত কী করা হয়েছিল জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, এটা ৩ বছর আগের ঘটনা। সেসময় শুনেছিলাম যে শিবিরের দেওয়া মাংস জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে কিছু পুরাতন কর্মচারী রয়েছে তাদের জিজ্ঞাসা করলে এ বিষয়ে খবর পাওয়া যাবে।
আসন্ন ঈদুল আজহায় ছাত্রশিবির যদি আবারও কুরবানির গোশত বিতরণের উদ্যোগ নেয় তাহলে প্রশাসনের অবস্থান কী থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যেকোনো পজিটিভ কাজে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো বাঁধা দেবে না। আপনারা জানেন এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অনেক সামাজিক সংগঠন, জেলা সমিতি সহযোগিতা করেছিল। তারা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে চাইলে আমরা এপ্রিসিয়েট করব এবং এতে কোনো সহযোগিতা লাগলে আমরাও করব।"
নোবিপ্রবিতে ৪৩ লক্ষ টাকার অর্থ কেলেঙ্কারি, অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) রিসার্চ সেলে ৪৩ লক্ষ টাকার অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। হিসাবে গরমিল, অর্থ আত্মসাৎ এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে রিসার্চ সেল এর কম্পিউটার অপারেটর কাওসার হামিদ চৌধুরী জিকুকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তামজিদ হোছাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ হতে এ বিষয়টি জানা যায়।
অফিস আদেশে বলা হয়, শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পের সমন্বয়ের জন্য প্রাপ্ত ভ্যাট-ট্যাক্স এর প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা সময়মতো সরকারী কোষাগারে জমা না দেয়া, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে কোন সদুত্তর না পাওয়া, কর্তৃপক্ষের অগোচরে ব্যক্তিগত কাজে উক্ত টাকা খরচ করা এবং উল্লিখিত অর্থ একাউন্টে জমা করার নির্দেশ দেয়া হলেও তা জমা না করা এবং সাম্প্রতিক অডিট টীম কর্তৃক প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা জরিমানা সহ প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকার হিসাবে গরমিল, অর্থ আত্মসাৎ, তছরূপ ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে রিসার্চ সেল এর কম্পিউটার অপারেটর জনাব কাওসার হামিদ চৌধুরী জিকু কে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে আরো বলা হয়, তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে মর্মে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং তার বাবা আগামী এক মাসের মধ্যে উক্ত টাকা ফেরত দিবেন মর্মে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাকে নিজের জিম্মায় নিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, হিসাবে গরমিল এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে তাকে শোকজ করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বাবা ১ মাসের মধ্যে এ টাকা ফেরত দিবেন বলে তার জিম্মায় নিয়ে যান। ইতিমধ্যে আমরা আরেকটি নোটিশ দিয়েছি। যেখানে বলা হয়েছে কেউ যাতে তার সাথে কোনো আর্থিক লেনদেনে না যায়।
তিনি আরো বলেন, অফিস খোলা হলে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এখানে সে একা জড়িত নাকি সাথে অন্য আরো কেউ আছে এগুলোও খুঁজে বের করতে হবে। পরবর্তীতে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য