শিরোনাম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ: জবিতে গরু-খাসির ভোজ কাল
জবি প্রতিনিধি: অন্তবর্তীকালীন সরকার কর্তৃক ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের খুশিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামীকাল আয়োজিত হতে যাচ্ছে মেগা ফিস্ট। বৃহস্পতিবার(২৪ অক্টোবর ) এ ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর প্রাঙ্গণে মেগা ফিস্ট রেজিস্ট্রেশন এর ব্যবস্থা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এর ব্যবস্থাও রাখা হয়। রেজিস্ট্রেশন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ টাকা। মেগা ফিস্ট এর খাবার আইটেমে থাকছে গরুর ও খাসির তেহারি ।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিস্ট ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা। আমাদের এতদিনের ইচ্ছা গতকাল পূরণ হয়েছে যার কারণে আমরা অনেক বেশি খুশি।এই খুশি ধরে রাখার জন্যই মূলত আগামীকাল আমরা মেগা ফিস্টের আয়োজন করছি। কালকের আয়োজনে খাবার হিসেবে থাকছে মুসলিমদের জন্য গরুর তেহারি আর হিন্দুদের জন্য থাকছে খাসির তেহারি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তৌসিফ মাহবুব বলেন, সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের খুশিতে আমারা এই খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করছি। তাদের অত্যাচারে বাংলাদেশের মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। তবে আগামীকাল চিরতরে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের নিষ্ঠুরতার পুরোপুরি অবসান ঘটেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাবেক যারা আছে তারা টাকা দিয়ে এই আয়োজন করেছি।
প্রসঙ্গত, গতকাল ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন অ্যাখ্য দিয়ে নিষিদ্ধ করে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ঘূর্ণিঝড় দানার বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা নেই: আবহাওয়া অফিস
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ উপকূলের আরও কাছে চলে এসেছে। এসব এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বেড়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় “দানা” বাংলাদেশের সমতলে প্রবেশ করার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
বজলুর রশিদ জানান, ঘূর্ণিঝড় 'দানা' বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। দেশের সমতলে এটি প্রবেশ করার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সকল সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্ক সংকেত ০৩ (তিন) নম্বর দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে ‘দানা’র প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, বারিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় নদীতে জোয়ারের উচ্চতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৩৫ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৩৫ কিমি দক্ষিণ- দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং আজ মধ্যরাত নাগাদ পুরী ও সাগর দ্বীপের মাঝখান দিয়ে ভারতের উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করেত পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতিভারী (≥ ৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে।
জুলাই বিপ্লবে নিহত হৃদয় তাড়ুয়ার বোনকে পবিপ্রবিতে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান
পবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনে নিহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হৃদয় তাড়ুয়ার বোন নিতু রানী তাড়ুয়াকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য কার্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম উক্ত নিয়োগপত্র প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন, অধ্যাপক ড. খোকন হোসেন, অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম,সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রহিম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ হৃদয়ের বাবা রতন চন্দ্র তাড়ুয়া, মা অর্চনা রানী, বোন নিতু রানী ও বোনজামাই।
হৃদয়ের বাবা রতন চন্দ্র তাড়ুয়া বলেন,আমাদের চলার কিছুই ছিলো না বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ,এই চাকরির মাধ্যমে আমরা উপকৃত হলাম।
বোন নিতু রানী বলেন,এটা আমার চাকরি না এটা হৃদয়ের চাকরি, আমাদের পরিবারের জন্য খুবই উপকার হলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই বিপ্লবের গণঅভ্যুত্থানের এক শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সৌভাগ্য হয়েছে। এটি শুধু রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা না সকল শহীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কাজটি করেছি।আপাতত তাকে অস্থায়ীভাবে যোগদানের নিয়োগপত্র প্রদান করা হলো,পরবর্তীতে ইউজিসির অনুমোদনসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে স্থায়ী করা হবে।
সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনশনে বসেছে ঢাবির একদল শিক্ষার্থী
ঢাবি প্রতিনিধি: জুলাই বিপ্লবের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিতে আমরণ অনশন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি )একদল শিক্ষার্থী।
আজ( ২৪ অক্টোবর )বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জিম শুরু করেন এই আমরণ অনশন কর্মসূচি। পরে তার সাথে আইন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী, সোহরাওয়ার্দী কলেজের এক শিক্ষার্থী এবং একজন মাদ্রাসার শিক্ষক যুক্ত হয়।
অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জীম,মো রেদোয়ানুল ইসলাম,রেজোয়ান আহমেদ রিফাত,শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী হোসাইন। এছাড়া মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে আসা মাদ্রসার শিক্ষক মো তাকি উদ্দিনও শিক্ষার্থীদের সাথে যুক্ত হয়।
অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের দাবি জুলাই বিপ্লবে যারা ছাত্রজনতার উপর হামলায় অংশ নিয়েছে তাদেরকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওা পর্যন্ত চলমান থাকবে এই আমরণ অনশন কর্মসূচি।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জীম বলেন, জুলাই বিপ্লবে ১৬০০ এর উপরে শহিদ হয়েছে, ৩৩০০০ হাজার মানুষ আহত হয়েছে , অসংখ্য আহত মানুষ এখনো হাস্পাতালে কাতরাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৮১ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সন্ত্রাসীদের এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অনশন চলমান থাকবে।
এসময় সমন্বয়ক রিফাত রশিদ সংহতি প্রকাশ করে তিনি ও অনশনে যুক্ত হন।
রিফাত রশিদ বলেন, গতকাল ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। এটা আমাদের জন্য আনন্দের খবর হলেও দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখনো ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা বাহিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি এই অনশনের সাথে সংহতি প্রকাশ করছি। আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ল
ডেস্ক রিপোর্ট: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে। চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বসয়সীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে অধ্যাদেশটি অনুমোদন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের চাকুরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বৎসর নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের আওতাবহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বৎসর নির্ধারিত হবে। স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ন্তশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রে স্ব স্ব নিয়োগ বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজন সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে। প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষেত্রে স্ব স্ব নিয়োগ বিধিমালা বহাল থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ অধ্যাদেশের আলোকে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ধারা ৫৯-এ প্রদন্ত ক্ষমতাবলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’ পুনগঠনপূর্বক বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিন বার অবতীর্ণ হতে পারবে বিধি সংযোজন করবে।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে সুপারিশ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এ বিষয়ে গঠিত কমিটি। কমিটির প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী সে সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চাকরিতে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৫ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৩৭ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য