ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

কি হয়েছিল সেদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্টে!

অনলাইন ডেস্ক
২ জুন, ২০২৫ ১৮:১৬
অনলাইন ডেস্ক
কি হয়েছিল সেদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্টে!

গত ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কনসার্টে মার্কেটিং বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় একপক্ষ দুষছেন অন্যপক্ষকে। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে কুবিতে দুই বিভাগের মধ্যে চলছে সমালোচনার ঝড়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 

ওই দিনের ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে সাদির মিয়া বলেন, "কনসার্ট চলাকালে সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েেকজন শিক্ষার্থী মুক্তমঞ্চ থেকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছিল। আশেপাশে অনেক সিনিয়র আপুসহ অনেক মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল। তাদের কে যখন বলি, 'ভাই এসব বাজে ভাষা না বললে হয় না?', তখন তারা আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। এটা নিয়ে তাদের সাথে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আমার হলের কয়েকজন বড় ভাই এসে আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।"

অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জিসান (১৬তম) বলেন, "আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম। এ সময় কথার মাঝে মাওলা একটি অশোভন শব্দ ব্যবহার করে। তখন মার্কেটিং বিভাগের সাদির ভাই বিষয়টি লক্ষ্য করে আমাদের এমন ভাষা ব্যবহারে নিষেধ করেন। আমরা তখন বলি যে, 'নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম এবং আর এমনটা হবে না।' তবুও তিনি আমাদের ওপর কিছুটা রাগান্বিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে রিফাত ভাই এগিয়ে আসেন। এরপর আমাকে কেউ একজন মুক্তমঞ্চের উপরের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি, নিচে ঝামেলা তৈরি হয়েছে।"

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জিসান, গোলাম মাওলাসহ আরও কয়েকজন কনসার্ট চলাকালীন মুক্তমঞ্চের উপর থেকে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করছিলেন। এ সময় মার্কেটিং বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদির মিয়া তাদের এমন আচরণের প্রতিবাদ করে ভাষা সংযত রাখার অনুরোধ জানান। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আয়োজক কমিটির সদস্যরা সাদিরকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

সেই সময় মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে তর্কে জড়ান। ফলে আবারও দুই বিভাগের মধ্যে বাগবিতন্ডা শুরু হয়। এসময় সাংবদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সাদেককে ঘুষি ও লাথি মারতে মারতে মুক্তমঞ্চের উপর থেকে নিচে নামিয়ে আনে। প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এই সময় হামলায় অংশ নেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ সিদ্দিকী (১৪তম), আতিকুর রহমান তনয় (১৫তম), প্রসেনজিৎ দাস (১৬) এবং আল শাহরিয়ার অন্তু (১৭তম)।

গতকাল (৩১ মে) এই হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রক্টর বরাবর এই চার জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে স্মারকলিপি জমা দেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

হামলায় অভিযুক্ত চারজনের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তাদের মধ্যে সৌরভ, অন্তু এবং প্রসেনজিৎ জানান সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হাসান রিফাতকে ধাক্কা মারায় তারা সংঘর্ষে জড়ান। 

আতিকুর রহমান তনয় বলেন, "দর্শক সারিতে রিফাত ভাই ও কয়েকজন জুনিয়রের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি চলছিলো। সামাধানের উদ্দেশ্যে আমরা ঘটনাস্থলে গেলে সাদেক আমাকে বলে, 'সাংবাদিকতার হ্যাডম দেখাতে এসেছিস?' আমি এমন প্রশ্নের কারণ জানতে চাইলে সে হঠাৎ আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি পড়ে যাই, চশমাও মাটিতে পড়ে যায়।"

তবে এই বিষয়টি অস্বীকার করে সাদেক সরকার বলেন,"আমি ঝামেলা হচ্ছে দেখে সেখানে যাই এবং আমার পরিচিতদের বলি, এখন কোনো ঝামেলা না করতে। প্রোগ্রামটা যাতে সুষ্ঠু ভাবে শেষ হয়। তাদের কে হয়তো কেউ পিছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। তারা ভাবছে এটা আমি দিয়েছি এবং কয়েকজন আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর শুরু করে এবং মারতে মারতে মুক্তমঞ্চ থেকে নিচে নিয়ে যায়।"

এই ঘটনার জেরে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাদেক সরকারকে সাথে নিয়ে সাখাওয়াত অরণ্য, তাজওয়ার তাজ, তাওহিদ রহমান সাকিব, মোহাম্মদ সাজিদসহ ওই বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী আবারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাগবিতন্ডায় জড়ান। 

এসময় সাখাওয়াত অরণ্যকে বেল্ট খুলে সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারতে দেখা যায়। তখন অরণ্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিনিধি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু শামা প্রশ্ন করতে গেলে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। এই বিষয়ে তার নিকট প্রশ্ন করলে তিনি আবু শামাকে ধাক্কা দেন। এবং তার কর্মীরা “আগে সাংবাদিক মার” বলে পেশাগত দায়িত্বপালন করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন। এঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীরা হলেন সাইফুল মালেক আকাশ (বাংলা-১৫), জহিরুল ইসলাম জয় (ইংরেজি -১৬), তাওহিদ রহমান সাকিব (মার্কেটিং-১৭) ও মার্কেটিং -১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাজওয়ার তাজসহ ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী। এসময় ভিডিও ফুটেজ নিতে গেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক সংবাদের প্রতিনিধি চৌধুরী মাছাবিহর ফোন কেঁড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন ছাত্রদলকর্মী সাইফুল মালেক আকাশ। 

পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "ইমেইলের মাধ্যমে আমি একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে এখন কোনো বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না। খোলার পর আমরা সবগুলো বিষয় নিয়ে বসবো।"

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়নে জবিতে সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২ জুন, ২০২৫ ১৬:৩৪
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়নে জবিতে সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ

    জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু

     জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পাঠদান কার্যক্রম মনিটরিং ও শিক্ষকদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে ‘ক্লাস মনিটরিং সফটওয়্যার’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  সফটওয়্যারটির কার্যক্রম আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সোমবার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে উপাচার্য দপ্তরের কনফারেন্স রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার,  পরিচালক ও আইসিটি সেলের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় জানানো হয়, ‘জেএনইউ ক্লাস মনিটরিং সিস্টেম (সিএমএস)’ নামে সফটওয়্যারটি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিদিনের ক্লাস রুটিন অনুসারে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম মনিটরিং করার পাশাপাশি সফটওয়্যারটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরবর্তী রিভিউ ও রেটিং দিতে পারবেন। এতে শিক্ষকের পাঠদানের গুণগত মান যাচাই ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

    সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে সফটওয়্যারটির ফিচার ও সম্ভাব্য ব্যবহারের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের মতামতের ভিত্তিতে সফটওয়্যারে কিছু নতুন ফিচার সংযুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় উপাচার্যের ঘোষণার মাধ্যমে ‘সিএমএস’ সফটওয়্যারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।##

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ৩ বছর আগে শিক্ষার্থীদের জন্য শিবিরের দেওয়া কুরবানির গোশতের হদিস মেলেনি আজও

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২ জুন, ২০২৫ ১৬:১৭
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৩ বছর আগে শিক্ষার্থীদের জন্য শিবিরের দেওয়া কুরবানির গোশতের হদিস মেলেনি আজও

    ২০২২ সালের ১২ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঈদ করা শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের কুরবানির গোশত বিতরণ করেছিল শাখা ছাত্রশিবির। বিষয়টা জানাজানি হলে সব গোশত জব্দ করে ক্যাফেটেরিয়ার ফ্রিজে রেখে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  

    কিন্তু শাখা ছাত্রশিবিরের দেওয়া সে গোশতের হদিস মেলেনি আজও। এ বিষয়ে তৎকালীন রাবি সেক্রেটারি ও সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম শনিবার (৩১ মে) তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন। 

    ফেসবুক পোস্টে তিনি যা জানান তা হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লেখেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঐতিহ্য হলো প্রতিবছর স্থানীয় শহীদ পরিবার, জনশক্তি, গরিব শিক্ষার্থী ও অসহায় পরিবারগুলো নিয়ে একসাথে ঈদ উদযাপন করা। সেই ধারাবাহিতায় ২০২২ সালের ১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে গোশত উপহার দেওয়ার সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন ভাইদের আন্তরিকতায় ও আল্লাহর রহমতে আমরা ৬টি গরু ও ২১টি খাসি কুরবানি করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

    আমাদের সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থানরত ২২৬ জন শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের কথা ভেবে। তাঁদের কাছে আমরা কীভাবে গোশত পৌঁছাব? প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে বিগত বছরগুলোতে গোপনে কিছু পরিবার এবং শিক্ষার্থীদের নিকট পৌঁছানো হতো। কিন্তু হলের সকল ভাই-বোনের কাছে প্রশান্তির সাথে গোশত পৌঁছাতে পারিনি।

    আমাদের সাংগঠনিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, সভাপতি অথবা সেক্রেটারি দুইজনের যেকোনো একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদ করেন। ঈদের পরে শহীদ পরিবার, জনশক্তি ও অন্যান্য স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাবেক ভাইদের সাথে ঈদ উপভোগ করেন।

    আজিজুর রহমান আজাদ ভাই (বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক) তখন বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি। তিনি ঈদুল ফিতর রাজশাহীতে করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ঈদুল আজহার দায়িত্ব পড়ে আমার কাঁধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন অফিস সম্পাদক আব্দুল মোহাইমিন ভাই (সাবেক সভাপতি) এবং আমি, কয়েকজন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীতে ঈদ করি।

    কুরবানির একপর্যায়ে গোশত বণ্টনের সময় আমরা চিন্তা করছিলাম আমাদের হলের ভাই-বোনদের কাছে কীভাবে এই গোশত পৌঁছাব? বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ভাইকে জানালাম ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি। কিছুক্ষণ পর ভাই জানালেন, কুরবানি তো আজ শেষ, রাত হয়ে গেছে। নিরাপাত্তা-সহ সার্বিক বিষয় চিন্তা করে আগামীকাল সকালে হলে গোশত পৌঁছানো যেতে পারে, তাহলে সবাই একসাথে আনন্দের সাথে দুপুরে খেতে পারবেন।

    যেহেতু দীর্ঘদিন পর এইভাবে গোশত উপহার দিতে যাচ্ছি, তাই বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে গোপন মাধ্যমে খবর নিই। জানতে পারি আমরা যেন কোনো কার্যক্রম করতে না পারি, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে স্থানীয় ছাত্রলীগের স'ন্ত্রা'সী'রা অবস্থান করছে। সেজন্য খুব সতর্কতার সাথে আমরা সিদ্ধান্ত নিই ছাত্রদের আবাসিক হলগুলোতে আগামীকাল সকালেই গোশত পৌঁছাব, (পরবর্তীকালে আল্লাহ সুযোগ দিলে তখন বোনদের কাছেও পৌঁছাব) ইনশাআল্লাহ।

    পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী বিনোদপুর বাজার মসজিদ থেকে আমরা নফল নামাজ আদায় করে, আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হই। যেহেতু বেশি সংখ্যক লোক ক্যাম্পাসে ঢুকলে প্রশাসনের চোখে পড়বে (সেসময় রাবির হলের সকল গেটে পুলিশ থাকত, গোয়েন্দাদেরও ব্যাপক তৎপরতা থাকত, ছাত্রলীগ সভাপতি-সেক্রেটারি ২ জনেরও পাশে বাড়ি), তাই আমরা ভাইদের ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে হলে পাঠাই। আর আমরা কয়েকজন ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করি।

    আমাদের গোশত পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর জানতে পারলাম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোশতগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ ঈদের আনন্দ বাদ দিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে।

    তখন খুব খারাপ লেগেছিল। যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় করে, আত্মসাৎ করে, তারা তাদের ২২৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য কোনো আয়োজন করার প্রয়োজন বোধ করেনি। অথচ আমরা সামান্য একটু চেষ্টা করলাম, সেই চেষ্টাটুকুও তারা সফল হতে দিলো না। বরং তারা গোশতগুলো শিক্ষার্থীদের মুখের সামনে থেকে ছিনিয়ে নিলো। 

    কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে ছবি আসতে থাকল, কারা কোন গেট দিয়ে গোশত বিতরণ করতে প্রবেশ করেছিল, কোন গেট দিয়ে বের হয়েছিল। সিসি ক্যামেরা দেখে দেখে প্রশাসন তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের অভিযান শুরু করে। শুনলাম গোশতের ফরেনসিক টেস্ট করা হবে, তদন্ত করা হবে! সেজন্য মতিহার থানায় আমাদের নামে জিডিও করল। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের উপহার দেওয়া সেই গোশতের আজও সন্ধান মেলেনি।

    আবারও ঈদ আসছে, প্রশাসন যেন আগের মতো অন্ধ-অমানবিক না হয়।  আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল শিক্ষার্থীকে পরিবার হিসাবে গ্রহণ করবেন, যারা থাকতে চায় তাদের থাকার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং কোরবানির আনন্দ উপভোগ করার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

    জব্দ করা সেই কুরবানির গোশত কী করা হয়েছিল জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, এটা ৩ বছর আগের ঘটনা। সেসময় শুনেছিলাম যে শিবিরের দেওয়া মাংস জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে কিছু পুরাতন কর্মচারী রয়েছে তাদের জিজ্ঞাসা করলে এ বিষয়ে খবর পাওয়া যাবে।

    আসন্ন ঈদুল আজহায় ছাত্রশিবির যদি আবারও কুরবানির গোশত বিতরণের উদ্যোগ নেয় তাহলে প্রশাসনের অবস্থান কী থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যেকোনো পজিটিভ কাজে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো বাঁধা দেবে না। আপনারা জানেন এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অনেক সামাজিক সংগঠন, জেলা সমিতি সহযোগিতা করেছিল। তারা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে চাইলে আমরা এপ্রিসিয়েট করব এবং এতে কোনো সহযোগিতা লাগলে আমরাও করব।"

     

    মন্তব্য

    নোবিপ্রবিতে ৪৩ লক্ষ টাকার অর্থ কেলেঙ্কারি, অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২ জুন, ২০২৫ ১৬:৭
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    নোবিপ্রবিতে ৪৩ লক্ষ টাকার অর্থ কেলেঙ্কারি, অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত

       নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) রিসার্চ সেলে ৪৩  লক্ষ টাকার অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। হিসাবে গরমিল, অর্থ আত্মসাৎ এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে রিসার্চ সেল এর কম্পিউটার অপারেটর কাওসার হামিদ চৌধুরী  জিকুকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

     বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তামজিদ হোছাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ হতে এ বিষয়টি জানা যায়। 

     অফিস আদেশে বলা হয়, শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পের সমন্বয়ের জন্য প্রাপ্ত ভ্যাট-ট্যাক্স এর প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা সময়মতো সরকারী কোষাগারে জমা না দেয়া, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে কোন সদুত্তর না পাওয়া, কর্তৃপক্ষের অগোচরে ব্যক্তিগত কাজে উক্ত টাকা খরচ করা এবং উল্লিখিত অর্থ একাউন্টে জমা করার নির্দেশ দেয়া হলেও তা জমা না করা এবং সাম্প্রতিক অডিট টীম কর্তৃক প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা জরিমানা সহ প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকার হিসাবে গরমিল, অর্থ আত্মসাৎ, তছরূপ ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে রিসার্চ সেল এর কম্পিউটার অপারেটর জনাব কাওসার হামিদ চৌধুরী জিকু কে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

     অফিস আদেশে আরো বলা হয়, তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে মর্মে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং তার বাবা আগামী এক মাসের মধ্যে উক্ত টাকা ফেরত দিবেন মর্মে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাকে নিজের জিম্মায় নিয়েছেন।

     এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, হিসাবে গরমিল এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে তাকে  শোকজ করে  সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বাবা ১ মাসের মধ্যে এ টাকা ফেরত দিবেন বলে তার জিম্মায় নিয়ে যান। ইতিমধ্যে আমরা আরেকটি নোটিশ দিয়েছি। যেখানে বলা হয়েছে কেউ যাতে তার সাথে কোনো আর্থিক লেনদেনে না যায়।  

     তিনি আরো বলেন, অফিস খোলা হলে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এখানে সে একা জড়িত নাকি সাথে অন্য আরো কেউ আছে এগুলোও খুঁজে বের করতে হবে। পরবর্তীতে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

      

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটির দায়িত্বে সিফাতুল্লাহ-নুসাইর

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২ জুন, ২০২৫ ১৬:২
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটির দায়িত্বে সিফাতুল্লাহ-নুসাইর

    বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটি  ২০২৪-২৫ এর পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে।প্রথম বারের মতো যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে মোঃ সিফাতউল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নুসাইর আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।১জুন (রবিবার) সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    "কলমের আঁচড়ে মুক্তির বাণী" স্লোগানে যাত্রা শুরু করা মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটির অন্যান্য সদস্যর হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আল মুমিনুল মিয়া, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রাহাদ আলী সরকার,থিয়েটার বিষয়ক সম্পাদক শেখ শাহরুখ হাসনাইন তুরাগ, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সিদরাতুল মুনতাহার রাফি, শিল্প ও নকশা বিষয়ক সম্পাদক পার্থ সারথী রায়, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আহমাদ ফারীর ফারাবী, সদস্য বিষয়ক সম্পাদক সিরাত আল হাবিব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম তাশদীদ এবং সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক নূর ফাতিমা হক নিসাত।

    এছাড়া,কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজী ফারজানা আতিকা, মারজুকা মামনুন মারিয়া, ফারজানা কিবরিয়া নিমা, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, ইয়ারসির আরাফাত অন্তর, আফনান হোসেন রোহান, তকী জাওয়াদ, মো. শাহরিয়ার হাসান রিসাদ, ফাতিন শাহরিয়ার, এবং গৌরব রায় অন্তর দায়িত্ব পেয়েছেন।

    সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে নবনিযুক্ত সভাপতি মোঃ সিফাতুল্লাহ বলেন,"এই সময়টাকে আমরা কিভাবে উদযাপন করবো?" এই প্রশ্নের উত্তরগুলো জটিল। সেই জটিল প্রশ্নের বিরাজমান উত্তর আর নতুন চিন্তাগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া এবং পৃষ্ঠপোষকতার জন্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অনেক। আমাদের তুলনামূলক নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটা জায়গার অভাববোধ শুরু থেকেই ছিলো। সেটা মাথায় রেখে পৃথক একটা জায়গা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেষমেশ লিটারেচার সোসাইটির যাত্রা শুরু করা গেল। লিটারেচার তো অনেক বিস্তৃত ব্যাপার, শিল্প-সাহিত্য, সঙ্গীত-সিনেমা, ধর্ম-রাজনীতি, বিজ্ঞান- দর্শন বিষয়ক আলাপের চর্চাসহ নানান ক্ষেত্র নিয়ে সবার অংশগ্রহণে সোসাইটির কারবার জমে উঠবে, এই প্রত্যাশা করি।

    এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক মো: নুসাইর আহমেদ বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার শুরু থেকেই এমন একটা প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবার ইচ্ছা ছিল যেখানে শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি নিয়ে দেদারসে আলাপ করা যাবে। এর মাঝেই জুলাই গনঅভ্যুত্থান আমাদের দেশের প্রতি দায়িত্ব, বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে নতুন করে ভাবাতে শেখায়। জুলাইয়ের পরে কয়েকজনকে খুঁজে পাই যাদের মাথার ভেতর আমার মতই অলস চিন্তার পোকা বাস করে, গড়ে ফেলি মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটি। শিক্ষার্থীদের ভেতর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রয়াস ও প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে লিটারেচার সোসাইটি কাজ করবে বলে আশা রাখি। আমরা নিয়মিত বই, সমসাময়িক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা, সেমিনার, ওয়েবিনার ছাড়াও ষান্মাসিক ম্যাগাজিন বের করার চেষ্টা অব্যাহত রাখব।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য
      সর্বশেষ সংবাদ
        সর্বাধিক পঠিত