ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বাঙলা কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বাঙলা কলেজ

এস. এম. মঈন উদ্দীন: উপমহাদেশে প্রথম ভাষাভিত্তিক কলেজ স্থাপিত হয় ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের করাচিতে। প্রতিষ্ঠার এক দশক পর ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের রাজধানী করাচিতে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা আবদুল হক ‘জাতীয় উর্দু কনফারেন্স’ শীর্ষক একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন । প্রায় একই সময়ে ভাষাসংগ্রামী আবুল কাসেম ঢাকার কার্জন হলে আয়োজন করেন ‘বাংলা কনফারেন্স’। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পশ্চিম পাকিস্তানে উর্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে এর বিপরীতে পূর্ববঙ্গে বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি সেই সভায়।

এ সময় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উর্দু উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত উর্দু অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক হিসাবে প্রায় এক বছর করাচিতে অবস্থান করেন। পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা মাধ্যমে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে গঠন করা যায়, তার ধারণাটা তিনি লাভ করেছিলেন করাচিতে অবস্থানকালে, ১৯৫৯-১৯৬০ কালপর্বে উর্দু অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক নিযুক্ত হওয়ার পর। সে সময় করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন সৈয়দ আলী আহসান।

সৈয়দ আলী আহসান ঢাকায় ফিরে বাংলা একডেমিতে যোগদান করেন ১৯৬০ সালের ১৫ ডিসেম্বর। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ও ১৯৬১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলা একাডেমি কার্যালয়ে এসে ‘পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান’ প্রকল্পের সম্পাদক হিসাবে কাজ শুরু করেন। এর পরপরই বাংলা মিডিয়াম কলেজের ধারণাটা পাকাপোক্ত হতে শুরু করে।

১৯৬১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় বাংলা একাডেমির নবনির্মিত তিন তলার সভাকক্ষে বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকে মূল লক্ষ হিসাবে সাব্যস্ত করে ‘পূর্ব পাকিস্তানে বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা’ শিরোনামে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ'র সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি খান বাহাদুর আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে একই স্থানে অনুষ্ঠিত আরেকটি সভায় বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক কাউন্সিল গঠন করা হয়। কাউন্সিলে প্রধান পৃষ্ঠপোষক নির্বাচন করা হয় পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর লে. জেনারেল আজম খানকে। সহসভাপতি পদে মনোনয়ন লাভ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও খান বাহাদুর আবদুর রহমান খান; কোষাধ্যক্ষ পদে আবদুল হাকিম; সম্পাদক পদে প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ; যুগ্ম সম্পাদক পদে আবুল কাসেম। কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই ছিলেন একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের সক্রিয় সদস্য এবং বাংলা একাডেমি পরিচালনা পরিষদের সদস্য।

একই বছরের ১৮ জুন সভাসদগণ কলেজের কার্যক্রম ১৯৬১ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কলেজের বিষয় ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের আদলে। ১৯৬২ সালের ৪ মার্চে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজের স্থান নির্ধারণ করা হয় বকশিবাজারের নবকুমার ইনস্টিটিউটে।

১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে পালতোলা নৌকা খচিত মনোগ্রাম নিয়ে চালু হয় বাঙলা কলেজ। জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাংলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার এ পদক্ষেপকে এক কথায় বলা যায় প্রাথমিক ও বৈপ্লবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন। কলেজের প্রথম পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ এবং সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন খান বাহাদুর আব্দুর রহমান খান।

১৯৬৪ সালে অবাঙালি অধ্যুষিত মিরপুরের নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয় বাঙলা কলেজ। এরপর থেকেই শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত অগ্নিপরীক্ষার কাল। শুধু পাঠ্যসূচি থেকে ইংরেজির অপসারণই নয়; বরং লোকালয়ের অলিগলিতে গিয়ে সাইনবোর্ড, ব্যানার, নামফলকে বাংলা প্রতিষ্ঠার কঠিন অভিযানে নেতৃত্ব দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৭১ সালে স্থানীয় অবাঙালিরা বাঙলা কলেজের নামফলক তুলে তার জায়গায় বসিয়ে দেয় উর্দু কলেজের নামফলক। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোটা সময়জুড়েই পাক-হানাদার বাহিনির ক্যাম্পরূপে ব্যাবহৃত হয়েছিলো বাঙলা কলেজ। কলেজের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষগুলো ছিলো হানাদার বাহিনির' টর্চার সেল'৷ স্থানীয় মুক্তিকামী জনতাকে ধরে এনে পাশবিক কায়দায় নির্যাতন চালানো হতো এসব কক্ষে। কলেজ ক্যাম্পাসের কিছু জায়গায় গণকবরের সন্ধান মিলেছে পরবর্তীতে। সাম্প্রতিক সময়ে এরূপ ৯টি স্থানকে বধ্যভূমিরূপে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ৩টি বধ্যভূমিতে স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে।

১৯৮৫ সালে বাঙলা কলেজকে জাতীয়করণ করা হয় ও নামের শুরুতে "সরকারি" শব্দটি যোগ হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিকের তিনটি বিভাগ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চারটা অনুষদভুক্ত ১৯টা বিষয়ে প্রায় ত্রিশ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করেন এ কলেজে। ৮টি একাডেমিক ভবন, দুইটি ছাত্রাবাস, নিজস্ব মসজিদ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, একটি নিজস্ব লেক, একটি মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিক্ষক-কর্মচারী আবাসিক এলাকা এবং সুবিশাল একটি খেলার মাঠ মিলিয়ে মোট ২৫ একর জমি নিয়ে রাজধানী ঢাকার বুকে সগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে সরকারি বাঙলা কলেজ।

পাকিস্তানের করাচিতে উর্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পর ২০০২ সালের ১৩ নভেম্বর উর্দু আর্টস কলেজ ও উর্দু সায়েন্স কলেজকে একীভূত করে প্রতিষ্ঠিত হয় ফেডারেল উর্দু ইউনিভার্সিটি অব আর্টস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এটি পাকিস্তানের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রধানত উর্দু মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়। অথচ স্বাধীনতার পর বাঙলা কলেজ তার নামফলক ফিরে পেলেও আজও অবাস্তবায়িত বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন-যার বীজ রোপিত হয়েছিল ৬২ বছর আগে।

স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে আমাদের দেশে অনেক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটকে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। ২০০৫ সালে জগন্নাথ কলেজকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০০৬ সালে সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু জাতীয় গৌরবনির্দেশক ভাষা আন্দোলনের প্রতীক বাঙলা কলেজ আজও বিশ্ববিদ্যালয় হতে না পেরে পড়ে রয়েছে ব্যর্থদের তালিকায়।

বাঙালি জাতিয়তাবাদের অন্যতম মূল ভিত্তি বাংলা ভাষা। উপাদান হিসেবে এ জাতিয়তাবাদের অন্যান্য যেকোনো উপাদানের তুলনায় বাংলা ভাষা অত্যান্ত শক্তিশালী। বাংলা ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ফলে সংগঠিত হয় ১৯৫২ সালের সফল ভাষা আন্দোলন, যার পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। বাংলা ভাষা এখানে জাতীয়তাবাদের বাহনরূপে কাজ করেছে। বাংলা ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী একটা রাষ্ট্রে জাতীয়তাবাদের বাহন বাংলা ভাষার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকাটা দুঃখজনক। যে জাতি ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে প্রাণ দিয়েছে সে জাতির নিজস্ব ভাষায় পাঠদানের মতো কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার ব্যাপারটা অগৌরবের, লজ্জার। বাঙালি নিজের দেশে ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে ঠিকই; কিন্তু তার পরিপূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে নিজস্ব ভাষাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পিছিয়ে রয়েছে এখনো।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে যায় যেমন পাকিস্তান, তেমনি ভারত। ভারতের হায়দরাবাদ শহরল রয়েছে মওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়। তাছাড়া অন্ধ্র প্রদেশে রয়েছে ড. আবদুল হক উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে আবদুল হক ভারত ত্যাগের আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উর্দু কলেজ।

উন্নয়নের প্রায় সব সূচকে পাকিস্তান পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের তুলনায়, কিন্তু ভাষা ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় সূচকে এগিয়ে। একইভাবে উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও ভাষাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় সূচকে এগিয়ে আছে ভারত। ভাষা আন্দোলনের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা একটি জাতির ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় সূচকে উর্দু ও হিন্দির তুলনায় পিছিয়ে থাকা অপ্রত্যাশিত। যদি এ দেশে ভাষাভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকতো, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এর উদ্ভাবকের মর্যাদা দেয়া যেতো।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সৈয়দ আলী আহসান, খান বাহাদুর আব্দুর রহমান খান, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ ও প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমদের স্বপ্ন ‘বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়’ কবে বাস্তবায়িত হবে?

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনকে সহজ করছে বী গ্লোবাল কনসালটেন্সি

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২২:২২
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনকে সহজ করছে বী গ্লোবাল কনসালটেন্সি

    আফিফ আইমানঃ বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে পুরো বিশ্ব যখন সবার হাতের মুঠোয় তখন সমান তালে বাড়ছে দেশের শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার ইচ্ছে। কিন্তু বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা অনেক সময়ই জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা সমাধান ও শিক্ষার্থীদের ওয়ান স্টপ সেবা প্রদানে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বী গ্লোবাল কনসালটেন্সি।

    প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান করে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা, সাধ্য অনুযায়ী প্রোগ্রাম ও ডেস্টিনেশন বাছাই, শিক্ষা বৃত্তি এবং ভিসা প্রসেসিং সার্ভিস ছাড়াও একজন শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন সবকিছুই পাওয়া যাবে এখানে। বী গ্লোবাল কনসালটেন্সি শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্বের নানা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে স্নাতক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ প্রদান করে। তারা উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগ স্থাপন করে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে পড়াশোনা করতে পারে। এছাড়াও, তারা বিভিন্ন বৃত্তি পাওয়ার জন্য পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে।

    বী গ্লোবাল কনসালটেন্সির চেয়ারপার্সন নুসরাত জাহান জানান, "আমাদের লক্ষ্য বেশ সহজ। আমরা চাই আন্তর্জাতিক শিক্ষাকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে। আমরা চাই দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি সম্ভাবনার দাড় উন্মুক্ত করতে যাতে তারা বিশ্ব জুড়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে।

    বী গ্লোবাল কনসালটেন্সির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো তাদের ওয়ান টু ওয়ান কাউন্সেলিং সাপোর্ট। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষায়িত পরামর্শ প্রদান করে, যাতে তাদের ইচ্ছা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠান ও কোর্স নির্বাচন করা যায়। বী গ্লোবাল কনসালটেন্সির চীফ বিজনেস অফিসার আফসানা রাত্রী মিশু বলেন "প্রতিটি শিক্ষার্থী অনন্য, তাই তাদের চাহিদাও আলাদা, আমরা প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে চেষ্টা করি এবং সেই অনুযায়ী পরামর্শ দিই।" বি গ্লোবাল কনসালটেন্সির টিম বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখে। এই বিশেষজ্ঞতা, আইইএলটিএস প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ভিসা সহায়তা পর্যন্ত তাদের সার্বিক সেবা, প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরামর্শ ক্ষেত্রে অনন্য করে তুলেছে।

    শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটি তাদের ল্যাংগুয়েজ হাব এর মাধ্যমে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের IELTS, TOEFL সহ বিশ্বজুড়ে গৃহীত নানা ভাষা দক্ষতা কোর্স ফ্রি তে করিয়ে থাকে।

    "আমরা শুধু একটি কনসালটেন্সি ফার্ম নই," বলেন নুসরাত জাহান। "আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পুরো জার্নিতে একজন সঙ্গী, তাদের সাফল্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" বী গ্লোবাল কনসালটেন্সি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে। সঠিক কোর্স নির্বাচন থেকে শুরু করে আর্থিক সহায়তা পাওয়া বা ভিসা প্রয়োজনীয়তা পূরণ - প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      রাজশাহী কলেজে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৪২
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      রাজশাহী কলেজে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

      শরিফুল ইসলাম সৌরভ: রাজশাহী কলেজ ইসলামিক কালচারাল ফোরাম (আরসিআইসিএফ) এর আয়োজনে রাজশাহী কলেজে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
      সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ থেকে এই আলোচনা সভা শুরু হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুঃ যুহুর আলী।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড.মোহাম্মদ ইব্রাহীম আলী । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল মামুন।
      আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ।
      অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কলা অনুষদের  প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন। তিনি মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন।
      প্রধান অতিথি হিসেবে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, মহানবী (সাঃ) এর জীবনের প্রতিটা ধাপেই আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। আমরা আমাদের জীবনটা মহানবী (সাঃ) এর জীবনাদর্শে গড়ে তুলতে পারি।সর্বোপরি আমাদের ইসলামিক আদর্শ মানতে হবে, জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী জীবন গড়তে হবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করে পালিত হবে জবির ১৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২০:৩৬
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করে পালিত হবে জবির ১৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

        জবি প্রতিনিধি: জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করে আগামী ২০ অক্টোবর পালিত হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ছাত্র আন্দোলনে আহত ও নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানার্থে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এবছর কোনো ধরনের কনসার্ট আয়োজন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম।

        আজ সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় এ কথা জানান তিনি৷ এবছর কনসার্ট না করে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য একটি স্মরণসভা ও দোয়া মোনাজাতের আয়োজন থাকবে বলে জানান তিনি।

        এসময় সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের চেয়ারম্যানরাও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে কনসার্ট না করার পক্ষে মত দেন। তবে বিগত বছরগুলোর ন্যায় র‍‍্যালি, বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি হিসেবে নাটক, ভিডিও ডকুমেন্টারি  প্রদর্শনের আয়োজন করা হবে। একই সাথে ওইিদন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বরণ করা হবে৷

        এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে কনসার্ট না হওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুটি ভাগ দেখা গেছে। কেউ কনসার্টের পক্ষে কথা বলছেন, কেউ বিপক্ষে। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের হৃদয়ে এখনো রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবে আমরা যাদেরকে হারিয়েছি তাদের হয়তো আমরা আর কখনো ফেরত পাবো না। যারা আহত অবস্থায় এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে তাদের কথা যদি আমরণ চিন্তা করি, নিজেকে ঠিক রাখতে পারাটা অসম্ভব।

        তিনি আরো বলেন, এই মুহুর্তে আমরা কিভাবে আনন্দে মেতে উঠি। আনন্দ তো আমরা করতেই পারব সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে। তবে এই মুহুর্তে নয়। আমরা চিন্তা করতেছি যতদ্রুত সম্ভব একটি সমাবর্তনের আয়োজন করা। তখন আমরা সকলে মিলে আনন্দ উপভোগ করতে পারব।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          পাঠ্যপুস্তক সংশোধন কমিটি থেকে বাদ সামিনা লুৎফা: ঢাবিতে বিক্ষোভ

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২০:২৯
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          পাঠ্যপুস্তক সংশোধন কমিটি থেকে বাদ সামিনা লুৎফা: ঢাবিতে বিক্ষোভ

          ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফাকে ইসলামবিদ্বেষী ট্যাগ দেওয়া ও পাঠ্যপুস্তক সংশোধন কমিটি থেকে বাতিল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
          সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।
          সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনকে ইসলামবিদ্বেষী ট্যাগ দেয়া হচ্ছে। যা বৈষম্যহীন ও সমতার বাংলাদেশ গড়ার অন্তরায়। ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যেসকল শিক্ষক শিক্ষার্থীবান্ধব ছিলেন তাঁদের মব লিঞ্চিংয়ের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক ট্যাগ দিয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
          বিশ্বববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, আমাদের দেশে এখনো ফ্যাসিবাদের প্রতিটি উপাদান রয়ে গেছে। এই যে মবের তাণ্ডব ফ্যাসিবাদে রূপ নিয়েছে তার একটি নগ্ন উদাহরণ হচ্ছে, সামিনা লুৎফা ম্যাম ও কামরুল হাসান মামুন স্যারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে যে আক্রমণ করা হচ্ছে সেটা।
          তিনি বলেন, ২০১২ সালে ড. ইউনুসও এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে কথা বলেছিলেন কিন্তু তার প্রতি কোনো বিদ্বেষমূলক আচরণ নেই। তার প্রতি ঠিকই নতি স্বীকার করছে। কিন্তু অন্যদিকে, সামিনা লুৎফা ম্যাম ও কামরুল হাসান স্যারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। একই ধরনের আচরণের শিকার হতে দেখেছি আমরা আনু মোহাম্মদ স্যার ও তানজিম উদ্দিন খান স্যারকে। আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা সব সময় আমাদের পাশে থেকেছেন, গত ১৫ বছর ধরে তারা আমাদের পাশে থেকেছেন আর কারা থাকবেন, আমরা সবই জানি। আমাদের এই শিক্ষকরা যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তাদেরকে নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। কেন বারবার তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হবে? আমার মতাদর্শের সাথে আরেকজনের মতাদর্শ নাই মিলতে পারে। এখানে বড় জোর আমি তাকে এড়িয়ে চলতে পারি। কিন্তু আমরা তার উপর আক্রমণ করতে পারি না। আমাদের বেসিক বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন হতে হবে, নয়তো সব সময় আমরা অন্যের ব্যবহৃত বস্তু হিসেবে থেকে যাবো।
           সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী শামিমা আক্তার বলেন, অধ্যাপক সামিনা লুৎফাকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের কমিটিতে ডাকা হয়েছিল কিন্তু তাঁর অতীতের কোনো এক সময়ের পোস্ট বা কমেন্টকে কেন্দ্র করে ইসলাম বিদ্বেষী ট্যাগ দিয়ে তাঁকে বাতিল করা হয়েছে। এই ট্যাগিং কালচার ছিল পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের একটা হাতিয়ার। তারা বিভিন্ন সময় শিবির,বিএনপি, জঙ্গি ট্যাগ দিত। আমরা চাই এই ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বন্ধ হোক। সামিনা ম্যামকে তাঁর অর্পিত দায়িত্বে আবার ফিরিয়ে আনা হোক এবং যারা তাঁকে ট্যাগ দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
          এর আগে পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের জন্য গঠিত সমন্বয় কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনকে রাখা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। এরপর শনিবার বাতিল করা হয় ওই কমিটি।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত