শিরোনাম
পবিপ্রবির হল মাঠে জমজমাট ফুটবল ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. কেরামত আলী হল মাঠে ২০২০-২১ সেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ‘টিম হান্টার’ (সিনিয়র ব্যাচ) ও ‘টিম টার্মিনেটর’ (২০২১-২২ সেশন)। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ট্রাইব্রেকারে জয়ী হয় টিম টার্মিনেটর।
২৭ মে (বুধবার) ফাইনাল খেলা শেষে এক সংক্ষিপ্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ল’ অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন, এম. কেরামত আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন হোসেন, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদর রহমান, এম. কেরামত আলী হলের সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক রফিক উদ্দিন।
আরও পড়ুন
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল, বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, "এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও এটি শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে রাখে।"
ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী কলেজে ৪,২৪০ আসনে লড়বে ১৫,৮৫৭ পরিক্ষার্থী
দীর্ঘদিন পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার ভর্তি কার্যক্রমে ভর্তি পরিক্ষা চালু করেছে।
আগামী ৩১ মে (শনিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৪-২০২৫ সেশনের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশসেরা রাজশাহী কলেজে ২৪ টি বিভাগের ৪,২৪০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করেছেন ১৫,৮৫৭ জন শিক্ষার্থী।
১৫,৮৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ে (পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, গণিত) ৮৮০টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ৮,৮৪২ জন শিক্ষার্থী।
মানবিক বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃত, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, মনোবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ, আরবী, ইসলামিক স্টাডিজ) ২,৪৫৫টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ৫,৬৯৫ জন শিক্ষার্থী।
ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে (হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান) ৯০৫টি আসনের বিপরীতে ১,৩২০
জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে।
রাজশাহী কলেজে ২৪টি বিভাগের একক আসন সংখ্যা:
বাংলা-১৯০টি, ইংরেজি-১৯৫টি, ইতিহাস- ২৩৫টি, ইস: ইতিহাস ও সংস্কৃতি-২৩৫টি, দর্শন-১৯০টি, সংস্কৃত-৫০টি, আরবী-৯০টি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২৩৫টি, সমাজবিজ্ঞান-২৩৫টি, সমাজকর্ম-১৯০টি, অর্থনীতি-২৩৫টি, উদ্ভিদবিজ্ঞান-১৮৫টি, প্রাণিবিজ্ঞান-১৮৫টি, পদার্থবিজ্ঞান-১৫৫টি, রসায়ন-১৫৫টি, গণিত-২০০টি, পরিসংখ্যান-১৫৫টি, মনোবিজ্ঞান-১৯০টি, ভূগোল ও পরিবেশ- ১৮৫টি, হিসাববিজ্ঞান-২৩৫টি, ব্যবস্থাপনা-২৩৫টি, ফিন্যান্স-১৪০টি, মার্কেটিং-১৪০টি।
এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও রাজশাহী কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মো: সেরাজ উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে জন্য আমরা প্রশাসনিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় আমরা নগরীর ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। যার আওতায় রাজশাহী কলেজে পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে মানবিক বিভাগের, শাহ মখদুম কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগের পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি এড়াতে আজ থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মোবাইল নাম্বারে মেসেজের মাধ্যমে কেন্দ্রের সিট প্লেন সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো আরম্ভ করেছি। এছাড়াও যদি কারো কাছে মেসেজ না পৌঁছায় তাদের জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দুইদিন আগেই কলেজে আলাদা ভাবে সিট প্লেনের তালিকা বোর্ডে প্রকাশের ব্যবস্থা রাখবো। তাছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রের বাহিরে আলাদা ভাবে সিট প্লেন রাখা পাশাপাশি আমাদের বিএনসিসি, রোভার দল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সার্বিকভাবে সবসময় সহায়তা প্রদান করবে।
খুবির আন্তঃজেলা অ্যাসোসিয়েশনের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল আজ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত আন্তঃজেলা অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল আজ। রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খুলনা জেলা অ্যাসোসিয়েশন বনাম সিরাজগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যেকার ফাইনাল ম্যাচটি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আজ সাক্ষী হতে চলেছে এক জমজমাট ফুটবল ফাইনালের। দুর্দান্ত ফাইনাল ম্যাচের একদিকে থাকবে শক্তিশালী খুলনা জেলা অ্যাসোসিয়েশন অপরদিকে থাকবে শক্তিশালী সিরাজগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশন।
টুর্নামেন্টটি শুরু হয়েছিল গত ২০ মে, ২০২৫ যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি জেলা অ্যাসোসিয়েশন অংশগ্রহণ করেছিলো । শুরু থেকেই ম্যাচগুলো ছিল উত্তেজনাপূর্ণ, টানটান প্রতিযোগিতামূলক এবং শিক্ষার্থীদের বিপুল আগ্রহে পরিপূর্ণ। খুলনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ফাইনাল ম্যাচে জায়গা করে নিজেদের শক্তি জানান দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন।
ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ফাইনাল ম্যাচের জন্য খেলার মাঠকে আরো বেশি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলকে পুরস্কৃত করা হবে এবং একটি সংক্ষিপ্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছে। এই ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় শিক্ষার্থীদের নেই বাজেট: মানসম্মত গবেষণা ব্যহত
কীর্তনখোলা ও খয়রাবাদ নদীর মোহনায় মনোরম পরিবেশে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। প্রতিষ্ঠার এক যুগের বেশি সময় পার করলেও গবেষণা কার্যক্রমে তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই বিশ্ববিদ্যালয়টির। পর্যাপ্ত গবেষণা পরিবেশ, অবকাঠামো, গবেষণা সামগ্রীর অভাব এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় পিছিয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা খাত। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো রকম বাজেট বরাদ্দ না থাকায় তাদের গবেষণা কার্যক্রম সার্বিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের গবেষণার জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য কোনো রকম বাজেট নেই। এজন্য মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা গবেষণা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন না। হাতে গোনা যে কয়জন শিক্ষার্থী থিসিস নেন মাস্টার্সে তাও অর্থাভাবে আশা হারিয়ে ফেলেন অনেকে। মানসম্মত থিসিস করতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ দপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেগুলার শিক্ষকদের গবেষণার জন্য ১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ ছিল। এছাড়াও পিএইচডি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ৩০ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ থাকলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পিএইচডি’র সুযোগ না থাকায় এই অর্থ অব্যবহৃতই থেকে যায়। তবে রেগুলার শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য কোনো রকম বাজেট বরাদ্দ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা বিভিন্ন প্রজেক্ট বা থিসিসের কাজ করার সময় প্রায়শই আর্থিক সংকটে পড়েন। নিজেদের অর্থায়নে গবেষণা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে নিজের অর্থায়ণে গবেষণা শুরু করলেও অর্থায়নের অভাবে তাদের কাজ অসমাপ্তই থেকে যায়। প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, ডেটা বিশ্লেষণ, সার্ভে পরিচালনা বা জার্নালে প্রকাশনার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব পকেট থেকে খরচ করতে হয়, যা তাদের পক্ষে বহন করা কঠিন।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত কার্বন ফেস্টে প্রথম হওয়া মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মনিরুল ইসলাম গবেষণার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়া আর্থিক সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "গবেষণা করার ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যা আমাদের জন্য একটি বড় বাধা। অনেক সময় গবেষণার কাজে গিয়ে আমরা আর্থিক সংকটে পড়ি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি এ বিষয়ে আমাদের সহায়তা করে, তবে আমাদের জন্য গবেষণার কাজটি অনেক সহজ হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিণত করতে হলে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কালচার তৈরি করার জন্য তার প্রধান স্টেকহোল্ডার শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অনুপ্রাণিত করতে হয়, তাদের আর্থিক প্রেষণা দিতে হবে। শুধুমাত্র শিক্ষকদের গবেষণায় নাম মাত্র বরাদ্দ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনোই পুরোপুরি গবেষণা কালচার তৈরি করা সম্ভব নয়।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. রহিমা নাসরিন বলেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেরা গবেষণার জন্য কোনো বাজেট পান না। শিক্ষার্থীদের জন্য বাজেট বরাদ্দ দিলে এবং তাদের সুযোগ দিলে শিক্ষার্থীরা গবেষণায় অনেক এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।"
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে ভর্তি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বাজেট নাই। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য একটি বাজেট থাকে। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলা সত্ত্বেও বাজেট বরাদ্দ হয়নি। আমরা যারা শিক্ষার্থীদের সাথে গবেষণা করি, অনেক সময় দেখা যায় এই অর্থগুলো আমাদের জোগাড় করতে হয়। যেটা খুবই ডিফিকাল্ট। আমরা আশাকরছি বর্তমান উপাচার্য এবিষয়ে সুনজর দিবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রয় বলেন, " আমাদের এখানে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বাজেট নেই। এতে গবেষণা খাত ব্যহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যারা থিসিস করেন এনএসটি ফান্ড থেকে কিছুটা সাহায্য পায় তারা, সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাদের যদি সহায়তা করা যায় তাহলে তারা বেশ উপকৃত হবে। এবিষয়ে তিনি উপাচার্যের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এবং সম্প্রসারণ প্রধান ড. সোনিয়া খান সনি বলেন, "হ্যাঁ, এটা সত্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য কোনো বাজেট নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আমরা কথা বলবো কিভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা যায়।"
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম এই বিষয়ে বলেন, " গবেষণার মান যেন বাড়ানো যায় সেজন্য গবেষণার সার্বিক বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড এবং বাইরের ফান্ড থেকে বাজেট কীভাবে নিয়ে আসা যায় সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন বলে জানান। উপাচারর্য আরও বলেন, আমাদের সেন্ট্রাল ল্যাবে যেসব যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে, সেগুলো ঠিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে খুব শীঘ্রই।"
আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরশনে রাজশাহী কলেজ শিক্ষকদের কলম বিরতি
ডিএস পুলে কোটা পদ্ধতি বাতিল চাই, ক্যাডার যার মন্ত্রণালয় তার, সকল ক্যাডারের সমতা চাই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রশাসন ক্যাডার কর্তৃক বৈষম্যমূলক ভাবে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহার এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রাজশাহী কলেজের শিক্ষকরা কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচি চলাকালে রাজশাহী কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কলেজের শিক্ষরা ১ ঘন্টা অস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার ( ২৭ মে ) সকাল ৯ টায় কলেজের প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: ইব্রাহিম আলী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মো: সেরাজ উদ্দীন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.শাহ মোঃ মাহবুব আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দরা।
এসময় শিক্ষকরা বলেন, সারাদেশের মতো আজ রাজশাহীতেও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের আহ্বানে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে সকাল ৯.০০ টা থেকে দুপুর ১২.০০ টা পর্যন্ত পরিষদের অন্তর্ভুক্ত সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের এ কর্মসূচি সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরা রাজশাহী কলেজেও কলম বিরতী কর্মসূচিতে অবস্থান নিয়েছি।
তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে মারামারি, মিছিল ও জনপ্রশাসনে শোডাউন করেন। সংস্কার কমিশনকে আল্টিমেটাম দেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি শুরু হয় এবং প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা বাকি ২৫টি ক্যাডারের সদস্যদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এসব লেখালেখির কারণে ২৫ ক্যাডারের ১২ জন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও সম্প্রতি কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছে। অথচ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সরকারি বিধি-বিধান বহির্ভূত কার্যকলাপের পরও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সংস্কার কমিশন উপসচিব পুলে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০% কোটা রেখে অন্যান্য ২৫টি ক্যাডারের জন্য ৫০% পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করে, যা জুলাই বিপ্লবের সাথে সাংঘর্ষিক বলে পরিষদ মনে করে।
উল্লেখ্য, জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব সিভিল সার্ভিস গঠনের লক্ষ্যে সংস্কার কমিশনকে সহযোগিতা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ। জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক, আলোচনা সভার মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে 'কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, ডিএস পুলের কোটা বাতিল ও সকল ক্যাডারের সমতা বিধান' এর প্রস্তাব উত্থাপন করেছে ঐকমত্য কমিশনে। ইতোপূর্বে পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ক্যাডার সমূহের নেতৃবৃন্দরা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনেও একই দাবি উত্থাপন করেছিলো যেগুলো যথাযথভাবে আমলে নেয়নি সংস্কার কমিশন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য