ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ঢাবিতে শিবিরের আত্নপ্রকাশ : কি ভাবছে শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনগুলো?

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৫:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবিতে শিবিরের আত্নপ্রকাশ : কি ভাবছে শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনগুলো?

সাকিব হাসান, ঢাবি প্রতিনিধি: প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রসংগঠনগুলোর আলোচনা শেষে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে প্রকাশ্যে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর এই ঘটনার পর একদিন পেরোতে না পেরোতেই পরিচয় প্রকাশ পায় শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা এই ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সামনে আসা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে নানা ধরনের আলোচনা। অনেকে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার বিষয়টিকে যেমন ইতিবাচকভাবে দেখছেন, কেউ কেউ আবার বলছেন তাদের রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত অবস্থানগুলো সবার আগে স্পষ্ট করা দরকার। এসব বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মতামত জানার চেষ্টা করেছে দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস।

কী ভাবছেন শিক্ষার্থীরা:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী (বিভাগের পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক) মালিহা তাসনিম দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ক্রিয়াশীল সংগঠনের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ হয়েছিল শিবির। তারপর থেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে শিবির সদস্যরা গোপনে কাজ করেছে, কিন্তু প্রকাশ্যে আসেনি। সম্প্রতি আরেকটি গণ-আন্দোলনের পর যেভাবে শিবির আত্মপ্রকাশ করলো, তা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর কাছেই বিস্ময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলোও স্পষ্ট ভাষায় এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে।

শিবিরের প্রকাশ্যে আসাটাকে ভালোভাবে দেখছেন উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী (পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, তারা আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৬ বছর যথেষ্ট নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছে। লুকিয়ে লুকিয়ে সাংগঠনিক কাজ করেছে, পড়াশোনা করছে। ওরা যদি চাঁদাবাজি করতো, কাউকে নির্যাতন করতো, তাহলে বিষয়টা ভয়ানক হতো। যতদিন শিবিরের ক্লিন ইমেজে আছে, ততদিন তাদের থাকাটাকে ভালোভাবেই দেখছি।

বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান সবুজ বলেন, শিবির যে আগে ছিল না, এমন না। শিবির ছিল এটা সবাই জানতো। এমনকি ছাত্রলীগের নেতারাও জানতেন। তখন তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল মসজিদভিত্তিক, পাঠচক্রভিত্তিক। হঠাৎ শিবিরের প্রকাশ্যে আসার বিষয়টা নিয়ে মানুষ যে আতঙ্কিত এমন না। বরং কেউ কেউ বিষয়টাকে হাস্যরসাত্মকভাবেও দেখছে।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে শিবির সম্পৃক্ত আছে- এই তথ্য জানা থাকলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সম্পৃক্ত হতেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ফ্যাসিবাদী সরকার শিবিরকে সামনে আসতে দেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে আসলে তাদের সামনে আসার সুযোগ ছিল না। ওই সরকার শিবিরকে এমন একটা গোত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যাদের ওপর আক্রমণ করাটাকে মনে করা হতো বৈধ। তাই আগে পরিচয় প্রকাশ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা হওয়ার শঙ্কা ছিল। সে জায়গা থেকে হয়তো শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যেতো না।

ছাত্রসংগঠনগুলো যা ভাবছে:

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের একাংশের সভাপতি সাদিকুল ইসলাম সাদিক রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, নব্বইয়ের দশকে ক্যাম্পাসের যে রেজুলেশন, সে অনুযায়ী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রসমাজ নিষিদ্ধ ছিল। এবার আবার যুক্ত হলো ছাত্রলীগ। আমাদের সেই নব্বইয়ের পরিবেশ পরিষদের কথা হচ্ছে-যার ফলে তারা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে পারবে না। কিন্তু এ বিষয়ে ভিসি স্যারের সঙ্গে মিটিং করার পরই তারা প্রকাশ্যে এসেছে। সে জায়গা থেকে আমরা বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানাই। শিবিরের সঙ্গে আমাদের লড়াইটা হবে আদর্শিক। সেটি আমরা কীভাবে করবো, সেটা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে।

ছাত্র ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান পরিবেশ পরিষদের চুক্তি ভেঙে হুট করে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে মিটিং করাটা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। অবিলম্বে পরিবেশ পরিষদের মিটিং আহ্বান করে সন্ত্রাস-দখলদারত্বমুক্ত গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণের আহ্বান জানাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরকে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে হলে প্রথমত বিভিন্ন সময় তাদের রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত অবস্থানগুলো সবার আগে স্পষ্ট করা দরকার। দ্বিতীয়ত আগামী দিনে তাদের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত কেমন হবে, সেটার ওপর নির্ভর করবে শিক্ষার্থীরা এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠন তাদের কীভাবে নেবে। তবে এটা বলতে পারি, আমরা সব প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সংগঠন এবং ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।

শিবির বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আছে জানলে সঙ্গে থাকতেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যে দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে তা ন্যায্য কিনা। প্রথমে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং তারই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে যে আন্দোলন হয়, তা সম্পূর্ণ ন্যায্য এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন। 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' যেহেতু একটি রাজনৈতিক জোট নয়, কমন প্ল্যাটফর্ম, বিভিন্ন চিন্তার মানুষ এই প্ল্যাটফর্মে ছিল। তবে তারা কেউই কোনও রাজনৈতিক চিন্তার সম্মিলিত প্রতিনিধি হিসেবে ছিল না, ছিল ব্যক্তি হিসেবে। এর অংশ হিসেবেই আমরা সবাই এই আন্দোলনে ছিলাম। বিষয়টাকে এভাবেই দেখতে হবে বলে মনে করি।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় থেকে ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রসমাজ নিষিদ্ধ ছিল।

ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামাম শিপন বলেন, বাংলাদেশে একাত্তর পরবর্তী তিনটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গণভ্যুত্থানের চাওয়া-পাওয়ার ভিত্তিতে পরবর্তী সময় নির্ধারিত হয়েছে। এখন চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা রাজনীতি করবে বা করবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চলমান সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ ছাত্ররাজনীতির নামে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে একটা নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি মেধা ও জ্ঞানের ভিত্তিতে একটা ইতিবাচক রাজনীতি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরাটা এই মুহূর্তে জরুরি। ছাত্ররাজনীতি কে করবে বা করবে না এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আমরা কেউ না। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজন এই বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় খুবির তিন শিক্ষক

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৪:৫৯
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় খুবির তিন শিক্ষক

    খুবি প্রতিনিধি: বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, ফার্মেসী ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. শেখ জামাল উদ্দিন এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. অনুপম কুমার বৈরাগী। অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. শেখ জামাল উদ্দিন টানা দুইবার এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

    বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং উদ্ভাবনে ব্যতিক্রমী অবদানের জন্য এই অসাধারণ সম্মান পেয়েছেন তারা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের নাম সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ের তালিকায় প্রকাশিত হয়। গবেষকরা বিশ্বব্যাপী সমস্ত বিজ্ঞানীদের প্রায় ২ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করেন।
    ড. নজরুল ইসলাম বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনি সাস্টেইনেবল এনার্জি রিভিউ, কার্বোহাইড্রেট পলিমারস, উড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, জার্নাল অব উড সায়েন্স, উড অ্যান্ড ফাইবার সায়েন্স, বায়োরিসোর্সেস, পলিমেরি, ফরেস্ট প্রোডাক্ট জার্নালের মতো নামি জার্নালে ৯১টি পিয়ার-রিভিউ করা নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া তিনি বহুজাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাঁর গবেষণা উপস্থাপন করেছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, সুন্দরবন ও উদ্যোক্তা বিষয়ে চলমান তিনটি প্রকল্পে কাজ করছেন। এ ছাড়া তিনি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ক্রাফট কাগজ উৎপাদন, সুন্দরবন, বনজ সম্পদসহ নানান সেক্টরে ২৫টি প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছেন। তিনি কাঠ বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক নিয়ে ১৭টি বইয়ের অধ্যায়ও প্রকাশ করেছেন।
    তালিকায় স্থান পাওয়া আরেকজন শিক্ষক ড. শেখ জামাল উদ্দিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি ৯০টির বেশি নামীদামি জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তিনি মাইস মডেলে বিভিন্ন ‍ওষুধি উদ্ভিদের নির্যাসের থেরাপিউটিক সম্ভাবনার মূল্যায়ন করার জন্য বেশ কয়েকটি ফার্মাকোলজিকাল পদ্ধতি তৈরি করেছেন এবং বিভিন্ন জৈবিক বৈশিষ্ট্যসহ বেশ কয়েকটি বায়ো-অ্যাকটিভ নভেল কম্পাউন্ড আবিষ্কার করেছেন। এথনোফার্মাকোলজি এবং প্রাকৃতিক উৎস থেকে ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে তার ১৭ বছরেরও বেশি গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
    এ ছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত, মালয়েশিয়া, জর্ডান, ব্রাজিল, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, চীনসহ বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং নিয়মিত জাতীয়-আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সিম্পোজিয়ায় তাঁর গবেষণা উপস্থাপন করতে যোগ দেন।
    ড. অনুপম কুমার বৈরাগী বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার গবেষণার মধ্যে রয়েছে ফাইভ জি, গেম থিওরি, হেলথ ইনফরমেটিক্স, আইআইওটি, এগ্রি ইনফরমেটিক্স ইত্যাদিতে ওয়্যারলেস রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট। গবেষণা এবং একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব অবদানের জন্য তিনি ২০২৩ সালে ভাইস চ্যান্সেলর পুরস্কার লাভ করেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      এইচএসসির ফলাফল ঘোষণায় নতুন সিদ্ধান্ত

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৪:৪৭
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      এইচএসসির ফলাফল ঘোষণায় নতুন সিদ্ধান্ত

      চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের কিছু পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও আন্দোলনের কারণে কিছু পরীক্ষা বাতিল করা হয়। অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোর উত্তরপত্র (খাতা) মূল্যায়ন করে ফল তৈরি হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

      অন্যদিকে বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলোর ফল তৈরি করা হবে পরীক্ষার্থীদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

      বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক প্রফেসর তপন কুমার সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

      উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন। প্রথম দফায় প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী ৮ দিন পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর তিন দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার। সিলেট বোর্ড ছাড়া বাকি বোর্ডগুলোর আবশ্যিক ছয়টি এবং কেউ কেউ বিভাগভিত্তিক একটি পরীক্ষাসহ ৭টি পরীক্ষা দিয়েছেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রভোস্টসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৪:২২
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রভোস্টসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

        ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তোফাজ্জল নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে হত্যার অভিযোগে ফজলুল হক মুসলিম হল প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

        বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আক্তারুজ্জামানের আদালতে তোফাজ্জলের ফুফাতো বোন মোসা. আসমা আক্তার এ মামলা করেন। তবে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় আরেকটি মামলা থাকায় আপাতত এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। আগের মামলাটির তদন্ত সাপেক্ষে তোফাজ্জল পরিবারের করা মামলাটি সচল হবে। আইনজীবী নাজমুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

        আইনজীবী নাজমুল হাসান জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। যেহেতু এ ঘটনায় আগে দায়ের হওয়া মামলা চলমান তাই এ মামলার তদন্ত আপাতত চলবে না। আগের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে এই আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে কিনা তা পরে আদালত নির্ধারণ করবেন।

        এ মামলার অপর আসামির হলেন- জালাল মিয়া, সুমন মিয়া, ফিরোজ কবির, আবদুস সামাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, ওয়াজিবুল আলম, আহসান উল্লাহ, ফজলে রাব্বি, ইয়ামুস জামান, রাশেদ কামাল অনিক, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান ও মো. সুলতান। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

        গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার সময় একজন যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগ করে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তিনি মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ান। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

        পরদিন দুপুরে শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে অভিযুক্ত ৬ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

        পরবর্তীতে শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম তাদের আদালতে হাজির করেন। এরপর আসামিরা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৩:৪৪
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

          পবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নবম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম । আগামী চার বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

          বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোছাঃ রোখসানা বেগম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানান হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ -এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে তার যোগদানের তারিখ থেকে (চার) বছরের জন্য নিয়োগ করা হলো।" তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত