ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
শিরোনাম

অর্থাভাবে ভর্তি না হতে পারা শিক্ষার্থীর পাশে জবি ছাত্রদল নেতা বাসিত

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৫ মে, ২০২৫ ১৮:৮
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
অর্থাভাবে ভর্তি না হতে পারা শিক্ষার্থীর পাশে জবি ছাত্রদল নেতা বাসিত

আর্থিক সমস্যার কারণে জবি ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছিলনা  নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী। তখন পাশে দাঁড়িয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা বাসিত। নিজে দায়িত্ব নিয়ে সেই শিক্ষার্থীর ভর্তির কাজ সম্পন্ন করেন।

অর্থ অভাবে ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থী বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি। কিন্তু অর্থ অভাবে ভর্তি হতে পারছিলাম না। তখন বাসিত ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করি তিনি ভর্তি করাই দেন।

জবি ছাত্রদল নেতা বাসিত বলেন, আমাদের এটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যারা এরকম অসচ্ছল অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছেনা। তাদের আমি ও আমার বন্ধুরা সাহায্য করছি। যখন তার বিষয়টা জানতে পারি সাথে সাথে  তার সাথে যোগাযোগ করে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেই। অর্থের অভাবে যেন কেউ পিছনে না পরে।

তিনি আরো বলেন, সে সামনের দিনে সাফল্যের উচ্চ শিখতে পৌঁছাক।আমরা তার পরিচয় গোপন রাখতে চাই।সবার আত্নসম্মান অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি।
 

মন্তব্য

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় জড়িতদের বাদ দেয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৫ মে, ২০২৫ ১৮:২
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় জড়িতদের বাদ দেয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও নিপীড়ন মামলায় গড়িমসি এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের মামলা থেকে বাদ দেয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বেরোবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৫মে) দুপুর আড়াই টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে শহিদ আবু সাঈদ গেইট থেকে পুনরায় প্রধান ফটকে এসে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা "আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ; ফ্যাসিবাদের দোসররা, হুশিয়ার সাবধান; ফ্যাসিবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও পুড়িয়ে; ইত্যাদি নানা স্লোগান ও বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায়। 

সুমন সরকার বলেন, শহিদ আবু সাঈদ হত্যার মামলার কোন সঠিক  পদক্ষেপ দেখছিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সব জায়গায় তাল বাহানা চলছে। যেখানে গুটি কয়েকজন কে আসামি করা হয়। অধিকাংশরা ধরা ছোয়ার বাহিরে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্তীরা ফুসিয়ে উঠেছে শহিদ আবু সাঈদ হত্যার বিচার মামলা না হওয়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এর যাদের ইশারায় শহিদ আবু সাঈদের উপর গুলি করা হয়েছে। তারা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনে বহাল তবিয়তে আছে। আমরা দাবী ছাড়াই সকল আসামিকে যদি লিস্টের আওতায় না আনা হয়। তাহলে আমাদের আন্দোলন চলছে আন্দোলন চলবে।

মুরসালিন মুন্না বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা আওয়ামী লীগের দোসর ও যারা জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী। যাদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজে আমরা দেখেছি। তারা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বহাল তবিয়তে কাজ করছেন, এমনকি তারা পদন্নোতিও পাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো মামলা করা হয়নি, কোনো অভিযোগ করা হয়নি; তাহলে আমরা মনে করি এ প্রশাসন শিক্ষার্থী সাথে হাসি তামাশায়  করছে। এটা শহিদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাস। আমরা রক্ত দিতে জানি, জান দিতে জানি। সুতরাং এখানে কোনো ধরনের তাল বাহানা চলবে না। আমরা চাই সঠিক তদন্ত করে, সঠিক বিচার করে আওয়ামী লীগ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে, আওয়ামী দালাল মুক্ত করতে হবে এবং হামলাকারীদের দ্রুত বিচার করতে হবে। 

রাকিব মিয়া বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা প্রত্যক্ষভাবে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে, যারা ফ্যাসিবাদের দোসর; তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। যারা আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিল, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে; তাদের অনেককে মামলা থেকে বাদ দেয়ার চক্রান্ত চলছে। মামলা নিয়ে কোনো প্রকার রাজনীতি করা যাবে না, শিক্ষার্থীদের কে যদি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রশাসন মামলা নিয়ে তাল বাহানা করে তাহলে শিক্ষার্থীরা আবার রাজপথে নেমে পড়বে।

উল্লেখ্য যে, বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা আরও নতুন করে জুলাই বিপ্লবে হামলাকারীর তালিকার স্মারকলিপি উপাচার্য বরাবর প্রদান করেন।

 

মন্তব্য

শিক্ষার্থীদের পেটানোর পরিকল্পনা রাবি ছাত্রদলের, স্ক্রিনশট ভাইরাল

অনলাইন ডেস্ক
৫ মে, ২০২৫ ১৭:৫০
অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের পেটানোর পরিকল্পনা রাবি ছাত্রদলের, স্ক্রিনশট ভাইরাল
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভাইরাল স্ক্রিনশট

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ট্রল করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের পেটানোর পরিকল্পনার একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্ক্রিনশটটিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে চ্যাট করতে দেখা গেছে। সেখানে একজন লিখেছেন, ‌‘ক্যাম্পাসের বাইরে-ভেতরে না মামা, এদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই পিটাতে হবে’।

সোমবার (৫ মে) সকালে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের স্ক্রিনশটটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরতে দেখা যায়। সেখানে গ্রুপের নাম দেওয়া আছে ‘রাবি ছাত্রদল’। এ ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্ক্রিনশটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. তুষার শেখ, যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মী হাসিবুল ইসলাম হাসিবের মধ্যে চ্যাট করতে দেখা যায়।

সেখানে হাসিবুল ইসলামকে বলতে দেখা গেছে, ‘আগামীকাল ক্যাম্পাসে আসেন, এই বট বাহিনীর ছেলেগুলাকে চিহ্নিত করে দিন। এক শালাকেও ছাড় হবে না। ক্যাম্পাসের বাইরে বের হবে না? সবগুলারে একটা একটা করে ধরে ছিঁড়ে ফেলে দেবো।’

আহসান হাবিবকে বলতে দেখা গেছে, ‘যাচাই-বাছাই ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠন ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর ও মিথ্যা পোস্ট অ্যাপ্রুভ করায় এদের বিরুদ্ধেও মামলা করা যাবে।’

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তুষার শেখকে বলতে দেখা যায়, ‘আগামীকাল ক্যাম্পাসে আসেন, এই বট বাহিনীর ছেলেগুলাকে চিহ্নিত করে দিন। এক শালাকেও ছাড় হবে না। ক্যাম্পাসের বাইরে-ভেতরে না মামা, এদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই পিটাতে হবে।’

সেখানে আহসান হাবিব আবার বলেন, ‘কিন্তু বাদী হবে কে? এদের বিরুদ্ধে মামলা করা মানে শিবিরের বিরুদ্ধে মামলা করা।’

অন্য আরেকটি স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, সেখানে বেশিরভাগ মেসেজগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। তবে একটি মেসেজ দেখা যায়। সেখানে তুষার শেখ লিখেছেন, ‘গায়ে হাত দেওয়া অন্যায় ঠিক। কিন্তু এদেরকে পিটানো ছাড়া কোনোভাবেই সোজা করা সম্ভব নয়। এদেরকে পিটোনি দিলে সব ঠিক।’

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. তুষার শেখকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

বিষয়টি স্বীকার করে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব বলেন, ‘আমি শুধু আমার মতামত দিয়েছি। গ্রুপে এমন অনেক ছেলেরা আছে যারা ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সংগঠনের বক্তব্য নিয়ে ফেক আইডি দিয়ে বিভিন্ন পোস্ট গ্রুপে অ্যাপ্রুভ করা হয়, যেগুলো মানহানিকর। গ্রুপে এক ছোট ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে আমি মামলা করার বিষয়ে বলি।’

তবে ফাঁস হওয়া স্ক্রিনশট এডিট করা দাবি করে ছাত্রদলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মী হাসিবুল হাসান বলেন, ‘রাবি ছাত্রদল’ নামের গ্রুপটি ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারোর না। মেসেজগুলো এডিট করা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদেরই ভাইবোন। আমরা শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে কোনো কথা বলেনি। এখানে স্পষ্টভাবে ‘বট বাহিনীর’ কথা উল্লেখ করা আছে।

‘বট বাহিনী’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা ক্যাম্পাসে উল্টাপাল্টা গুজব ছড়ান তাদের বোঝানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এটা যদি কেউ করে থাকেন তবে সেটি তাদের ব্যক্তিগত আলোচনা। এটা সংগঠনের আলোচনা না। এমনটি যদি কেউ করে থাকেন তাহলে সে নেতা, কর্মী বা সমর্থক যেই হোক; তার সংগঠনে থাকার কোনো সুযোগ নেই। সরাসরি বহিষ্কার করা হবে।’

 

মন্তব্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শার্ট টাউন ঘোষণা

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৫ মে, ২০২৫ ১৫:৫৫
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শার্ট টাউন ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক শাটডাউন ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

সোমবার (৫এপ্রিল) বেলা ১২টা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ডফ্লোরে অবস্থান কর্মসূচী ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।  এর পরে তারা ঘোষণা দেয়  আগামীকাল(মঙ্গলবার) সকাল ১১টার মধ্যে উপাচার্য পদত্যাগ পত্র না দেন তাহলে প্রশাসনিক কার্যক্রম তারা শাটডাউন করে দিবে। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এসময় বলেন, আমরা আগামীকাল থেকে প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি যদি উপাচার্য সকাল ১১টার মধ্যে পদত্যাগ না করেন। তবে যাদের পরিক্ষা চলেতেছে, ক্লাস চলতেছে শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে বিবেচনা করে একাডেমি কার্যক্রম চলবে। এর পরেও যদি উপাচার্য পদত্যাগ না আগামী পরশু থেকে আমরা বাধ্য হয়ে দক্ষিনাঞ্চল অচল করে দেয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব। 

এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন, স্বৈরচারী মনোভাবের এই উপাচার্যকে অতিদ্রুত পদত্যাগ করতে হবে। এই উপাচার্য একের পর এক প্রশাসনে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন শুরু করে। উপাচার্যের এসকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে অন্যায়ভাবে মামলা দেন। আমরা আন্দোলন করছি আগামীকাল থেকে প্রশাসনিক শাটডাউনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 

জুলাই আন্দোলনে অন্যতম সমন্বয়ক ও বরিশাল মহানগরের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন “বিভিন্ন দাবি নিয়ে তিন সপ্তাহ যাবত আন্দোলন চলছে, তিনি চাইলে শিক্ষার্থীদের সাথে বসতে পারতেন কিন্তু তিনি শিক্ষার্থীদের কোনো দাবিতে কর্নপাত করেননি, এই ভিসি শিক্ষার্থীদের দাবি পূরনে ব্যার্থ হয়েছে, আমরা ইউজিসিকে আহ্বান করছি অবিলম্বে এই ভিসিকে অপসারণ করতে হবে। এবং একজন সৎ ও যোগ্য ভিসিকে নিয়োগ দিতে হবে।”

উল্লেখ্যা, গত ১৭ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বৈরাচারের পুর্নবাসন ও জুলাই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থানকারীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ১৮ দিনের মাথায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মেহরাব হোসেন/

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রাবি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযুক্তের সাথে লিয়াজোঁ'র অভিযোগ এনে তদন্তকারীর পদত্যাগ

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৫ মে, ২০২৫ ১৫:৫০
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    রাবি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযুক্তের সাথে লিয়াজোঁ'র অভিযোগ এনে তদন্তকারীর পদত্যাগ

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী'র বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রী নির্যাতন ও পরীক্ষার ফলাফল ম্যানিপুলেট করার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেন প্রশাসন। তবে সাত মাসেও জমা হয়নি প্রতিবেদন। এমনকি সাত মাসে মাত্র একটি মিটিং করেন তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির কনভেনরকে বারবার তাগিদ দিয়েও কোনো সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন কমিটির সদস্য আইন বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম। 

    গতকাল (৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র দেন অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম। 

    জানা যায়, অধ্যাপক মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগের সেশনজট, অর্থ কেলেঙ্কারি ও যৌন হয়রানির মতো নানা অভিযোগ করেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ড. মামুনকে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় ও তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। চার সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদকে। সদস্য ছিলেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ. এফ. এম. মাসুদ আখতার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক শাফিউল ইসলাম এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার।

    পদত্যাগপত্রে অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম জানান, গত ৩১.১০.২০২৪ তারিখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী-এর বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রী নির্যাতন ও পরীক্ষার ফলাফল ম্যানিপুলেট করার মাধ্যমে ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের খারাপ ফলাফল প্রদানের অভিযোগ তদন্তের জন্য প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদকে কনভেনর করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আমি উক্ত কমিটির একজন সদস্য। ছয় মাস পূর্বে কমিটি গঠিত হলেও কনভেনর এ যাবৎ একটিমাত্র মিটিং ডেকেছেন। কনভেনরকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তদন্তের কাজ অগ্রসরে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। কনভেনরের আচরণে মনে হচ্ছে তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী নন। 

    তিনি আরো জানা, এমতাবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের নির্যাতনকারী শিক্ষকের নিরাপত্তা বিধানকারী কমিটির কনভেনরের সঙ্গে আমি কাজ করলে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্যাতনকারী ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আমার কোন পার্থক্য থাকবে না। তাই আমি ন্যায় বিচারের স্বার্থে ও স্বাধীন বাংলাদেশে অন্যায়ের অ্যাকমপ্লাইচ (Accomplice) শিক্ষক হওয়ার দায় এড়ানোর জন্য তদন্ত কমিটি থেকে পদত্যাগ করলাম। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

    এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, আমি আমার পদত্যাগপত্র ভিসি স্যারের কাছে জমা দিয়েছি। আমার মনে হয় এটি পাবলিকলি প্রচার হওয়া উচিত। ছাত্রদের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি অন্তত আমরা এই ছাত্রদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারি সে বিষয়ে আমাদের তৎপর হওয়া উচিত।

    তিনি আরো বলেন, যেই শিক্ষক ২৪-এর আন্দোলনে না যাওয়ার জন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখাতো তার তদন্ত করতে এত গড়িমসি কেন? আমার মনে হয় ওই শিক্ষকদের সাথে তলে তলে লিয়েজোঁ চলছে। তদন্ত কমিটি কোনো অগ্রগতি নেই প্রায় ৭ মাস পার হলেও মিটিং হয়েছে মাত্র একটি। অথচ এর আগে আমি এক তদন্ত কমিটিতে ছিলাম ২ মাসের মধ্যে তদন্ত কমিটির কাজ শেষ হয়েছে রিপোর্টও দেওয়া হয়েছিল।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখার আলম মাসউদ বলেন, আমার বলার কিছুই নেই। নিজেদের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা না করে সবসময়ই উনি ভাইরাল হতে চান। আমরা কাজ করছি। মিটিং করে কাজ ভাগ করে নিয়েছি। তবে কার্যক্রমটা আরও গতিশীল হতে হতো। তদন্ত কমিটির কাজ খুব দ্রুতই শেষ করতে পারব ইনশাল্লাহ।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য
      সর্বশেষ সংবাদ
        সর্বাধিক পঠিত