শিরোনাম
গণ অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের বেতন-টিউশন ফি মওকুফ
ডেস্ক রিপোর্ট: গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “সরকার জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এ ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আহত মাধ্যমিক হতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের (সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি ও বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার্থীদের বেতন/টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আহত শিক্ষার্থীগণ স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের নিকট চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রসহ এ বিষয়ে আবেদন করবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে আবেদন সমূহ যাচাইপূর্বক শিক্ষার্থীদের বেতন-টিউশন ফি মওকুফের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
এতে আরও বলা হয়, “আহত শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের বর্তমান পর্যায় হতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেতন/টিউশন ফি মওকুফ এর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।”
সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
আজকালের মধ্যে ইসি গঠনের সার্চ কমিটির প্রজ্ঞাপন: আসিফ নজরুল
ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সার্চ কমিটির প্রজ্ঞাপন আজকালের মধ্যে জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান উপদেষ্টা।
নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আসিফ নজরুল বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তবে আপনাদেরকে আমি একটা কথা বলতে পারি- আমাদের সরকারের নির্বাচনমুখী প্রক্রিয়া গ্রহণ করার যে কাজ, সেটা শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হয়ে গেছে, আপনারা বলতে পারেন।
‘আমি যতদূর জানি, সার্চ কমিটির সেই প্রজ্ঞাপনটা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বাক্ষর করে দিলেই আপনারা জানতে পারবেন। হয়ত উনি করেছেনও আজকালের মধ্যে জেনে যাবেন’।
আসিফ নজরুল বলেন, সার্চ কমিটি হয়ে গেলে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে ভোটার তালিকা... আগেও বলেছি, ভোটার তালিকা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন ছিল, গত নির্বাচন এমন ভুয়া নির্বাচন ছিল, ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষের মাথাব্যথা ছিল না।
বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদেরকে বলেছি, আমাদের আইনগত যে সংস্কার, সেটাতে তারা জড়িত আছেন, প্রতিষ্ঠানিক সংস্কারে আমাদের যদি ফরেনসিক সহায়তা লাগে, সেটা তারা দেবেন। আমরা এখানে সুবিচার করব, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিচার করছি না। আগের আদালতে যেভাবে হয়েছে, সেভাবে আমরা অবিচার করব না। আমাদের কোনোকিছু লুকানোর নেই। যে কেউ এসে, আমরা কীভাবে বিচার করছি, সেটা দেখতে পারবেন, স্বাগত জানাব।’
‘এখন পড়াশোনা করার বয়স, এক লাখ টাকা দিয়ে আমি কি করবো’
ঢাবি প্রতিনিধি: আমার তো এখন পড়াশোনা করার বয়স। এক লাখ টাকা দিয়ে আমি কি করবো দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথাই বলছিলেন জুলাই বিপ্লবে পা হারানো অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র তামিম।
গত (৫ আগস্ট ) সরকার পতনের কয়েক ঘন্টা আগে মিরপুর ব্রিজের কাছে পুলিশের গুলিতে গুলি বিদ্ধ হয়ে আহত হন তামিম। এর ঠিক কয়েকদিন পরেই তামিম চিরতরে তার একটি পা হারিয়ে ফেলেন।
আহত তামিম বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই আমি শিক্ষার্থীদের সাথে ছিলাম। আমার আম্মু বেশ কয়েকবার আমাকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু আমি ক্লাস শেষ করেই আন্দোলনে যেতাম।
গত (৫ আগস্ট ) আমি আন্দোলনের অংশ হিসেবে মিরপুরের ব্রিজের কাছে চাই।আমি ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সরকার পতনের ঠিক কয়েকঘন্টা আগে পুলিশ আমার পায়ে গুলি করে। আমি সেখানে ই লুটিয়ে পরি। এরপর আমাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকদিন পর আমার ডান পা কেটে ফেলা হয়।
সরকার থেকে কোনো সহায়তা পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ছাড়া কিছু ই পাইনি। শুধু মাত্র আমাকে ওষুধ পত্রের টাকা দিয়েছিলো। আমি কোনো আর্থিক সহায়তা পাইনি। এখন শুনতেছি আহতদের নাকি এক লাখ টাকা দেওয়া হবে। এই এক লাখ টাকা দিয়ে আমি কয়দিন চলতে পারবো। আমার তো এখন পড়াশোনা করার বয়স।
এসময় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন আমার পায়ের দাম কি শুধু এক লাখ টাকা। বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম কতদিন ই বা আমি চলতে পারবো। এরপর আমার আর আমার পরিবারের কি হবে।
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলনকে ঘিরে সারাদেশে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এতে শত শিক্ষার্থী নিহত হন। এখনো বিছানায় ব্যথায় কাতরাচ্ছেন আহতরা।
সাইন্সল্যাবে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের অবরোধ
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর সাত কলেজ আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে সাইন্সল্যাব মোড় অবরোধ করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ জনগণ।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঢাকা কলেজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা।
আশপাশ ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে নীলক্ষেত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বকশিবাজার, সাইন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর সড়ক, আজিমপুর কবরস্থানের দিকে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ জনগণ বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে ছুটছেন।
আবু কালাম নামে বাসচালক কালবেলাকে বলেন, ছাত্ররা তাদের যৌক্তিক আন্দোলনে রাস্তা অবরোধ করেছে। এতে আজ পুরো ঢাকা শহরে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমি দেড় ঘণ্টা ধরে বসে আছি। মনে হচ্ছে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা আন্দোলন করবে।
সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রতিনিধি আবদুর রহমান বলেন, সরকার আমাদের সরলতা দেখেছে কিন্তু কঠোরতা দেখেনি। কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সব যানচলাচল বন্ধ থাকবে।
দায়িত্বরত নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক রায়হান কালবেলাকে বলেন, আন্দোলনের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
সায়েন্সেল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা
বাঙলা কলেজ প্রতিনিধিঃ রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন তারা। এর ফলে বর্তমানে সায়েন্সল্যাব মোড়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১১ টার পর বিভিন্ন কলেজ থেকে এসে ঢাকা কলেজে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর মিছিল সহযোগে তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ের দিকে অগ্রসর হন।
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘অধিভুক্তি নাকি মুক্তি, মুক্তি, মুক্তি’, ‘শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য, মানি না, মানব না’, ‘আর নয় দাসত্ব, হতে চাই স্বতন্ত্র’, ‘ঢাবির জায়গায় ঢাবি থাক, সাত কলেজ মুক্তি পাক’, ‘প্রশাসনের প্রহসন, মানি না মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠনের দাবিতে গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে `সায়েন্সল্যাব শাটডাউন' কর্মসূচি ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষাথীরা। শাটডাউন কর্মসূচি বেলা ১১ টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হতে হতে বেলা ১২টা অতিক্রম করে।
গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করে সাত কলেজের সমন্বয়ে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করার জন্য আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজসমূহ হল: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য