ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

শিক্ষক শূন্যতার এক দশক; স্থবির পাঠদান কার্যক্রম

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৯ মে, ২০২৫ ১৯:৪০
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
শিক্ষক শূন্যতার এক দশক; স্থবির পাঠদান কার্যক্রম

ভয়াবহ শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজে। শিক্ষক সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এ প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন। চোখে স্বপ্ন নিয়ে উচ্চশিক্ষা জীবনে পা রাখা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা জীবনের শুরুতেই হোঁচট খাচ্ছেন, নিমজ্জিত হচ্ছেন হতাশায়।

বিশেষ করে বাণিজ্য অনুষদভুক্ত ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং মার্কেটিং বিভাগের অবস্থা করুণ। শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত একজন শিক্ষকও নিয়োগ প্রদান করা হয় নি এ দুই বিভাগে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এসব বিভাগে কোনো শিক্ষক না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে পাঠদান কার্যক্রম।
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের সাহায্যে চলছে এ দুই বিভাগ। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব কার্যক্রম এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা। এক বিষয়ের পাঠদান অপর বিষয়ের শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালনা করার ফলে বানিজ্য অনুষদভুক্ত চারটি বিভাগে সবসময়েই লেগে থাকছে সংকট।

অথচ এই অনুষদে শিক্ষার্থী রয়েছেন অন্তত কয়েক হাজার। চার বিভাগের মধ্যে ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ এবং মার্কেটিং বিভাগে নূন্যতম একজনও শিক্ষক না থাকার পরেও থেমে নেই প্রতিবছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম। শিক্ষকবিহীন এই দুই বিভাগের কার্যক্রম সামলাতে হয় বানিজ্য অনুষদভুক্ত অপর দুই বিভাগ হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যাবস্থাপনার শিক্ষকদের। এতে করে হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যাবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে উক্ত দুই বিভাগও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি সংকট নিরসনকল্পে নতুন শিক্ষক পদায়নের আবেদন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সেই সময়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। তবে সুদীর্ঘ চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সে আশ্বাস বাস্তবায়নের কোনো সদিচ্ছা চোখে পড়ে নি। 

এ ব্যাপারে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাওন আহমেদ সৈকত বলেন, “আমরা সারা বছর সেলফ-স্টাডির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছি। বিশেষ করে ফিন্যান্স ও মার্কেটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক ছাড়া শেখা অসম্ভব হয়ে উঠছে। শিক্ষকবিহীন হওয়ায় আমাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা এখন মাঝ নদীতে মাঝিবিহীন নৌকার মতো হয়ে আছি।”

 শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী বলেন,“‘মার্কেটিং এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে শিক্ষক না থাকায় ব্যবস্থাপনা ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত সময় দিয়ে ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এর ফলে অন্য বিভাগের শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।”

কলেজ সূত্রে জানা যায়, শুধু ফিন্যান্স কিংবা মার্কেটিং নয়; দর্শন, ভূগোল ও পরিবেশ, আইসিটিসহ মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। যেখানে প্রতিটি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ৪৫০ থেকে ৬০০ জন, সেখানে অনেক বিভাগেই ২ কিংবা ৪ জন শিক্ষক দিয়েই চলছে বিভাগের কার্যক্রম। যার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, ক্রমশঃ নিম্নমুখী হচ্ছে শিক্ষার মান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে আমরা ঠিকমতো ক্লাস ও গাইডলাইন পাচ্ছি না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাঠ অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় মানসিক চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

শিক্ষক সংকটের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ সম্পর্কে অবগত এবং এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। শিগগিরই এ সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করছি। এবং আমরা দ্রুত সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
/এস এম মঈন উদ্দীন, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    হলে ঢুকে শাবি শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা, ছাত্রদল কর্মী বহিষ্কার

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৯ মে, ২০২৫ ১৯:৬
    অনলাইন ডেস্ক
    হলে ঢুকে শাবি শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা, ছাত্রদল কর্মী বহিষ্কার

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঢুকে ছুরি নিয়ে এক আবাসিক ছাত্রকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শেখ ফাকাব্বির সিন নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। 

    ছাত্রদল কর্মী শেখ ফাকাব্বির সিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারের সমর্থক বলে জানা গেছে। 

    বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শেখ ফাকাব্বির সিনকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান। 

    তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফাকাব্বিরের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। এরপর গত ১৭ মে সিন্ডিকেটের ২৩৬তম সভায় তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

    এর আগে গত ৫ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে শেখ ফাকাব্বির সিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ হলের ৪৩৬ নম্বর কক্ষে ঢুকে ছুরি দিয়ে আমিরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান ওই কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা। কক্ষটিতে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম, আতিকুজ্জামান ও আবু হুরায়রা রাতিন থাকতেন। 

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি রাত ৯টার দিকে টিউশনি থেকে এসে রুমে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ অভিযুক্ত ফাকাব্বির আমার সাথে কথা বলতে আসে। এর আগে তাকে আমি দেখিনি। তার পরনে ছিল শর্ট প্যান্ট। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কে? শর্ট প্যান্ট পরে হুটহাট রুমে ঢুকে পড়েছো। তখনই সে পকেট থেকে একটা ছুরি বের করে আমাকে মারার চেষ্টা করে এবং ইউটিউব থেকে একটা ভিডিও প্লে করে আমাকে বলে যে দেখ আমি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী। পরে দৌড়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আমি প্রক্টরকে ফোন দিয়ে জানাই।

    এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ ‘সাস্টিয়ান ভয়েসে’ শিবিরকে জড়িয়ে পোস্ট দেন ফাকাব্বির। পোস্টে ফাকাব্বির লেখেন, আমি শাহপরাণ হলে টাকা নিতে আসলে শিবিরের ছেলেরা আমাকে কুপিয়ে জখম করে। পরবর্তীতে আনুমানিক রাত ২টার দিকে প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্যতা পাওয়ার পর একই গ্রুপে ক্ষমা চেয়ে ফাকাব্বির লেখেন, আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিবিরকে জড়ানোর চেষ্টা করেছি। এ রকম ভবিষ্যতে আর করবেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

    ফাকাব্বির বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন। তার সাথে থাকেতেন একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াদ ভূঁইয়া। 

    রিয়াদ ভূঁইয়া জানান, ফাকাব্বির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি নিয়মিত গাঁজা সেবন করতেন রুমে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৯ মে, ২০২৫ ১৫:৫৯
      অনলাইন ডেস্ক
      ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

      ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারী কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিশেষ এই বিসিএসে পদসংখ্যা রয়েছে ৩ হাজার।

      আজ বৃহস্পতিবার (২৯ মে) এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিসিএস থেকে সব পদে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সহকারী সার্জন নেওয়া হবে ২ হাজার ৭০০ জন আর সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেওয়া হবে ৩০০ জন।

      এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানায়, আগামী ১ জুন থেকে বিশেষ এই বিশেষ বিসিএসে অনলাইন আবেদন ও ফি জমাদান শুরু হবে, চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে মোট ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে এমসিকিউ পদ্ধতিতে (লিখিত পরীক্ষা) ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। আর মৌখিক পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের।

      প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিখিত পরীক্ষা আগামী জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানায় পিএসসি। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় পরবর্তী সময়ে কমিশনের ওয়েবসাইটে এবং সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ঢাবি ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী ও সেক্রেটারির পরিচয় সম্পর্কে যা জানা গেল

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৯ মে, ২০২৫ ১৩:৪১
        অনলাইন ডেস্ক
        ঢাবি ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী ও সেক্রেটারির পরিচয় সম্পর্কে যা জানা গেল

        অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা।

        বুধবার (২৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সাথে সাক্ষাৎ করে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে স্বারকলিপি জমা দেওয়ার মাধ্যামে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে তারা। স্বারকলিপি জমা দেওয়ার সময় ঢাবি শাখা ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী, সেক্রেটারিসহ মোট সাত জন উপস্থিত ছিলেন।

        প্রথামিকভাবে সংগঠনটির সভানেত্রী ও সেক্রেটারির পরিচায় জানা গেছে।

        জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রীর নাম সাবিকুন্নাহার তামান্না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রী।

        এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রী সংস্থার সেক্রেটারির নাম মোছা:আফসানা আক্তার। তিনি ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের আবাসিক ছাত্রী।

        স্বারকলিপি জমা দেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্যাতন নি‌পীড়‌নের কার‌ণে দীর্ঘ‌দিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় নি‌র্দেশনার আ‌লো‌কে ক‌্যাম্পা‌সে আমরা কাজ শুরু করার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এই সময়ের মা‌ঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী সংস্থার প্রাথমিক কাঠামো গঠন সম্ভব হয়েছে।

        বর্তমানে শাখা সভানেত্রী ও সেক্রেটারির দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালু করবো’

        ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রী সংস্থা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্রী সংগঠন। ১৯৭৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের সংগঠন ছাত্রীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রমের রয়েছে বিরাট ইতিহাস।

        অতী‌তে ছাত্রী সংস্থা ডাকসুতেও অংশগ্রহণ করে‌ছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের জন্য কাজ করেছি।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          কুবিতে সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের একাংশের হামলা

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ২৯ মে, ২০২৫ ১২:৬
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          কুবিতে সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের একাংশের হামলা

          কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে-(কুবি) ছাত্রদলের একাংশের নেতা-কর্মীরা সাংবাদিকদের উপর মব কায়েম করে 'সাংবাদিকদের আগে মার' বলে হামলা করেছেন। তাঁরা শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভর অনুসারী। 

          প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ মে) রাত ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত কনসার্টে মার্কেটিং বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় সংঘর্ষে অংশ নেওয়া সাদেক সরকার ও সাখাওয়াত অরন্য নামে দুই ছাত্রদলের কর্মীকে এক পাশে নিয়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। তখন দৈনিক সংবাদের প্রতিনিধি চৌধুরী মাছাবিহ্ এবং দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আবু শামা তাকে প্রশ্ন করেন “হামলায় অংশ নেওয়া এই ছেলে আপনার কর্মী নাকি?  আপনি এখানে তাঁকে শেল্টার দিচ্ছেন নাকি?” তখন শুভ সাংবাদিক আবু শামাকে ধাক্কা দেন।  

          এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক সাফায়েত সজল সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে বাঁধা দেন পাশাপাশি শুভর নির্দেশে ছাত্রদল কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের উপর হামলা করেন। "সাংবাদিকদের আগে মার" বলে ধাক্কাতে ধাক্কাতে মুক্তমঞ্চ থেকে গোলচত্বরের দিকে নিয়ে যান। এসময় ছাত্রদল কর্মী ও বাংলা বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুল মালেক আকাশ, ইংরেজি বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম জয়, মার্কেটিং -১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাওহিদ রহমান সাকিব ও তাজওয়ার তাজসহ ২০-২৫ জন হামলায় অংশ নেন। এসময় দৈনিক সংবাদের প্রতিনিধি চৌধুরী মাছাবিহ্, দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি আকাশ আল মামুন হামলার শিকার হন। 
          হামলার ভিডিও ফুটেজ নিতে চাইলে চৌধুরী মাছাবিহ এর মোবাইল ছুঁড়ে মারেন বাংলা বিভাগের ছাত্রদলকর্মী সাইফুল মালেক আকাশ। এছাড়াও সাংবাদিকদের দিকে মারমুখী ভাবে ধাক্কা দেন মার্কেটিং ছাত্রদল কর্মী তাওহিদ রহমান সাকিব। প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

          ভুক্তভোগী সাংবাদিক চৌধুরী মাছাবিহ্ বলেন, ‘আমি পেশাগত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে প্রশ্ন করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক শুভ আমাকে ফোনের ভিডিও অফ করতে বলে এবং তাঁর কর্মী সাইফুল মালেক আকাশ হামলা চলাকালীন আমাকে ধাক্কা দিয়ে মোবাইল টান দিয়ে ফেলে দেয়, এতে আমার মোবাইলের ডিসপ্লে ভেঙ্গে যায়।’

          ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু শামা বলেন, ‘আমি মোস্তাফিজুর রহমান শুভকে প্রশ্ন করতে গেলে আমাকে ধাক্কা মারেন। সাথে সাথে কর্মীরা আমার উপর হামলা করেন।’

          শিক্ষার্থীকে বেল্ট দিয়ে মারা ছাত্রদল কর্মীকে শেল্টার দেওয়ার বিষয়ে সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পিছনে মারামারি হচ্ছিলো। আমরা সামনে ছিলাম। এখানে উপস্থিত শিক্ষকরা আমাদের বিষয়টি দেখতে বলেন। যেই ছেলেটি মেরেছিলো, তাকে সেখানে আটকে রাখা হয়। 

          কোন শিক্ষকরা বিষয়টি ছাত্রদলকে সামলাতে বলেছেন এমন প্রশ্নে তিনি অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ড. শরীফুল করীম ও ছাত্র পরামর্শক ও বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুবের কথা জানান। 

          তবে বিষয়টি অস্বীকার করে কমিটির আহ্বায়ক ড. শরীফুল করীম বলেন, আইনশৃঙ্খলার রক্ষার দায়িত্ব আমার না। আমি কাউকে দায়িত্ব দেইনি এসব করার। আমার কাজ ছিল সকল বিষয় কোঅর্ডিনেট করা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করা। 

          সাংবাদিকের দায়িত্ব পালনে বাধা ও তাদের ওপর হামলার নির্দেশ ও ইন্দনের বিষয়টি সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ অস্বীকার করেন। তবে ভিডিও ফুটেজে সরাসরি হামলার সত্যতা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন,  ‘কেউ হামলা করে থাকলে তাদের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

          কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম বলেন, "সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে সংবাদ সংগ্রহ করা, সেখানে এ ধরনের ঘটনা কোন ভাবে কাম্য না।

          সাংবাদিকদের উপর হামলার বিষয়ে প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিবো’

          এই বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগে চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত