ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক নিয়োগের ভুল প্রজ্ঞাপন ঘিরে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২০ মে, ২০২৫ ১৭:২৯
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক নিয়োগের ভুল প্রজ্ঞাপন ঘিরে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক নিয়োগের ভুল প্রজ্ঞাপন ঘিরে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে সাত  কলেজের স্থানে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় শব্দ ব্যবহার করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৯ মে) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত একটি প্রজ্ঞাপন লক্ষ্য করা যায়। উক্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ০৭ (সাত) কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরবর্তী কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস (০১০৪), অধ্যক্ষ, ঢাকা কলেজকে শর্ত সাপেক্ষে তাঁর মূল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে নিয়োগ প্রদান করা হলো।”

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাউশির ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করে এ ধরণের কোনো প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায় নি। 

জানা যায়, সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক নিয়োগের যে প্রজ্ঞাপন বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেখানে শব্দগত কিছু ভুল থাকায় সেটি এখনও মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি সমাধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আলোচনা করে প্রজ্ঞাপনের ভুল সংশোধনের পর সাত কলেজের প্রশাসক নিয়োগের মূল প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। 

মূলত, সাত কলেজকে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রজ্ঞাপনে বিশ্ববিদ্যালয় শব্দ উল্লেখ থাকা এবং এটি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় এক ধরণের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

/ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, সরকারি বাঙলা কলেজ

মন্তব্য

নকলে ব্যবহৃত মোবাইল ফেরত, কুবি ছাত্রদল নেতার প্রভাবের অভিযোগ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৯ মে, ২০২৫ ২২:০
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
নকলে ব্যবহৃত মোবাইল ফেরত, কুবি ছাত্রদল নেতার প্রভাবের অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের সেমিস্টার চূড়ান্ত পরীক্ষায় দুজন শিক্ষার্থীকে নকলসহ আটক করা হয়। তারা হলেন ১৬তম আর্বতনের কাজী তাহাসিন এবং সেলিম আহমেদ শিমুল। আটককৃত শিক্ষার্থীদের থেকে নকলে ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করলেও পরে তা তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের নিয়ম বহির্ভূত। নিয়ম মতে নকলে ব্যবহার্য সরঞ্জাম তদন্তের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে নকলসহ আটক শিক্ষার্থীদের বিষয়টি ‘বিবেচনা’ করার জন্য ওই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এম.এম শরিফুল করিমের সাথে যোগাযোগ করেন কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান এই বিষয়টি নিয়ে ওই দিনই হল রুমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উক্ত পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক শারমিন সুলতানা।  

বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২ থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (১৫ মে) ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ইন্ট্রোডাকশন টু ফিকসন (ইএনজি- ১১০৪) কোর্সের সেমিস্টার চ‚ড়ান্ত পরীক্ষা ছিলো। পরীক্ষাটি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ আবর্তনের শিক্ষার্থী সেলিম আহমেদ শিমুল এবং কাজী তাহাসিন ইম্প্রুভমেন্ট (মানোন্নয়ন) পরীক্ষা দেন। ওই দুজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল থেকে নকল করা অবস্থায় আটক করেন পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক এমডি আবুল হায়াত। এসময় তাঁদের উত্তরপত্র ও মোবাইল নিয়ে ফেলেন তিনি। কিন্তু পরে তাদের থেকে “নকল করেছে” এমন লিখিত স্বীকারোক্তী নিয়ে  মোবাইল দিয়ে দেন বিভাগীয় প্রধান শরিফুল করিমের।

কিন্তু নিয়ম অনুসারে উত্তরপত্র এবং নকলে ব্যবহার করা সরঞ্জাম পরীক্ষানিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দিতে হয়। এসকল কিছু তদন্ত করে শিক্ষার্থীর অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে পরীক্ষাশৃঙ্খলা কমিটি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নকলকৃত পরীক্ষা বাতিল হওয়াটা শাস্তি নয়, এটি নিয়ম।  এমনটি জানান পরীক্ষানিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রধান মোহাম্মদ নরুল করিম চৌধুরী। কিন্তু উক্ত শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফিরিয়ে দেওয়ায় তাদের বিষয়ে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে।

বিভাগের দুজন শিক্ষক ও সেদিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, “নকলের জন্য আটক হওয়া দুজন শিক্ষার্থীর বিষয়টি নিয়ে কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ মুঠোফোনে বিভাগীয় প্রধান ও বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের নেতা অধ্যাপক শরিফুল করিমের সাথে যোগাযোগ করেন” তবে মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করেন। এই বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শারমিন সুলতানা হল রুমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “হুহ, নেতা দিয়ে কল দেয়, কত বড় সাহস” এমনটি জানান হল রুমে অবস্থান করা কয়েকজন পরীক্ষার্থী। এই বিষয়ে শারমিন সুলতানাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এই বিষয়টি বিভাগের কনফেডিনশিয়াল, তাই এখন কিছু বলতে পারছি না।

ছাত্রদল নেতার ফোন কলের বিষয়ে শরিফুল করিম বলেন, “আমার সাথে অনেকের ইনফরমাল কথা হয়। এই বিষয়ে তো আমি কাওকে বক্তব্য দিবো না।”
নকলের বিষয়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী জানান, আমাদের ওই দিনই মোবাইল দিয়ে দেওয়া হয়। তবে এবং এই পরীক্ষাটি বাতিল করেছে এমনটি জানানো হয়।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

দুই দিনব্যাপী বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটির 'রাইস উইথ দ্বীন–২০২৫' ক্যাম্পেইন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৯ মে, ২০২৫ ২১:৮
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
দুই দিনব্যাপী বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটির 'রাইস উইথ দ্বীন–২০২৫' ক্যাম্পেইন

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো 'রাইস উইথ দ্বীন–২০২৫' ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। ১৯ মে থেকে ক্যাম্পেইনটি একাডেমিক বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে শুরু হয় এবং ২০ মে পর্যন্ত চলবে।

‘সুযোগ রয়েছে নিজেকে একজন ভালো মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার’—এই প্রতিপাদ্যে বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটির এই বিশেষ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্যাম্পেইনের প্রধান আকর্ষণ হলো সদস্য সংগ্রহ (Empower the Da’wah)। এর পাশাপাশি রয়েছে ইসলামিক বই ক্যাম্পেইন ও আতর ক্যাম্পেইন। এছাড়াও একাডেমিক বিল্ডিংয়ের মসজিদের প্রবেশদ্বারের দেয়ালে থাকবে গ্রাফিটি কার্নিভালের বিশেষ আয়োজন।

ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদ সরকার ক্যাম্পেইন সম্পর্কে বলেন, বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটি একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অরাজনৈতিক সংগঠন, যার যাত্রা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রাপ্ত জ্ঞান মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে। এ লক্ষ্যে তারা নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে, যার মধ্যে অন্যতম হলো বুক ক্যাম্পেইন।

বুক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রকাশনী থেকে জ্ঞানসমৃদ্ধ ও মননশীল লেখকদের বই সংগ্রহ করে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ, উপহার ও আলোচনার মাধ্যম হিসেবে এক অপূর্ব সুযোগ তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ক্যাম্পাস সংস্কৃতির নামে অনেক সময় অসুস্থ ও বিভ্রান্তিকর ধারা জায়গা করে নিচ্ছে। এর বিপরীতে সুস্থ জ্ঞানের চর্চা এবং চিন্তাশীল পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়াস অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটির এ প্রয়াস নিঃসন্দেহে একটি গঠনমূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সংগঠনটির এ মহৎ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতি সেমিস্টারে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার অভিমত প্রকাশ করেন তিনি এবং আহ্বান জানান যেন আরও বেশি নতুন সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হয়ে এ কাজে অংশগ্রহণ করে।

বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. অনিক হাসান বলেন, নিজেকে একজন ভালো মুসলিম এবং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম, যা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত।

সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সাথে রয়েছে ইসলামি জীবনযাপনের সাথে সম্পর্কিত পারফিউম, আতর ও খেজুর।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় যুগের পূর্বে মুসলিমদের ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে পুনরায় জাগ্রত করতে এবং ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাখা হয়েছে ইসলামিক বুক ক্যাম্পেইন, যেখানে রয়েছে ইতিহাস, বিজ্ঞান ও আত্মশুদ্ধির ওপর বিভিন্ন বই। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বুটেক্সে বুক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

৪৮তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ হাসান প্রয়াস বলেন, ইসলামি জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটির এই ক্যাম্পেইন আমাদের ছাত্রজীবনেই দ্বীনের আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এখানে কুরআন-হাদীসভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের পাশাপাশি রয়েছে সুন্নাহসম্মত পণ্য—যেমন খেজুর, আতর ও মধু। দাওয়াহ কমিউনিটির এই সুন্দর আয়োজনে সবাইকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন, আমরা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যকে জানি ও বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই।

উল্লেখ্য, এর পূর্বে চলতি বছরের ২ ও ৩ মার্চ এবং ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর বুটেক্সে এমন বুক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় আয়োজকরা প্রায় ৯০০-এর বেশি বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেন বলে জানা যায়।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

পাবিপ্রবির গেটসংলগ্ন দোকানে সিঙাড়ায় পোকা, অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের।

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৯ মে, ২০২৫ ১৯:৩২
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
পাবিপ্রবির গেটসংলগ্ন দোকানে সিঙাড়ায় পোকা, অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের সামনের সাইদের দোকানে সিঙাড়ায় পোকা পাওয়া গেছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দুই শিক্ষার্থী গেটসংলগ্ন একটি বাংলা খাবারের হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে যান। সিঙাড়া অর্ডার দিয়ে খাওয়ার এক পর্যায়ে তারা সেই সিঙাড়ার মধ্যে পোকা দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা সেটি ক্যামেরাবন্দি করে এবং হোটেল মালিককে জানান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলটির রান্নাঘর অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং পুরো দোকানেই পরিচ্ছন্নতার অভাব। খাবারের মান যেমন নিম্নমানের, তেমনি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দোকানটিতে অতিরিক্ত দাম রাখা হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন,এই দোকানে ৫ টাকার সিঙাড়া ১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে নিয়মিত।  এমনকি হোটেল মালিক ও কর্মচারী শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।

খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনা কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) পাবিপ্রবি শাখার সভাপতি আলফি সানিকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তার নেতৃত্বে সিওয়াইবির একদল সদস্য ওই দোকানে অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে দোকানের এক কর্মচারী সিওয়াইবির সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এরপর হোটেলের মালিক মাইক সাইদের উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করা হলেও তিনি আসেননি।

পরে সাংবাদিকরা ফোনে যোগাযোগ করলে হোটেল মালিক সাইদ বলেন, সিঙাড়ায় পোকা পাওয়ার ঘটনায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কখন পোকাটি সিঙাড়ার মধ্যে ঢুকে গেছে, তা বুঝতে পারিনি। ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাহিরে

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৯ মে, ২০২৫ ১৯:১৯
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাহিরে

দেশের ব্লু ইকোনমি অর্জনের লক্ষ্যে মেরিটাইম বিষয়ক উচ্চতর পড়াশোনার জন্য ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের ৩৭তম পাবলিক ও ১ম মেরিটাইম বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি।প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি এগিয়ে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।যার মধ্যে অন্যতম হলো আবাসন সংকট।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রামে প্রায় ১হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে।যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পড়তে আসা।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিরাপত্তাজনিত শঙ্কাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বাহিরে বাসা বা মেস ভাড়া করে থাকছেন।এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে তেমনি ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা।

একদশক আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় বর্তমানে ২টি ভবনে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য মিরপুর ডিওএইচএস এ ছেলেদের জন্য ২ টি ও মেয়েদের জন্য ১টি হল আছে।

পরিসংখ্যান বলছে,হল ৩টি তে সর্বমোট শিক্ষার্থীর ধারণ সংখ্যা ৩০০ এর মতো।সে হিসেবে প্রায় ৮০ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাহিরে।

সর্বশেষ ইউজিসির প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদেনেও উঠে এসেছে এমন তথ্য।তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাহিরে।এছাড়াও কম আবাসন সুবিধা সম্পন্ন ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও এসেছে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নাম যেখানে মাত্র ২০ ভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এবিষয়ে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বলছে,হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের তুলনায় সিট সংখ্যা নগন্য।এছাড়া যারা হলে থাকছে তারাও প্রায় ২ হাজার টাকা করে সিট ভাড়া দিচ্ছে সাথে খাবারও মিল সিস্টেম যা সাধারণত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হয় না।

বিভিন্ন সময় হলের সিট সংখ্যা বৃদ্ধি বা হল সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করলেও প্রশাসন ও ইউজিসি আশ্বস্ত করা ছাড়া আর কিছু দেয়নি-যোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ইউজিসির কাছে হল বৃদ্ধির আবেদন করেও কোন আশানুরূপ সাড়া পাননি।এছাড়া নির্মাণাধীন স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ আগামী বছর শেষ হলে সেখানে ৬ তলা বিশিষ্ট ছাত্র হলে ৫২০ জন ও ৬ তলা বিশিষ্ট ছাত্রী হলে ৩৬০ জন শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পেলে আবাসন সংকট অনেকটা কমে যাবে আশা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতা ও আবাসন সংকট প্রকট হওয়ার বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে আন্তরিক। বাজেট বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। সমস্যা সমাধানে আমাদের অবস্থান থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’

মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদ
    সর্বাধিক পঠিত