ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

‘সাধারণ শিক্ষার্থী মানেই শিবির’, ছাত্রদল-ছাত্রলীগ নেতার অডিও ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘সাধারণ শিক্ষার্থী মানেই শিবির’, ছাত্রদল-ছাত্রলীগ নেতার অডিও ফাঁস

ডেস্ক রিপোর্ট: সম্প্রতি ছাত্রলীগের এক কর্মীর সঙ্গে এ ছাত্রদল নেতার দুই মিনিট ৫১ সেকেন্ডের  কল রেকর্ডফাঁস হয়েছে। সেখানে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী মানেই শিবির, এখন বড় শত্রু তারা’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া সাইবার ফোর্সের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় রাবি ছাত্রলীগের ১০১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন ছাত্রদলের এক নেতা। মামলা থেকে ছাত্রলীগের এক কর্মীর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে আরেক ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবের কথোপকথনের কল রেকর্ডটি জাগো নিউজের হাতে এসেছে।

কল রেকর্ডে ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে হাসিব বলেন, ‘শুনেন এখন আপনাদের (ছাত্রলীগ) সব থেকে বড় শত্রু কে জানেন? জবাবে ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, কে ভাই? হাসিব বলেন, কে বড় শত্রু বলেন তো?’

ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো আইডিয়া নেই, ভাই। হাসিব বলেন, সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থী। আর এরা হচ্ছে শিবির। সাধারণ শিক্ষার্থী মানেই শিবির। এ শালারা হচ্ছে সব শিবির। তারা কিন্তু আপনাকে ছাড় দেবে না। আমাদের মামলার লিস্ট দেখছেন? জবাবে ছাত্রলীগ নেতা বলেন- জি, ভাই দেখলাম। ফোনের অপর পাশ থেকে হাসিব বলেন, আমাদের মামলা এখনো এন্ট্রি হয়নি, কাল হবে। আমরা তো একটা মামলা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন আরেকটা মামলা করবে। লিস্ট তো দেখেছেনই। এ লিস্ট অনুযায়ী আরেকটা মামলা হবে। যেটা হল প্রশাসন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ের কথা উল্লেখ করে হাসিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নেতাকে বলেও লাভ হবে না। আমাদের একটা গ্রুপ আছে।

রাজনীতিতে একটা গ্রুপিং আছে। ছাত্রলীগ নেতা বলেন, অবশ্যই, জি ভাই। হাসিব বলেন, আপনি মনে হয় জানেন না। আপনি যদি আবিরকে বলেন, এখন আবির যার সঙ্গে রাজনীতি করে তাকে দিয়েও যদি বলানো হয় লাভ নাই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সর্বোচ্চ নেতা কে? আহ্বায়ক রাহি, ভাই। উনিও যদি আমাকে মানা করে মামলাটা করো না তাও লাভ হবে না। ছাত্রলীগ নেতা বলেন, জি, ভাই। হাসিব বলেন, আমরা এন্টি রাজনীতি করি। সভাপতি-সেক্রেটারির এন্টি রাজনীতি করি ক্যাম্পাসে। ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ভাই বুঝতে পারছি। হাসিব বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা নেই। আমরা যেটা করব সেটাই। তবে আমি একটু আপনার বিষয়ে কথাবার্তা বলি।

এ সময় হাসিব প্রশ্ন করে আরও বলেন, আপনার সেশন কত ছিল? রুনু কিবরিয়া কমিটির কোন পদে ছিলেন? জবাবে ছাত্রলীগ নেতা বলেন, না ভাই আমি পদে ছিলাম না। এরপর হাসিব বলেন, আপনি ফোন দিয়েছেন। আপনার সোহরাওয়ার্দী হলে আবার সভাপতি নিয়াজ আছে। নিয়াজ আসলে আবার আমার ডিপার্টমেন্টের ছোট ভাই। সেও ফোন দিচ্ছে। আপনারা তো বোঝেন। আমি নাম বাদ দিতে বললে বলবে আমি দালাল। আমি টাকা খেয়ে এ কাজ করেছি। তো এটা আমি কৌশলে একটু আলোচনা করি। আলোচনা করে কল দিব, ভাই। আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। ফোনের ওপাশ থেকে ছাত্রলীগ নেতা বলেন, জি, ভাই আপনার কথা শুনেছি।

ফাঁস হওয়া এ কথোপকথনটি স্বীকার করে হাসিবুল ইসলাম হাসিব বলেন, কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কোনো কথা বলা হয়নি। কারও কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাইনি। আমি যতটুকু পেরেছি ছাত্রলীগের ছেলেপেলেদের সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। যারা রানিং ছাত্র আছে, তারা যেন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে চেষ্টা করেছি। তবে আমি সহযোগিতার বিনিময়ে কারও কাছে টাকা দাবি করিনি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, সে কোন পরিপ্রেক্ষিতে এটি বলেছে সেটা আমার বোধগম্য নয়। সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থেকে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে আমরা কখনো অন্য কোনো সংগঠন নিয়ে মন্তব্য করতে আগ্রহী নই। আমাদের রাবি ছাত্রদলের পদধারী কেউ কোনো বিষয়ে মন্তব্য করলে সেটি আমরা সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তবে যে শিক্ষার্থী আমাদের দলের (রাবি ছাত্রদল) কোনো পদে বা দায়িত্বে নেই সেহেতু এটা তার ব্যক্তিগত মতামত।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজির নতুন ডিজি জাবি অধ্যাপক শাহেদ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২০ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:১
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজির নতুন ডিজি জাবি অধ্যাপক শাহেদ

    জাবি প্রতিনিধি : ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান।

    রবিবার (২০ অক্টোবর) বিকালে অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান নিজেই গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি আইন, ২০১০ এর ধারা-১০(২) অনুযায়ী অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমানকে অন্য যে কোন পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছর মেয়াদে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (এনআইবি) মহাপরিচালক পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

    জানা যায়, অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া পরবর্তীতে জাপানের টোকিও ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডিসহ পোস্ট ডক করেন। জাপানের ‘জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সাইন্স’ ও যুক্তরাজ্যের ইনস্পায়ারসহ বিশ্বের নানা প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষণা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি কর্মজীবনে মাইক্রোবায়াল বায়োটেকনোলজি, বায়োইনফরমেটিক্স ও ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এছাড়া অধ্যাপক শাহেদ একাডেমিয়া ও শিল্পের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করেছেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

    অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান ২০১১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বায়ো-রিসোর্সেস টেকনোলজি এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের উপ-পরিচালক হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন।

    এছাড়া অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমানের আন্তর্জাতিক জার্নালে বহুল সংখ্যাক গবেষণা প্রবন্ধ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের বায়োটেকনোলজি গ্রাজুয়েটদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ বায়োটেকনোলজি গ্র্যাজুয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা ও দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সমগ্র বাংলাদেশের বায়োটেক গ্রাজুয়েটদের অন্যতম একজন অভিভাবক হিসেবে সুপরিচিত, যিনি বায়োটেক গ্রাজুয়েটদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া, অধিকার বাস্তবায়নে অভিভাবক হিসেবে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছেন। অধ্যাপক শাহেদ বাংলাদেশে বায়োটেক গবেষণা সুযোগ সৃষ্টি ও বায়োটেক পেশাকে বাংলাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বায়োটেকনোলজি বিষয়ক পলিসি সংস্কারের নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সদস্য হলেও অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছিলেন। অধ্যাপক শাহেদের স্ত্রী বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক উম্মে সালমা যোহরা ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাদমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এছাড়া ১৭ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিজ বাসায় আশ্রয় দেন অধ্যাপক শাহেদ ও উম্মে সালমা দম্পত্তি। এমনকি তারা আন্দোলনে অংশ নিতে এসে পুলিশের আক্রমণের শিকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে জাহাঙ্গীরনগর কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির (অরুনাপল্লী) গেট খুলে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন। এছাড়া অধ্যাপক উম্মে সালমা যোহরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থাও করেন।

    নিয়োগের বিষয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে বায়োটেকনোলজির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলাম। এই সেক্টরে আমার যেটুকু অবদান আছে, যে অভিজ্ঞতা রয়েছে সেটার ভিত্তিতেই আমাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ নিয়োগের মাধ্যমে আমার কাজের সুযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে।’

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      জাবিতে র‌্যাগিং, মাদক ও গণরুমবিরোধী র‌্যালি

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২০ অক্টোবর, ২০২৪ ১৭:৪৮
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      জাবিতে র‌্যাগিং, মাদক ও গণরুমবিরোধী র‌্যালি

      জাবি প্রতিনিধি: 'র‍্যাগিং, মাদক ও গণরুমমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ি, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করি' স্লোগানকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে র‍্যাগিং, মাদক ও গণরুমবিরোধী র‍্যালি। র‍্যালিতে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, র‍্যাগিং, মাদক ও গণরুমমুক্ত পরিবেশ স্বাধীনতার সুফল- জাবি উপাচার্য

      রোববার (২০ অক্টোবর) বেলা বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। র‍্যালিটি নতুন কলা ভবন, শহিদ মিনার হয়ে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে দিয়ে ঘুরে মহুয়া মঞ্চে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন হয়। এ র‍্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নবীন শিক্ষার্থীরা সহ প্রায় দুইশত লোক অংশগ্রহণ করেন।

      প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিনেই আমার নিজের একটা সিট পেয়েছি। এটি বড় একটি পাওয়া আমার জন্য। সেই সাথে কোথাও কেউ আমাদের ডেকে নিয়ে কোনো হেনস্তা বা র‍্যাগিং দেয়নি। এমন বিশ্ববিদ্যালয় সবার কাম্য।

      বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, বিগত দেড় যুগ ধরে এ দেশের মানুষ তাদের মত প্রকাশ করতে পারে নাই। তাই বর্তমানে কোনো বৈষম্য চলতে দেওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়েও কোনো রকম অপসংস্কৃতির ঠায় হবে না। অবিলম্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় মাদকমুক্ত করা হবে।

      এসময় সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং মাদক ও গণরুম বিলুপ্তির ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান। তিনি বলেন, আমরা একটা বিপ্লবের মাধ্যমে দিয়ে এই স্বাধীনতা পেয়েছি। আর সেই স্বাধীনতার সুফল সকলেই ভোগ করবেন। তারই অংশ হিসেবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাগিং, মাদক ও গণরুমমুক্ত নিশ্চিত করতে চাই।গণরুম বিলুপ্ত করে আমরা যে অগ্রযাত্রা শুরু করেছি তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি র‍্যাগিং ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিতে চাই। আমাদের কোনো শিক্ষার্থীই যেন র‍্যাগিংয়ের শিকার না হয় এবং মাদকের ভয়াল থাবায় না জড়ায়। আমাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন। আশা করছি, ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারা এই বিষয়ে সচেতন থাকবেন।'

      এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম প্রমুখ, ডিন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাফরুহী সাত্তার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল রকিব প্রমুখ।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        আগামীকালের মধ্যে চাকুরীর বয়স ৩৫ প্রজ্ঞাপনের আল্টিমেটাম

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২০ অক্টোবর, ২০২৪ ১৭:৩৯
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        আগামীকালের মধ্যে চাকুরীর বয়স ৩৫ প্রজ্ঞাপনের আল্টিমেটাম

        ঢাবি প্রতিনিধি: সরকারি চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করে আগামীকালের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করার আল্টিমেটাম দিয়েছে ৩৫ প্রত্যাশীরা।

        আজ (২০)অক্টোবর রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম বেধে দেন তারা।

        সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমাদের এ দাবি ঝুলে আছে। নানা বাহানায় আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে যমুনায় আমাদের ওপর হামলাও করে পুলিশ। আমাদের দাবি সুযোগ সবাই কে দিতে হবে। আমরা ৩৫ কার্যকর করেই ঘরে ফিরবো।

        সম্মেলনে ৩৫ প্রত্যাশী খাদিজা আক্তার বলেন , দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আমরা এ দাবি জানিয়ে আসছি। আজ নয়তো কাল, কাল নয়তো পরশু এভাবে দিনের পর দিন আমাদের ঘোরানো হয়েছে। ৩৫ আমাদের প্রাণের দাবি। কিছুদিন আগে প্রজ্ঞাপনের কথা বলে এখনো সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি।অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ৩৫ দাবিটি মেনে নিতেই হবে।

        এসময় বক্তারা জানান আমরা আগামীকাল শাহবাগে অবস্থান নেবো।যদি আগামীকালের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হয় কর্মসূচি কঠোর থেকে আরো কঠোরতর হবে। কোনো অনাকাক্ষিত ঘটনা ঘটলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দায়ী থাকবে না বলে এমন মন্তব্য ও করেন ৩৫ প্রত্যাশীরা।

        প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীকে প্রধান করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যসচিব করা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          এইচএসসির ফল পুনঃরায় মূল্যায়নের দাবিতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড ঘেরাও

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২০ অক্টোবর, ২০২৪ ১৭:৩৩
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          এইচএসসির ফল পুনঃরায় মূল্যায়নের দাবিতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড ঘেরাও

          ডেস্ক রিপোর্ট: চলতি বছরের প্রকাশিত এইচএসসির ফল বাতিল করে নতুন করে মূল্যায়নের দাবিতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড ঘেরাও করেছে একদল শিক্ষার্থী।

          রোববার বেলা ১১টা থেকে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। তাদের সঙ্গে অনেক নারী অভিভাবককে দেখা যায়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে বোর্ডের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

          বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ইতোমধ্যে যে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, তা বৈষম্যমূলক। এ জন্য এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সব বিষয়ের ওপর ‘ম্যাপিং’ করে ফলাফল নতুন করে প্রকাশ করতে হবে।

          দুপুর সাড়ে ১২টার পর ‘এইচএসসি ব্যাচ ২০২৪’-এর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্দেশে রওনা দেন। বেলা ১টার দিকে মিছিলটি বোর্ডের ফটকের সামনে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কৃতকার্য শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। একপর্যায়ে ফটকের তালা ভেঙে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের ভেতরে ঢুকে পড়েন।

          বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, বোর্ডের ভেতরে তাদের ওপর হামলা হয়। এই হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা এই হামলার বিচার চান।

          অন্যদিকে বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থীরা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কক্ষে, এমনকি কক্ষের সামনেও ভাঙচুর চালান। তারা চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে দেখতে পান চেয়ার পড়ে আছে। কাগজপত্রসহ ফাইল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মেঝেতে পড়ে আছে।

          ঘটনাস্থলে থাকা চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রথমে বোর্ডের ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল। ভেতরে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছিল না। সেসময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে ঢুকতে চাইলেও তাদের যেতে দেওয়া হয়নি। তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে শুনেছি।

          তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এখনো অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। শিক্ষার্থীরা প্রতিনিধিদল ঠিক করে দিলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে।

          ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে কেউ বঞ্চিত বা বৈষম্যের শিকার হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারপরও শিক্ষার্থীরা কি বলতে চায়, তাদের কথা শুনবো। সেগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আমরা অবগত করবো।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত