বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আন্তঃহল ভলিবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের আয়োজনে ৮ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ মে।
রোববার (৪ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম সংলগ্ন মাঠে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি আবাসিক হলের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করে ফজলুল হক হল ও মাওলানা ভাসানী হল। ম্যাচে মাওলানা ভাসানী হল ফজলুল হক হলকে হারিয়ে বিজয়ী হয়।
ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আসাদুল হক সজলের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হেলাল উদ্দীন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড মো আসাদুজ্জামান সরকার। এছাড়াও বিভিন্ন হলের প্রভোস্টবৃন্দ ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শরীর ও মনকে সতেজ ও সক্রিয় রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। দৈহিক সুস্থতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। জিমনেশিয়ামে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক জিম সুবিধা চালু হচ্ছে। ইতোমধ্যে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ পায়—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাসে আবারও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা : নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৪ মে, ২০২৫ ২০:৫৬
শেয়ার
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসে কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ উঠেছে। পরপর এমন চুরির ঘটনায় ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কে প্রশাসনের ব্যর্থতা বলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৪ মে) ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ভবনে ( সি-ব্লক) ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির বিষয়টি ছাত্রাবাসের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের মোঃ রায়হান সরকার। তিনি ছাত্রাবাসের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ভবনের ( সি-ব্লক) ১০৬ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, গতকাল রাতে ল্যাপটপ ব্যবহারের পর প্রতিদিনের ন্যায় তিনি ল্যাপটপ যথাস্থানে রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার ল্যাপটপটি সেই স্থানে নেই। পরবর্তীতে বিষয় স্যারদের অবগত করা হলে সিসিটিভির মাধ্যমে দেখা যায় একজন বহিরাগত ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ তার রুমে ঢুকে ল্যাপটপ নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি এ বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, যারা গেটম্যান হিসেবে দায়িত্বে আছেন তারা একটু গভীর রাত হলেই বাসায় চলে যান এবং দেখা যায় ভোর পর্যন্ত কোনো গেটম্যান থাকে না এমনকি এর আগেও এমন চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানান যাতে তার এই চুরির বিষয়ে আশানুরূপ একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং ছাত্রাবাসের নিরাপত্তা যেন আরো জোরদার করা হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির) বলেন, রাজশাহী কলেজ প্রশাসন ও হোস্টেল প্রশাসন বারবার তার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত হোস্টেল থেকে ল্যাপটপ চুরি, টাকা চুরির ঘটনা তুচ্ছ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু তাদের কোন মাথা ব্যথাই নেই, নেই কোন জবাবদিহি! এভাবে আর কত????
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ছাত্রাবাসে নেই পর্যাপ্ত গেটম্যান, নেই কোন শৃঙ্খলা। হোস্টেল থেকে ল্যাপটপ চুরি, ফোনচুরি, হওয়ার পরেও সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশন নেই??
রাজশাহী কলেজের হোস্টেলে অনেক গরীব মানুষের সন্তানরা লেখাপড়া করে এবং ল্যাপটপ দিয়ে তারা অনলাইনে কাজ করে সাময়িক কিছু টাকা ইনকাম করে তা দিয়ে পড়ালেখার খরচ বহন করে। কিন্তু এভাবে বারবার তাদের জিনিসগুলো চুরি হয়ে গেলে এর ভর্তুকি কি কলেজ প্রশাসন দেবে??
তিনি আরো বলেন, এইবার যদি কলেজ প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ না নেয়, তাহলে প্রয়োজনে আমরা সাধারণ ছাত্রদেরকে নিয়ে আন্দোলন করতে বাধ্য হব।
রাজশাহী কলেজ শাখার ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কে নিয়ে থানায় জিডি করেছেন এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চুরির বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ছাত্রাবাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক আবু জাফর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা যেভাবে রাখতে চাই সেভাবে তো ছাত্ররা মানতে চায়না। আমরা বলি যে হোস্টেলের গেইট রাত ১২ টা থেকে ভোর অবধি বন্ধ রাখব, স্টুডেন্টরা এটা মানেনা ,তারা যেকোনো সময় যাতায়াত করে।
তিনি বলেন, কয়েকমাস আগে চুরি হয়েছিলো সি ব্লকে । এর জন্য বারান্দায় যে তিনটা গেইট আছে সেগুলোতে তালা লাগানোর ব্যবস্থা করা হলো। সব স্টুডেন্টদের চাবি দেওয়া হলো। ছয়মাস হয়নি বারান্দার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে। তার ফলেই এরকম হচ্ছে বলে মনে করি।
উল্লেখ্য গত ২১ ডিসেম্বর ছাত্রাবাসের একই ভবনের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু রায়হানের ল্যাপটপ চুরির হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন পার হলেও তার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি।
চবি শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসনের দাবিতে ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি প্রদান
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৪ মে, ২০২৫ ২০:৪৫
শেয়ার
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চবি শাখা।
রবিবার (৪ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে চবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উপাচার্য প্রফেসর ড. ইয়াহইয়া আখতার স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী ২৩০০ একরের এই বৃহৎ ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত। এর মধ্যে অধিকাংশই নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আবাসন সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের কটেজ এবং বাসাবাড়িতে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী খরচ মেটাতে টিউশন, ক্ষুদ্র ব্যবসা বা পার্ট-টাইম চাকরিতে যুক্ত থাকায় একাডেমিক কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ছে। কেউ কেউ মানসিক চাপে ভুগছে কিংবা পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ছে। এসব সমস্যা নিরসনে শতভাগ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
উপাচার্য ড. ইয়াহইয়া আখতার শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একমত পোষণ করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসও এ বিষয়ে অবগত এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় চবি ছাত্রশিবিরের শিক্ষা সম্পাদক, অফিস সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, এ এফ রহমান হল, সোহরাওয়ার্দী হল ও শহীদ আব্দুর রব হলের সভাপতিগণ উপস্থিত ছিলেন।
জবির সাংবাদিকতা বিভাগের “আনন্দ ভ্রমণ ২০২৫” অনুষ্ঠিত
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৪ মে, ২০২৫ ১৮:৩৭
শেয়ার
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
জবির সাংবাদিকতা বিভাগের “আনন্দ ভ্রমণ ২০২৫”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী “আনন্দ ভ্রমণ ২০২৫”। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।
ভ্রমণ শুরু হয় সকাল ৮টায় রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে। সকাল ৮.৩০টায় বাসে যাত্রা করে অংশগ্রহণকারীরা পৌঁছে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে। সেখানে সকালের নাস্তা ও খেলাধুলা শেষে গ্রুপ ফটোসেশনের আয়োজন করা হয়। এরপর ভ্রমণকারীরা রওনা দেন মূল গন্তব্য কেরানীগঞ্জের “শরীফ ফুড কোর্ট অ্যান্ড ড্রিম পার্ক”-এর উদ্দেশ্যে।
রিসোর্টে পৌঁছে শিক্ষার্থীরা অংশ নেন সুইমিং, রাইড, খেলাধুলা, মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে। বিকালে অনুষ্ঠিত হয় র্যাফেল ড্র ও নাস্তার আয়োজন। দিনব্যাপী এই আনন্দযাত্রা আনন্দ, হাসি ও স্মৃতিমধুর মুহূর্তে পরিপূর্ণ ছিল।
আয়োজনে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আশরাফুল আলমের প্রতি, যার দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজনটি সফল হয়।
আনন্দ ভ্রমণ কমিটির আহ্বায়ক ও বিভাগের শিক্ষক রাইসুল ইসলাম বলেন, “সবার আন্তরিক অংশগ্রহণে আনন্দ ভ্রমণটি হয়ে উঠেছে স্মরণীয়। তবে আমরা গভীরভাবে মিস করেছি সেইসব প্রিয় মুখ, যারা বিভিন্ন কারণে অংশ নিতে পারেননি।”
চার দফা দাবীতে ডিপ্লোমা নার্সিং শিক্ষার্থীদের টানা পাঁচ দিন কমপ্লিট শার্টডাউন কর্মসূচি পালন
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৪ মে, ২০২৫ ১৮:১২
শেয়ার
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
স্নাতক সমমানের বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে ডিপ্লোমা নার্সদের দিয়ে। এ অবস্থায় নার্সিং কলেজগুলোতে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে পাঁচ দিন ধরে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সাথে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আজ শনিবার (৩ মে) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অনুরোধও জানিয়ে চার দফা দাবিও তুলে ধরেছন তারা।
শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের পক্ষে ঢাকা নার্সিং কলেজের স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি মহিব উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০০৬ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের স্বাস্থ্যখাতে উন্নত সেবা প্রদান ও বিদেশে দক্ষ নার্স রপ্তানির লক্ষ্যে বহিঃর্বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিলিপাইন, কানাডা, জাপান ও সুইডেনের মতো দেশের সহযোগিতায় উন্নত কারিকুলাম প্রণয়নপূর্বক দেশের বিভাগীয় মেডিকেল কলেজগুলোতে অবস্থিত নার্সিং কলেজগুলোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স চালু করে। সে সময় বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এসএসসি উত্তীর্ণ নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা করা নার্সদের দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের শিক্ষক হিসেবে সংযুক্তির আদেশের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে কোর্স পরিচালনা করে।
‘কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তারই সুযোগ নিয়ে গত ১৭ বছর এই কোর্সের উপর এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে।’—যোগ করা হয় স্মারকলিপিতে। বলা হয়, এই কলেজগুলোতে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ থাকা স্বত্ত্বেও আইন অনুসারে যোগ্যদের সেখানে আসতে দেওয়া হয়নি। ফলে নার্সিং শিক্ষার মান চরমভাবে বিঘ্ন হচ্ছে। একই সাথে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকের অভাবে গবেষণা, গুণগত চিকিৎসাসেবা, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুশীলন, সিমুলেশন, বেডসাইড ক্লিনিক্যাল প্র্যাক্টিস এবং ল্যাব অনুশীলন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশে-বিদেশে দক্ষ নার্স রপ্তানিতে সরকারের মূল লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হচ্ছে।
ডিপ্লোমা নার্সদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের জন্য স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও জনবল নিয়োগের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নার্সিং শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা রয়েছে, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি রয়েছে, নার্সিংয়ে সুস্পষ্ট নিয়োগবিধি রয়েছে, যার কোনোটিই এই ডিপ্লোমা শিক্ষকরা তোয়াক্কা করছেন না। উল্টো তারা মূল পদের বিপরীতে হাসপাতাল থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব, সংযুক্তি ও চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে হাসপাতালে রোগীর সেবা বাদ দিয়ে নার্সিংয়ের শিক্ষকতায় প্রবেশ করেন। এই নার্সরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট না থাকায় ভালোভাবে রিডিংও পড়তে পারেন না। অনেকে ই-মেইলও করতে জানেন না। আমরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫সহ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভালো ফলাফল অর্জন করে লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় সর্বোচ্চ পেয়ে ভর্তি হই। পরবর্তীতে নার্সিংয়ের ক্লাসরুমে এসে ইন্টারনেট থেকে কপি-পেস্ট নামক এ ধরনের মানহীন স্লাইড লেকচার আকারে পড়তে দেখে হীনমন্যতায় ভুগছি।
যারা চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স সুনামের সাথে শেষ করে দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, ডিপ্লোমা নার্সরা তাদেরও শিক্ষক হিসেবে আসতে বাধা প্রদান করে আসছেন উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নার্সিংয়ে স্নাতক সম্মান ডিগ্রিধারী এবং কোর্সে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য কোনো রকম পেশাগত অগ্রগতির পথ কিংবা কর্মক্ষেত্র বা দায়িত্বের সীমা ও সুযোগ তৈরি করা হয়নি, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার ছাত্রছাত্রী এই কোর্স সম্পূর্ণ করে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেন; যা নার্সিংয়ে স্নাতক সম্মান ডিগ্রিধারী নার্সদের জন্য চরম হতাশার কারণ।
নার্সিং শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের পক্ষে স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি মহিব উল্লাহ আরও লিখেছেন, ‘এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে গত জুলাই পরবর্তী ২১ আগস্ট থেকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়ে আসছি, এমনকি রাজপথেও আন্দোলন করেছি। আমাদের দাবিগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সেবা ও শিক্ষা শাখার অতিরিক্ত সচিব, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালকরা কয়েকবার মিটিংয়ের পর আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের জন্য লিখিত আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছেন। কিন্তু প্রায় আট মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও ডিপ্লোমা শিক্ষকদের বাধায় কোনো বাস্তবায়নের মুখ দেখিনি, যার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন নার্সিং কলেজগুলোতে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত ২৯ এপ্রিল থেকে কলেজগুলোতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলছে, যতদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়া হবে, ততদিন এই কর্মসূচি চলমান থাকবে।’
‘সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি’ বলেও উল্লেখ করা হয় এতে।
বিএসসি ইন নার্সিং শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের চার দফা দাবি—
১. এসএসসি পাস করা ডিপ্লোমা নার্সদের তাদের নিজস্ব কর্মস্থল ফিরিয়ে নিয়ে হাসপাতালে রোগদের সেবায় নিয়োজিত করাসহ নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
২. অন্যান্য পেশাজীবী ডিপ্লোমা গ্রাজুয়েটদের ন্যায় চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং ডিগ্রিধারী নার্সদের জন্য স্বতন্ত্র ক্যারিয়ার পাথ ও অর্গানোগ্রাম তৈরি করে দেশ ও দেশের বাইরে দক্ষ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নার্সিংয়ে স্নাতক সম্মান ডিগ্রিধারী নার্সদের জন্য নবম গ্রেডে পদ সৃজন ও সরাসরি নিয়োগ দিতে হবে।
৪. ২০১৬ সালের নার্সিং নিয়োগবিধি ও জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়ন করতে হবে।
মন্তব্য