শিরোনাম
ঈদ নিয়ে নোবিপ্রবি শিক্ষকদের ভাবনা
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: ক্লাস কিংবা পরীক্ষা নেয়ার ধকল, একাডেমিক বা প্রশাসনিক ভবনের এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে দৌড়াদৌড়ি, ডরমেটরি কিংবা বাসা থেকে ক্যাম্পাসে ছুটোছুটি, দিনের শেষে প্রশাসনিক কাজে বুদ হয়ে থাকা, অতঃপর শেষ রাতে সেমিস্টার বা সিটি পরীক্ষার খাতা দেখা কিংবা পরবর্তী দিনের কাজের পরিকল্পনা। এভাবেই বছর কাটে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষকদের। দিনের শেষ লগ্নে কলিগদের সাথে চায়ের আড্ডা কিংবা পরিবারের সদস্যের সাথে বসে একটু আড্ডা দেয়ার জন্য মন চাইলেও হয়তো হয়ে ওঠে না সবসময়। এতো হাসফাসের ভিড়ে ছুটে চলা মন প্রহর গোনে কবে ফিরে যাওয়া হবে ক্ষণিকের জন্য নিজের বেড়ে ওঠা নীড়ে।
এক সময় অপেক্ষার পালা শেষ হয়, বছর ঘুরে চলে আসে আরেকটা ঈদ। সময় আসে ব্যস্ততার রুটিন ফেলে কিছু অলস দুপুর কাটানোর, সঙ্গে প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গ। সে আশাতেই আমরা টিকিটের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াই, বিস্তর ধাক্কাধাক্কি হয়। হৃৎপিণ্ড ছলকে ওঠে। যাচ্ছি তাহলে এবার?
তবু আমরা যেতে চাই বাড়ি। একটু বিরতি পেলেই ছুটে যেতে চাই। ক্লান্তক্লিষ্ট শরীরে এলিয়ে পরতে চাই নিজের পুরনো ঘরে, পুরনো বালিশ আর বিছানায়, পুরনো ঘ্রাণের ভেতর। কিছু কল্পনা আর কিছু আধো-অন্ধকার বাস্তবতার ভেতর। মাত্র কয়েকটা দিনের জন্য হলেও মনে হয় শ্বাস নিচ্ছি, মনে হয় বেঁচে আছি, কী বিস্ময়, আজও বেঁচে আছি! এবারের ঈদ নিয়ে কি ভাবছেন নোবিপ্রবির শিক্ষকেরা?
ঈদ মানে আনন্দ, ভালোবাসা ও ত্যাগের চেতনায় পরিপূর্ণ একটি পবিত্র উৎসব
ঈদ মানে আনন্দ, একতা, ভালোবাসা ও ত্যাগের চেতনায় পরিপূর্ণ একটি পবিত্র উৎসব বলে মনে করেন নোবিপ্রবি শিক্ষকগণ। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন কিংবা প্রতিবেশীর সাথে বিশেষ কুশলাদি বিনিময় ও হাসি গল্পে একসঙ্গে সময় কাটানো। ছোটবেলায় ঈদ মানেই ছিল নতুন জামা, সেমাই খাওয়া এবং বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঈদের মানে কিছুটা বদলেছে— এখন পরিবার, স্ত্রী কিংবা সন্তানদের জন্য ঈদটা সুন্দরভাবে উপভোগ্য করে তোলাই মূল আনন্দ।প্রযুক্তির প্রভাবে ঈদ আনন্দ এখন ভার্চুয়াল জগতে ঢুকে গেছে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (ফার্মেসী বিভাগ, নোবিপ্রবি)
প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে বর্তমান প্রজন্ম অনেকটাই ভার্চুয়াল জগতে ঢুকে পড়েছে। আগের মতো ঈদ উদযাপন করে না বলেই মনে হয়। প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাওয়া, একসাথে ঈদের নামাজ পড়া, বা খোলা মাঠে খেলাধুলার সেই রঙিন দিনগুলো এখন অনেকটাই ম্লান।ছোটবেলার একটা ঘটনা এখনো খুব বেশি মনে পরে। একবার ছোটবেলায় নৌকায় করে গ্রামের বাজারে গিয়েছিলাম ভাইয়াদের সাথে। বাজারে পৌঁছে ভাইয়েরা আমাকে নৌকায় রেখে গিয়েছিল। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর যখন ওদের ফিরতে দেরি দেখে ভয় পেয়ে যাই, তখন আমি ছোট্ট শিশু মন নিয়ে একাই নৌকা চালিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হই। বয়স কম ছিল বলে ভালভাবে নৌকা চালাতে পারতাম না, তবুও কোনরকমে বৈঠা দিয়ে চালানোর চেষ্টা করছিলাম। পরে আমার ভাইয়েরা নির্ধারিত স্থানে এসে আমাকে না পেয়ে খুব চিন্তায় পড়ে যায় এবং শেষে অন্য একটি নৌকা নিয়ে আমাকে খুঁজে পেয়ে উদ্ধার করে। ঘটনাটা যদিও ঈদের আগের দিনের, তবে ঈদ এলেই সেই ভয়, সাহস আর ভালোবাসায় ভরা মুহূর্তগুলো আজও মনে পড়ে।
ঈদ আনন্দ মাঝে মাঝে বিষাদেও রূপ নেয়ার শঙ্কা থাকে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ (ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, নোবিপ্রবি)
একবার ঈদের পরেরদিন একটা দাওয়াত খেয়ে যাচ্ছিলাম বাইকে করে। আমি ছিলাম বাইকের পিছনে। তখন রাস্তার কাজ চলছিল। আমরা রাস্তা ক্রস করছিলাম। হঠাৎ করে বাইক এবং সিএনজি মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। তেমন বড় কোন দুর্ঘটনা না হলেও এখনো ঈদ আসলে এই স্মৃতি মনে পরে।আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখন শীতকাল ছিল। গোসল করার জন্য অনেক সময় গরম পানি থাকতো বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজের ব্যস্ততার কারণে গরম পানি থাকতো না তখন গোসল করাটা ছিল খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং। ওই স্মৃতিটা এখনো খুব বেশি মনে পরে। এছাড়াও বাবা, চাচাতো ভাইবোন বা কাজিনদের সাথে একসাথে ঈদগাহে যাওয়াটা খুব বেশি মিস করি।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের ঈদ আনন্দের রীতি ভিন্ন হলেও অনুভূতি এক সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হুসাইন (ফার্মেসী বিভাগ, নোবিপ্রবি)
এক প্রজন্মের বেড়ে ওঠার সময়কাল আরেক প্রজন্মের থেকে আলাদা। বর্তমান প্রজন্মের ঈদ উদযাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে, যুক্ত হয়েছে জৌলুস। সাধারণ পটকা বাজির জায়গা দখল করেছে ব্যয়বহুল আতশবাজি। আগের মতো গ্রামে গিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রবণতা কমেছে। প্রযুক্তির প্রভাব, সামাজিক পরিবর্তন, এবং ব্যস্ত জীবনধারার কারণে অনেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তবে আমার কাছে মনে হয় উদযাপনের রীতি কিছুটা বদলে গেলেও আনন্দের অনুভূতি একই রয়েছে।প্রযুক্তির প্রভাবে সরাসরি সাক্ষাতে হৃদ্যতাপূর্ণ মুহূর্তের অপ্রাপ্তি বেড়েছে। অপরদিকে দূর দূরান্তের বন্ধুদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় সহজ হয়েছে। প্রিন্টেড ঈদ কার্ড বা মোবাইল ফোনের বেসিক মেসেজের জায়গা দখল করে নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকে ক্যানভা কার্ডে শুভেচ্ছা বিনিময়। পরিবারের সবাই মিলে টিভির সামনে বসে বিনোদন উপভোগ বদলে গেছে ইউটিউব বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশনে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের এই ঈদে বার্তা হচ্ছে: ঈদ শুধু আনন্দ নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার সময়। প্রযুক্তির মাঝে হারিয়ে না গিয়ে পরিবার, সমাজ, প্রতিবেশী এবং আত্মীয়দের সাথে সময় কাটানো উচিত। জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতা ও সহমর্মিতার চর্চাও একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পবিত্র ঈদে সকল শিক্ষার্থীর জন্য দোয়া করি—তারা যেন সবাই সুস্থ, নিরাপদ ও আনন্দময়ভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে। যারা বাড়িতে যাচ্ছে, আল্লাহ যেন তাদের যাত্রা নিরাপদ করেন এবং ঈদের ছুটি শেষে সবাইকে ভালোভাবে ও হাসিমুখে আবার ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন। আল্লাহ যেন তাদের জীবনে শান্তি, সফলতা এবং কল্যাণ দান করেন—এই প্রার্থনাই করছি।
ঈদ মোবারক!
এই দিয়ে ৪৭টা ঈদ করতে পারিনি মামা
আলকামা রমিন : সন্ধ্যার পরও চলছে টহল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তা প্রহরীর মুখে চাপা দীর্ঘশ্বাস। তাঁর কণ্ঠে ক্লান্তির চেয়েও বেশি কিছু—একটা চাপা অভিমান। "সাড়ে তেইশ বছর ধরে এই চাকরি করছি। একটা ঈদও পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারিনি। ঈদের দিনও ক্যাম্পাস পাহারা দিতে হয়। এখন আর বাড়ি থেকে আর কলও আসে না।"
বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন প্রহরীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান কাজ। তবে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থেকে ঈদ করতে হয় তাঁদের। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার রোল (চুক্তি ভিত্তিক) এবং আউটসোর্সিং (কোম্পানির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য) এর অনেকে ২০-৩০ বছর ধরে এই চাকরিতে আছেন, কিন্তু ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পায়না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা কর্মীদের ৮৮ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব এবং ০৭ জনের আনসার সদস্যদের দল আউটসোর্সিংয়ে এবং ১০ জন মাস্টাররোলে (চুক্তি ভিত্তিক) দায়িত্ব পালন করছেন। মাস্টাররোলের মধ্যে চোক ভাতায় ০৩ জন আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ জন নিরাপত্তা প্রহরীর মধ্যে ঈদের ছুটি পেয়েছেন মাত্র ১৬ জন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটসোর্সিং ও মাস্টার রোলের ১৭ জন সদস্যের কেউ ঈদ উপলক্ষে কোন ছুটি পায়নি। তারা মোট ৮৯ জন তিনটি শিফটে কাজ করেন। ভোর সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর ২:৩০টা, দুপুর ২:৩০টা থেকে সাড়ে ১০টা, এবং রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা দায়িত্বে আছেন।
চুক্তিভিত্তিক প্রহরীরা বছরের পর বছর কাজ করলেও তাঁদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত নয়। এক প্রহরী বললেন, "একটা চাকরির নিশ্চয়তা থাকলে অন্তত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারতাম। কিন্তু এখানে যে কোনো সময় চাকরি চলে যেতে পারে।"
নিরাপত্তা কর্মীদের অনেকে অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত কাজের বাইরে ওভারটাইম করানো হয়, কিন্তু সেই অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। বেসিকের উপর যদি আমাদের ওভারটাইম হিসাব করে দেওয়া হয় তাহলে আমরা আরো উৎসাহ পেতাম। পরিবারের খরচ চালিয়ে মাসের শেষে হাতে তেমন কিছুই থাকে না। অনেকেই বয়সের ভারে ক্লান্ত, তবু জীবিকার তাগিদে কাজ ছাড়তে পারছেন না। তাঁরা চান, তাঁদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হোক, চাকরি স্থায়ী হোক, বেতন কাঠামো উন্নত হোক।
কোম্পানির মাধ্যমে আসা (আউটসোর্সিং) এক প্রহরী জানান, আমি যে কোম্পানির মাধ্যমে এখানে কাজ করছি তাঁরা আমার কাজ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছিল। আমি জানতাম এটা স্থায়ী কিন্তু এখন দেখি অস্থায়ী। সামনে নিয়োগের সময় যেন আমরা যারা আগে থেকে আছি তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা প্রহরীর তদারকির দায়িত্বে থাকা জয়নাল বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে আমানত। আমরা ছুটিতে চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা চুরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে মন চায় ঠিকই। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য এ সময়টায় আমরা দায়িত্বে থাকি।’
নিরাপত্তা শাখার তত্ত্বাবধায়ক আব্দুর রহমান জানান, ঈদের সময় খুবি ক্যাম্পাসে বিশেষ টহল ব্যবস্থা চালু থাকে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এমনকি রাতের বেলায়ও বিশেষ নজরদারি চলে। কিন্তু সেই তুলনা নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা কম। আরো ২০-২৫ জনকে নতুনভাবে যুক্ত করা হলে আমাদের জন্য সহজ হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের থাকতে হয়। পরিবার থেকে দূরে থাকা আসলেই কষ্টের। সংশ্লিষ্ট কর্তিপক্ষকে জানিয়েছি তাদের জন ঈদের দিন ব্যবস্থা রাখতে। তাঁরাও যেন আনন্দে ঈদ করতে পারে।
সাতক্ষীরার ২০ গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরার অন্তত ২০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৮টায় সদর উপজেলার ভাড়ুখালি আহলে সুন্না আল জামাত জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের ইমামতি করেন মাওলানা হাববুর রহমান।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা সদরের বাউখোলা, চাঁদপুর, তালা উপজেলার জেঠুয়া, ইসলামকাঠি, শ্যামনগর উপজেলার গোয়াল চত্বরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্যাপন করার বিষয়ে মাওলানা হাববুর রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পৃথিবীতে কোথায় কি ঘটছে, তা তৎক্ষণাৎ জানা যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, সারা বিশ্বের মুসলমানদের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ পালন করাই উত্তম।’
পাবনায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
পাবনা বেড়া উপজেলায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৯ মার্চ) রাতে অভিযুক্ত গোলজার হোসেনকে (৫০) আটক করে থানায় হস্তান্তর করে স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার ইফতারের আগ মুহূর্তে ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযুক্তের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। এ সময় শিশুটিকে টাকার লোভ দেখিয়ে রুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে গোলজার। পরে শিশুটি বাড়ি গিয়ে তার মায়ের কাছে ঘটনা বললে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
এদিকে, এই খবরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত গোলজারের বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও আগুন ধড়িয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে।
এ বিষয়ে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলিউর রহমান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিমুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে।
বিশ্বকে বদলাতে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান ড. ইউনূসের
চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশ্বকে বদলে দিতে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (২৯ মার্চ) বেইজিংয়ে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র শেখার জায়গা নয়, এটি স্বপ্ন দেখারও জায়গা।’
স্বপ্ন দেখতে পারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আপনি যদি স্বপ্ন দেখেন, তবে তা ঘটবেই। আপনি যদি স্বপ্ন না দেখেন, তবে তা কখনও ঘটবে না।’
শিক্ষার্থীদের অতীতের দিকে নজর দেয়ার অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘যা কিছু ঘটেছে, কেউ না কেউ আগে তা কল্পনা করেছিল।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কল্পনা যে কোনো কিছু থেকে বেশি শক্তিশালী।’
তিনি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং অকল্পনীয় বিষয়ে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করেন, যদিও অনেক সময় এটি অসম্ভব মনে হতে পারে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘কিন্তু, মানবসভ্যতার যাত্রা হলো অসম্ভবকে সম্ভব করা। সেটাই আমাদের কাজ। আর আমরাই তা করতে পারি।’
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হয়।
পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলের সভাপতি হে গুয়াংচাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট গং চিহুয়াং অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য