শিরোনাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাসিবাদের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল : রিজভী
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাসিবাদের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
আজ (সোমবার) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খান, প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন এতে।
রিজভী বলেন, আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, এটা যে কত আনন্দের, উচ্ছ্বাসের তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আসতাম তখন কত বক্তৃতা, কত রাজনৈতিক বিতর্ক, আলোচনা আমরা মধুর ক্যান্টিন থেকে করেছি। সেই আনন্দের দিন যেন হারিয়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা কখনো কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সাহস পেতাম না। মাঝেমধ্যে যদি যেতামও তখন গাড়ির জানালাটা নামিয়ে দিতাম যাতে কেউ না দেখে। শেখ হাসিনার আমলে ১৬ বছর এই ধরনের একটি চরম ফ্যাসিবাদের প্রাণকেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তারা পরিবেশকে চারিদিক থেকে বিপন্ন করেছিল।
ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আমরা পৃথিবীতে ছাত্র রাজনীতির যত ইতিহাস পড়েছি, যখন এক নায়কের শাসন চলছিল তখনও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কর্পোরেট স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তখনো আন্দোলন চলেছে। কিন্তু হাসিনা সে সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছিল।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ইতিপূর্বে যারা দেশের টাকা পাচার করেছে, অর্থনীতিকে একটি হুন্ডির চক্রের মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছিল তাদের যেন ফের উত্থান না ঘটে। গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে একে অপরের প্রতি আলোচনা-সমালোচনার বিষয়টি থাকলেও, আমাদের মধ্যে একটা ন্যূনতম ঐক্য থাকতে হবে। এই ঐক্য যদি না থাকে তাহলে সেই ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটা অস্বাভাবিক হবে না। আপনারা জানেন, পাশের একটি দেশ ফ্যাসিবাদের সেইফ হোমে পরিণত হয়েছে। দিল্লি যেন ফ্যাসিবাদের একটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। সুতরাং তারা (ফ্যাদিবাদিরা) বসে নেই। তারা নানাভাবে নানা কায়দায় তারা তাদের চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এই ষড়যন্ত্রকে আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। গণতান্ত্রিক শক্তির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই জিনিসগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
মেডিকেল ভর্তিতে কোটা থাকবে কি না সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের
এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় কোটা থাকবে কি না এ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, আপনারা জানেন যে কোটা বাতিলের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত থেকে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, সেখানে মূল পরিবর্তন হলো নাতি-নাতনির পরিবর্তে, পরবর্তী প্রজন্মের বদলে সন্তান বলা হয়েছে। অতএব কোটার বিষয়টিতে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে এটা একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষাও প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী হয়েছে। তারপরও এটা স্ক্রুটিনি করা হবে।
তিনি বলেন, এই ১৯৩ জনের (যারা কোটায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন) মধ্যে খুবই আনইউজুয়াল হবে যাদের (বাবার) বয়স ৬৭-৬৮ এবং যাদের সন্তান থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। সেখানে যদি কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে তাহলে সেটা দেখা হবে। এমবিবিএস পরীক্ষায় মূল কোটা থাকবে কি থাকবে না এই নীতিগত সিদ্ধান্তটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, এটি রাষ্ট্রের। আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি এটি যাচাই করা হবে।
বেরোবিতে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কমিটি
বেরোবি প্রতিনিধি: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে এসেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল দল।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেট (আবু সাঈদ গেট) তারা পরিদর্শন করেন।
এসময় তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে সেই দিনের ঘটনার বিবরণ শুনেন। এছাড়াও ঘটনার আলামত সংগ্রহ করেন। পরে গণমাধ্যমকে প্রসিকিউটর মইনুল ইসলাম জানান, জুলাই বিপ্লবের পর অনেক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে এসেছে। এক সপ্তাহ আগে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি অভিযোগ এসেছে। সেজন্য আজ আমরা রংপুরে এসেছি। যারা চাক্ষুষ ঘটনাস্থলে ছিলেন, আমরা তাদের কথা শুনব। তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন যেভাবে
এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণ আগামীকাল ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে। ২৫ জানুয়ারির পর্যন্ত এক হাজার টাকা ফি দিয়ে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে এ আবেদন করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।
সোমবার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এ–সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ১ হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) টেলিটকে এসএমএসের মাধ্যমে জমা দিয়ে পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করা যাবে। পুনর্নিরীক্ষার ফল আবেদনকারীকে যথাসময়ে জানানো হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
ভর্তি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ পদ্ধতি
টেলিটকের যেকোনো প্রিপেইড মোবাইল ফোন থেকে খুদে বার্তা (SMS) করতে হবে। প্রথম এসএমএস: DGME RSC Roll No লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে 16222 নম্বরে। (যেমন DGME RSC 1116000)। ফিরতি মেসেজে একটি PIN নম্বর আসবে।
দ্বিতীয় এসএমএস: ফি প্রদানের জন্য প্রাপ্ত PIN নম্বর দিয়ে SMS করতে হবে DGME RSCYESPIN এবং পাঠিয়ে দিতে হবে 16222 নম্বরে। যেমন DGME RSCYES 12345678। ফিরতি মেসেজে ফি জমা বাবদ একটি প্রাপ্তি স্বীকার এসএমএস পাওয়া যাবে।
গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (১৯ জানুয়ারি) ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ (বিএমএন্ডডিসি) কর্তৃক প্রণীত নীতিমালার শর্তানুযায়ী অর্জিত স্কোরের ভিত্তিতে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী ৫ হাজার ৩৭২ জন পরীক্ষার্থীকে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চল ব্যতীত দেশের সমতল অঞ্চলের উপজাতীয় কোটার (কোড নং ৭৭) শিক্ষার্থীদের তালিকা কোটার স্বপক্ষে সনদ/প্রমাণসমূহ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের যাচাইয়ান্তে পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা আগামী ২ ফেব্রুয়ারি হতে ৮ ফেব্রুয়ারি অফিস চলাকালীন পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক গঠিত স্থানীয় ভর্তি কমিটি ও মেডিকেল বোর্ড যথাক্রমে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মূল সনদপত্রসমূহ যাচাই করবেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। শিক্ষার্থীরা ভর্তির পর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বার মাইগ্রেশনের জন্য বিবেচিত হবেন।
ভারত থেকে ফেরার পথে গঙ্গায় ডুবল ছাইবোঝাই বাংলাদেশি জাহাজ
ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় গঙ্গা নদীতে ডুবে গেছে একটি বাংলাদেশি কার্গো জাহাজ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকট শব্দের পর ডুবে যাওয়া ছাইবোঝাই জাহাজটির নাম এডি বছিরউদ্দিন কাজি।
দিন কয়েক আগে ত্রিবেণীর ব্যান্ডেল থার্মাল পাওয়ার স্টেশন (বিটিপিএস) থেকে ছাই নিয়ে ফিরছিল বাংলাদেশের ওই কার্গো জাহাজ। সেখান থেকে দেশে ফেরার পথে হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়ার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে জাহাজটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে উদ্ধারকারীরা।
জাহাজের কর্মীরা জানান, ছাই নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে হঠাৎই জাহাজের তলায় বিকট শব্দ হয়। এরপরেই জাহাজে পানি ঢুকতে শুরু করে। এসময় একদিকে কাত হয়ে পড়ে জাহাজটি। চালকের (মাস্টার) কেবিন বাদ ছাড়া পুরো জাহাজটিই ডুবে যায়। বিপদ বুঝে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জাহাজের কর্মীরা।
স্থানীয়রা আরও জানান, এখন গঙ্গায় পানি কমে যাওয়ায় জাহাজটির কিছু অংশ আবার ভেসে উঠেছে। তাই জাহাজের ভেতর থেকে ছাই বের করে এনে জাহাজের ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকাজের জন্য উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালী থেকে শ্রমিক নিয়ে আসা হয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, জাহাজের সব ছাই খালি করতে সপ্তাহখানেক লেগে যেতে পারে। এরপর জাহাজ মেরামত করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেয়া যেতে পারে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য